slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

গল্প

প্রিয় মুখ

নির্জন রাস্তায় একা একা হেটে বেড়াতে আমার ভিশন ভালোলাগে।সেদিনও হাটছিলাম।হঠাৎ দমকা বাতাশে আমার হাতে জ্বলতে থাকা সিগারেটের আগুন উড়ে যায়।কান্নার শব্দে পিছনে তাকিয়ে দেখি একটি মেয়ে।বুঝতে পারলাম আমার সিগারেটের অবাদ্ধ আগুন তার অতি প্রিয় ওড়ণায় ছোট্রো একটা ছিদ্র করে দিয়েছে।অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম। একটা ওড়নার জন্য কেউ এভাবে কাদতে পারে!!!অনেক কষ্টে সরি টরি বলে পালালাম।এরপর থেকে রাস্তায় দারিয়ে সিগারেট খেলে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করি। সেদিন মেয়েটির ওড়ণার সেই ছোট্রো ছিদ্রটির মত আমার মনেও একটা ছিদ্র হয়েছিলো।আর সেই ছিদ্র দিয়ে ঢুকে পরেছিলো নিস্পাপ,পবিত্র একটি মুখ।নিয়তি

স্ফটিক শৈলচূড়ায় নিরঙে খেলে রং

ছাদের কার্নিশ বেয়ে গড়ায়ে গড়ায়ে লাফায়ে লাফায়ে নামতেছে বৃষ্টির জল।  জলের সাথে জল মিলনে এক অলৌকিক শব্দদ্যোতণা ছড়িয়ে পড়তেছে চারিদিকে। সকালের বিছানায় শ্রেষ্ঠতম মধুচন্দ্রক্ষন, কি তন্দ্রা কি তন্দ্রাচ্ছন্নতা! জগতে কোন হতভাগা কামলা আছে যে এমন সকাল দিনে যায় ঘরের বাইরে। বৃষ্টিদিনের মেঘাচ্ছন্ন কুয়াশা কুয়াশা ভোরের আলো দেখার লালসা সামলাতে না পেরে জানালার পর্দা কিঞ্চিৎ ফাঁক করে একচক্ষু অর্ধ উন্মীলন রাখলাম।  উহু!

আল্লাপ

এক বিষন্ন বিকালে মফস্বলের ছোট শহরটায় আমার কোন কিছুই ভালো লাগে না। তাল খুঁজে পাই না। শহরটা ছোট হলেও বেশ পুরনো আর বৈচিত্রপূর্ণ। বিভিন্ন ভাষা-সংস্কৃতির মানুষের বসবাস। বিমানবন্দর, ক্যান্টনমেন্ট, রেলষ্টেশন, রেলওয়ে কারখানারসহ আরো বেশ কিছু ছোট বড় কারখানা, বিহারী কলোনীময় এক ঘিঞ্জি শহর।

জমজ পাহাড়

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে মোইলে দেখলাম অঞ্জন এর এসএমএস “কবি ডুবে মরে, কবি ভেসে যায় অলকানন্দা জলে” শুধু এইটুকু। এই কবিতাটি জয় গোস্বামীর বলেছিলো সে-ই একদিন। তার খুব প্রিয় ছিলো এই কবিতাটি। জয় গোস্বামীও তার প্রিয় কবিদের একজন। অঞ্জন যেদিন কবিতাটি আমাকে শুনিয়েছিলো আমি বুঝিনি কিছুই, আমি কবিতা বুঝি না। তবে শুনতে ভালো লেগেছিলো! আমি তাকে বলেও ছিলাম কবিতা আমি বুঝিনারে আমাকে না শুনিয়ে যে বুঝে তাকে শোনা! উত্তরে সে দিলো কবিতা না বুঝলে নারী বুঝবে কি করে?

বাবার হাত

সন্ধ্যা থেকেই ঘরের দরজা বন্ধ করে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে চামেলী। এই দরজা খোলা জীবনে এমন করে তার মন খারাপ হয়নি কোনোদিন। জোৎস্না মাসির হাত ধরে  সে অনেকগুলো গলিঘুপচি পেড়িয়ে এই ঘরে প্রবেশ করেছিলো। তারপর থেকে তার ঘরের দরজা খোলা, যে আসে তাকেই সে সাদরে বরণ করে নেয়। কারও জন্যই  নিষিদ্ধ নয় চামেলীর সুবাস-রঙ-রস। উজ্জ্বল বরণ, গড়ন আর বয়স কম বলে তার ঘরের দিকেই সবার নজর। চব্বিশ ঘন্টায় কতজনকে যে তার ঘরে নিতে হয় সেই হিসেব সে করেনি কোনোদিন। মন খারাপ করার একটুকরো অবসরও তার ছিলো না। আজকের অসহায় সন্ধ্যা তাকে ঠেলে দিয়েছে একাকিত্বের শামুক-খোলসে। চোখ জুড়ে এতো চাপ-চাপ অন্ধ

সস্তারাম বস্তাবান দড়ি ধরে মার টান

ছেলেবেলার ঈদ মানেই ছিল রোজার ঈদ কারন এ ঈদে পাওয়া যেত নতুন জামা স্যান্ডেল জুতা আরো কত কি, তবে কোরবানীর ঈদের শান শওকাত ছিল আবার আরেক ধরনের, আমরা থাকতাম কলোনীতে, কোরবানীর ঈদ মানেই ছিল গরু গরু তে প্রতিযোগিতা, কাদের গরু কত বেশী সুন্দর আর হৃস্টপুস্ট ,নাদুস নুদুস। গলায় লাল ঝালটের মালা জরিয়ে মাঠের মাঝে সবাই সবার গরু গুলি বের করত । নদীতে নিয়ে গিয়ে গরু কে গোসল করাতাম সুগন্ধি বাসনা সাবান দিয়ে, কলোনীর সবাই কয়েকজন মিলে মিলে একটা গরু কিনত। সেবার ও ব্যতিক্রম হল না । পাশের বাসার রহমান কাকা, ইব্রাহিম কাকা, মনির কাকা, মজনু কাকা এবং আমরা ছিলাম । বরাবরই একসাথে গরু কিনে ভাগ করে কোরবানী দিতাম, আর এই সব কাকা দের

‌ডরাইলে ডর, বইরা দিলে কিয়ের ডর'

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি-রায়পুরের পরের স্টেশনটির নাম ইলিয়টগঞ্জ। লোকে বলে আইল্লারগুনজ; আইল্লারগুনজ বাজার। বাজার হিসেবেই কুমিল্লাবাসী চেনে একে। নৌপথের রমরমা অবস্থার যুগে আইল্লারগুনজেরও রমরমা অবস্থা গেছে। তখন একে ছোটোখাটো নৌবন্দর বলে মনে হতো। সারি সারি ছোট বড় যাত্রী ও মালবাহী নৌযান বাঁধা থাকতো বাজারের চারপাশে। কুমিল্লার বিভিন্ন প্রত্যন্ত প্রান্ত থেকে মানুষ আসতো বেচা-কেনা করতে। আসতো চাঁদপুর, নোয়াখালী-ফেনি, বরিশাল-ভোলা থেকেও। কেন আসতো কেন প্রসিদ্ধ ছিল আমি আর ওসবের দিকে যাবো না। কারণ, আমার এই গল্প আইল্লারগুনজ বাজার নিয়ে নয়, বাজারের একজন পাগল নিয়ে।

হারাধনের সবেধন নীলমনি ও লোভাতুর আগন্তুক

লোকমান হাওলাদার মহাখালী বাস টারমিনালে এসে পৌছালেন, তিন ঘন্টার ও বেশি সময় লাগল।মির্জাপুরের ছাওয়ালী মহেরা তার বাড়ি গত ছয় মাস ধরে ঢাকা আসা যাওয়া করছেন মালেশিয়া যাবার জন্যে, কখন পাসপোর্ট করার জন্যে আবার কখন মেডিকেল কখন এজেন্সী অফিসে টাকা জমা দেওয়া , কিন্তু কাজ আর শেষ হয় না !

মুক্তাগাছার মন্ডা থাকে শুধু প্রাণ টা

সম্রাট মিয়া রিক্সা চালায় শ্যামসিদ্ধি বাজারে, আজ চার মাস হল সে এই খানে এসেছে, রহিম বাদশার সতের টি রিক্সার মধ্যে একটি চালায় সম্রাট মিয়া, রহিম বাদশার কাছে তাকে এনেছে ছোরহাব মিয়া, তারা একই সাথে রিক্সার গেরেজের সাথে লাগোয়া টং ঘরে থাকে , বাড়ি মুক্তাগাছার শালগাউ, ছোরহাব তার চাচাত ভাই । প্রতি দিন রিক্সায় কামাই খারাপ হয় না , জমা দিয়ে ২০০ টাকা থাকে । জমা দিতে হয় ৫০ টকা , ২ বছর আগে জমা ছিল ২০ টাকা, হু হু করে সব কিছু বেড়ে গেছে, প্রতি দিন রিক্সা চালিয়ে দুপুরের পর সুমন মিয়ার দোকানে একটা পান একটা বিড়ি না খেলে আর একটু খোশ গল্প না করলে সম্রাট মিয়ার পেটের ভাত হজম হয় না। আজকেও এর ব্যাতিক্রম হল না, যাবার সময় ট

ঘুম

ঘুম
মুহাম্মদ মেহেদী হাসান

হাজার বছরের পোড় খাওয়া পৃথিবীটার সমস্ত প্রাচীনত্বের মাঝে আমার অর্বাচীন চোখ দুটি দৃষ্টিশক্তির সর্বস্ব উজার করে দেখতে প্রাচীন সূর্যটার অস্তগামী শৈল্পিকতা। আমাদের বাড়িটাতে সূর্য ডোবার অনেক পরেও অন্ধকার নামতো না। গোধূলীর সমস্ত আভা বুজে আসার পরেও সূয্যিদৈত্ত যেন অপার বিলাত আমাদের বাড়িটার চারপাশে।

স্বর্গের খোঁজে

চারপাশের নোংরামি, ব্যভিচার, প্ররোচনা, অশ্লীলতা, সব রকম ইতরামি, পাশবিকতার মাঝে জন্ম নিয়ে; বুদ্ধিহীন, অতৃপ্ত, ক্ষমাহীন, অন্ত্র ও লিঙ্গ সর্বস্ব কিছু মানুষের মাঝে বেড়ে ওঠা এক পুণ্যাত্মার সাথে কথা হল গতকাল।

বহুদিন কঠোর সাধনার মাধ্যমে স্রষ্টার বিশেষ অনুগ্রহ ও নৈকট্য লাভ করেন তিনি। যেহেতু তিনি প্রকৃত পুণ্যাত্মা ছিলেন, তিনি স্রষ্টার কাছে কোন বাসনা পূর্ণ করতে নয়, বরং স্রষ্টার প্রতি অসীম ভালবাসা থেকেই সাধনালিপ্ত ছিলেন। তাঁর ভক্তিতে স্রষ্টা অত্যন্ত তৃপ্ত হন এবং এই পুণ্যাত্মাকে একটি অসামান্য বরদান করেন। দিব্যদৃষ্টি।

উড়ে যায় সাদা শকুন

আমি জন্ম নিলাম রাজপ্রাসাদে--
পরিত্যক্ত ঘোড়ার ঘরে।
প্রাসাদের সমবয়সিরা ছিল উদ্দাম
ফেরেস্তাদের মত সুন্দর কিন্তু আমি কুতকুতে কালো
যেন স্রষ্টার আশির্বাদ বঞ্চিত।

আমি গাইতাম ওদের থেকেও ভক্তি দিয়ে
অথচ পড়তোনা হাতে হাত, বাজতোনা বীণ
রাস্তার ছেলেরা বলতো, ‘‘নর্দমার কীট’’
অথচ আমার জন্ম রাজপ্রাসাদে--
অসংখ্য তারকা খচিত কক্ষের মাঝে--
পরিত্যক্ত ঘোড়ার ঘরে!
যেন স্রষ্টার আশির্বাদ বঞ্চিত।

বাতাশের সুন্দায় আমার বন্দু সাজ্জাদ

তারে কইলাম, আহারে মানিক...অনেকদিন আগে তোমার বাবার দাদারা এইসব সইয়্যা সইয়্যা... এক সুমায় মইর‌্যা বুত অইয়া গেছে, মুকবুইজ্যা থাকতে থাকতে, তোমার বাবারাও হঠাত কইর‌্যা একদিন বুইর‌্যা অইয়া গেছে, সোনার চান...! তুমার আর বাচপার ইচ্ছা করেনা...! সুন্দার সুমায় হটাত কইরা যেই বাতাশটা আইলো ...তুমি মনে হয়, বুইল্যা গ্যাছো তুমার বংশের কে একজন আছিল, যারে তুমি দেহ নাই...হেই কত বছর আগের কতা, ওয়া কি আর মুনে আছে? তয়, এইডা কইবার পারি, আন্দারের মইদ্যে খাড়াইয়া আছিল, এক্কেরে আইজক্যার মতনই.. বাতাশের সুন্দায়। বাতাশের সুমায় কৈ আছিলা? সাজ্জাদ কইলো, বাতাশের কুন দুষ নাই, রাগের চোটে...

একটি সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ গল্প

বিয়ের আগে

আজ শীলার জন্মদিন। বাবা কিছুতেই যেতে দিল না। অনেক করে বললাম-নিলু, নাজমা, নাইছু, ডাক্তার আঙ্কেলের মেয়ে সকলেই যাচ্ছে; আরো বললাম-সন্ধ্যে হবার আগেই বাড়ি ফিরে আসবো, তবুও না। বাবা না বললে সেটাকে হ্যাঁ করাই কার সাধ্য! হেলাল সাহেব আমার বাবা। একমাত্র অফিসের বস ছাড়া কারও কথাই শোনেন না তিনি। বস যা বলেন সবকিছুই মেনে নেন আর বসের ওপরের রাগটা এসে আমার আর মার ওপরে দেখান। মা নিরবে মেনে নেন, আমিও। মা প্রায়ই বলেন, ‘তোর বাপ পুরুষ মানুষ, বাইরের কত ঝামেলা-ঝক্কি সহ্য করতে হয়, রাগ তো একটু করবেনই।’ আমি কোন কথা বলিনি-না মাকে না বাবাকে। ওরা এখন নিশ্চয় খুব মজা করছে!

জীবন যেখানে যেমন

বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে;-হাত বাড়িয়ে দিই, ছুঁতে ইচ্ছে করছে প্রচন্ড। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো হুড়িমুড়ি খেয়ে হাতে এসে পড়ছে তারপর পাল্লা দিয়ে গলে পড়ছে হাতের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে। ইট বিছানো মাটিতে চূর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাচ্ছে প্রতিটির দেহ; শেষবারের মতন ককিয়ে উঠছে তীব্র বেদনায়। মাটি গভীর মমতায় শুষে নিচ্ছে বৃষ্টির বেদনাগুলো, নাকি গোগ্রাসে গিলছে বৃষ্টির আর্তনাদ, মেটাচ্ছে জন্মের পিপাসা? মানুষ হওয়ার এই এক অসুবিধে : কারণে-অকারণে অনেক ভাবনাই মাথায় আসে। ট্রেনটা নিশ্চয় এমন করে ভাবছে না!

Pages