slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

একসুরে প্রচার হয়েছিল শেখ মুজিব ভারতের দালাল-3

মুজিব বিরোধী ডান ও বাম বিশেষ করে চীনপন্থি দলগুলো একসুরে প্রচার করেছিল যে শেখ মুজিব ভারতের দালাল। সেনা কর্মকর্তারা বিশেষ করে লে: কর্ণেল জিয়া উদ্দিন এবং লে: কর্ণেল আবু তাহের এ বিষয়ে প্রচুর ইন্ধন জুগিয়েছিলেন। বিএনপি সময় অসময় বইয়ে লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এবিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তার মতে সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্যদের মনে ধারণা হয়েছিল ভারতের তবেদারি করার জন্য সমরিকবাহিনীকে ইচ্ছা করে দূর্বল করে রাখা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে বলেছিলেন, তিনি একটা শক্তিশালি সেনাবাহিনী তৈরী করার বিরুদ্ধে। শেখ মুজিবের ভাষ্য ছিল, আমরা পাকিস্তান সেনাবহিনীর মতো একটা দানব সৃষ্টি করতে চাইনা। আসলে ভারত সম্পর্কে শেখ মুজিবের মনোভাব নিয়ে লেখক বইয়ে লিখেছেন. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাস্তব কারণেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। ওই সময় থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানপোড়েন শুরু হয়ে যায়। শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরেই ভারতের সঙ্গে তার অবস্থান স্পষ্ট করে তুলেন, প্রথমতো ভারতের সেনাবাহীকে স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত পাঠানো ও ভারত সরকারের প্রতিনিধি ডিপিধরকে দিল্লি পাঠিয়ে দেয়া। তৎকারীন গণপরিষদের চিফ হুইপ শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের বই থেকে উদাহরণ দিয়ে লেখক লিখেন, তারপর মি ধর কবে দিল্লি ফিরছেন। এসেছেন কয়েকটা দিন কাটান, মাছ টাছ খান তারপর যাবেন। ধর সেদিনিই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁকে যেতে বলা হয়েছে। ধর ঢাকা ছেড়ে গেলেন। ১৯৭৪ সালে লাহোরে ইসলামী ঐক্য সংস্থার বৈঠকে শেখ মুজিব যোগদান করবেন। তাজউদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল, আব্দুস সামাদ আজাদ এর বিরোধিতা করলেন। তাদের যুক্তিছিল আমরা ধর্মনিরপেক্ষ দেশ । শেখ মুজিব অনঢ়। তখন তাঁকে বলা হলো যাত্রা পথে দিল্লিতে ওদের সঙ্গে একটু কথা বলে গেলে সবদিক রক্ষা হয়। মোয়াজ্জেমের ভাষ্য অনুযায়ি বঙ্গবন্ধু টেবিল চাপরিয়ে রীতিমতো ক্রুদ্ধ কণ্ঠে চিৎকার করে উঠলেন, বললেন, আমি কারো মাখা তামাক খাই যে আমাকে মাঝপথে নেমে কারো মতে নিতে হবে। আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশ । কাউকে ট্যাক্স দিয়ে চলার জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। পিণ্ডির গুহা থেকে দিল্লির গর্তে ঢুকব আমার জীবদ্দশায় তা হবে না। আমি লাহোর যাব দিল্লি থামবো না।

12345
Total votes: 184

মন্তব্য