slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

অনুগল্প

নাম

 নতুন ভাড়া-বাসায় উঠেছি একমাসও পুরা হয়নি। সেদিন বিকেল বেলায় রিক্সা করে বাসার গেটের কাছে পৌঁছানো মাত্রই দেখতে পেলাম রাস্তার অপর দিক থেকে আরেকটা রিক্সা কড়া ব্রেক কষে গেটের সম্মুখভাগে এসে দাঁড়াল। রিক্সায় বসা অবস্থা থেকেই একজন মধ্যবয়স্ক লোক হেঁকে উঠল, “এই হিমেল এদিকে আয় তো।” নতুন নিয়োগ পাওয়া ষোল-সতের বছরের দারোয়ান ছেলেটি প্রায় দৌড়ে এসে মুহুর্তের মধ্যেই লোকটির বসে থাকা রিক্সার সামনে এসে হাজির। ছেলেটির পুরো মুখমন্ডল জুড়ে সেঁটে আছে বাতাসে দুলতে থাকা রাশি রাশি কচি ধান গাছের মত একটা অগোছালো গ্রাম্য ছাপ। জামরুল ফলের মত বালকটির স্বচ্ছ চোখ দুটির দিকে গাঢ় দৃষ্টি হেন

চেরীফুল ও আন্দ্রে

 ১.

হয়তো এই শীতটা টিকে গেলে বুড়ো আন্দ্রে পরের বসন্তের চেরীফুল ফোটা দেখতে পেত। আন্দ্রে টিকতে চাইলো না এই মলিন ছোট শহরের মলিনতর হাসপাতালের চাদরে শুয়ে। আন্দ্রের হয়তো কেউ নেই, হয়ত কেউ আছে কিংবা ছিলো। বলিষ্ঠ তবে শীর্ন হাতে পাভ্‌লোভনা আস্তিন খামচে ধরে সে, ফিসফিস করে বলে ‘যন্ত্রনা, শেষ করে দে খুকী’; পাভ্‌লোভনার এই প্রথম নয় এরকম আবদার কেউ করেছিলো। বেনীতে তাকে খুকি লাগে বটে; তবে পাভ্‌লোভনা জানে সে মোটেও খুকি নয়। পাভ্‌লোভনা ভাবে কেন এই বুড়োর বেঁচে থাকার খায়েশ নেই। ঈশ্বর কী এঁর উপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়েছেন। আন্দ্রের চোখের মনি নিষ্প্রভ, মলিন শহরের মলিন আকাশের চেয়েও বিষণ্ণ।
 

মধ্যযুগীয় প্রেম

১.
"যাকে জয় করা যায় না-জয়া। আসলেই ওকে আমি কোনদিন জয় করতে পারিনি।
নিঃস্বার্থ এক ভালবাসা সে দিয়েছে আমায়। তার ভালবাসার গভীরতা মাপতে গেলে আমি হারিয়ে যাই।
প্রতিদান চায়নি সে। চায়নি ওর স্বল্পায়ুকে আমার সাথে জড়াতে।
এক অদৃশ্য দেয়াল রেখেছে সবসময়। তবু যেন ভালবাসাটাকে এতটুকু কমতে দেয়নি। আমাকে আগলে রেখেছে সবসময়। সবকিছু থেকে।

আমি শিগগিরই ‌উন্মোচন' করবো

যেহেতু আমি একসঙ্গে হেঁটেছিলাম বহুদূর; যেহেতু আমি বসেছিলাম বহুক্ষণ; যেহেতু আমি শুনেছিলাম বহু মানুষের বহু গল্প, হাসি, এবং খেয়েছিলাম বহু কাপ চা, বহু শলাকা বিড়ি এবং অন্ধকারেও দেখেছিলাম বহু চেনা-অচেনা বিশ্বাসী মুখ; সেহেতু আমাকে কিছু না কিছু লিখতেই হবে। আমি বহুদিন ধরে, ঠিক বহুদিন নয়, বহু বছর ধরে বহু কিছু নিয়ে লিখবো লিখবো ভাবছি। এতে বহু ভাবনা হয়েছে, কিন্তু বহু লেখা হয়নি।