slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

গল্প

গল্প - নাটকের মেয়ে (পর্ব -০৩)

সেই রাতে ভালোমতো ঘুম হল না। আধো ঘুম জাগরণে স্বপ্ন দেখলাম, আমি একটা পার্কে নাচছি। আমার বিপরীতে এক হ্যান্ডসাম নায়ক। ফর্সা মুখ। নীলচে গাল। চোখে সানগ্লাস। কোকড়ানো চুল। ফুর ফুর করে তার গা থেকে দামী পারফিউমের ঘ্রাণ আসছে।
পরের দিন শুটিং এ গিয়ে আমার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রকে খুঁজছি। স্বপ্নে দেখা নায়কের মতো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। ডিরেক্টরের মেজাজ পুরো খারাপ। একজন অভিনেতার আসার কথা সকাল ৯টায় । এখন ১১টা। তিনি এখনও এসে পৌঁছেননি। আমি বুঝলাম, আমার স্বপ্নে দেখা নায়ক এখনও আসেননি। নায়কদের দেরি করে আসতে হয় । যিনি যত গুরুত্বপূর্ণ তিনি তত দেরি করে আসেন।

গল্প - নাটকের মেয়ে (পর্ব -০২)

ডিরেক্টরের অফিসে ঢুকে আমরা হা হয়ে গেলাম। গিজ গিজ করছে মেয়ে। দশ বারো জন মেয়ে তার সামনের সোফা ও চেয়ারগুলো দখল করে বসে আছে। হি হি হি হি চলছে।
আমরা ঢোকার পরেই তারা সবাই আমাদের দিকে তাকাল। ডিরেক্টর সাহেব বিরক্ত চোখে তাকালেন। তার চাউনি দেখেই বুঝতে পারলাম, তিনি আমাদের চিনেন নি।
আমরা ভেতরে ঢুকে কোথায় বসব বুঝতে না পেরে দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি হুংকার দিলেন, ‘বশির, দুইটা চেয়ার আন।’
ভেতরের একটা ঘর থেকে একটা হাড়গিলে ছোকড়া দুটো চেয়ার নিয়ে দৌড়ে এল। আমরা বসলাম। তিনি আমাদের নাটকের দলের ছোকড়ার দিকে তাকিয়ে বললেন,‘হ্যা, তারপর বলেন।’

গল্প - নাটকের মেয়ে (পর্ব -০১)

বিরাট জ্যাম লেগেছে। রিহার্সেলের সময় বিকেল চারটা। এখন সাড়ে চারটা। বসে আছি বাসের ভেতর। বসে বসে ঘামছি। গরমে নাকি টেনশনে বুঝতে পারছি না।
টেনশনের চেয়ে মেজাজ খারাপ বেশি হয়েছে। আমার কোন সুযোগ পাওয়াটা সহজ হয় না। এর আগে এক নাটকে সুযোগ পেলাম। শুটিং ডেটও হয়ে গেল। আগের দিন রাত ১১টায় ফোন এল প্রোডিউসারকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। ব্যাটা নাকি কোন এক মাল্টিপারপাস চালাত। এক গ্রাহক মামলা করেছে প্রতারণার অভিযোগে। স্বভাবতই সেই নাটক ভেস্তে গেল। সেই নাটকের ডিরেক্টর আগে ফোন ধরত, এখন ফোন ধরে না, কেটে দেয়। শালা একটা খাটাস।

অনল হকের খাব নামচা

একটা বাসে করে দূরে কোথাও যাচ্ছিলো অনল হক। পরিচিত কেউ ছিল তার সাথে। ঠিক কে ছিল তা মনে পড়ছে না। মিহি মহাসড়ক। দেশের মহাসড়কগুলো বেশ চকচকে হয়ে উঠেছে। দারুন চালাচ্ছে ড্রাইভার। একের পর এক গাড়ি ওভারটেক করে যাচ্ছে অবলীলায়। কেউ পাত্তাই পাচ্ছে না। একেবারে রাস্তার রাজা। তার গতির কাছে দাঁড়াতেই পারছে না কেউ। হেলেদুলে চমত্কার ছন্দে। যাত্রীরা সবাই ভ্রমণানন্দ উপভোগ করছে। ছন্দের দোলায় গতিটা কেউ তেমন টের পাচ্ছে না। অধিকাংশই ঝিমুনির তালে ছন্দের দোলাটা নিচ্ছে। কেউ কেউ বাইরের গতিময় প্রকৃতি, গ্রাম, জনপদ, আকাশ. নদী, জলাশয় উপভোগ করছে।

মৃত্যু-উৎসব

এক

গরীবের জ্বালা (তৃতীয় পর্ব)

রায়মঙ্গলের জলের রঙে বাঘের মতো ডোরাকাটা স্রোত, এই ডোরাকাটা একদিন ভাসিয়েছিল খোয়াজ খিজিরের বর্নময় ডিঙ্গা। আমাদের ছোটকালে যখন মৌয়ালরা বছরের পয়লা মধুর ভান্ড গুলো নামাত ডাঙ্গায় আমরা ঘটি বাটি যার যা আছে নিয়ে ঘের দিয়ে থাকতাম। ওই বয়সে আমরাওতো সর্বহারাদের মতই কিইবা ছিল আমাদের, আমরা তাই দাবী করতাম। মধু রসের দাবী। গরান ফুল কি হেন্তাল ফুল, কেওড়া কি সুন্দরী, গোল কি লতাফুলের মধু আমাদের একটা হলেই হল। নৌকা থেকে মধুভান্ড গাঁয়ে ঢুকে গেলে আমাদের কাজ ছিল মধু ডাকাতি। যে যতটা পারি। তারবাদে খুচরো মধু সোম কি বুধবারের হাটে বেচে দিতাম। খুচরো পয়সা জমে জমে মাটির আম বা কাঁঠাল গুলো পোয়াতি হলে রাসমেলার আগে আগেই বুড়ি দাইমা

গরীবের জ্বালা

প্রকাশিত আলো, প্রকাশিত আন্ধার। প্রান্তরজুড়ে সেইসব আহামরি। এমনি এক আহামরির ভেতরের প্রায় কাছাকাছি জলে-স্থলে-অন্তরীক্ষে জন্ম হয়েছিল তার। বীরপালা ধানের জমিনের মাটির ওমে দিনরাত ঝিম মেরে থাকে যেসব কইয়ের অনন্ত আকাংখার ডিম, সেইসব ডিমের শপথ ছিল তার আবির্ভাবে। যেন সে সাথে নিয়ে এসেছিল বাঘাডুলির এক দিগন্তউত্তীর্ণ ছক। আর গঙ্গারামপুরের শয়তান শালিকগুলোও যখন নিস্তার দেয়নি বাঘাডুলির একটি মার্বেল গুলিও তখনি জানা হয়ে যায় তার শহর থেকে পল্লী গাঁয়ের ঘোষ পাড়ায় প্যাকেটের দুধের সাথে পলিটিক্সও আসে।

বড় বাপের পোলা খায় মুড়ি ছোলা

১) ইমরান হোসেন লিটন ওরফে কোনাইচ্চা লিটন , মানুষের গড়ন ও যে কোণাকৃতির হতে পারে তা এই লিটনের নাম না শুনলে জানা হত না, কোণ আইসক্রিম, ঘরের কোনা এবং রাস্তার কোনাকুনি হাটতে অভ্যস্ত সে । তাই তো নাম টা আরো পাকা হয়ে গেছে , থাকেন পুরান ঢাকার ভজহরি লেনে এবং যথারীতি কোনার মাঝে দুই দুইটি ছয় তলা দালানের একটিতে , এই বাড়িটা তার বাবার বিদেশের পাঠান  টাকা দিয়ে করা । তাই তো লিটন মাস শেষে ভাড়াটিয়াদের কাছে বুঝে গুজে নেন বাড়ি ভাড়ার সব , পেশা বলতে এটাই এর বাইরে টো টো কোম্পানীর ম্যানেজার যিনি প্রয়াত বাবার হোটেলের নিয়মিত ভক্ষনকারী ,পুরান ঢাকায় এটাকে বলে খোদার খাসি !

অনন্য পুলক লাভ

হুজুরাতংক

মীরকাদিমের কুমারী গাভী

একটি খসড়া গল্প
 

কারবালা বিবি

দুটি গল্প, একটা ফাও

শিক্ষকদের নিয়ে ছাত্রসমাজে গল্প থাকাটা খুবই সাধারণ এক ব্যাপার। আমাদের ক্যাম্পাসের একজন শিক্ষককে নিয়ে তেমনি দুটি গল্প। ওই শিক্ষকের কিঞ্চিৎ সঙ্গীতপ্রিয়তা ছিল বিধায় তিনি মাঝে মাঝে গলা সাধতেন। একদিন তার সাধের হারমোনিয়ামটি নষ্ট হয়ে গেল। তিনি ডিপার্টমেন্টের পিওনকে ডেকে বললেন, ‘সাভারের নিম্নবর্গীয় বাজারের সন্নিকটবর্তী কোনো পণ্যাগার আছে যেখানে সপ্তসুর উৎপাদক চতুষ্কোণ বাদ্যযন্ত্রের ভৌত বিনির্মাণ করা হয়?’ পিওনটি বললো, আমি জানিনা ছার।

রইছুদ্দীনের হোগাবন্দী

সকাল সকালই হোগা জ্বলা শুরু হইছে রইছুদ্দীনের।

Pages