slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

বন্দুক

এই বেলা লোকালয়ে

ফিরে যাব প্রানভয়ে

বনে আর থাকিব না আমি,

বনে ওই বাঘ মামা

শুকাতে দিয়াছে জামা

বানর নাচিছে থামি থামি।

 

এহেন মধুর পরিবেশে

শহরের লোক এসে

টাঙায় রঙিন তাবু,

সারাবেলা কোলাহলে

দিনগুলো যায় চলে

ভাল তো লাগেনা বাবু।

 

নিরিবিলিপ্রিয় তারা

সদা সুন্দর চেহারা

তাদের মেয়েরা নাচে বনে,

রবীন্দ্র সংগীত গায়

সকালে ফ্রুটস খায়

হেসে ওঠে অকারনে।

 

আমিও ব্যাঘ্র হবো

হুংকারে কথা কবো

নয়নের প্রস্থান...ফিরে আসা

আশ্বিনের শেষ জুম্মাবার সকালে, বড় অকালে

ভারি অসময়ে এলো সেই দিন-- প্রত্যাবর্তনের;

নিয়তির রায় মেনে তুমি ফিরে চলে গেলে সুদূরের

সুরভিত কুঞ্জে, পুষ্পপুঞ্জে, দূরে, দিকচক্রবালে।

 

তখনো সঘন ভোর-- লালিমার, ভাঙ্গেনি মৌতাত

জীবনের সুধাপাত্র হয়নিকো শেষ, প্রেমে-ওমে

ফেনায়িত তনুমন; বন্ধুতার বিশ্বস্ত দু'হাত

তবু বাড়ালে সাথীকে-- যাকে জলে ডেকেছিলো যমে।

 

তোমার প্রস্থান যেন এক ফণাওয়ালা বাস্তব--

দু:সহ দুর্বহ ভার; স্বজনেরা লোকসান গোণে

কৃষ্ণচূড়ার ইন্দ্রজাল

রাত গাঢ় হলে নিজের পৃথিবীর দেখা পাই আমি । চোখ মেলে খুলে দেই কাছের জানালা, প্রজাপতি রাঙ্গা মেঘ কার্নিশে এসে বসে । রঙ্গীন বালিকা একমুঠো জোনাকীর আলো হাতে ছুটে চলে হৃদয়ের অলিগলি । প্রহরে প্রহরে রচিত হয় রেশমী হাওয়ার শিহরন । একাকী রাত্রি ভুলে যায় নীল নিরবতা ।

মাঝে মাঝে এভাবেই রাতে দেখা দাও ! কথা হয় মনে মনে, জোছনার ফাঁদে ধরা পড়ে ঐ চোখ ! ঠোঁটের উপর ঠোঁট চুমুর মত জেগে থাকে । ইচ্ছে করে তার মনে কৃষ্ণচূড়ার ইন্দ্রজাল বুঁনি- নির্বোধ মন আবার স্বপ্ন দেখে !

খাপছাড়া (৫)

ওই দূর দিগন্তে 
বিস্তৃত ওই নীলিমায় 
শুধুই চেয়ে দেখা আর ফিরে যাওয়া 
হৃদয়ের কোনো এক জানালায় 
বালুকাবেলায় স্বপ্নের জাল বোনা 
হয়ত এক স্বপ্নীল চিত্তহারিনী 
শ্বেতশুভ্র এক অজানা পথিক 
চেয়ে দেখে তার মনের দরজায় 
বিছিয়ে গেছে কার্তিকের মেঘ 
কোনো এক সোনালী দুপুরে 
অলস সময় পার হয়ে যায় 
জেগে থাকে তবুও জেগে থাকে 
এতটুকু আশায় 
হয়ত ধরা দিবে , বলবে কখনও 
ধর আমার হাত , রাখব আমি তোমায় 
আমার হৃদয়ের মণিকোঠায়
নিয়ে যাবে কোনো দূরদেশে
হয়তোবা কোনো চোরাবালিতে 

প্রসঙ্গ

একদিন সবকিছু ইতিহাস হয়ে যাবে।

দূর্বোধ্য

পদ্মা-মেঘনার সাদা-কালা জল
আপন মহিমায় করে টলমল
পদ্মা-মেঘনা আজন্ম আছে পাশাপাশি
নেই প্রাচীর-বাধঁ,তবু নেই মেশামেশি
এরা খরা কিংবা প্লাবনেও হয় না একাকার
বিধির এ রহস্য করে উন্মোচন সাধ্য কার ?
 

বাস্তুহারা

ছেলেটি পড়ে ছিল ওভাবেই
ইট-ধুলোর তোষকে কি নির্লিপ্ত ভঙ্গিমায়!
কি এক সৌম্য স্বাধীনতার আশায়!
ছড়িয়ে দিয়েছে দুহাত সে
আনমনা ওই অসীমের দিকে।
হা হয়ে থাকা খোলা ওই মুখে
মাছিদের অবাধ প্রবেশাধিকার।
কি গণতান্ত্রিক গঠনে- মারা গেছে ছেলেটি!

আমি বলেছিলাম, দোষ দিও না ওকে, অভিশপ্ত বোল না
প্রাণ ছিল ওর, ছিল বাঁচার আকুতি
ছিল এক মুঠো অন্ন আর ভালবাসার অভাব
মিঠে রোদ বিকেলে অস্পষ্ট প্রেয়সীর ছোঁয়া
ও শেষ জীবনে মৃত্যু অপেক্ষার ইচ্ছা।

আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কি পেয়েছিল সে?
স্বদেশের মাটিতেই সে ছিল বাস্তুহারা।
আর সোনালী ধানে তার ছিল না কোন অধিকার।
আজ তার মৃত্যুর পরেও

নাদেরা সুল্‌তানা

বহু দিন বাদে, তিন পেগ মদে রক্তে জ্বালালো আগুন 

বিস্মরণ থিকা হুড়মুড়ায়া আইলো একটি একাকী ফাগুন;

মেঘপরী

জানালার ধারে বসে আকাশ দেখি 
আকাশপানে মেঘেরা ভেসে বেড়ায় 
সেই মেঘে খেলা করে মেঘপরীদের দল
দিবারাত্রি এসে ছুঁয়ে দিয়ে যায় মনের গহীন কোণ

মেঘ্পরীকে যখনই বলি -
মেঘপরী ,
শুনে যাও একটুখানি 
মেঘপরী দৌড়ে পালিয়ে যায় তখনি 

বৃষ্টিতে ভিজে মেঘপরী যখন 
এসে বসে আমার জানালার পাশে
কি যে ভালো লাগে , শুধুই গল্প করতে ইচ্ছে করে 
কিন্তু হায় , আচমকাই মেঘপরী উড়ে যায়
কাজ যে বড্ড বেশি তার , দিতে হবে সময়ের দাম 
আমার সাথে কথা বলবে কেনো সে মিছে ?

খোলা জানালার পাশে শুন্য দৃষ্টি মেলে 

নিভৃত যাপন-১

ঘরের মধ্যে মানিপ্লান্ট, বোতল জলে শেঁকড়।
মনের মধ্যে ক্লান্তি আঁকা, শুদ্ধ কথার ফোকর।
যমুনায় বাজে মোহন বাঁশি, কীর্ত্তনখোলায় ঢেউ।
রাধা বলে কুঞ্জে যাব, সামলে নিও কেউ।
মেঘনাদের হত্যা হলো, রাবণ পিতা কৈ।
প্রমিলা বলে সতী হবো, আগুনমুখে রই।
ক্লান্ত আমি ক্লান্ত তুমি, ক্লান্ত কাঁকড়ি নদী।
বাক্যের খোঁজে শব্দ নিয়ে, হারিয়েছি বাণী।

পৌনে আটটার গল্প

এপাশে মনসুরাবাদ ওপাশে দারুস্‌সালাম

মাঝখানে বৈয়া চলে এক ভীরু

খাল-- দখলের ত্রাসে মরোমরো, সরু;

গুমুত ও বর্জ্যে ঠাসা ঘন কালো জল।

 

তার ওপরে এক সাঁকো

পারাপারে ব্যস্ত

পৌনে আটটায়।

 

সাঁকো পার হতে গিয়া

কবি এক কত কি যে ভেবে হয়রান!

কালো জল, তুই ক্যানো এ্যাতো কালো?

তুই কি তবে লিথি নদীর পানি?

নাকি পান্‌নিতে চেজ করা পুড়ে কালো ব্রাউন সুগার?

কিম্বা বরাতের রাতে

তাজা হাওয়া খেতে খেতে

সাভারে নিহত ছ'জনার আখেরি গোঙানি

ভজন

অতীব নির্বোধ তুমি

তোমারে ভজনা করি তাই

ব্রহ্মাণ্ডে তোমা ভিন্ন

আমার ঈশ্বরী নাই।

 

আমিও নাদান অতি

ইবাদতে ফাঁকি দিয়া

বিপথে গিয়াছি শুধু

সুপথ রাখিয়া।

 

বারবার উচাটন যদি

আছিল আমার মন

তোমা অঙ্গে ঝাপ দিয়া নেই

তোমাতে শরণ।

 

আমার অস্ত্রের  ধার

ধারন করিছ তুমি

যেমত সকল ঘাত

ধরে রাখে ভূমি।

 

সহ্যশীলা তুমি অতি

যেমন ভীষন ঢাল

বর্শার আঘাত রোখে

পূর্বাপরকাল।

 

শক্তিমতি নির্বোধ

ওগো কন্যা, ওগো রাই

যাওয়া

 

অনেক পথই অনেক দিকে চলে গেল

কোনটা রোমের দিকে, কোনটা জেরুজালেমের দিকে

কোনটা লিবিয়া কিংবা ইরাকের দিকে,আফ্রিকার দিকে

কোনটা আবার বংশাই নদীর দিকে।

 

একটি রাস্তা যখন দুদিকে বাঁক নেয়

তখন আমি আর বুঝে উঠতে পারি না

কোন দিকে যাওয়া উচিত।

ভাবি, এমত সিদ্ধান্তহীনতায়

কোন পথ যে তোমা পানে ধায়.....

 

রাস্তা যখন বাঁক নেয়, ছেনালী করে,

ধরা দেয় আবার দেয় না,

অনেক দিকে চলে যায়;

বালকের অজ্ঞতা নিয়ে

দেখা ছাড়া আর কী-বা করবার থাকে আমার

তোমাকে আহব্বান……….২

 দর্পনে দেখেছ তোমার ভালবাসা….

শরিষা ক্ষেতের মতো উদাসী হলুদ বরন আগুন লেগেছে ওখানে!
এসো হাত ধরো,বৃষ্টি শেষে মহাত্যাগীর ভঙ্গীমায় দাড়িয়ে থাকা আকাশে
রাঁমধনু হবো।
কস্তুরি ফুলের চিকন চিবুকে ছুয়ে দেখেছি তোমায়; ওখানে তোমাকে
মলিন লাগে।
এসো, ছুয়ে দেখো আমার আঙ্গুল; কত কত বসন্ত ফুলের শারিরীক অনুভূতি
তোমাকে শিহরিত রাখবে জীবনভর।
বৃষ্টির জলে স্নান করে আর কত সুখ….??
দেখো আমার নয়ন গভীরে নেমে,কত আদিম মেঘর জলে থইথই সুখ ভাসে;
তোমার গাহন উচ্ছাসে।

পরমার শাদা হাঁস

আর কোনোদিন, হায় আর কোনোদিন

যদি নাহি ফিরে আসে বসুধার বুকে

পরমার শাদা শাদা হংসেরা-- উড্ডীন

নাহি হয় নিখিলের নীল শুঁকে শুঁকে,

শূন্যে, মহাশূন্যে, ওই সপ্তম আকাশে;

যদি ধূলিময় ওই পথ‌গুলো হারায়,

হায়, গোধূলিবেলায়, চিরচেনা ত্রাসে

পদছাপ মুছে ফেলে বিশীর্ণা ডেরায়

ফিরেনাকো আর পলাতকা পথ যদি;

শুধু কেঁদে কেঁদে গান গেয়ে চলে যায়

সুদূরের অন্ধ বায়ু, হাশর অবধি;

যদি ফিরে চলে যাই তীব্র কামনায়--

জিনপুরে, প্রদোষের আদি জরায়ুতে;

ফিরি ফের নব প্রাণ, নব আয়ু নিয়ে

পরমা আমার-- সেই ক্ষণে যেন ছুঁতে

Pages