slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

আমি বলি কবিতা

বুড়ো রোহিঙ্গা ও এক বড়ো বোকা লোক!

এক সকালে হু হু করে কেঁদে ফেললো এক বড়ো বোকা লোক।
আর কিছু না, টেলিভিশনে দেখেছিলো এক বুড়ো রোহিঙ্গার মুখ;

উস্কোখুস্কো চুল আর দাড়ি; বলছিলো বুড়ো: পুড়ে গেছে ঘর-বাড়ি—
সব সবাই! বেঁচে আছে একা, এবং বাঁচার আশায় পরদেশে পাড়ি;

এসে দেখে এখানেও আগুন দ্বিগুণ, এখানেও রক্ত, হুমকি-ধমকি-খুন;
কারা যেনো হেসে হেসে সীমান্তে বসে মানুষের কাটা ঘায়ে ছিটায় নুন।

বলছিলো বুড়ো। চলছিলো খবর টেলিভিশনে। কাঁদছিলো এক বোকা লোক;
মানুষের কাছে মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, এই পৃথিবী আজই ধ্বংস হোক!

শিশির অপচয়ন

সবুজমালার ধূসরকথা

মানিক্য কথামালা-১

পরিধি বৃত্ত্বান্ত

পাখি খবর রাখেনি কখন ঝরেছে অসাবধানে প্রিয় পালক। পাখি পাতার খুব কাছে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে তার ঝরে যাওয়া দেখে। পাখি উড়তে জানে আর আকাশের সীমার দিকে আতংকে তাকায়। অচেনা আকাশ তাকে বিষন্ন করে প্রত্যেক সন্ধ্যায়। পাখির ডানা আছে তাই ডানা ঝাপটায়, নিঃশব্দে প্রিয় পালক ঝরে। পাখির বিষন্ন চোখ আছে তাই সামান্য অদেখা জল জমা হয়। পাখি কাঁদে কিনা কেউ জানেনা, পাখির আসলে কাঁদার কথা না। আকাশের বুকের পাখি আকাশ চেনে না, পালকের খবর রাখে না।  মানুষের পায়ের কাছে এসে পাখির পালক শোয়, পাতা মাটি হয়!

অচেনা গতিপথ

তোমার রাজপথে আমি ছুটছি
একাকীত্ব , নিঃসঙ্গতা
আর অবিরাম ছুটে চলা।
ক্লান্তহীন পথে আমি পতাকাবিহীন যোদ্ধা।
 
তোমার সেনাদলের ক্রুদ্ধ স্বর
রক্তচক্ষু আর ক্রোধ,
কোন এক অদৃশ্য টানে উপেক্ষা করে থাকি।
প্রবল আকর্ষনে আমি অসহায়।
এটাই না হয় ভাললাগা।

একদা পিছুটানে আমি হাইড্রোলিক ব্রেক কষি।
গতিরোধকগুলো হাসছে,
মুকুটহীন সম্রাট আমি!

বিনামা কাব্য

মাঝে মাঝে পিপাসা বোধ হচ্ছে
গন্তব্যহীন পথ, তপ্ত রদ্দুর
নগ্ন পায়ে হাটছি আমি।

অতৃপ্ততার সাতঁকাহন
মনের মাঝে কিছু অর্থহীন পঙতিমালা
একটু পর পরই মনে করিয়ে দিচ্ছে
তৃপ্ততার অভাব,
ভুলেই গেছি কোথায় যে জুতা হারিয়েছি।

অনেকটা পথ
মনের দৃঢ়তা আর কোমল বাতাস।
হয়ত গন্তব্য একদিন হাতছানি দেবে,
তাই বলে কি হাটা থামিয়ে দিবো?
হঠাৎ করেই মনে হলো
জুতা ছাড়াই দিব্যি চলছে
আর জুতার দরকার নেই।

বন্টনকৃত ভাল+বাসা

মেঘে মেঘে একটু
ঘর্ষন, তাই বুঝি বর্ষন
ফোঁটা ফোঁটা টুপ টাপ ছাড়িয়ে
রাস্তায় কাক ভেজা দাড়িয়ে
লোকজন দেখাদেখি
পানি কাদা মুখোমুখি মুক্ত,
লোকে সব করে রব যুদ্ধ
তালে তালে মৃদু মৃদু শব্দ
নুপুরের ঝন ঝন রপ্ত
তাই বুঝি পাশে বসি
একটু খানি হাসি
মুগ্ধ...
অপলক তাকিয়ে
সীমাটাকে ছাড়িয়ে
রিক্ত...
চোখাচোখি হল বুঝি
বিনিময় কিছু কিছু শব্দ
ঠোটের কোনায় হাসি
লাজুক মুখের বাসি যুক্ত
দিন দিন যায় কেটে
ঘোর কাটে দেখা দেয় রাত্রি
এদিক অদিক হেটে
কোন বেলা এই ভূমি মাতৃ
দেখা যায় তার গৃহে
একাকী কিছু সময় তারপর
হাসি হাসি মুখ শেষে
বলিল আমায় সব বের কর্‌...

উত্তর ( কবিতা )

এই দুনিয়ায় যত সন্তান জন্মেছে

সবার জনক-জননী দুই-ই আছে।

একমাত্র ব্যতিক্রম কবিতাকে পাই

ওর,মা আছে তো,বাবা নাই

আর,বাবা আছে তো,মা নাই;

কবিতার মা-বাবা একক সত্ত্বাই।

বিষন্ন বিজয়ের পদাবলি

সেই কৈশোরে পথ হারিয়ে পথে নামা

নির্ঘুম রাত পেরিয়ে কবিতার পোষ্টার

গোলান কিংবা বেকা উপত্যকায় নাপাম বোমা

সব আমি ভুলে গেছি, ভুলে গেছি ক্লাস্টার বোমায় ক্লান্ত

আমার বিপ্লবের ভিয়েতনাম,

কিংবা কৃষন চন্দরের জব ক্ষেত জাগে।

 

 

উজ্জ্বল শ্যামাকন্যা বুকে স্বপ্নের ডালিম

লাল কিংবা একটু খয়েরী

বাতাসে দোলে,চুল ওড়ে দক্ষিণা হাওয়ায়

পেছনে ঢেউ সোনাঝুরি হলুদ

চোখে আমার অজানা তৃষ্ণা।

 

উড়ে যাওয়া এফ-১৬ ঘুরে গেলো বন্দুকের নল

দেশান্তরী পাখি ফিরে এলো,

সেই মিঠামইনের হাওরে

বন্ধু ও নিঃসঙ্গ বায়স

বলতে পারো- বন্ধু কী, কেমন হয়?
হঠাৎ একদিন, রেলিং এর উপর বসা
নিঃসঙ্গ বায়সটা প্রশ্ন করলো আমায়।
অজান্তেই কিছুটা চমকে গেলাম আমি;
আর, আর কিছুটা শিহরিত।
কেমন করে যেন, কিছু না ভেবেই
আমি বললাম- দ্বিতীয় সত্ত্বা।
আর ঠিক ঐ সুনীল আকাশের মতো,
যে পারে রঙহীন কোনো ভূবনে
ভালোবাসার নীল রঙ ছড়িয়ে দিতে।
আর, আর ঐ বিস্তীর্ণ বনভূমির মতো।
সকলের অগোচরে, নিঃসঙ্গ পথচারীর জন্য,
পরম মমতায় যে জন্ম দেয়
ভালোবাসার নীল অর্কিড।
ও হ্যাঁ, বলাই তো হলো না!
আর ঠিক যেন নিজের ছায়ার মতো,

শিরোনামহীন

মাদাগাস্কার দ্বীপের এক সোনালী তরুণ রুপালী চেন গলায় দিয়ে

আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে এসে হাঁটছে তো হাঁটছেই

চোখে পড়তেই এগিয়ে গিয়ে বললাম, কী ভাই

আপনি করেন কী?

বলে আমি প্রেম করি।

নিজেরে আমি অত্র অঞ্চলের পাহারাদার পরিচয় দিয়ে তারে সাবধান করে দিয়ে বললাম

এই বাগানের যতো ফুল ফল মুল ও বৃক্ষ রাজী দেখতে পাও

আর যা কিছু রয়েছে তোমার অগোচরে

তার সব কিছুই তোমার জন্য নিষিদ্ধ।

 

মালিকের মালে পাহারাদারের ভোগের কোনোই অধিকার নাই

স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমাকে

চারিত্রিক সনদ পত্র দেখাতে বলে সে,