slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

গল্প

একটি সভ্যতার গল্প

সাত দিন হল বড় সাহেব অফিসে আসেন নি। আছিয়া আজও অনেক্ষণ বড় সাহেবের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। নিজের পেটের দিকে কয়েকবার তাকায় সে। ‘‘ধভিশাপ!’’-বিড় বিড় করে বলে আছিয়া। মন্থর গতিতে ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে যায়; টয়লেট গুলোর যে অবস্থা তাকালেই খিঁচিয়ে বমি বের হয়ে আসে। এদিক-ওদিক খুব একটা তাকায় না আছিয়া। টয়লেটের কপাট লাগিয়ে পায়জামার ফিতা ঢিলা করে ওখানটাতে হাত দিয়ে দেখে-মাসিক হওয়ার ডেট এক সপ্তাহ পার হতে চলল। মাসিকের সময় তলপেটের ব্যথায় কুঁকড়ে যায় আছিয়া। এই ব্যথাটাই প্রতি মাসে তাকে কত শত দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়। এইবার এত দেরি হওয়া দেখে আছিয়ার ভেতরটা একবারে শুকিয়ে গেছে। বাথরুমের কপাট খুলতেই কে বা কারা যেন দ্র

মুক্তিযুদ্ধ এবং কয়েকটি পর্ব

সময় : ২০১০, মার্চ

রাত একটা। বিছানা থেকে উঠে বসে মমতা রায়। শ্বেতা ও প্রিয়তি তখনো ঘুমায়নি। প্রিয়তি শ্বেতার মাস্তুতো দিদি। বয়সে শ্বেতা বছর দুয়েকের বড় হবে। অনেকদিন পর দেখা হল দুজনার। গল্প যেন ফুরাতেই চাইছে না!

উঠে পড়লে কেন কাকী?-প্রশ্ন করে প্রিয়তি।

মমতা রায় কোন কথা না বলে বারান্দায় চলে যায়।

আবার সেই স্বপ্নটা দেখেছে বোধহয়!-বলে শ্বেতা।

কোন স্বপ্নটা দিদি?-প্রশ্ন করে প্রিয়তি।

খুবই ভয়ংকর একটা স্বপ্ন;-অসংখ্য কালো কালো বুট কাকীকে দলে-পিষে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে চায়।

ওমা! সে কি বলছো দিদি? রোজ রাতে কি কাকী একই স্বপ্ন দেখে?

হ্যাঁ। তাই তো জানি।

জীবনের গল্প - ১

১৯৮৮ সালের বন্যা যখন গ্রামের কৃষিজীবী ও কৃষি-শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কেড়ে নেয়,তখন মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার ভাকলা নিবাসী প্রান্তিক চাষী,আলিমুদ্দীনের মেঝছেলে রঈসুদ্দীন আরও  অনেকের মত জীবীকার খোঁজে গ্রামের পাশের বড় রাস্তাকে অবলম্বন করে। একই গ্রামের ফজল  মাতব্বরের ট্রাকে হেলপারের কাজ নেয় রঈসুদ্দীন। বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে পিয়াজ পরিবহনে নিযুক্ত ছিল রঈসুদ্দীনদের ট্রাক। দুরন্ত তরুন রঈসুদ্দীন বেনাপোল গেলেই কৌতুহলী হয়ে উঠত সীমান্তের ওপারের অচেনা দেশ সম্পর্কে জানতে। ওপারের অচেনা দেশের চেনা মানুষদের,যারা পেশায় তার মতই ট্রাক চালক বা হেল্পার তাদের কাছে তাই নানা প্রশ্ন করত সে ঐপারের

জ্যামিতিক-(-পর্ব-২)

যদিও প্ল্যান করেও শেলীর কিছু হয়নি। কিছু হয়নি বলা মনে হয় ঠিক না। শেলী শক্ত কংক্রীটে বাঁধানো একটা বাড়িতে থেকেছে, নিয়মিত চৈনিক বাসনপত্র কিনেছে, টাকা জমলে গয়না গড়িয়েছে-বেড়াতে গেছে তাজমহল।  তাজমহলের সামনে বসে ফুল-ফ্যামিলী ছবি তুলে মেইল করে একে ওকে পাঠিয়েছে। বছর তিনেক পরপর প্রেগন্যান্ট হয়েছে।  বেবী ফ্যাট কমাতে ডায়েট পিল খেয়েছে… বাচ্চাকাচ্চাকে অ আ ক খ—এ বি সি ডি শিখিয়েছে! এগুলো সবই হচ্ছে কিছু হওয়ার লক্ষণ! কিন্তু গোল বেঁধেছে তখনই যখন শেলী খেয়াল করেছে ইচ্ছে করলেও সে কিছু ভুলে যেতে পারছে না। শশীর মতন নির্দ্বিধায় চাবি হারাতে পারছে না!

আরো একটি রাত ও একটি স্বপ্নের প্রতিক্ষায়

রাত ১টা। চারিদিকের কোলাহল রাতের অন্ধকারের সাথে মিশে গেছে। মাঝে মাঝে গাড়ির হর্ন আর নিজের হার্টবিট ছাড়া আর কিছুই শুনতে পাই না সফেলা। টানা ছয় ঘন্টা গাড়িতে থাকার দরুন গাড়ির শব্দটি খুবই সাধারণ ঠেকছে অথচ এই শব্দকে সে একদিন মোটেও সহ্য করতে পারত না। স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে পাশের বাড়ির সবদার শেখের মেয়ের বিয়ের কথা। সেবার দু’দুটো বাস এসে প্রায় সফেলার উঠোনে এসে থামলো, শব্দে তো প্রায় জানটার যায় যায় অবস্থা। সফেলা সেদিন সবদার শেখকে প্রাণ ভরে গালি দিয়েছিল। গালিটাই যে তার একমাত্র সম্বল!

কালো সাগরের ঢেউ...(বয়:সন্ধি ও একটি পেয়ারা গাছ)

মাড় উপচে চুলার আগুন নিভে গেল। দীর্ঘ সময় ধরে ফুটতে থাকলে এমনই হয়। উপচে পড়ে। মাড়মাখা চূলার নিস্তেজ হয়ে পড়া দৃশ্যটি অত্যন্ত ঘিনঘিনে। শরীরে কোথায় যেন রিরি এক ভাব তৈরী হয়। এমন দৃশ্য দেখার চেয়ে হাত-পা এলিয়ে পড়ে থাকা আরামদায়ক। শরীর ও মনে প্রশান্তি আনে। দেহের দাড়িপাল্লায় অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভর চেপে বসে ইলেকট্রিক ঘুর্নি হাওয়ায়। চোখের পাতায় অপক্ক পেয়ারার কষালো স্বাদ টের পাই। আকাশে ভাসা উড়নচন্ডী তুলার কাঁখে চড়ে সুন্দরী ঘুমপরীরা নেমে আসে আমাদের গ্রামে। হাড়ির ভাত অর্ধসিদ্ধই রয়ে যায়। অবশেষে অর্ধসিদ্ধ ভাতই খেতে হয়। অর্ধসিদ্ধ ভাত খেলে পেটে অস্বস্তি হয়। পূর্ণ তৃপ্তি হয়না কিছুতেই।

মুক্তিযোদ্ধা আইনল সাংমা

গারো পাহাড়ের ঢালে ছড়ানো-ছিটানো কিছু ছোট ছোট কুঁড়েঘর নিয়ে কমলাবাড়ি গ্রাম। কয়েকটি আদিবাসী গারোপরিবারের বাস এখানে। কথিত আছে কমলাবাড়ি একসময় সুস্বাদু কমলালেবুর জন্য বিখ্যাত ছিল। পাহাড়ের ঢালে ছিল সারি সারি কমলার গাছ। এই গ্রামের বাসিন্দা আইনল সাংমা। তার সাথে আমার দেখা বিজয়পুর বিডিআর ক্যাম্পের গেটে। গেটে বিডিআর এর জেরার জবাব দিয়ে ছোট্র খালের উপর গাছের সাঁকো পাড়ি দিয়ে পৌঁছাতে হয় কমলাবাড়ি গ্রামে। কথায় কথায় জানা যায়, আইনল সাংমা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। তার সাথেই আমি যাই কমলাবাড়ি গ্রামে। ভাদরের দুপুরে অরবিন্দ সাংমার ঝকঝকে বারান্দায় বাঁশের মোড়ায় বসে চু পান করতে করতে কথা চলে আইনল সাংমার সাথে। রোগাটে দুর

হায়াত

১ বাড়ীতে মানুষের হাঁট বসেছে যেন তবুও লাশটিকে ধরে বিলাপ করার মত একটা মানুষও খুঁজে পাওয়া গেল না। মজিদ এ বাড়ির গৃহস্থালির কাজ-কর্ম দেখাশুনা করে, এখন সে কবর খোড়ায় ব্যস্ত। হাপেজ মিয়ার পারিবারিক গোরস্থানের এক কোনে করবটি খোঁড়া হচ্ছে। রাজা লাশটিকে চাটাই দিয়ে ঢেকে রেখে বাঁশ কাটায় ব্যস্ত রয়েছে। রাজা এ বাড়ির গরুর রাখাল। মা বড় সাধ করে তার নাম রেখেছিল রাজা। কোন দেশে একবার এক ফকিরের ছেলে নাকি রাজা হয়েছিল। বলা তো যায় না !

একটি দীর্ঘশ্বাস মেঘ হয়ে যায়

এখন আমার ত্রিশ। দশ বছর আগে মুনিরার বয়স ছিলো ত্রিশ। আমার থেকে মুনিরা দশ বছর বেশি বড়। মুনিরার সাথে কোনো যোগাযোগ বা সাক্ষাত নাই প্রায় সাত বছর। এই সাত বছরে আমি ত্রিশে এসে চাকরী করি একটি প্রাইভেট হসপিটালে। মুনিরা সাত বছরে কই পৌছায়ছে জানি না তবে সে যদিও তেমন কিছু না হয়, খারাপ নেই জানি। যখন চিনতাম তখনই সে উচ্চ পরিবারের বঁধূ ছিলো। আজ এই সাত বছর পর মুনিরাকে তুমি করে লিখতেও আমার ক্যামন ক্যামন লাগছে। সত্যি কেমন লাগছে।

Pages