slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

বাবা

আমার টেবিলের পাশে
বসে থেকেছ রাত্রি শেষে
সকালের নাস্তাতে
রাত্রির খাবার শেষে
আদেশ আর উপদেশে
শিখিয়েছ সত্য কিসে ?

পুকুরপাড়ে গোছলের সময়
শুদ্ধতা আর শুভ্রতাময়,
তোমার হাতের আলতো স্পর্শে
আজ আমি অনেক শীর্ষে। 

দুপুরের খাওয়া শেষে
তোমার বুকেতে ঘুমের বেশে,
বিকেলের হাঁটা শেষে
বুঝিয়েছ মানুষের মনুষ্যত্ব কিসে?
 
মাঝে মাঝে মনে হয় তুমি এত সরল
দেখে কেহ বলবে না তোমায়
তুমি চিকিৎসক না কৃষক! 
কষ্টরা ডানা বাঁধে আমার মনে অবিরল
হতে পেড়েছি কি তোমার মত সরল?

দেখা মোর চোখে
পিতা মোর অহে......

লোহা সমতুল্য আদর্শে

স্বদেশ বন্দনা

১.
বাংলাদেশ, আবার নতুন করে তোমার প্রেমে পড়েছি!
এই সরল, সহজ স্বীকারোক্তি দু’চোখ ভরে জল আনে কেন?
সমস্ত রোমকূপে অদ্ভুত শিরশিরে এক আবেশে টের পেয়েছি
প্রথম প্রেমের ঐশ্বরিক দ্যোতনা মর্মে মিশে থাকে, হারায়না কখনো।


২.


রঙের আলয়,
তোমার হরেক রঙের থেকে
আমায় দিও
টুকরো সবুজ
আর সিকিভাগ রক্তরাঙা সূর্যচ্ছটা।
শখ জেগেছে
প্রবল রঙে
বাংলাদেশের হৃদয় আঁকি।



 

সমীকরণ

হঠাৎ সংসারচ্ছিন্ন সূর্যাস্ত হতে মন


উন্মুখ হয়ে রয় চৈত্র বিকেলে


স্খলিত উদার চুলে ঝাঁকে ঝাঁকে গাঙের পাখি


নদীর পাখিরা আসে


মেঘের মতন ভাঙে পাথরের তীর


একবার নিয়ে যেও শুভ্র তুলার দেশে


আলাস্কার টিকিট দিও


নিজ থেকে যেতে তো শিখিনি


নিজে থেকে দূরে যেতে গেলে


ধানক্ষেত ভেঙে আসে


পরিণাম ভয়ে কাঁপি


ধানক্ষেত, নদী ছাড়া কিছুই চিনিনা


কেন যে জানতে চাও


নির্ভুল যাপিত সময়


আদৌ কি ছিলো আশেপাশে!


 


মধ্যাহ্ন কুড়ে খায় সায়াহ্নের বাতায়ন

মধ্য গগণে বিষাক্রান্ত শকুনের মত ভারী চোখ নিয়ে

ঘুমিয়ে পড়ার ভাবনা হয়তো কিছুদিন পর পাব না,

তবে সোনালী সূর্যকে ছিনিয়ে আনার প্রত্যয়

কিন্তু নিঃশব্দ আর এই নিঃশঙ্ক আমি ভুলবো না।

 

হাসে হা..হা..হা..হা..

নিস্তরঙ্গ বয়ে চলা ঝিমানো নদী

যেন বানে ভেসে যাবে

উঠবে রব বাহ..বাহ..বাহ।

শিল্পীর ভাবনা

এখনো ভাবনা গুলো অতংকিত।
আর জানালার পর্দা গুলো আরও নোংরা হয়েছে।
সাদা ক্যানভাস, রংতুলি সব আগের মতই আছে।
যে কাল্পনিক দৃশ্যটা আকঁতে চেয়েছিলাম,
সেটা এক্ষুনি দেখলাম
আমার ফুটো দেয়াল দিয়ে।
রক্তের নর্দমা আর কচি হাড়ের স্তুপ।
সেখানে কিছু উত্‍সুক মুখের ভীড়, পরিচিত।
তেলরং এর গন্ধটা আজ আরো প্রকট হয়েছে,
নেশার মত...আরও আছন্ন হয়ে আছে।
হঠাতই সাদা ক্যানভাস লাল হতে শুরু করে,
আর কিছুটা গড়িয়ে পড়ে
আপন মনে।
আমি বন্ধ করার চেষ্টা করি,
পারিনা তাই ছুড়ে দিই।
আর সেটা দেয়ালে আটকে যায়,
গড়িয়ে পড়ে সেখান থেকেও।
ভাবনা গুলো এখনো আতংকিত,

জোর একটা বৃষ্টি নামবে...

কোথায় ছিলে তুমি?
আমি চৌচির রাজপথে নিজেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়েছি
কত অরণ্য তার দুঃখের সবুজ চাদরে ঢেকেছে আমায়
দম্ভের হিম কুয়াশা-ঘেরা পর্বতেরা আমাকে ঝেড়ে ফেলেছে বারবার
বহু ক্রোশ হেঁটেছি মাংশের গন্ধ লাগানো শ্মশানের বুকে
মৃত্যুর সাত সমুদ্র তার ঢেউ নিয়ে আছড়ে পড়েছে মাথায়

কি দেখছিলে তুমি?
আমি দেখছিলাম এক শিশুকে ঘিরে হায়েনার দলের চোখে জ্বলতে থাকা আগুন
দেখছিলাম সোনায় মোড়ানো পাপের রাস্তায় পড়ে থাকা আমার ভাইদের লাশ
দোররার গা বেয়ে টপটপ করে পড়া আমার বোনের রক্ত
শুওরের খোঁয়াড়ে নির্বাচিতদের মুখে গজিয়ে ওঠা ফেনা
কিশোরের কাঁপা হাতে জং ধরা অস্ত্র; চোখে শূন্যতা

তোমার কি মনে পড়ে

তোমার কি মনে পড়ে

অচিন বৃক্ষের নীচে
অতি নির্জন মুহূর্তে
তোমার ঠোট আমার ঠোটে
হারিয়ে যেতাম কোন সুদূরে।

তোমার কি মনে পড়ে
মাঠের ধারে বড় পুকুরে
জল কেলি খেলতাম দু'জনে
ঢেউ এর বুকে ঘুমিয়ে যেতাম
অন্য কোন সুখানুভূতিতে।

তোমার কি মনে পড়ে
নৌকার ঐ খুপড়ী ঘরে
ভবিষ্যত প্রজন্মের উদ্দেশ্য
নতুন এক পৃথিবী জন্য
বুনো লড়াই করেছিলাম কতক্ষণ।

তোমার কি মনে পড়ে
ভরা আষাঢ়ে ঝুম ঝুম বৃষ্টি
ঐ অশ্বত বৃক্ষের নীচে
ভিজে একাকার হয়ে
কি ঠান্ডার হঠাৎ গরম হয়ে উঠা।

আনন্দ অপেক্ষা

ঘুম এসে যতবার তারে নিয়ে যায় স্বপ্নের দংশনে
ততবার জেগে ওঠে আধ খোলা গোল ঠোঁটে
বুনো গোলাপের যৌবন !
শীত শীত দীর্ঘ রাতে
তাই একলা প্রেমিক জেগে থাকে সুন্দরের অপেক্ষায় ।
শাদা শাড়ির কালো পাড়ের
মেঘ বালিকার ঘুঙুর পায়ে মৌনতা ভাঙে,
অন্তহীন অপেক্ষা উড়ে যায় ঝরা পাতার মত ।
লাজুক মেয়ের ডাগর চোখে
প্রানের মায়া ছড়ায় উষ্ণতা ।
অন্ধকারে হাতে আসে হাত
অপেক্ষার সমুদ্র স্পর্শ করে বালিকার মসৃন বালুচর ।
গোপন শিহরনের ঢেউ পরস্পরকে দখল করে
জ্যোৎস্নাস্নাত ভালোবাসায় ।
ধুপছায়া ভাবনার ছিপি আবহমান ইতিহাস ভুলে
চেতনাকে জামার মত ছুড়ে ফেলে

পা কিংবা বুকপকেটের পদাবলী

আজকাল সন্ধ্যা হলে আমার পা দু'খানা বেদনার্ত হয়।

দীর্ঘ পর্যটনের ক্লান্তি নয় বরং হঠাৎ উদ্দেশ্যহীনতায় 

তারা বুঝে উঠতে পারে না কী করবে, কোথায় যাবে

কিংবা কোথাও যাবার তাড়া আদৌ আছে কিনা আর ।

তাদের এই বেদনা ক্রমশ গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়ে 

আমার রক্ত-মাংস  বেয়ে উঠে আসে

বুকপকেটের কাছাকাছি।

কখনো কখনো পৌঁছে যায় দু'চোখ অব্দি।

তারপর বুকপকেটে জমা হতে থাকে

দ্রবীভূত বেদনা। 

 

পা'দুখানি কখনো জানবে না

তাদের বেদনা আমাকেও

কতখানি বেদনার্ত করে,

যে বেদনা আমি সমগ্র উত্তরকাল

সংগুপ্তির বর্ষপঞ্জি

হে দাঁড়কাক! হে নাগরিক লোকচক্ষু!! তোমরা তাকে আর কোথাও খুঁজে পাবে না।

করতল ঘেমে ওঠা হেমন্তের দুপুরে সে আত্মগোপন করেছে কিশোরের ভাতঘুমে। ছেঁড়াখোড়া, অবিন্যস্ত স্বপ্নের ভেতর। লুকিয়ে পড়েছে হারানো মার্বেলের সবুজ, খয়েরি, নীলে, পিঙ্গলে। বয়োসন্ধির কোমল তরল যৌনগন্ধে। বুলবুলির শরীরে হঠাৎই রক্তজবার ব্যঞ্জনা দেখে সামিল হয়েছে সহস্র মাইল গতিতে পতনোদ্যত কোটি কোটি শুক্রের মিছিলে।বিগত গ্রীষ্মে অর্ধেকটা জুড়ে সে ছিল ভূজঙ্গিনীর পরিত্যক্ত খোলসে। বাকিটা সময় মহানন্দার জলে মস্ত এক মা রুহিতের কানকো ধরে চারাপোনাদের সাথে পর্যটনে।

ছায়াসঙ্গী

পালাই পালাই প্রাণ নিয়ে
আমার ভুবন পাড়ি দিয়ে
 দূর হতে দূর বহুদূরে
দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
যত দূরে যাও
ওগো জেনে নাও,
তবু তুমি রবে একই গগন তলে
তাই হাওয়ায় ভেসে খেলার ছলে
আমার দুঃখ তোমার সুখের গা ছুঁবে,
তখন হাজার মাঝে আমায় ভেবে
ক্ষণেক তরে একলা তুমি হবে।
কায়ার সাথে ছায়া যেমন
আমার স্মৃতি সদা তেমন
গোখরো হয়ে ফণা তুলে রবে
মওকা পেলে ছোবল তোমায় দেবে ।।
 

অশোকতলার বন্দিনী

প্রতিদিন আমি সেই অশোকের কাছে চলে আসি, অনেক স্মৃতির ভারে ন্যুব্জ যে আমাকে কিছুই বলে না। দ্যাখে আর বুড়ো হয়, আর তার ঝুরি নামতেই থাকে নিচে, যেন নরককে ভেদ করে চলে যাবে একদিন। এও স্মৃতি-তাড়িত চলন, কে বলবে! আমি শুধু ওর পাতায় প্রতিটি দিনের জন্য একটি করে নতুন নাম লিখে আসি।...আর কত মুহূর্ত যে আসে, পার হয়ে যাই, যার নেই কোনো নাম

প্রার্থনা: কুণ্ডলিনী জাগরণ

কাটুক রাত্রি ঘোর অমানিশা তমসার দশা কাটুক

আলোক ফুটুক চরাচর ব্যেপে স্বপ্ন-প্রসূন ফুটুক

কাটুক কুহক কাটুক গ্রহণ আচ্ছন্নতা কাটুক

মঙ্গলালোক উদ্ভাসনের বার্তা ইথারে রটুক...

 

ইড়া পিঙ্গলা ঘুমিয়ে পড়ুক সুষুম্না জেগে থাকুক

মূলাধার থেকে কুণ্ডলিনীর শুভ জাগরণ ঘটুক

মণিপুর হয়ে বিস্মৃত ভাষ সহস্রদলে ছুটুক

আত্মার সাথে পরমাত্মার সাক্ষাৎকার ঘটুক

 

অন্তরালের অচেনা তাহার রহস্য মেলে ধরুক

চিদাকাশে তার নূরের ঝলক রবির মতো উঠুক

জিনকুঠুরির লুকোনো চিহ্ন অনন্ত রূপে ফুটুক

খাপছাড়া (৬)

আমি যখন ছোট ছিলাম 
নানা রঙের স্বপ্ন দেখতাম 
হতে চাইতাম ওই দূর নীলিমার রেখা 
আর শুধু ভাবতাম একদিন আমি 
দুঃস্বপ্নকে হার মানাবো 
সফলতাকে জয় করবো 
আকাশের অহংকার ভেঙ্গে দেবো 
সাগরের বিশালতা পাড়ি দেবো ।

একদিন হবো আমার মতো
সবার থেকে ভিন্ন কিছু 
হয়ত হবো এমন কিছু 
যা কিনা স্বপ্ন শুধু ।

আমার একটা ইচ্ছে ছিলো 
একদিন আমি বড় হবো 
হবো আমার বাবার মতো 
স্বপ্নচারী ,মনুষ্যত্বের উপমা

আমার একটা প্রতিজ্ঞা ছিলো 
হবো সফল মায়ের মতো 
জন্ম দেবো সুন্দর 

চিরদিনের একটি ছবি

উৎসর্গ: নোশিন সাইয়ারা ঋদ্ধি

শিশিরে ভিজেছে সারারাত ধরে পৌষের শাদা চুল
অন্ধকারের গর্ভের হিম শুষেছে তমসা খোর
বুলেটের মতো বাতাসের শিস কেটে গেছে এক ভোর
তারই চিহ্ন শরীরে লেপটে ঝরেছে বকুল ফুল।

পুবে দিগন্ত তার পিছে রবি কুয়াশা-পর্দা ছিঁড়ে
দিন-ভ্রমণের রথ সাজাচ্ছে শীতের প্রেক্ষাপটে
তারই আলোকে শিশির বিন্দু ঝলকানি দিয়ে ওঠে
বিহঙ্গকুল সঙ্গীত গায় ওম দিয়ে ঢাকা নীড়ে।

বকুল তলায় ফুলের চাদরে দুই পা ছড়িয়ে বসে
শিশিরের ঘ্রাণে দু'হাত ডুবিয়ে দুখিনী কন্যা মোর
খেলিতেছে খেলা বিজনে এবেলা একাকী হয়ে বিভোর

Pages