slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

কবিতা

বই মেলা

চর্যাপদে জন্ম, তারপর কেটে গেছে কত বছর

অন্ধ মেয়েটি

উৎসর্গ
মাহমুদা আহমেদ প্রিমা
উজ্জ্বলচক্ষুষ্মতী

অন্ধ মেয়েটি তোমাকেই ভালোবাসে?
যাও তার কাছে, হাত ছোঁও আঙ্গুলে
চুমু খাও চোখে ঠোঁটে গালে আর চুলে
অন্ধ মেয়েটি তোমাকেই ভালোবাসে?
খুন হও লাল হৃদয়ের সন্ত্রাসে!
 
সেই বার্তাই
ছড়িয়ে গেছে বাতাসে
জলে নীলে ফুলে ঘাসে
অন্ধ মেয়েটি
তোমাকেই শুধু তোমাকেই ভালোবাসে...

 

স্বেচ্ছায়

আর কতো দিবে ব্যথা অলরেডি আহত,

বিষপানে মরে যাই যদি তুমি চাহো তো,

করবোনা একটুকু উঁহু আর আহ্ও তো।

 

কি করে যে মন জুড়ে প্রেম এলো কথিত,

সত্ত্বার সবখানে তুমি হোলে প্রোথিত,

তুমি ছাড়া রইলোনা আর কোনো গতি তো।

 

না পাবার দুঃসহ যন্ত্রণা সহি তো,

বেদনার নীল রঙ রক্তেতে বহিত,

জীবনের স্পন্দন হোলে হোক রহিত।

 

এপিটাফে লেখা থাক ‘এইখানে শায়িত,

বুভুক্ষু একজন ভালোবাসা চাহিত,

স্বেচ্ছায় হেরে গেছে, কেউ নয় দায়ী তো।

আয়না ট্র্যাজেডি

আয়না, তোমার পরতে পরতে
কত গল্প! কত বস্তু!!
কত ইতিহাস!!!

এত কিছু থাকিতে আমি তোমারে দেখি
বাজারে যাইবার
জন্য…-
তার জিহ্‌বায় আমার
সোয়াদ কেমন হইবে,
তা বুঝিবার জন্য!!!

সময়ের আহ্বান

উৎসর্গঃ ফুলবাড়ির সংগ্রামী জনতা

বিশ্বাস মানে বিধাতার আশ্বাস

গভীর অন্ধকার ভরা রাত কিংবা আলোকিত সকাল
কুয়াশায় ভেজা পথ কিংবা কাঠফাটা রোদেলা দুপুর
আলসেমিতে ভরা সোনালী বিকেল কিংবা সন্ধ্যাতাঁরার সাঁজে
প্রতিটি বেলা-র প্রতিটি ক্ষণে তোমায় খুঁজি নিঃশ্বাসের ভাঁজে
কে সেই তুমি বারে বারে জানতে চায় মন
তুমিই সেই "বিশ্বাস" নামের অসীম অবিরত বন।

তোমায় ঘিরে নিঃশ্বাসটাও আজও বেঁচে আছে
তোমার মাঝেই আজও কত আনন্দ অশ্রু রচে
বিবেক, পরান অসীম সাহসে আবার হাসতে শিখে
তোমার টানেতে ভাষাহত হয়ে কাব্য কবি লিখে

স্বপ্নাভিলাষী

আমাকে একটা স্বপ্ন দেখার সুযোগ দাও।
আধো ঘুম ঘুম চোখে নয়। নিয়ে যাও,
মৃত্যুময় ঘুমের দেশে।
যেখানে বিজয়ীর বেশে,
আমি গর্জে উঠবো আকাশ পাতাল ধরণী কাঁপিয়ে।
ভরে দেবো সুখ এই নোংরা সমাজে, সব কষ্টকে ছাপিয়ে।

আমি ঘুমুতে চাই।
মহানিদ্রায় যেতে চাই।
কিন্তু ওই পথহারা পথিকের দিশেহারা দৃষ্টি
আমাকে ঘুমুতে দেয় না।
ক্রন্দনরত রুগ্ন শিশুদের খাবার খোঁজার কৃষ্টি
চোখের পাতাকে বুজতে দেয় না।

এক ও অনেক

চতুর্দিকে শক্ত পাথরের দেয়াল-
মাঝখানে কিছু খসখসে জমিন।
এরই মাঝে ঘুরে ঘুরে চলা ফেরা-
একই পথরেখায় পরপর পায়ের ছাপ,
ঘুরছি, ঘুরছে, ঘুরছো পরস্পর অনতিক্রান্ত।
মাথার সামান্য উপরে টাইলসের ছাদ
লাফ-ঝাপ মাথায় শক্ত আঘাত;
বিকলাঙ্গ, কখনো বা মৃত্যু অবধারিত।

সহস্র বছরের সাধনায় বেড়েছে একটু সীমারেখা
এক আধ ইঞ্চির বেশী নয়।

একই পেষ্ট, একই ব্রাশ- একই দাঁত
প্রত্যেকদিন সকালে ঘষা।

একই সাবান-শ্যাম্পু অভিন্ন শরীরে-মাথায়
প্রত্যেকদিন দুপুরে গোসল।

একটি নারী, দুটি মাত্র স্তন, একই জঙ্ঘা, উরু
প্রত্যেক রাত্রে মন্থন।

প্রকৃয়া

রোদ জমাবেন!

 

অনেকখানি কেটে জমিয়ে নিলে পর

মনে আসে...

 

দূর্ভোগ অনেক

পোষাবে না, যেমন তেমন

করে- না করে; ভাগ বসাবেন।

শুভ্র মনের গান

শুভ্র মনে আজ রাত্রি জাগি
ভাবনা চোরা একলা হাটি

স্বপন ঘিরে বসত গড়াই
তোমার হাতে পুষ্প বৃষ্টি ঝড়াই
খোপার ভাঁজে বুনো ফুলের মালা পড়াই

কানে ফোটাবো ছোট অবুঝ ফুলের দুল
চোখের তারায় আজ ভাসাবো আনন্দের ভুল।

এমন করে আজ সাজাবো মনে মনে ভেবেছি
রাত্রি জেগে শুনাবো গান কন্ঠ সেধেছি
ভবের হাটে হারাবো আজকে মেনেছি।

আজ যে তোমায় শুভ্র আলোয় ভরে তুলবো
আনন্দের বানে ভাসিয়ে দেব।

আজ কে তোমার মনের মেঘ ঝড়াবো
মনের রোদ্রের হাসির সাথে পথটি বেয়ে চলবো।

 

মৃত্যু

উৎসর্গ : আইরিনকে।

 

তোর চোখের জল আমার সঞ্চিত সকল কৃর্তি ভাসিয়ে নিলো,
দুপুর দেখেছে, দেখেছে চার-দেয়াল;
রোদের ঘুঙুর বেজেছে কষ্টের ময়দানে করুণ এস্রাজে।

একদিন শূন্যতা ছুঁয়ে তাই বলেছিলাম-
এতো ভালো বেসো না আমায়, মৃত্যু এসে ফিরে যাবে।
ফিরে যাবে কার্নিশের পায়রা
মিথ্যে হয়ে যাবে ভাই ফোঁটা!

আফসোস!!!!!!!

আমাকে ভাবার অবকাশ দেয়া হয়নি,

আমি বীজগণিত নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম 

বাধ্য হয়ে,

বিক্রিয়ার সুত্রে বিভোর ছিলাম।

আমাকে যে স্কুল শেষে হুজুরের কাছে পড়তে হত,

শিখতে হত ভগবত গীতার আছে শ্লোক যত।

আমি শিখতে চাই না সেই ধর্মের বাণী,

যা দিতে পারেনা 

ঐ পিপাসার্থ শিশুকে কিছু বিশুদ্ধ পানি।

কি করবই বা শিখে? আত্মশুদ্ধির জন্য?

আমিতো দেখছি ঐসব শিখে কেউ কেউ 

আজ হয়ে গেছে যেন বন্য।

এই যদি হয় তোমার শুদ্ধির নমুনা,

তবে ঐ গৎবাঁধা বাণী আমি শিখবো না ।

কিন্তু হায়!

আমার কোন অজুহাতই ওরা শুনে নি ।

দৃষ্টান্তবাদী কবিতা-১৪

পিতামাতা আছে, আমি জন্ম-মৃত্যুহীন;

মাঝারে থাকি মাজারে নয়। মনময়। চেরাগী-ভাস্কর্য আমাকে জানে, তার
চূড়ায় জেএম সেন হল-কদমমোবারক মসজিদ-বৌদ্ধবিহার-বেথলেহেম চার্চ
পেছনে ফেলে তিন রাস্তার সাথে দৌড়ে উঠে গেছি একদা। অসাম্প্রদায়িক।
তার চূড়ায় বসে প্রসারিত হচ্ছি উজ্জয়িনীর শিপ্রার দিকে, কলকল স্বরে
আমাকে ডাকছে- আয় আয়; তার চূড়ায় বসেই মহাদেশগুলো দেখতে
পাচ্ছি সাগরে ভাসা উত্তেজিত পুংলিঙ্গের ছাপচিত্র

উন্মাদ নই, মানি- এদেশে ১৬ তারিখের পর ডিসেম্বর মাস
থাকে না, ২১ তারিখের পর ফেব্রুয়ারিও এবং এও মানি-
বঙ্গবন্ধুই শেখ মুজিবের প্রকৃত হত্যাকারী;

আরাধনা

চুম্বনে চুম্বনে রক্ত-লাল বেল রং শরীর, আর নয়-
এবার ঘন-নীল মেঘের মত জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হয়।
মৃদু জলে ভরা সমুদ্র চোখ দুটো বিছিয়ে রেখো,
সেখানেই ঘুমোবো দুজন জড়াজড়ি করে।

কাশ ফুলের মত নরম চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে-জিজ্ঞেস করবোঃ
তুমি আমার ঈশ্বর হবে?
ছি ছি ছি----
না না না না---
তুমিই আমার শরীরী ঈশ্বর,
তোমাকে গড়েছি আমার একান্ত ঈশ্বর।
মানুষ কি পারে তৈরী করা ঈশ্বর ছাড়া বাঁচতে?
কাঁচা আলোর নদী ছেড়ে, কে ডুবে মরে সাতস্তর অন্ধকারের ওপারে!

তোমার অভ্যন্তরে কয়েক মূহুর্তের উষ্ণ প্রাসাদ,
আর তাহার মাঝে জমাট শীতলতা করি অনুভব।

নপুংসক

আমি কি নপুংশক?
আমার মায়ের চোখে ছানি,
আমার দেশের মাটি ধূসর,
আমার গাছের পাতা হলদে,
আমার বাবার চোখে চালশে,
আমার বেদনারা হালকা,
আমার সুখ অগভীর,
আমার ভাই নিঃসঙ্গ,
আমার স্বপ্নগুলো ঘুড়ি,
আমার হৃদপিন্ড শক্তিহীন,
আমার প্রিয়া প্রতিক্রিয়তাশীলতার বধূ,
আমার আশা ভাষাহীন,
আমার হাড় ভঙ্গুর,
আমার বোন অস্থির,
আমার রক্ত স্তিমিত,
আমার সাহস মৃত,
আমি তবে নপুংসক!
নিশ্চিত
আমি নপুংসক।

Pages