slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

কয়লা-কালো

জন্ম যদি হতো ঘোর আফ্রিকাতে
ওখানে তো কেউ সাদা নয় শরীরের রঙ সবারই কালো;
অথবা যদি ঠাস-বর্ণিল ইউরোপে-
আমার গায়ের চামড়া নিশ্চয় রঙধনু সাত-রঙের সমাহার হতো!
সাদা-কালোর রঙ্গিন দেশে জন্ম-
শক্ত-অন্ধকার হয়ে-হয়েছি অসুন্দরের সমার্থক কালো।

যখন আমি ছোট্ট কুট-কুটে শিশু, পাড়া-পড়শীরা বলে;
দেখো-দেখো বাচ্চাটি হয়েছে কেমন কুচকুচে-
মাথা নেড়ে প্রাচীন দাদী বলে, সোনার আংটি যে বাঁকাও ভালো।
কিন্তু এ সোনা যে বাঁকা নয়, এ যেন কয়লা-কালো!

সাঁতারে শূন্যতা

 এক.
সাঁতার জানি না তাই, হাঁটু জলে হাত-পা ছুড়ি।

ঘননীল-মৃত্যু

শয়তানের মদ্য মুঠো মুঠো পান করে ভবছো-
নদীর কোমল গন্ধ মাখবে দূষিত বগলে!
যে ক্ষয়িষ্ণু সূর্য জ্বলে আজ ধূসর আকাশে,
তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেমে আসে গাঢ় অন্ধকার।
সাতটি আকাশকে অনেক দূর টেনে জলে নামিয়ে
ডোবাতে চেয়েছিলে জানি বুকের এক খন্ড শ্যামলা জমি ।
অনেক কুকুর মরে গিয়ে আজও
মাছি হয়ে তোমার দগদগে ঘা চাটে ভরন্ত উল্লাসে।

আজকে নয়

প্রীতিলতা শিখিয়ে গেছে, লড়াই করে বাঁচতে হবে

 

মেয়ে তুমি বহ্নিশিখার মত জ্বলে জ্বলে,

জ্বেলে দিয়ে গেছ অগণন মৃত্যুহীন তারা।

আঁধার জমে জমে অন্ধ বধির;

আত্মকথা

স্বপ্নগুলো ভাঙ্গছে শুধু প্রত্যহ
মিথ্যে-ঘেরা, জপছি তবু – ‘সত্য হ’

সবুজ জীবন খর রৌদ্রে লীন
স্রোতের টানে এপিটাফ বওয়া দিন

কাসুন্দি

অতীতের মাতাল তরনী জমাট হয় মুহুর্তের বাস্তবতায়,
পুরনো টনিক মস্তিষ্কের কোষাভ্যন্তরে সরু খাল কেটে চলেঃ
শক্তিশালী, আরো বেগবান;
চিতা বাঘের ক্ষিপ্রতা ওদের চোখে-মুখে,
লুপ্ত হয় সুন্দর-অসুন্দর ভেদ জ্ঞান-
আর কে হিসাব রাখে তার!
ভবিষ্যতের দিকে যায় এগিয়ে,
কুৎসিতরা কি এভাবেই থাকে বেঁচে-
অসহায়ের লম্ফ-জম্প ছন্দ পেয়ে হয় কিছু ঘোর লাগা কবিতা।
পুকরের স্থির জলের মতই নির্দিষ্ট অপার মানবিক নিয়তি।

আহুত

 তুমি ডাকলে,

পঞ্চ দ্বিপদী

১.
প্রবল ঝটিকা পারে সমূলে উপাড়িতে বিপুল মহীরুহ
ক্ষীণ তণু লতিকারে কাবু করা তার কাছে অতি দুরুহ।

২.
মৌমাছি গুঞ্জরণ, প্রজাপতি পাখা আর দখিনা মলয়
দেখে প্রাণে দোলা লাগে জাগিলে প্রণয়।

৩.
পতন আশঙ্কায় যদি ভীতি জাগে প্রাণে
সকলের বড় বাধা তাহাই উত্থানে।

৪.
সময়ের আবর্তনে বিবর্তনের অনিবার্য ধারা
বৃথা আস্ফালনে তারে যায় না রোধ করা।

৫.
প্রেমের কাঙাল হয় যদি কভু কারো মন
কোকিলের কুহু তানে প্রাণ হয় উচাটন।

স্বরচিত বিনয় মজুমদারের কবিতা-২

হাজারো প্রাণের সাথে গলাগলি মোলাকাত শেষে
একথা অজানা লাগে প্রতিবার
বেদনায়-

অচেনা বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দিয়ে যায় অতিচেনা জনও

হয়তোবা এই বর্ষায়

হয়তোবা এই বর্ষার ঝুম বৃষ্টিতে, জলের খুব কাছেই
শূন্য কুটীরের রুদ্ধ দরজার ওপাশের এক কোণে,
কদমের ঘ্রাণ মাখা কোন এক উদাসীন এলোমেলো স্নিগ্ধ দুপুরে,
ভিজতে ভিজতে ক্লান্ত হয়ে
যদি ভেজা চুলগুলো শুকিয়ে নেই
তোমার উত্তপ্ত বুকে !
আলো-আঁধারিতে আমার অস্পষ্ট আঙ্গুলের ছুঁয়ে দেয়া
ভালোবাসার তীব্র স্পর্শগুলো
তোমার শিরায় শিরায় কি আফিমের মত নেশায় ছড়িয়ে যাবে তখন ?
অন্ধ হয়ো না !
তখন কেবল চোখে চোখ,
নিঃশ্বাসের সাথে নিঃশ্বাস মিশিয়ে হারিয়ে যেতে দিও তোমায়,
চন্দ্রমল্লিকার শাড়ির ভেজা আঁচলের ভাঁজে ভাঁজে ।
নীল ঝিরঝিরে পালকের গায়ে

নষ্টালজিয়া

দাফনের নোটিশও পেয়েছি প্রিয়তমা
প্রতিদিনের স্পর্শগুলো ফেলেগেছ শুধু
তার উপর প্রলেপ জমেছে দেখি,
রাতে খোলস ছেড়ে বেড়িয়েই
অপূর্ণতার দাগ।

খাতার মলাটে তোমার নামই লেখা
অভ্যাসবশত:।

 

অস্ত্র কবিতা

পথ হারানো এক পথিক আমি আজিকার,
অনেক কিছুই জানি অথচ কোন কিছুতে নেই।
আচ্ছা দুর্বোধ্যতার রঙ কেমন হয়?
সরলতার ভাষা কি?
কবিতাকে কি হতেই হবে দুর্বোধ্য,
না হলে সে কি পদ্যই থেকে যায়।
কোন যুগে আমার বাস? আধুনিক নাকি অত্যাধুনিক!
কেমন সাহিত্য করবো রচনা? লাল, নীল, নাকি সাদা- কালো!
ভোরের আলো ফুটছে, আরো ফুটবে যতদিন সূর্য বেঁচে আছে।
জানি একটি উপমাও করতে পারিনি ব্যাবহার
তাই কবিতা হয়ে উঠলো না।
বড়ই অগোছালো হল, তাতে হলটা কি?
আমি চিৎকার করে বলবো লিখবোনা একটি কবিতাও,
কবিতা কি আমার সিগারেট খাওয়ার পয়সা জোগাতে পারে?

অলিখিত গল্প

আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে রাজা না খেয়ে মরবে চাষা গোলায় ধান ভরেনি বলে।

  গল্পে রানী গর্ভবতী হবে কিন্তু তার ছেলে যুবরাজ হবে না।

 গল্পে মিথ থাকবে,বায়োস্কোপ থাকবে কিন্তু মিথ্যাচার রবে না।

 

আমি একটা গল্প লিখব, যে গল্পে তরুণী নগ্ন হয়ে পথে নামবে কিন্তু ধর্ষিতা হবে না।

এমন একটা গল্প,এমন একটা গল্প লিখব যার পাঠকেরা হাঁটবে ঘোর লাগা পথে।

 

আমি একটা শহর বানাবো,যে শহরে বিজলী বাতি থাকবে না

কিন্তু আলোকিত হবে হাজার  মানুষ দ্বারা।

আমি একটি যুদ্ধ সাজাবো, রণকৌশলে কেউ যাবে না মারা।

 

স্বাতীনক্ষত্রের দিন

শব্দে শব্দে ঝরে প্রেম; প্রবাহের গান

শব্দ হয়ে বেজে ওঠে হৃদয় অন্দরে।

পালক ছড়িয়ে রেখে সন্ধ্যার পাখিরা

পৃথক আকাশে ওড়ে। চিরকাল শুধু

তাদের যাবার অনুষঙ্গ দৃশ্যমান।

তেমন দৃশ্যের মত স্পর্শহীন কথা

একাকি আত্মায় এসে গান হয়ে যায়।

 

চিরকালীন কিছুই নয়; তবু কেন

অনন্ত অতল থেকে হাহাকার ওঠে-

কৃষ্ণবর্ণ মেঘ কেন ঘন হয় ক্রমে?

শব্দের মাধুরি ওই দেখো গান হয়-

মানুষের দেহ ওই নেচে ওঠে ধীরে,

মানুষেরই অজান্তে। রক্তের ভেতরে

থাকে সুরের চুম্বক, ছন্দের ইশারা;

Pages