slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

রাজনীতি

অভিজিৎ হত্যার রাজনীতি

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ আজ প্রথম আলো পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছেন। তিনি সাতটি পয়েন্টে দেখিয়েছেন যে, বিদ্যমান দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক সংঘাতে কারা লাভবান হচ্ছেন? পয়েন্টগুলো হল- "১. সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার হলমার্ক দূর্ণীতি, ২. রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার উপর ঋণ গ্রহিতা সর্বোচ্চ ধনীদের জন্য দেয়া সুবিধা, ৩. রামপাল বিদ্যূত কেন্দ্রে ভারতকে দেয়া সুবিধা, ৪. এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, ৫. আবুধাবি ও সৌদি আরব থেকে প্রায় দ্বিগুন দামে জ্বালানী তেল ক্রয়, ৬. দেশের খনিজ সম্পদ মার্কিন স্বার্থগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়া ও ৭.

রক্তে লেখা ১৪ ফেব্রুয়ারি : পলাশ-শিমুলের লাল-দ্রোহে সাজা বাংলা-বসন্ত কোথায়?

বসন্ত এসে দোল দেয়। তারুণ্য দোলে। বসন্ত জাগায়। তারুণ্য জাগে। স্বয়ং ইতিহাস স্বাক্ষী। ইতিহাস ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২। তারুণ্য ফাগুনের গায়ে আগুন মেখে রক্তে লিখেছিল 'ভাষা দিবস'। ইতিহাস ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৩। এবার 'স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস'। 'ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ'। রাজপথ। বাংলাদেশ। বিশ্ববেহায়া এরশাদের জলপাইরঙ উর্দি। ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে আর্মি। বেয়নেট-মেশিন গান-মর্টার-বুলেট। চলন্ত প্রাণ হঠাৎ নিথর! তারুণ্য মানে যেন বহু বসন্ত-বিপ্লব। এক ফাগুনে সালাম-বরকত-রফিক-জব্বার, আরেক ফাগুনে জাফর-জয়নাল-দিপালী-কাঞ্চন!

মুজিবের শাসন: একজন লেখকের অনুভব – আহমদ ছফা

নির্ভীক ছফা, নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারতেন কঠিন সত্য। আহমদ ছফার এই লেখাটা সেরকম একটি সত্যভাষন। একটি দলিল। এই ভূখন্ডে হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা, মাথা তুলে দাঁড়ানো মুক্তির চেতনা, স্বাধীনতার চেতনাকে কি করে ক্রমশ হত্যা করা হয়েছিল তারই একটি ছোট্ট দলিল- 

I HATE POLITICS

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে হলের সিট পাওয়ার জন্য বড় ভাইদের পেছনে ঘুরি, শোডাউন দেই, বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য শিক্ষকের সঙ্গে তেলবাজি করি আর ফেসবুকে লিখি -- I HATE POLITICS! চাকুরির প্রমোশন পাওয়ার জন্য-অন্যের প্রমোশনটা ঠেকানোর জন্য বসের সঙ্গে চাটুকারি করি, কর্মকর্তা ইউনিয়নের ভোট কারবারি করি আর ফেসবুকে লিখি -- I HATE POLITICS!

রানা প্লাজা-তাজরীন-স্পেকটার্মে নামে-বেনামে-এনামে মরে যাওয়া মানুষগুলোর জন্য শোকে কাতর হই। রানাকে বকি। মালিক পক্ষকে গালি দেই। কিন্তু ফেসবুকে লিখি -- I HATE POLITICS!

মেঘের দেশে; প্রেমে বিরহে বিদ্রোহে-২

সামনে পেছনে ডানে বামে যত পর্দা ছিল সব নামিয়ে দেয়া হয়েছে। পাতলা পর্দা। সবগুলোর রং লাল। লাল আভার সাথে আবছায়া মিশে ফিকে সিঁদুরের মতো জ্বলছে ভেতরটা। এরকম বিস্মিত রঙের ভেতর দিয়ে ভেসে চলেছি স্বপ্নের মতো। আমার মুখোমুখী বসা দু’জন নারী নিজেদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। নানান পথ দিয়ে জল ঢুকে পড়ছে, ভিজিয়ে দিচ্ছে যাচ্ছেতাইভাবে। বৃষ্টি পতনের একটানা শো শো শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নাই। ইন্ডিয়ান স্কুটারের ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ চাপা পড়ে গেছে। স্কুটারের সামনের ঘোলা কাচের ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে পিচঢালা রাস্তায় স্রোত চলছে। তুমুল বৃষ্টি বলতে যা বুঝায় এটা ঠিক তাই। থামার কোন লক্ষ

'ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে'

[মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (১৯ মে ১৯০৮- ৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬) ১০৫তম জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা।]

'ঈশ্বর থাকেন ঐ ভদ্রপল্লীতে। এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না।'

উচ্চমাধ্যমিকে আমাদের সবাইকে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মা নদীর মাঝি' পড়তে হয়েছে। নিঃসন্দেহে অনবদ্য এক উপন্যাস। সেই বয়সেই আমাদের অনেকের বোধে নাড়া দিয়ে গেছে কুবের-গণেশ-কপিলা চরিত্রগুলো। এর প্লট-কাহিনী বিন্যাস। আচ্ছা, আজকের এই সময়ে যদি আমরা এই উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে বাস্তবের জমিনে নামিয়ে আনি, তাহলে কি খুব বেশি পার্থক্য দেখতে পাব সমাজে?

একটা তালিকা চাই

১৯৫৪ সালের নির্বাচনের আগে মাওলানা ভাসানী যুক্তফ্রন্ট নেতা হিসেবে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিতেন। তবে বক্তৃতার সময় মাওলানা সাহেব প্রায়ই তাদের একুশ দফা ছাড়িয়ে বহুদূর চলে যেতেন।

ঠোল্লা

  "আমি পালিয়ে আছি। তবে খুব যে সুখে আছি তা না। আমার প্রচণ্ড চিন্তা আমার পুলিশ অফিসার বাবাকে নিয়ে। মানুষজন আধাপাগলের মতো হয়ে গেছে। পুলিশ দেখলেই ইট মারছে ধাওয়া করছে।

একদিন ডাইনিং হলে খেতে বসেছি, আমার ঠিক সামনে বসা এক ছাত্র গল্প করছে- কী করে তারা দৌড়ে এক পুলিশ কনস্টেবলকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দেয়। মাথা থেঁতলাবার আগে সে নাকি বলছিল- বাবারা, আস্তে বাড়ি দিয়ো। আস্তে। গল্প শুনে আশেপাশের সবাই হেসে উঠল। আমি স্পষ্ট চোখের সামনে দেখলাম, আমার বাবার মাথা ইট দিয়ে থেঁতলে দেওয়া হচ্ছে। বাবা বলছেন, আস্তে মারো। আস্তে। আমি খাওয়া ছেড়ে উঠে পড়লাম।

ধর্মনিরপেক্ষতা, যেভাবে বুঝি

ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই মনে করে যে সব ধর্মের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র বলতে বোঝে রাষ্ট্র সব ধর্মকে সমান সুযোগ-সুবিধা দেবে।

কিন্তু, আমি যতটুকু বুঝি বিষয়টা তা না। বিষয়টা হচ্ছে রাষ্ট্র কোন ধর্মকেই আর্থিক সহযোগিতা, কোন ধর্মের প্রচারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা কিংবা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোন ধর্মের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখাবে না। কোন ধর্মের সাথেই রাষ্ট্র নিজেকে সম্পৃক্ত করবে না।

ফানুসের রাজনীতি ০২

ধর্ম আর ধার্মিকের মাঝে বিরাজ করে এক রহস্যের জলাপুকুর, সেই পুকুরে প্রাচীনকাল থেকেই বাস করে সাম্প্রদায়িকতা নামের বিষাক্ত সাপ। ধর্মের অসংখ্য ভালো কথার নিচে চাপা পড়ে থাকে সে সহজে রা কাড়ে না, ফণা তোলে না। তারে খুঁচিয়ে জাগানো হয়। তারে জাগানো হলে জমে ওঠে ধর্মব্যবসায়ীদের কাজ-কারবার। বিশ্বাস অবিশ্বাসের খেলায় ধর্ম বড় অসহায় উপাদান হয়ে তখন ধার্মিককে করে তোলে খুনি আর ধর্মব্যবসায়ীকে করে তোলে ক্ষমতাবান। ধর্মের নামে অনাচার তখন হয়ে পড়ে ধর্মীয় কাজ।

মওদূদীবাদ তথা জামায়াত-শিবির সম্পর্কে দেশের প্রখ্যাত কিছু আলেমের অভিমত

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ’লা মওদূদী। ১৯০৩ সালে ভারতের হায়দারাবাদ প্রদেশের আওরঙ্গবাদ জেলা শহরের আইন ব্যবসায়ী আহমদ হাসান মওদূদীর ঔরসে তাঁর জন্ম। আজকের জামায়াত-শিবির তাঁর আদর্শেই পরিচালিত। জামায়াত-শিবির কোনো ইসলামী দল নয় এবং তাদের প্রধান উদ্দেশ্যই হলো যেকোনো উপায়ে, যেকোনো কিছুর বিনিময়ে ক্ষমতায় যাওয়া, তা বাঙালি জাতি অনেক আগেই জেনে গেছে। একাত্তরে তাদের কর্মকান্ডের কথা আমরা সবাইই জানি। এত খুন, এত অন্যায়ের পরেও তারা আজও টিকে আছে বাঙলার মাটিতে। এমনকি দলীয় ভাবে! যারা এদেশের স্বাধীনতাই চাইনি, তারা কিভাবে স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনীতি করার সাহস পায়?

ফানুসের রাজনীতি ০১

ক্ষমতার রাজনীতি মানুষের ভাষা বুঝতে চায় না, আর সেই ক্ষমতার ঘেরটোপে বাস করা মানুষেরা রাজনীতির ভাষা বোঝে না। ক্ষমতা বোঝে ক্ষমতা, ক্ষমতা বোঝে বেয়নেট, রাইফেল, আঁতাত, বেইমানি, মিথ্যাচার, লুটপাট। জনগণ ক্ষমতার গাধার পাল। তাদের বোঝা বহনের পিঠে বারুদ আর বস্তার তফাৎ কোথায়? বাংলাদেশ জুড়ে যা চলছে তা কি গণ-জাগরণ?

শাহবাগ মোড়ে গণঅবস্থান : রাজাকারের ফাঁসি চাই

আমরা চাই, আইন তার নিজের গতিতে চলুক। নিরপেক্ষ থাকুক। সকলে আইনের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাক। কিন্তু বাস্তবত: আইন কখনও নিজের গতিতে চলে না। আইনের উপর ক্ষমতা বসে থাকে। বাঘের বাড়িতে ঘোগের বাসার মতো। তবুও আইন থাকে। আধুনিক বা সভ্য রাষ্ট্র আইন দিয়ে বিচারকে জনগণের কাছে বৈধ করে। যদিও তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রে আইনের পাশাপাশি পলে পলে অসভ্যতা বিরাজ করে, টিকে থাকে, শ্রেণীক্ষমতা তার শ্রেণী স্বার্থে টিকিয়ে রাখে। 

Pages