slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

আমার একখানি আব্দার রহিয়াছে...

অফটপিক পর্ব

একদা গুরুচণ্ডা৯ ডটকম-এর খোমা বহির দলে বাঘাদা একখানি লিংক পোস্টাইলেন। বলাই বাহুল্য, বাঁশঝাড়ের সমস্ত বাঁশ উজাড় করিয়া এবং চ-ব-খ ইত্যকার বর্গীয়তে পোস্টখানিতে কাহারো পিণ্ডি নাশ করা হইয়াছে। বিনয় করিয়া জানাই, ফাঁকিবাজ এবং অফটপিকের ব্লগার হিসেবে এই অধমের সামান্য খ্যাতি রহিয়াছে। 

তো ইহারই সদ-ব্যবহার করিয়া আমি চট করিয়া লেখাটি কোনোক্রমে খানিকটা পড়িয়া এবং বেশীরভাগই না পড়িয়া একখানি তথৈবচ তাঁরকা ঠুকিয়া চলিয়া যাই ব্লগখানির প্রথম পৃষ্ঠায়। সেই প্রথম উন্মোচন ডটনেট ব্লগ খানি দর্শন। এইখানে বলি, সামহোয়ারিনকে আমরা যেমন 'সামু',আমার ব্লগকে আমরা যেমন 'আমু' বা সচলায়তনকে 'সচু' বলিয়া থাকি, উন্মোচন ব্লগখানিকেও তেমনি আমরা আদর করি 'উন্মু' বলিয়া ডাকিলেও ডাকিতে পারি! 

সে যাহাই হউক। ব্লগ সাইটখানি ঘুরিয়া-ফিরিয়া দেখিতে দেখিতে আমি একে একে খুঁজিয়া পাই পুরাতন সহব্লগার ফারুক ওয়াসিফ, যুথচারী, শশাঙ্ক বরণ রায়, ভাস্করসহ অনেককেই; এবং প্রিয় লেখক কুলদা রায় তো বটেই।

খুব ভয়ে ভয়ে শশাঙ্ক বাবুর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কোনো এক খানি লেখায় একটি বেমাক্কা মন্তব্য ঠুকিয়া দেই। কি সর্বনাশ! ইহার সঞ্চলকরা বুঝি ব্লগখানির এক কোনে সর্বদা ঘাপটি মারিয়া থাকে নাকি! পট করিয়া অধমের মন্তব্যখানি প্রকাশিত হইল। সঙ্গে সঙ্গে ক্যাক করিয়া পাঁকাল মাছের মতো ছাই দিয়া ধরিলেন শশাঙ্ক দা, বিনয় করিয়া কহিলেন, মহাশয়, দুই লাইনে মন্তব্য করিয়া কোথায় পগার পার হইতে চান? এতো পাহাড়-পর্বত ডিঙাইতেছেন, পাহাড় নিয়াই এইখানে কিছু প্রসব [মুষিক?] করুন না।

মনে মনে কহিলাম, উরে বাপ্রে! এ যে সাড়ে সর্বনাশ! 

যুথ দা'ও দিলেন ঢাকের বাড়ি, লেখা চাই, মাফ নাই। জবাবে অতি ব্যস্ততার ভান করিয়া ইনাইয়া-বিনাইয়া কিছু কহিবার চেষ্টা করিলাম। [এইখানে চুপি চুপি বলি, ইহা নিজের মূল্য বৃদ্ধি করিবার কৃত-কৌশল মাত্র। শশশশশশশ....

বাঘা দা মওকা বুঝিয়া হাঁকিলেন, ঘ্রাআআউউ। এই ব্যাটা, [চ-বর্গীয়] ভাই সম্বাদিক! লেখা না দিয়া কোথায় যাহিতে যাও চাঁন্দু? এক থাবায় গর্দান মটকাইবো!

অমনি জারি-জুরি ফাঁস হইলো। সেদিন মুগদ্ধতার সহিত ব্লগখানি ঘুরিয়া ফিরিয়া দেখিলাম। যেমনই নানান স্বাদের লেখা, তেমনই ইহার কারিগরি মান! পরদিনই নিবন্ধন করিলাম এবং যথারীতি লিখতে ভূলিয়া গিয়া মহা আনন্দে একের পর এক অন্যের লেখা পড়িয়া চলিলাম। লিখিতেও আলস্য, মন্তব্য করিতেও আলস্য, কিন্তু সদস্য হিসেবে সক্রিয় হওয়া চাই তো! তাই বুদ্ধি খাটাইয়া লেখা পড়ি, ভাল হইলে 'বিপ্লব' ঠুকি[অসাধারণ/ পঞ্চ তাঁরকা], বৃদ্ধাঙ্গুলি উঁচাইয়া ধরিবার একখানি ইমো দিয়া পরের লেখায় চলিয়া যাই। ...

এই করিতে করিতে এক বেয়াক্কেল মডুরাম [নাম বলা নিষেধ] ভুল বানানে লগইন নেইম ও পাসওয়ার্ড ইমেইল করিলেন। অতঃপর লগইন হইতে পারার আনন্দে বাসায় এবং কর্মস্থলে [যথেষ্ট পরিমানে কাজে ফাঁকি দিয়াই, অফিস হইতে ব্লগানোর মজাই আলাদা] উন্মুর লেখাসমূহ আরো দ্বিগুন উৎসাহে পড়িয়া চলিলাম।

মাঝে ঘটিলো এক দুঃখজনক ঘটনা।  রাজশাহীতে নিজ গ্রামের বাড়িতে নিশৃংসভাবে ধর্ষনের পর খুন করা হইলো বয়স্ক এক স্কুল শিক্ষক মরিয়ম মুরমুকে। নিহত স্কুল শিক্ষকটি আমার অতি পরিচিত সাঁওতাল আদিবাসী লেখক ও ব্লগার মিথু শিলাক মুরমু'র বড় বোন। ব্লগার সমর ও আমি যৌথভাবে উন্মুর পাতায় একখানি প্রতিবাদ পত্র লিখিলাম। ইহাই অধমের প্রথম পোস্টানো। সহব্লগাররা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করিয়া একে একে মন্তব্য করিতে লাগিলেন। 

দু-একদিন কাটিলো। হঠাৎ করিয়া আর কিছুইতে আর ব্লগখানি উন্মোচিত হয় না, গুগল ক্রোমি জানাইলো: ব্লগপৃষ্ঠাটি সাময়িকভাবে স্থগিত হইয়াছে। [অনুমান করিলাম, ইহারা নির্মাতারা বোধহয় অর্থ-কড়ি ঠিকমত দেয় নাই, এতোদিন বাকীর উপরেই ফাও খাইয়া ব্লগ চালাইতেছিলেন আর কি!] 

তবে শিগগিরই ভ্রান্তি কাটিল। খোমা বহিতে একজন পরিচিত ব্লগারকে ধরিয়া বসিলাম, মহাশয়, প্রিয় উন্মু'র কী হইয়াছে? কবে সেই ফুল কুমারী, ঘোমটা চিরি, আসিবে বাহিরে?... তিনি জানাইলেন অন্দর-মহল সংবাদ: সত্য সত্যই নাকি কি এক কারিগরি বিপর্যয় ঘটিয়াছে। ব্লগ টেকিরা ইহা লইয়া দিবারাত্র পরিশ্রম করিতেছেন, শিগগিরই বিপর্যয় দূর হইবে আশা করা হইতেছে -- ইত্যাদি। খুব দ্রুতই যারপরনাই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল ফলিলো হাতেনাতে। নবরূপে ব্লগখানি আবার আত্নপ্রকাশ করিল [মার থাবা! মার থাবা!]।

তিন উল্লাস দিয়া একখানি তৈলাক্ত ভালবাসা পত্র পোস্টাইতে গিয়া দেখি অ মা! ইহার প্রযুক্তি আগের চেয়ে যারপরনাই সুন্দর এবং জটিল হইয়াছে সত্য; কিন্তু ইহার কি বোর্ডে বিজয়-ইউনিজয় বা অন্যকোনো পরাজয় নাই![কেমনে কী? আক্ষরিক অর্থেই যাহাকে কহে, ডিজুস জট্টিল!] 

তবু এলাহী ভারসা করিয়া একে একে পোস্টাইতে লাগিলাম। 

[এইখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, কী উপায়? কেনো, অন্যব্লগের মন্তব্যের ঘরের কি-বোর্ড কাজে লাগাইয়া লিখিবার পরে, তাহা কাট-পেস্ট করিয়াই তো অধম উন্মু'তে ব্লগাইয়া থাকে... হে ...হে...হে...। পাঠক, খুব খেয়াল করিয়া-- এইখানে একখানি ফাও টিপস রহিয়াছে কিন্তু; খিকজ!] 

অনটপিক পর্ব 

যাহাই হোক, এখন এইসব বাই লাইন, তথা ধানাই-পানাই-সানাইয়ের পর আসল কথা বয়ান করি।

উন্মু'র বন্ধুবরেষুর কাছে আমার বিনীত অনুরোধ, এইখানে [আব্দার] নামে একটি নতুন খাতা খোলা হউক। এই খাতায় গিয়া লেখক-পাঠক নিজ নিজ চাহিদা মতো প্রাপ্তি-প্রত্যাশা, দাবি-দাওয়া, নালিশ-বালিশ এবং অতি অবশ্যই আব্দারসমূহ নিবেদন করিবেন। ব্লগ বন্ধু/টেকিগণ আব্দারের গুরুত্ব বুঝিয়া [এমনকি না বুঝিয়াও] দ্রুততার সহিত উহা পূরণ কবিরার যথাসাধ্য চেষ্টা চালাইবেন। 

ইহার পর আরেকখানি উপ-আব্দার জানাই।

[টেকি-টিপস] নামে আরেকখানি নতুন খাতা খোলা হউক। যেমন, নতুন ব্লগ ব্যবস্থাপনায় এই অধমের প্রথম পোস্টখানির শিরোনামটুকু বাদে লেখার সবখানিই খোয়া গিয়াছে [চিত্র স্বাক্ষ্য]। পোস্টখানিতে লাল তাঁরকার কয়েকখানি [বিপ্লব] ও ক্যাটাগরি ছাড়া আর কিছুই দেখিতে পাওয়া যাইতেছে না! সমগ্র লেখাখানি কোন অজানা মন্ত্রবলে রাতারাতি হাপিশ হইয়াছে! এমন কি মন্তব্যের ঘরের মন্তব্যসমূহও নাই! শুধু মন্তব্যকারির নাম এবং প্রতিমন্তব্যে এই অধমের নাম নীলাভ অক্ষরে জ্বল জ্বল করিতেছে। হা ঈম্বর! এখন উপায়? 

[টেকি-টিপস] নামক খাতা থাকিলে অধম নিজেই সেইখানে ঘুরিয়া-ফিরিয়া লেখাখানি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাইবে। না পারিলে প্রথম খাতা খানি [আব্দার] তো রহিয়াছেই। 

ইহাছাড়া কোনো কবিরাজের বিতিকিচ্ছিড়ি হাতের লেখার জন্য কবিতার পোস্টের লাইন আঁকা-বাঁকা হইলে তিনি নিজেই [টেকি-টিপস= এর পাতা উল্টাইয়া তাহা সমাধানের চেষ্টা করিবেন। সহজ পদ্ধতিতে লেখায় ছবি, লিংক, অডিও-ভিডিও সংযুক্তসহ উন্মু ব্লগের নানা ছোটখাট কারিগরি দিক সর্ম্পেকেও এতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হইবে। 

সর্বশেষ উপ-সহকারি আব্দার রহিল--

প্রিয় বন্ধু বরেষু/টেকিগণ, উপরিক্ত আব্দার ও উপ আব্দার যতক্ষণ পূরণ করা না হইতেছে, ততক্ষণ [আমরা শোকাহত, আমরা ক্ষুব্ধ...] নামক অধমের প্রথম পোস্টখানি পুনরুদ্ধার করিয়া দেওয়া হউক। 

ধন্যবাদ ও নিবেদন ইতি। হ্যাপি ব্লগিং।।  

12345
Total votes: 469

মন্তব্য

কুথায় টেকির দল বন্ধুবরেষুরা, বিপ্লব দার আব্দারের তাবেদার হও শিগগির। নাইলে কিন্তু খপরাছে। এক নং পেতিষ্টা বার্ষিকীর টাইম আইয়া পড়ল, তুমাগো ঘুম না ভাঙলে তো এ দ্যাশে আর বিপ্লব আইব না।

উন্মু নামডা খুব চয়েজ হইছে, খুব বিউটিফুল একটা মেয়ে মনে হয়। হেহেহেহে

পত্নীতলায় (নওগাঁ) বিদ্যুৎসংকটে আছি, অন্তর্জাল তো দূরের কথা। বিপ্লব ভাইকে জানাতে চাই, কোনো লেখাই খোয়া যায়নি, এডিটরে সামান্য সমস্যার কারণে পুরনো কিছু লেখা দেখাচ্ছে না, সেগুলো ঠিক করার প্রক্রিয়া চলছে। একদম ঘাবড়াবেন না।

বিপ্লব রহমান-র ছবি

মহাশয় সুখবরে যারপরনাই আশ্বস্ত হইলাম। আপনাকে জানাইতেছি, উত্তম ও জাঁঝা। 

কিন্তু এইক্ষণে দুইখানা অতিশয় গুরুতর প্রশ্নের উদয় হইয়াছে।

প্রথমত, অধমের ১ নং আব্দারখানির কী হইবে [আব্দার নামে একখানি নতুন খাতা খোলা হউক] ?  

দ্বিতীয়ত, আপনার ভাষ‌্যমতে--

পত্নীতলায় (নওগাঁ) বিদ্যুৎসংকটে আছি, অন্তর্জাল তো দূরের কথা।

ইয়ে...ওই তলাটি ছাদনাতলার সমগোত্রীয়? জানিতে মন চাহে...

বিপ্লব রহমান-র ছবি

উন্মু নামডা খুব চয়েজ হইছে, খুব বিউটিফুল একটা মেয়ে মনে হয়।

নামকরণ পছন্দ করায় আপনার জন্য তাজা এক গুচ্ছ ধনিয়া পাতা রহিল।  

সমর সরেন-র ছবি

 বিপ্লব দা, হে হে...


রাত নাই দিন নাই আমিতো উন্মুর লগে ডেটিং মারতাছি...

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

 চালিয়ে যান, আমরা আছি আপনার পিছে!

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

বিপ্লব রহমান-র ছবি
বিপ্লব রহমান-র ছবি

 রাত নাই দিন নাই আমিতো উন্মুর লগে ডেটিং মারতাছি...

কহিতেছেন কী মমিন? 

বিপ্লব রহমান-র ছবি

 প্যাঁচাল? মহাশয় অধমের আব্দার লইয়া কেন ক্যাঁচাল করিতেছেন? ইহা আদৌ প্যাঁচাল নহে; অধম একখানি গজাল লিখিয়াছে মাত্র। 

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আহা হা, বিপ্লব দা, কী মধুর আলাপ! মানে অফ টপিকটা আরকি। তয়, পরের আলাপটা বড়ই বেদনার, আমার সিগনেচারটাও এই কারিগরি দোষে গেছে। বন্ধু-বান্ধব ভাই-বোনরা কই গেলে সব? 

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

বিপ্লব রহমান-র ছবি

 

মহাশয় স্বাক্ষর খোয়া যাওয়ায় আফসোস করিয়া ফল কি! নতুন করিয়া আবার স্বাক্ষর দিলেই তো হইবে। কিন্তু দেখুন, স্বাক্ষর খোয়া যাওয়ায় নির্ঘাত মহা খুশী হইয়াছেন সহব্লগার মারুফ বরকত । তাহার প্রোফাইল বর্ণনাই এতোদিন স্বাক্ষর হিসেবে চলিতেছিল। খিকজ। 


মারুফ বরকত-র ছবি

 আমি দুইদিন দুইডা পুস্ট লেকচিলাম, গিরিন বাগের অনুরোধে (হুমকিতে), কিন্তু পুস্ট কর্তে গিয়া কী জানি পোব্লেম দেকা দিল, ব্যাক গিয়ারে দিয়া ফিরা আইয়া দেহি লেকা হাপিশ ...

হতাশ হয়া লেখাই বোন্ধো হয়া গেল ...

--

কয়লা ধুইলে ময়লা তাও যায়, মন ধুইলেও যায় না। কারণ, মন তো কয়লাই ... পোড়া মন!!!!

বিপ্লব রহমান-র ছবি

 এই হাপিশ যাহাতে না হয়, সেই কারণেই তো উপ-আব্দারে [টিপস] নামক খাতা খুলিবার আব্দার জানাইছি! সমবেদনা জানিবেন। 

মন্তব্য