slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

ভষ্ম; ০৪

আলোটা হলুদ আবছা তোমার শাড়িটা নীল

দু'টো ঘুমায় চারটে জেগে ছ'টি চিল

গ্লাসের ভিতর উপচে পড়া হলদে লাল

শুন্য থেকেই তিল হয়েছে মস্ত তাল...

 

কাল কী হবে আজ জানি না আমরা কেউ

রৌদ্র কড়া পিছু পিছু ধূর্ত ফেউ

পাতা থেকে পত্র এসে দোস্তি হয়

এমন করেই আস্তি-রা সব নাস্তি হয়...

 

আলোটা হলুদ আবছা তোমার শাড়িটা নীল...

দু'টো ঘুমায় চারটে জেগে ছ'টি চিল...

উষ্ণতা

তোমার পায়ে নুপুর বেধে দিয়ে
মুঠো বাড়িয়ে খুজলামএকটু সুখ
তুমি হাসি দিয়ে উষ্ণতা ছড়ালে
বাড়ানো মুঠোয় হাত দিয়ে ঢেলে দিলে উষ্ণতা
আমি সেদিন বুঝলাম সুখের অপর নাম উষ্ণতা।

রুপালী চাঁদ এর আলোয় নীল শাড়ীতে
পরী তোমার কপালে যেদিন দিলাম লাল টিপ পরিয়ে
আমার ঠোটে ঠোট রেখে সারা দেহে ম নে
উষ্ণতা দিলে তুমি ছড়িয়ে
আমি সেদিন বুঝলাম পৌরুষের অপর নাম ঊষ্ণতা।

মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে!
এক মুখ দাড়ি গোফে ঢাকা চাল চুলো হীন ছন্নছাড়া
আদিম বেপরোয়া এই আমার প্রতি উষ্ণতার বর্ষন কেন?
রোমশ আমার বুকে মাথা রেখে
তুমি কোন সুখে! বল কোন সুখে!
শুয়ে থাক নিশ্চিন্তে অবুঝ শিশুর মত?
তোমার দীর্ঘশ্বাসে ভেসে আসে কেন এত আকুতি?

রাজনীতিকরা পণ্ড করে দিল একটি কবিতা

নিরাপদ দূরত্বে থেকে বৃক্ষ বলে ওঠে-
আমার ছায়া নিয়ে আর কোন খেলা নয়
ফিরে যাও রাতের কাছে। তুমিও রাতের মতই
কোন ছায়া তোমাকে দেবে না শান্তি।
যদি তাই-ই হয় তবে কেন আর এই বৃক্ষজন্ম
(প্রতিবেশী বৃক্ষের নিরাপত্তা ভাঙা এই প্রতিবাদ শুনে আমার মত এক নাদান কবির মন খারাপ হয়ে গেল। হায়রে। মানুষের মত তাহলে বৃক্ষেরাও বসবাস করে ঘুণ ধরা সমাজে।)
যদি সাহস থাকে তো দু'কদম এগিয়ে আসো হে মান্দারের পোলা
কি বললা আমার জাত তুলে গালি- দ্বারা তবে গাবেরগোষ্ঠী গাব
সারা গায়ে তোর ভুতের হাগু তারপরো গলার জোর কমে না।
তোরে দেইখা যে বাচ্চা পুলাপাইন ভয় পায় এইটা জানস গাবের আঠা!!

ভষ্ম; ০৩

আমাদের মূল্যহীন জয়যাত্রা অবিরত হাসতে থাকে

আর ধুঁকতে থাকে ধূসর ধোঁয়াটে পথে

আমাদের হাসি, কথা কিংবা শুন্য জলে-ভেজা

রাত, আমাদের কিংকর্তব্যবিমূঢ় জেগে থাকা

অথবা ঘুমিয়ে থাকা, স্পর্শ অথবা দূরত্ব

ধীরে ধীরে লবণাক্ত জল অথবা পবিত্র 

পাপের দিকেই যাত্রার প্রস্তুতি নেয়। হলদে 

পুঁজের মতো মৃত্যুপথযাত্রী আমাদের মাঝে-মাঝে

আঁৎকে ওঠা চন্দ্রবিন্দু অবাক নিঃশব্দে হাসে

অথবা হাসার মতো করে কাতরাতে থাকে...

 

আমাদের হাত, পা কিংবা আমরা নিজেরা

ক্রমান্যয়ে আরো বেশী ধুসর কিংবা গোধুলী 

অথবা আমাদের পূর্বজন্ম হয়ে যাই। আমাদের

কাঁঠালের আঠা

তোমাকে দেখা যায় আজকাল পাহাড়ি ঝরনার পাথরের উপর দাড়িয়ে থাকতে,
ভাবতে কেন ওই পাথর গুলো আটকে আছে ঝরনার পথ |
তোমাকে দেখা যায় আজকাল মধ্যরাতে নিদ্রাছন্ন,
গেউয়া ফলের টক খাওয়ার ভঙ্গিতে স্বপ্ন খেতে |
রাস্তায় চলতে চলতে তোমাকে ভাবতে দেখা যায়
কাঁঠাল কেন জাতীয় ফল, আম কেন নয় |
বাজার থেকে আম কিনে ফেরার পথে তোমাকে ভাবতে দেখা যায়
তোমার প্রেম কেন কাঁঠালের আঠার মত নয় |

ভষ্ম; ০২

এবং অবশেষে অবসন্ন শরীরে এখানে দাঁড়িয়ে

আমরা আমপাকা-রোদ এবং সহজাত

শারীরিক তাপমাত্রা নির্ভূল থার্মোমিটারে

মেপে নিয়ে বুঝতে পারলামঃ আলবৎ

শৈল্পিক ত্রিভূজ নিজস্ব ক্ষমতা রাখে

জীবনকে বিস্তৃত করার মৃত্যুর জগতে।

 

যদিও নিজস্ব জ্বর আর জড়তার ক্রমাগত

ব্যবধান মানুষের বয়সের মত বাড়ন্ত

এবং মাথার ওপরে আকাশের রঙ

দেখা যাচ্ছে না পৈত্রিক অন্ধত্বের জন্য

তবু সম্ভবত বলে দেয়া যায়

পশ্চাতমুখি গতিও দুরত্ব বাড়াতে পারে...

 

এরুপ অগ্রসরতা নিতান্ত অসাস্থ্যকর-হেতু

বিকেলের মেয়েলি কোমলতা পুরুষের শরীরে ঢোকে

কাসুন্দি

টের পাই নিয়ত জড়াই আমি বর্ধমান জালে

আকালের কালে লাল সমুদ্রে পাল ওড়াবো বলে আমি

সকালে-বিকেলে জপি ওস্তাদি শ্লোক...

 

সব-কটা চায়ের ঢেরায় লাল-নীল মৌরানি

ঈষৎ বাঁকানো পাছা আঁকাবাঁকা ঠোঁটে

খুঁজে ফিরে ভাই-লোক...

 

সরু-মোটা দন্ডের জ্ঞানভান্ডার হাতের তালুতে নিয়ে

চুপচাপ চা গিলে ছাগলের দাড়িতে বুলাই বৈষ্ণবী হাত...

 

পৃথিবীর আল-বায়ু মুখে ঢুকে পায়ুপথে যায়

টের পাই নিয়ত জড়ায়ে যায় দিবসের ঘুমঘুম চোখে

কানাবোবা রাত...
 

ভষ্ম; ০১

এরুপে দাঁড়িয়ে রও

স্থির----

অনির্ণেয় শুন্যতার মতো

প্রশান্ত গম্ভীর...

 

নিদ নেমে আসে চোখে স্বপ্নবিহীন বেবাক---

পৈত্রিক জলপাই গাছ পুড়ে পুড়ে খাঁক...

হে সঙ্ঘাত, ক্ষমা করো, নিয়ে যাও তার ছাই,

জলপাই-পোড়া স্বপ্নবিহীন দেবার কিছু তো নাই...

ডানাহীন মাছ জলে থাকে তাই আকাশ হয়েছে জল---

এরুপে দাঁড়াও কাছে জলে আর মাছে গভীর ঘুমের তল...

লবন পানি

শশাঙ্ক কয়,

আপনেরা দেখে যান

আমার জমি তে কেমন সুন্দর বোরো ধান হইছে |

আপনেরে এই ধানের ভাত খাওয়াইলে

মনে হইবে যেন

মাখন দিয়ে রানধা ক্ষীর খাইতেছেন |

 

রহমত কয়,

আমাদের জমি তে লবন উইঠা

জমি গাছে উইঠা গেছে,

এখন চিংড়ি চাষ ছাড়া উপায় নাই যে |

 

পথিক কয়,

এই যে যাদের রে ভোট দিছি,

তারা একেকজন অধিনায়ক -

সভা সমিতি তে তারা বলে -

তারা লবন পানির বিপক্ষে,

তার ঘেরের পানি তে

আমাদের জমি তে ধান হয় না.

 

শশাঙ্ক কয়,

এই যে আমার হাতে কোদাল দেখছেন?

Pages