slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

দিনলিপি

দুর্দিনের দিনলিপি-৭

বিশাল এক ষাঁড় ছিল আকালে দার, প্রায় হাতির মত। খুব শান্তশিষ্ট আর ভারি আমুদে। না ছিল তার ফোসঁফোস, না কাউরে তেড়ে গুতাঁ দিত। কিল গুতাঁ মারলেও মুখ বাঁকা করে দেখার প্রয়োজনও মনে করত না। গায়ে গতরে মনে হয় বলদটার কোন অনূভূতি ছিল না। তয় ঝামেলা ছিল আরেক জায়গায় সারা শরীরে কোন অনূভুতি না থাকায় তার সব অনূভূতি জমা হয়েছিল আরেক জায়গায়। সেই জায়গায় ছোঁয়া লাগলেই পাড়াশুদ্ধ মানুষ কেঁপে উঠত। আর পোলাপান আমরাও ছিলাম বান্দর, লম্বা পাটকাঠি দিয়ে সেই বিশেষ জায়গায় খোঁচা মেরে সুবিধাজনক কোন গাছে উঠে চুপচাপ দেখে যেতাম। তারপর ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে, কোন কিছু মন মত না পেলেই হুমকি ছাঁড়তাম-‘ এখনি চা

দুর্দিনের দিনলিপি-৬

আকাশের তারাফুল তোলা হয় না বহুকাল। শহরের আকাশ অনেক দূরের, কোথাও তার সীমানা মেলে না। এইসব জ্যোস্ননা রাতে আকাশের দিকে তাকাতে বড্ড ভয় করে, কেবল শুণ্যতা আর ধ্বংসের শোকসংগীত শুনি চারপাশে। কুয়াশার ভেজা চাঁদ এ শহরে বড় ম্রিয়মাণ নিয়ন আলোর চক্করে। কোথাও নীরবতা নেই, যুগপৎ চিৎকার আর বিলাপে বন্দী শহরের প্রকৃতি। চারপাশে কেবল হাহাকারের আয়োজন। কেবল কোনরকমে টিকে থাকার লড়াই প্রকৃতি আর মানুষের। এখানে কুকুর মানুষের চেয়ে সুখি, ছুঁচোদের জয়-জয়কার এ শহরে। কুৎসিত পোকারা এখানে উপভোগ করে স্বর্গের আরাম। ময়লার মচ্ছবে সুখের সংসার সাজায় হাড়িপোকার দল। এখানে মানুষ মানুষকে চেনে না, প্রত্

দুর্দিনের দিনলিপি-৫

বুকের ভেতর বিচরাইয়া দেখি অতীতের অন্ধকার, কালো জলে মোড়া সেইসব চলে যাওয়া দিন। সেখানের ভালোবাসার দুয়ারে তুমি ছাড়া কারো পদচিহ্ন নাই। সমস্তটা জুড়ে শুন্য সেসময় তোমার বিরাণভূমি, চাষাবাদহীন, শুষ্ক, কঙ্কর। বয়ে যায় সব শেষ করা আবিরাম ধ্বংসের বাতাস, গান করে অপদেবতা, সুর করে শোক গাঁথা গায় শ্মাশানের আধপোড়া দেহ। মরে গিয়ে তারা আমৃত্যু জেগে থাকে পরিত্যক্ত পদচিহ্নের এ বুকে। পরিত্যাক্ত বাসগৃহে অচেনা লতার দল মেলে নতুন পরিচয়ের চিহ্ন, স্বপ্ন সাজায় বিষধর গোখরা, ঠাঁয় নেই পোকা, ব্যাঙ, কোঁচো। এ বুকের সেদিনের শুন্যতা তেমন করেই পুর্ণ হয়েছিল সেইসব অন্ধকারে। তখন জীবন ছিল ফেলে দেয়া নারকেল মাল

দুর্দিনের দিনলিপি-৪

ভিড়ের বাসে চুপেচাপে মেরে দিয়েছি পাঁচ টাকার বাস ভাড়া, ঘাড় তেরসা করে অনেক হেটেঁছি পথ। ধরা খাওয়া পকেটমারকে গুতিয়েঁছি আচ্ছা, তারপর হাতের আঙুল নেড়ে নেড়ে বন্ধুদের কাছে বর্ণনা করেছি বীরত্ব। না পাওয়ার শোকে কখনো ম্যূহমান্য হয়ে উড়েয়েছি সাদা বিষ, লাল জল খেয়ে সারারাত গাঢ় ঘুম। সকালের রোদ দেখি নাই বহুদিন। দুপুরের ব্যস্ত শহরে গলি-ঘুপচির সংকীর্ণ রাস্তায় ঠেলা খেয়ে হেটে চলা থামেনি আজও। মাঝে মাঝে আকাশ দেখে মনটা ফাঁক পেলেই উদাসী হয়। না দেখা কোন এক জগত দুহাত মেলে আঁকড়ে ধরে হঠাৎ। সেসব মনে থাকে না। সেসবে মন পড়ে থাকে না,

দুর্দিনের দিনলিপি-৩

এর চেয়ে নিঃস্ব যাযাবর পথিক হব, তবুও সংসারী হব না। সাজাব না চার দেয়ালের মাঝে স্বার্থপর স্বপ্ন, আলগোছে তুলে রাখা বৃথা জীবনের চাবি। সংসারে ভালোবাসা বাড়ে না, ধীরে ধীরে মরে যায়। সংসারীর প্রেম কুসুমের ঘ্রাণ, লুট হয়ে যেতে পারে যখন তখন। তবুও কেন সংসার, চার দেয়ালের ঘর? মায়া না বিভ্রম? শরীরের প্রয়োজন? আইনসম্মত উৎপাদন? নিজের একটা শরীরাবাস? নাকি অন্যকিছু?

দুর্দিনের দিনলিপি-২

বালকটা মাকে জড়িয়ে হাঁটছিল কালো পিচের রাস্তাটা। শরীরে ক্লান্তির ছাপ, মায়ের হাতে পুরোনো একটা ফাইল। সেখানে নানা পরীক্ষার কাগজপত্র, ওষুধের প্রেসক্রিপসন। বালক সম্প্রতি অসুখ থেকে সেরে উঠল, মুখে তার নতুন জীবনের উদ্ভাস। শীতের দুপুর তখনও কুয়াশায় ঢাকা, মায়ের শরীরে পুরোনো একটা ময়লা শাড়ি। বালকের গায়ে সবুজ একটা ফ্যাঁকাশে গেঞ্জি। ফুটপাথের সাজানো দোকানে সারি সারি রুটি-কলা। -এই রুটি কত করে? মায়ের করুণ স্বর। দোকানীর নির্দয় উত্তর আট টাকা। বালক তার মাকে ধাক্কা দেয়। ‌‌না, খাব না, চলো। পথে তখন শীতের কুয়াশা, বালক মায়ের গাঁ ঘেঁষে হেঁটে চলে। জীবনের মানে সে বুঝতে শিখে গেছে।

দুর্দিনের দিনলিপি-১

সময়ের কাঁটা মানুষের ভালোবাসা বোঝেনা, দুঃখ তার কাছে অবান্তর, সুখ অপ্রয়োজনীয়। জীবনের হাসি-গান সে বাজিয়ে চলে তার একঘেয়ে তিন কাঁটায়। ত্রিকালদর্শী হলেই বুঝি এমন নির্লিপ্ত হতে হয়? নাকি তার নিয়মেই সব হয়, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা আসে, দুরে চলে যায় ভালোবেসে।

হোজ্জার লজ্জা, আমার হাই হ্যালো!

আমার মনের মন ভালো নেই। আচ্ছামতো ধমক দিয়েছি। বিষয় কিছুই না, উন্মোচনের পাসওয়ার্ড। খালদুন, শশাদা, বাঘমামা...ওরা জানে কতবার নতুন পাসওয়ার্ড করতে হয়েছে!  আর পাসওয়ার্ড হারানো তো নিজের ঘরের চাবি হারানো!

এমনিতেই আমি নাসিরুদ্দীন হোজ্জার লজ্জার মতো উন্মোচনকারীদের প্রতি মনে মনে লজ্জায় লজ্জায় থাকি...আমাদের কথা ছিল সময়ের মুখোশ খুলে দেখার....অথচ আমি নিজেই এখন সময়-এর মুখোশ হয়ে বসে থাকি! বকরির মতো চাকরি করি! বৃত্তবন্দি প্লাস্টিক জীবন। আমি কিছুই নই, ঘড়ির কাঁটাই সব। পৃথিবী সূর্যকে, আর আমি ঘড়ির কাঁটাকে কেন্দ্র করে ঘুরছি। যার যার কক্ষপথে, যার যার লক্ষ্যমতে। আসি আর যাই।

লংমার্চ: আমিও বলি বিপ্লব করতে হবে*। পর্ব-১

ময়মনসিং রেলষ্টেশনের সামনের চত্বরটা আজ লালে লাল। ব্যানার-ফেষ্টুনে ঘেরা পুরো চত্বর। এখানেই তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির মঞ্চ। সমাবেশ চলতেছে। সমাবেশ শেষের দিকে। মাইকে বার বার ঘোষিত হইতেছে সমাবেশ শেষে নাটক পরিবেশন করবে সংস্কৃতি মঞ্চ। এ সময় আরেকটা মাইকে সম্মিলিত কন্ঠে ভেসে উঠল, ‘এই যে আমার দেশ সোনার বাংলাদেশ দোয়েল কোয়েল পাখি ডাকে রূপের নাইকো শেষ’। এই গান অনেককাল পরে শুনতেছি। সাধারণত: যাত্রার শুরুতে মঞ্চে ঘুরে ঘুরে সম্মিলিতভাবে গাওয়া হয়। গানটি যাত্রার জাতীয় সঙ্গিত বলেই পরিচিত। ভাবলাম সংস্কৃতি মঞ্চ বোধহয় আলাদা মাইক ব্যবহার করতেছে। কিন্তু তা ক

| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|



ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে জগন্নাথ হলে এলাম বাদাইম্যা স্বভাবের তাড়নায়। শারদীয় উৎসবের আগের সপ্তার ঘটনা। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে শিববাড়ি নামে পরিচিত হেরিটেজ মর্যাদার পুরনো স্থাপনাটা এখানে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে ! কিন্তু সূত্রটা যে আসলে ততটা বিশ্বস্ত নয়, অচিরেই বুঝা গেলো এদিকওদিক উঁকিঝুকি মেরে কোথাও না পেয়ে একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করতেই। ছাত্রটি তর্জনি নির্দেশে শিববাড়ির অবস্থান যেদিকে দেখালো সেদিকে বেরোনোর গেট ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না ! তর্জনি আকিয়ে বাঁকিয়ে সে বললো এদিকে গিয়ে ওদিকে যেয়ে সেদিকে যাবেন। কি আর করা ! তথৈবচঃ !

| আলগা প্যাঁচাল-০৩ | লাঞ্চবিরতি ও একটি ডিনারপার্টির ভূমিকা |


“পাছায় কষে না বাইড়ালে বাঙালি সোজা হয় না !” খুব বিজ্ঞের মতো মুখে অনর্গল খই ফুটিয়ে যাচ্ছেন তিনি- ‘গণতন্ত্র ফনতন্ত্র দিয়ে এদেশে কিচ্ছু হবে না ! এই দেশে সামরিক শাসকের কোনো বিকল্প নাই ! সব ধান্ধাবাজ ! ডাণ্ডা ছাড়া বাঙালি ঠাণ্ডা হয় নাকি !! এদের টাইট রাখতে…”
‘আপনার এরকম ধারণার কারণ ?’ মাঝপথে বাগড়া দিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি এমনভাবে আমার দিকে চাইলেন, যেন নতুন করে আমাকে দেখছেন !

অপয়া

সেই মাঝরাত থেকে রিমঝিম বর্ষণ চলছে অবিরাম। কিসের এত দুঃখ প্রকৃতির? কিসের এত শোক? এত কান্না কিসের জন্য?

সেই মাঝরাত থেকে রিমঝিম বর্ষণ চলছে অবিরাম। কিসের এত দুঃখ প্রকৃতির? কিসের এত শোক? এত কান্না কিসের জন্য?

সেই মাঝরাত থেকে রিমঝিম বর্ষণ চলছে অবিরাম। কিসের এত দুঃখ প্রকৃতির? কিসের এত শোক? এত কান্না কিসের জন্য?

সুখী মানুষের কেচ্ছা...

সাড়ে পাঁচ বছরের আদিতি, আমার অদি তিদি, মেজর [মিলিটারীর মেজর বলে না, মেঝ > মেজর] মামার ছোট মেয়ে মাঝে মাঝেই বায়না ধরে বসে... ''দাদ্দাভাই, কেচ্ছা হুনা... রাজার কেচ্ছা"

আমি গাইগুই করি... কই... রাজাগো দিন তো শ্যাষ... ওগো আর নয়া কেচ্ছা নাই... সব কেচ্ছা খতম... ;-)

অদি তিদি আমারে ছাড়ে না... কয়... পুরানা কেচ্ছাই হুনা...

 

আমি কেচ্ছা কই...

| আলগা-প্যাঁচাল-০২ | হাত…|

Pages