slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

জ্বলি ন উদিম কিত্তায় ?

পনেমালা অজ পাড়া গাঁ মাটিরাঙ্গার বগাছড়ির মেয়ে । সে পাহাড়ি রাস্তার মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ায় । জুমের ফসল তোলা, কাঁকড়া, চিংড়ি মাছ ধরা, মাঝে মাঝে গরু চড়াতে চড়াতে আনমনা হয়ে আকাশ পাতাল ভাবা তার নিত্য দিনের অভ্যাস । এই ১৫ বছরে সে ক্লাস সিক্সে পড়ে । মাঝে মাঝে পাড়ার ক্লাবে পেপার পত্রিকাও পড়ে । আজকাল লোকাল পত্রিকা খুললে চোখে পড়ে ধর্ষন বলে কি ঘটে তার মত বয়সী মেয়েদের সাথে । সে একবার এক বড় দিদিকে জিজ্ঞেস করে ধর্ষন কি ? দিদির উত্তর তার গায়ে কাটা দেয় । প্রায় প্রতিদিনের কাজের ঝামেলায় আবার ভুলে যায় সে। তবে সে আজকাল সে আত্মরক্ষার জন্য দা সাথে রাখে বলা যায় না কখন কি বিপদ হয়।

সেই দিনটা তার বেশ মনে আছে , সেদিনও গরুটাকে খাওয়াতে ও লাকড়ি আনতে ছড়ার কাছে জঙ্গলে গিয়েছিল । গরুটা একখানে বেধে রেখে ঢেঁকি শাক ও তারা কাটা শুরু করে হাতের ঝুড়িতে রাখতে

লাগল । এইভাবে কতক্ষণ সে করছে ঠিক মনে নেই পনেমালার । কিন্তু সেদিন কি ঘটেছিল সেটা বেশ মনে আছে । বেশ বড় একটা ঢেঁকিশাকের আটি কাটার পর সে বুঝতে পারল তাকে কে যেন জাপটে ধরেছে । সে সেই হাতের থাবা বেশ অনুভব করতে পারছিল । সেই থাবা তাকে মাটিতে ফেলতে যাচ্ছিল । হঠাত তার কি হয় কোত্থেকে যেন অদ্ভুত এক মনোবল সে পাই। সে ডান হাতের দা সজোরে পেছনের সেই থাবাওয়ালার উপর চালিয়ে দেয় । অনুভব করে ফিনকি দিয়ে রক্ত তার শরীরে ভিজিয়ে দিল । এতে তার থাবা আলগা হয়ে আসে । তখনি কেবল পনেমালা সেই শয়তানটা কে দেখতে পায় আর চিনতে পারে। এই লোকটাই সে যে তাকে বাজার থেকে ফেরার পথে অনুসরণ করার চেষ্টা করেছিল । পরে পথে পাড়ার পরিচিত এক ভাই থাকায় সে আর আসেনি পেছন পেছন । শয়তান টার হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পর দুইহাতে দা সজোরে আবার চালাতে গেলে লোকটা দৌড়ে সটকে পড়ে । পনেমালা নিজের বুদ্ধির তারিফ না করে পারেনা । আজ যদি সে দা না আনত তাহলে কি হত সেটা ভেবে তার গা শিউরে ওঠে । একটু সুস্থির হতেই সবজির ঝুড়ি ও লাকড়ির ঝুড়ি নিয়ে বাড়ীর পথ ধরল । যেতে যেতে তার মাথায় এক বুদ্ধি আসল বিষয়টি সে তার বাবা ও মাকে বলবে এবং গ্রামের আর সবার সাথে মিলে এই বিপদ নিয়ে কি করা যায় তা ঠিক করবে।

পনেমালা বাড়ি ফিরেই মা, বাবা ও পাড়ার এক বড় বোনকে বলল । বড় বোনের পরামর্শে তার সাথে গিয়ে মেডিকেল টেস্ট ও থানায় ধর্ষণের চেষ্টার মামলা করল। লোকটা একদিন পর ধরা পরল । এই করেই সে চুপ থাকল পাড়ার আর সব বন্ধুদের নিয়ে একদিন বাড়ীর উঠানে সবাই বসল । আলোচনার মূল বিষয় হল এই ধরনের ঘটনা ঘটলে চুপ করে না থেকে কি করতে হবে। পনেমালার বন্ধু সবিতার কথা হল টোন তগা গেলে মানে সবজি তোলা ও লাকড়ি আনতে গেলে দা তো সাথে রাখতে হবে। পারতপক্ষে সবাই মিলে সপ্তাহের একটি দিনে যাওয়া ভাল। তা যদি করা সম্ভব না হয় তাহলে যা যা করতে হবে তা হল ......

১। তাগল বা দা সাথে নিতে হবে।

২। একটা কুকুর সাথে নিতে হবে।

৩। পাড়ার মুরুব্বি কাউকে সাথে নেওয়া ।

৪।প্রতিদিন শরীর চর্চা করা ।

৫। পাড়ার ভাইদের সাহায্য নেওয়া ।

পনেমালা, সবিতা, সুজাতা , কবিতা , সাথী ও চনচন কেবল এই বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে না রেখে আরও অনেকে যাতে জানে সেজন্য স্কুলে সবাইকে বিসয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।

কিছুদিন পর পনেমালা স্কুলে আসার পথে দেখতে পায় তাদের সিদ্ধান্ত মাফিক আজকাল সবাই চলাফেরা করছে । তার মন আকাশের মত বড় হয়।

নোট: গল্পের নাম কবিতা চাকমার বিখ্যাত কবিতা থেকে নেওয়া । মানে হল রুখে দাঁড়াব না কেন ???

কৃতজ্ঞতা স্বীকার : কবিতা চাকমা

12345
Total votes: 437

মন্তব্য

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

অসাধারণ, তন্দ্রাদি! খুব ভয়ে ভয়ে পড়তে শুরু করেছিলাম, কোন বেদনার আখ্যান শুনতে হবে এই ভেবে। চারদিকে তো শুধু হতাশার বাতাস। আপনি এক টুকরো আশা জাগিয়ে দিলেন।

লড়াই ছাড়া একবিন্দু জায়গাও নয়। জ্বলি ন উদিম কিত্তায়?

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

 আর বেদনা নয় প্রতিবাদ, প্রতিরোধ হোক এর জবাব। ধন্য দাদা পড়ার জন্য ।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আপনার সাথে একমত, দিদি, হোক প্রতিবাদ।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য