slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

ইসলামের নামে হামলা, কমছে গণমানুষের ক্ষমতা, বাড়ছে রাষ্ট্রের আধিপত্য

প্যারিস থেকে ঢাকা। একটার পর একটা জঙ্গি হামলা হচ্ছে। দায় নিচ্ছে ইসলামী পরিচয়ের কয়েকটি সংগঠন। কোথাও আইসিস। কোথাও তালেবান বা কোথাও জামাতুল মুজাহিদ। কিন্তু ঘটনা একটাই সাধারণ মানুষদের হত্যা। বোমা মেরে হত্যা। আÍঘাতি হয়ে হত্যা। জিম্মি করে হত্যা। বা গোপনে টার্গেট করে হত্যা। যাদের হত্যা করা হচ্ছে তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতার সঙ্গে কেউ জরিত নন। তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতাও নেই। তারা কোথাও হোটেলে গান বাজনা করছিলেন। কোথাও নিজের মতামত লিখছিলেন। কোথাও স্কুলে লেখাপড়ায় ব্যাস্ত ছিলেন। কোথাও বা প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন। তাদের মৃত্যুকে জিহাদ নামে উল্লেখ করেছে হত্যাকারীরা। তারা ইসলামী রাষ্ট্র নামের একটি রাষ্ট্র বানিয়েছেন। এই হত্যাকারীর রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু রাষ্ট্র সহায়তাও করছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ­াদিমির পুতিনের হিসাবে এই রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে ৪০টি রাষ্ট্র সহায়তা করছে। অর্থাৎ একটি ঘাতক রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখতে আরো অনেকগুলো রাষ্ট্র রয়েছে। এই রাষ্ট্রগুলো গোপনে হলেও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার প্রয়াস চালাচ্ছে। বিশ্বব্যাপি আতঙ্ক। এই কাজে তারা একটি ধর্মিয় মতবাদকে সামনে নিয়ে আসছে। নিজেদের ধর্মবোধ যাই হউক। কিন্তু সাধারণ মানুষকে ধর্ম দিয়ে বিভ্রান্ত করা যায়। তাই রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার হয়। এটি ভোটেও হয়। যুদ্ধেও হয়।এখন ব্যাবাহার হচ্ছে গণহত্যায়। তাহলে গণমানুষদের এই এই হত্যাকারীদের হাত থেকে বাঁচার উপায় কী?

প্যারিস হামলা, পাকিস্তানে স্কুলে হামলা বাংলাদেশে গানের অনুষ্ঠানে হামলা সবগুলোতেই জনগণ ফুল নিয়ে কেঁদেছে। কাঁদতে কাঁদতে চোখ লাল করে ফেলেছে। শোকের গান গেয়েছে। মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে রয়েছে। তারপর আবার নিজ নিজ কাজে চলে গেছে। এই সাধারণ মানুষদের উপর রাষ্ট্র রয়েছে। এই রাষ্ট্রের খরচ যোগাতে তাদের খাটতে হয়। নিজের পেটের ভিতরে খাবার দিতে হয়। কতক্ষণ মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে থাকা যায়। কতক্ষণ করুন সুরের গান গাওয়া যায়। তাই রাষ্ট্রের হাতেই নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষার ভার দিয়ে দিয়েছে। রাষ্ট্র এই ভার পেয়ে তার নিজস্ব চরিত্রে আভির্ভূত হচ্ছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, করাগার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেগুলো রাস্ট্রের কাছ থেকে মানুষ দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জন করেছে সেগুলো সংকুচিত হচ্ছে। ফ্রান্স ইতিমধ্যে তাদের নাগরিকদের স্বাধিনতা অনেকটাই খর্ব করেছে। এখন পুলিশ ও সেনাবাহিনী কোন ওয়ারেন্ট ছাড়া যেকোন নাগরিককে গ্রেফতার করতে পারবে। হত্যাও করতে পারবে। ঘরবাড়িতে তল্লাসি করতে পারবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ওলাদে। যুক্তরাস্ট্রেও একই অবস্থা। বাংলাদেশেও আইন হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি আইন। সংবিধানের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লংঘিত। ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার, ক্রস ফয়ারে হত্যা সবইতো গণদের বিপক্ষে। বিশ্বব্যাপি রাষ্ট্রক্ষমতা যেভাবে ক্রমাগত দূর্বল হচ্ছিল সেই রাষ্ট্রই আবার শক্তিশালি হয়ে উঠেছে। আবার পিছিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জনগণের বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন গুলো পরিণত হতে যাচ্ছে রূপকথায়। তার বাস্তব কোন প্রতিপলন আর দেখা যাবে না রাষ্ট্র ব্যবস্থায়। এই অবস্থায় দুই দিকে দিয়ে গণ মানুষদের উপর নির্যাতন করবে রাষ্ট্র। একদিকে রাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধব্যয় বহন অন্যদিকে নিয়মিত নির্যাতন। একটি নিয়মিত মুক, কান্নারত ফুল হাতের গণগোষ্ঠি। যাদের প্রতিবাদের ভাষা হলো ইনভিজিবল। তারা প্রতিবাদের জন্য নির্ভর করে রাষ্ট্রের উপর। রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর উপর বা পুলিশের উপর। এদের যদিও দেখা যায় তবে ফুল হাতে। অনেকটা বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানের মতো। ফুল হাতে গিটার বা ঢাকঢোল বাজিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে ঘরে ফিরে আসে। এদের ইনক্লুসিভ(সার্বজনিন) কোন প্রতিবাদ নেই। এরা সার্বজনিন সাহস করে কিছু করে না। আইসিস নামের ধর্মিয় প্রতিষ্ঠান কোন কারণ ছাড়াই এদের হত্যা করে যায়। এরা এই সব ধর্মিয় গুণ্ডাদের সার্বজনিন প্রতিরোধের আওতায় নিয়ে আসে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার মেয়াদ এখন শেষের দিকে। তাই হয়তো একটি সত্য কথা তিনি বলেছেন।‘ ইসলামী স্টেস্টের হামলা ও তার মতাদর্শের বিরুদ্ধে দৃপ্ত প্রতিবাদ গর্জিত হওয়া উচিৎ’। এই গর্জনটা প্রধানত করতে হবে মুসলিম জনগোষ্ঠির ভিতর থেকেই। কারণ এই জনগোষ্ঠির ধর্মকেই সন্ত্রাসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের দিল্লি শাহী মসজিদের ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি ভারতের ইমামদের নিয়ে এই সন্ত্রাসবাদের মতাদর্শের বিরুদ্ধে নেমেছেন। তিনি গর্জন করছেন। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম সাধারণ জনগোষ্ঠির লোকদেরও গর্জন করতে হবে। অন্য যারা সাধারণ গণপোষ্ঠির তাদেরও ফুল লতা পাতা নয়। এখন গর্জন করতে হবে। তবে সবার আগে প্রয়োজন মুসলিমদের গর্জন। সংগঠিতভাবে গর্জন। ইসলামকে অপ্রকৃস্থতদের হাত থেকে বাঁচাতে দায়টি মুসলিম সমাজের একান্ত নিজস্ব প্রয়োজন।

12345
Total votes: 1322

মন্তব্য