slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

সুদের হার কমলেই বিনিয়োগ বাড়ে না

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছিলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদ না কমানোর। তার যুক্তিছিল দেশের সকল মানুষকে নিয়েই আমদের ভাবতে হয়। সুদের হার কমালে নিু মধ্যবিত্ত, গরিব ও পেনশনারদের কষ্ট হয়। অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এখন সুদ কমানোরও সময়৷সুদ কমালে বিনিয়োগ বাড়বে। মানুষের কর্মসংস্থান হবে। গরিব  ও নিুবিত্তদের সমস্যা হবে না। প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। যার সুফল পাবে গরিব মানুষ।
ময়মনসিংহের যাকাতের ঘটনায় প্রমান হয় দেশে গরিবের অবস্থা ভাল নেই। একটি ৩০০ টাকার শাড়ি আর দেড়শো টাকার লুঙ্গির জন্য ২৭ জন মানুষ পদদলিত হয়েছে। এই বৈপরিত্যই প্রমান করে দেশের সকল মানুষকে নিয়ে ভাবছে না অর্থনীতি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক ও শোয়ার বাজার থেকে এক কথায় লুটপাট হয়েগেছে ৭০ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। যাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গরিব মানুষ। অন্যদিকে দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতিরও কোন উন্নতি নেই। সরকারি বেসরকারি উভয় বিনিয়োগ পরিস্থিতিই ভাল নেই বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসিরি একটি গবেষণা।তাদের মতে,সরকারি বিনিয়োগের বড় প্রকল্পগুলোর কাজ এগুয়নি। অবকাঠামো উন্নয়ন ও জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগের পরিস্থিতিও ভাল নেই।

সঞ্চয় পত্র ও ব্যাঙ্ক সুদ কমালে যত লোকের উপকার হয়, তার চেয়ে অপকার হয় ঢের বেশি লোকের।সরাসরি এর ধাক্কা গিয়ে লাগে গরিব, মধ্যবিত্তের সঞ্চয়ের ওপর।সমস্যায় পড়েন পেনশনার, নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীরা৷সুদ কমালে ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলি বিনিয়োগ বাড়াবে কিনা, তাতে এই শ্রেণীর মানুষের চাকরি হবে কিনা বা আয় বাড়বে কিনা, তার চেয়ে চলতি সময়ে তাঁদের ক্ষতি হয়ে যায় অনেক বেশি৷তবে ক্রেডিট নির্ভর মানুষদের যে সুবিধা তাতে সন্দেহ নেই।ঋণ নিয়ে গাড়ি বা বাড়ির কেনার লক্ষ্য থাকলে, বা ইতিমধ্যে কেনার পর তা মাসিক কিস্তিতে শোধের মধ্যে থাকলেও লাভ। আর ভবিষ্যতে বিনিয়োগ বাড়ুক ছাই না বাড়ুক, সুদ কমালে কর্পোরেটের খরচ কমে গিয়ে যে লাভের হার বাড়ে। ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও কর্পোরেটকে এবারের বাজেটে ট্যাক্স ছাড় দেয়া হয়েছে৷অর্থাৎ গরিব, মধ্যবিত্তের থেকে আয় কেড়ে নিয়ে তা চালান করে দেওয়া হয়েছে ধনীদের দিকে৷কিন্তু সুদ কমালেই সাধারণ মানুষের চাকরি বা আয় বাড়বে এমনটা ভাবা মূর্খামি৷সুদ কম করলে যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ বেড়ে যেত, তাহলে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ত নিশ্চয়ই৷বিনিয়োগ বাড়ার পেছনে মূল কারণ অবশ্যই চাহিদা৷চাহিদা বাড়লে বিনিয়োগ বাড়ে, এমনকি তখন যদি সুদের হার বেশিও থাকে তাহলেও বিনিয়োগ আটকায় না৷এ ছাড়া পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির ওপরেও নির্ভর করে বিনিয়োগ৷এই দুটি বিষয়ের উন্নতি ঘটলে পাল্লা দিয়ে বাড়ে বিনিয়োগ,বলেছেন সিপিডির নির্বাহি পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড.মোস্তাফিজুর রহমান।

সম্প্রতি ভারতের অর্থনীতিবিদ সুগত মারজিৎ এক প্রবন্ধে লিখেছেন, সুদ কমলেই যে বিনিয়োগ বাড়ে না সে কথাটা নতুন নয়৷ক্লাসে মাস্টারমশাইরা হামেশাই বলে থাকেন৷কিন্তু আমাদের দেশে কর্পোরেটরা যেহেতু যুক্তিকে নিজেদের মতো করে বেঁকিয়ে পরিবেশন করে, মিডিয়া যেহেতু অপছন্দের যুক্তি এড়িয়ে যায় তাই একটি ধারনাই হয়ে গেছে সুদের হার কমালে বিনিয়োগ বাড়ে।

ব্যাংকিং বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব  বলেন, আমাদের ব্যাঙ্কগুলি বুঝছে, সুদের হার কমালেও ঋণের পরিমাণ খুব একটা বাড়বে না৷মাঝখান থেকে তাঁদের আয় যাবে কমে যাবে। তাই সরকারি ব্যাংকগুলো সুদের হার কমিয়ে রাখলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলো তেমন কমায়নি। বেসরকারি ব্যাংকের রয়েছে নানা ধরণের হিডেন চার্জ। যদিও কোন কোন ব্যাংক কিছুটা সুদের হার কমিয়েছে। হিডেন চার্জ তা আবার উশুল করেও নিচ্ছে। আর সরকারি ব্যাংকের টাকা যেভাবে দেওয়া হচ্ছে তাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রশ্নই আসে না।

12345
Total votes: 409

মন্তব্য