slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

বাংলা কবিতা.....

ভালোয় দিতাছ, আহা, বাংলা কাব্য   

যত্রতত্র যখন তখন

আমি চাইলে শুধু কটূক্তি অশ্রাব্য-    

ছেলেটার দ্যাখো নষ্ট মন

 

ভার্সিটি-শা্হ্‌বাগে তোর ফেরা তোর   

চলা, দেখি যার-তার সাথে

ঢলাঢলি আর মাখামাখি ঘোর

বাছ-বিচারহীন, হাসতে হাসতে-

 

অথচ আমার সারাটা জীবন

কাটিয়া যে গ্যালো তা না না না...

মজ্‌নু হইয়া শুধু, ওলো যাদুধন

ভাবলি না সে কথা, ওরে মনা

 

হেলা কভু সয়না, দেহে আর প্রাণে

মাইরি বলিতেছি, মা'র কিরা

ত্রিবেণীসঙ্গম (খসড়া)

তিন স্রোত এসে যেখানে মিশেছে তিন দিক থেকে, আহা,

মিশিয়াছে যেথা ত্রিজলা নহর- ত্রিবেণীসঙ্গম যাহা-

যার কথা শুধু শুনেছি অ্যাদ্দিন লোকমুখে, বেশিকম

আজ দেখা হলো চর্ম চক্ষে সেই সরোবর মনোরম

রাত্রি অথবা তোমার গল্প

বিছানায় এপাশ ওপাশ গড়াগড়ি করি, কখনো
অন্ধকার ঘরে বাচ্চাদের মতন হামাগড়ি দেই!
ঘুম আসেনা!

কখনো চিৎ হয়ে দেয়ালটাকে আকাশ বানাই,
মনের আবেগে ঝুলাই যুবতি চাঁদ; যেন সে আমার
প্রিয়া।
ঘুম আসেনা!

কখনো বিড়বিড় করি প্রিয় কোন কবিতার লাইন;
মন্ত্র যপের মতন।
ঘুম আসেনা!

রাত্রি দ্বি-প্রহর;
প্রভাত আসন্ন।
ঘুম আসেনা!

শব্দ পোকেরা মাথার ভেতরে ঘোরে এলেবেলে….
আবিরাম খেলে চলে এক্কাদোক্কা….
কবিতায় বসেনা।
ঘুম আসেনা!
তখন  খুব  আপন করে জড়িয়ে থাকি ..
একপাটি তোশকের পরিচিত এই
বিছানা আমার; যার পাশে অযত্নে পড়ে থাকে
সিরামিকের এষ্ট্রেটা….

ঝরা পাতা

একদিন তুমি আর আমি
আবার যখন রিকশায় ঘুরবো
পুরো ঢাকা শহর...
অজস্র কবিতা;
একটার পর একটা সিগারেট
অনর্গল কথা
আমার স্বপ্ন সব তো্মায় নিয়ে
তো্মার হাত ধরা;
তো্মার হাতে আমার হাত
বিশ্বাস কথা বলে !
অন্য কিছু মিষ্টি হাসিতে
তো্মার স্পর্শ সেইতো অনেক পাওয়া...

একদিন তুমি আর আমি
আবার যখন ফুলার রোডে
পুরোনো সেই চাওয়ালার কাছে চা খাওয়া
'চা এখন কত?'
দুই টাকা; 'মাত্র?'
আবার সেই হাসি! ওড়না পড়ে গেলো।
'বৃষ্টির দিনেই বেশি ভাল লাগে'
'সেবার না তো্মার ঠান্ডা হলো খুব!'
তারপরও বৃষ্টি বলে কথা...

চল তোমায় সাঁতার শেখাবো

আমি তোমার সাথে সাঁতার শিখতে নেমেছিলাম-
সোমেশ্বরির হাঁটুজলে; ডুবতে ডুবতে জল খেয়েছি-
শরীর ভিজেছে, মন ভিজেছে ঠিকই, ক্লান্ত হয়েছি-
সাধ ছিল পূর্ণ মাত্রার; তবু তোমার সময়ের অভাবে-
তখন আর সাঁতার শেখা হয়নি।

এরপর কংস দেখেছি, মধুমতি দেখেছি-
অবদমিত ইচ্ছারা আমাকে জোর করে, চেতনে কিংবা অবচেতনে,
দু’-একবার ডুবিয়েছে ঠিকই- ভাসাতে পারেনি!
আবারো ডুব ডুব জল খেয়েছি- সাঁতরাতে পারিনি-
তোমাদের সাঁতরাতে দেখে, শুধু মন খারাপ করেছি।

অশান্ত প্রহর

তবুও কি অচেনা জীবনের কবিতা !
টাটকা রোদ মেঘের ছায়া গিলে খায়
গোপন জলে ম্লান হয়,
থেমে যায় অনন্ত চুম্বন ;
মনের নীলে নীল রাত্রির শুভ্র আভা ।

বৃষ্টি পড়ে অবিরাম অপরিচ্ছন্ন ভাবনার
হৃদয়েরা রৌদ্রে ভেজে নিরাশার স্টেশনে ।
ক্লান্তি ঘনায় মাতাল ঘুমে,
কাঁঠালচাঁপার ঘ্রাণ ভেসে যায়
বহু তৃষ্ণায় জর্জর অবান্তর জ্যোস্নায় ।

জানি আমি, ক্ষয়ে ক্ষয়ে ছায়া হয় মরুভুমি
সত্য স্বপ্ন এসে বাঁধা পায়-
অন্ধকারে আনমনা তোমার নিরুত্তর ছবিতে ।
প্রেম হারিয়ে গেছে ;
বাতাসে নেই মেঘলা চুলের ঘ্রাণ !

অজ্ঞাত পথিক

মাটির মেয়েটি হারিয়ে ফেলেছি

যখন আমি ছোট ছিলাম
শিশু ছিলাম
মেঘের মতো, ঘাসের মতো, জলের মতো।
শহরের ইট, সিমেণ্ট, রড, কংক্রীট থেকে দূরে...
দূর গ্রাম দেশে। মাটির সাথে মিশে
জলের সাথে ভেসে, শ্রাবণের প্লাবন আমার বন্ধু ছিল।
আকাশের মেঘ মালা আমার ভাল লাগত
হিজল ও অশ্বথ্বের রঙ্গিন ডালে দোলতে দোলতে
চপল মেয়েটির গালে
জোর করে চুমু এঁকে দিতাম।
দুষ্টু মেয়েটির তুলতুলে হাতের চট তখন আমার ভাল লাগত।
------এখন বড় হয়ে
শহরে এসে, শহুরে হয়ে
টকটকে লাল গালওয়ালা সেই মেয়েটিকে ভুলে...
মনে হল দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় এত দিনে
আমি সব খুয়েছি।

নন্দিনী

তোমার মধ্যে একটা নক্ষত্র আছে
নাম তার চিত্রা; সত্য গ্রহ, কবি
মিথ্যা বলে না, মেয়ে শোন, স্বচ্ছ
তোমার চোখের মনির ঝর্ণাতলায়,
মাথার খুলির অসারতা, বিম্বের
প্রতিধ্বনি, নৈঃশব্দ তার সুরে,
ডেকে, বলছে, "ভালোবাসি!"
আশ্চর্য্য সে দেশে গেলে, রূপকথা নিয়ে;
পৃথিবীকে সে করে নি কো অধিকার
দুদন্ড মেলানোর চেষ্টাও নয়, চমকে
চমকে ধরা দিবে চপলা, চপলে চকিতে
প্রেম-ঈশ্বরধাঁধা-অতীত-ভবিষ্যত,
যদিও অর্থহীন, তবু হৃদয় চাইছে
অন্তহীন আলস্য একক বর্তমানের।

 

-কুম্ভীলক।

মিছিল : ২ আগস্ট

তখন রক্তে নাচে ইলা প্রীতিলতা

তখন মাথা উঁচু উদ্ধত শ্লোগান

তখন আমি যেন আমার চেয়ে বড়

আমরা একজন হই হাজারো প্রাণ

ভষ্ম ০৬

নাই তাই হাতড়াই/
মাঝে-সাঝে খুঁজে পাই/
মাঝে-সাঝে পাই না...
মাঝে-সাঝে খুব খাই/
মাঝে-সাঝে খাই না...

তবুও স্নায়ুতে উৎকট পীড়ন নিয়ে আমরা মাসে এক শত কুড়ি ঘন্টা ঢাকার রাস্তায় ঝুলতে থাকি আর আমাদের নাক ও কানের পাশে লোহালক্কর সীসাসহযোগে হাপাতে থাকে আর কাঁপাতে থাকে...আমরা 'শালার বাংলাদেশ' আবৃত্তি করে পুনরায় বাদুরবৃত্তিতে ধ্যানমগ্ন হই...

আমাদের শারীরিক ও মানসিক কল্পনারা আমাদের ঘুনে-খাওয়া মস্তিষ্কে কোনোরূপ টক-ঝাল-মিষ্টির উপস্থিতির সন্ধান না পেয়ে তাদের স্ব স্ব কল্পনায় ডুব দিয়ে নানারকম গুঞ্জনরুপি ধ্বনি উৎপন্ন করে...

জলশয্যা

যদি জল থেকে সত্যি উঠে আসে একটি কুমির জ্যোৎস্না-রাতে

আমি গিয়ে শোবো তার পাশে ঐ চিকচিক বালুচরে;

দুজনে ঘুমাবো—বলবো : এসো তারা গুনি এক সাথে।

স্বপ্নের ভেতর ঠোঁট বাঁকিয়ে, কেলিয়ে দাঁত, হাসবো খুব মজা করে—

 

ভোরবেলা বালু খুঁড়ে তুলে নেবো কচ্ছপের ডিম—তার আগে দাঁত নেবো মেজে

গাছের বাকল আর দুতিনটি বাইন মাছের লেজে।

 

সবরি কলাগুলো তবে পেকেছে কি?—এই প্রশ্ন নিয়ে

যত বানরের সাথে আবার বন্ধুত্ব করবো বহুদিন পর।

উড়াবো মৌমাছিদের শুধু এক তুড়ি দিয়ে

ঢুকে যাবো ঊর্ধ্বশ্বাসে মধুবন্দি চাকের ভিতর।

 

নাস্তিকের প্রেম

নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা?

এমন করে তো আগে ভালোবাসি নাই;
তবু মনে পড়ে-
মৃত্যু আমাকে নতুন কিছু দেয় নাই।
আমি শুধু জেনেছি-
আমি মরণকে ভালোবাসি;
মায়া-বিভূতি; নিত্য-সন্দর্শন
অমনি অগণিত প্রেমিক
যারা পেয়েছিল স্পর্শ, অবসাদ-ক্লান্তি, সঞ্জীবনী
তাদের কবিতা, গান, আত্মহত্যার মতন তীব্রতর প্রেম,
মৃত্যুও দিয়েছে তাদের ঢের!
আমার সমান্তরালে, তনুশ্রী
তুমি চলে গেছো, আমি খুঁজি মৃত্যু
তোমার ছায়ার পিছে পিছে
কোনোদিন যদি সে ভালোবাসে।

-কুম্ভীলক

দেশ

কুমারী মাতার মতো আর্ত চিৎকারে
উজাড় হওয়া সব
অন্তরীক্ষের সম্পদ,
তরল ও বায়বীয়;
আজো রাবনের পাল, পাল তুলে আসে
আর পালের গোদারা মহাজন হয়।
তাদের পরিহাসের সব ব্যকরণে
অকারনে আমাদের যেন ভালবাসে।

Pages