slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

সাধারন ডায়রি | ০৯ মার্চ২০১৫ | রাত: ১২ টা ২৭

সি এন জি করে বাসায় ফিরার সময় নভোথিয়েটারের পাশ দিয়ে ফাঁকা রাস্তা পাইয়া সি এন জি মামা দিল একটা টান! রাস্তা পুরা ফাকা আর রাত তখন ১১টা ১০। হটাত কোথা থেকে একটা গুলির শব্দ অনেক দূরে এবং সঙ্গে সঙ্গে আমার বুকে একটু ব্যথা অনুভব করলাম। বিদেশি মদের তেজ তখনো কমে নাই। মাথায় ঘুরতেছিল একটা প্রশ্ন; মানব জীবনের উদ্দেশ্য কি? মাঝে মাঝেই আজকাল বেশী বেশী ডারবি সিগারেট খাবার ফলে বুকে ব্যথাটা একটা নিয়মিত ব্যাধি হইয়া দাড়াইছে, আর সেই সাথে কালকে টাকা হাতে না আসলে বাড়ি ভাড়া কেমনে যোগাড় হবে সেইসব চিন্তা।


বুকে শুধু ব্যথা না, সেই সাথে গরম কিছু একটা অনুভব করলাম। খানিক পরেই দেখলাম বুক থেকে ঘন কালো কিছু একটা বের হইতেছে। বিস্মিত হইয়া দেখলাম জায়গাটা একটু ফুলে উঠেছে আর গরম রক্তে চারপাশে গড়াইতেছ। এই সবের কোন অর্থই আমি বুঝলাম না, শুধু দেখলাম সি এন জি ড্রাইভার ফাকা রাস্তা পাইয়া ফুল স্পিডে সি এস জি চালাইয়া যাইতেছে।


একমুহুর্তে আমি বাস্তবতা আর অবাস্তবতার কোন্দলে পইড়া গেলাম; বিষয়টা কি হইলো কিংবা হইতেছে বুঝলাম না। হটাত ভুইলা গেলাম সি এন জি ভাড়া কত টাকা ঠিক করছিলাম ! সি এন জি আমারে কই লইয়া যাইতেছে সেইটাও ভুইলা গেলাম। আমি ফোন দেবার চেষ্টা করলাম আমার সদ্য প্রেমিকা নুরজাহানকে, অথচ টের পাইলাম ফোন কাজ করতেছে না। আমার হাত কাপতেছে। আঙ্গুল রক্তে ভিজে গেছে বলেই হয়তো আমার স্পর্শ কাতর ফোন কাজ করছে না; কিন্তু তাহলে হাত কাঁপবে কেন?


আগারগাও আইসা সি এন জি যখন একটু ট্রাফিক জ্যাম এ পড়লো তখন দেখি মফিদুল এক তোরা ফুল হাতে আমার সি এন জির পাশে আইসা বলে ভাই লইয়া যান, সবগুলা দশ টেকা। আমি আঁতকে উঠলাম, মফিদুল ঐ হারামজাদা তুই এইখানে কি করছ? তোরে আমি কত খুঁজছি এতদিন! তুই আগারগাও এ ফুল বেচস! তুই তইলে আর পড়ালেখা করছ নাই, না ! ঐ যে আমার বন্ধু মফিদুল, স্কুলে আমার সাথে রাগ কইরা এলাকা ছাইড়া চইলা গেছিল বহু বছর আগে। কে শোনে কার কথা, মফিদুল বলে ভাই লইয়া যান সবগুলা দশ টেকা। আমি ততক্ষণে সবকিছু ঝাপসা দেখতে শুরু করলাম।
 

 

12345
Total votes: 495

মন্তব্য