slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

বাংলাদেশের হিন্দুরা সকল সময়েই গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনের পাশেই একটা সাইনবোর্ড। তাতে মুক্তিযোদ্ধের সময় নিহতদের একটি তালিকা। তালিকাটিতে দেখলাম যারা ২৫ মার্চ রাতে নিহত হয়েছেন তাদের  বেশির ভাগই হিন্দু ধর্মালম্বি। মনে প্রশ্ন জাগলো তাহলে পাকিস্তানিবাহিনী কী মুসলিমদের  ছেড়ে দিয়েছিল । আর  বেছেবেছে হিন্দুদের হত্যা করেছিল। প্রমান পেলাম বিভিন্ন বই পুস্তকে।( কোন কোন বই কাদের লিখা এসব বলে লেখাটি দীর্ঘ করতে চা্ইছি না)।   ষেখানে স্পষ্ট করে লিখা রয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী হিন্দু প্রধান গ্রাম। হিন্দুদের বাড়ি। আক্রমন করেছে সবচেয়ে বেশি। আর প্রতিবেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক এইসব লুটপাটে অংশ নিয়েছে। সুযোগমতো হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্বরিত করেছে। বিয়ে করেছে। তা্হলে মুসলিম বাড়ি পুড়েছে কেন। খোঁজ নিলাম। দেখলাম , যারা মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। যারা ন্যাপ বা কমিউন্স্টি পার্টি করেছে বা আওয়ামী লীগের নেতা ছিল  মুসলিম হরেও তাদের বাড়ি ঘর পুড়েছে। আরো জানলাম ভারতের শরনার্থিদের ৮০ শতাংশই হিন্দু । তারা আবার এতই দেশপ্রেমিক যে স্বাধিনতার পরে  অধিকাংশই ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। কবি নির্মলেন্দুগুণের কাছে শুনেছি তাদের বাড়ির মুসলিম চাকর যে গরু পালন করতো। সে যুদ্ধের সময় গরুগুলো তার বাড়িতে নিয়েগিয়েছিল। পরে আর গরু সে ফেরত দেয়নি। এরমধ্যে একটি গরু জবাই করে ধর্মিয় অনুষ্ঠানও করেছে।  আমি আমার ঠাকুরমার কাছে শুনেছি আমাদের বাড়ি পুড়ানোর আগ পর্যন্ত আমরা স্থানীয় মুসলিম প্রতিবেশিদের অর্থ দিয়ে বসবাস করেছি। পরে আমাদের বাড়ির একজন মুসলিম কামলার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধের সময় অতিবাহিত করেছি। এই কামলা আমাদের বাড়ির সমস্ত থালাবাসন ও অন্যান্য জিনিস তার বাড়িতে নিয়ে রেখেছে। পরে আর সেগুলো সে ফেরত দেয়নি। এই সবদেখে, শুনে বই পড়ে মনে হয়েছে। পাকিস্তানের যুদ্ধটা ছিল প্রধানত হিন্দুদের বিরুদ্ধে। বাঙ্গালি বলতে তারা হিন্দুদের বুঝেছে। কয়েকটি বইয়েও পাকিস্তানের জেনারেলরা তা লিথেছে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধে যেসব মুসলিম যুদ্ধ করেছে। নিহত হয়েছেন। শরনার্থি হয়েছেন।  তারা কারা। আমার ধারনা মতে তারা হলেন মুসলিমদের মধ্যে সেই সময়কার জন্য গণতান্ত্রিক মানুষ। সাধারণ সহানুভুতিশিল মানুষ। কমিউনিস্ট। নাস্তিক। তারা পূর্বপাকিস্তানের মোট মুসলিম জনসংখ্যার সংখ্যা লঘিষ্ঠ অংশ। কারণ পূর্বপাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। বরংচ লুটপাট করেছে। বা লুটপাট না করলেও তার প্রতিবাদ করেনি।  তারা বাড়িতেই থেকেছে। চাকরি করেছে।  ব্যবসা করেছে। এমনকি মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। যুদ্ধের সময়ে অনুষ্ঠিত মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণকারীর সংখ্যা  প্রায় ৮০ ভাগ। ঢাকা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ি সেই পরীক্ষায় একজন হিন্দু ছেলেও অংশ নেয়নি। (তখন জনসংখ্যার হিসাবে পূর্বপাকিস্তানে হিন্দু জনগোষ্ঠি ছিল মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ)।  এই হিসাবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও পরবর্তি সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগী হয়েছে। এখন স্বাধীনতার ৪৩ বছর চলছে। এই অংশটা এখন আরো অনেক শক্তিশালি ও গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখন সবাই মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের জন্য তাদের উৎসাহও অনেক। পাকিস্তানের চেয়েও তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভালো করেছে। এগিয়েছে বাংলাদেশ। নস্টালজিক কারণে পাকিস্তান বা সৌদিআরবের জন্য কিছুটা মন ব্যথিত হলেও তারা বাংলাদেশকেই ভালবাসে। আমার কথা হলো, সবকিছুই এখন আপনাদের অনুকুলে। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংখ্যা লঘু মুসলিমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। বা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তারাও আপনাদের সঙ্গেই আছে। যে হিন্দুদের পাকিস্তানি সরকার গুলিকরে দেশত্যাগ করাতে পারেনি। তারা এখন মোট জন সংখ্যার মাত্র ৮  থেকে৯ ভাগ। তারা এখন আর বড় চাকরি করে না। বড় কোন মন্ত্রীহয় না। প্রেসিডেন্ট বা প্রধান বিচারপতিও হতে পারবে না। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন কোন  অংশও না। আগে তবু গণতান্ত্রিক মুসলিম সংখ্যা লঘিষ্ঠরা কিছুটা মিনমিন করতো। এখন তাও হয় না। আপনার দেশ একটি মুসলিম বাংলাদেশ। তবু  বলছি এখন একটু সংস্কৃতিটা পাল্টন। না হলে সামনে আপনার ভেতর থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হবে। আপনি লুণ্ঠন করে জোর করে  সম্পদ পেয়েছেন।বা ফাকে চক্করে দেশ পেয়েছেন। সন্তানকে তো আপনি লুণ্ঠনজীবী বানাবেন না। কারণ এখনতো আপনিই  সম্পদের মালিক। তাই বলছি প্রতিবেশি যেলোকটার সম্পদ আপনি লুট করেছিলেন তার কাছে মাপ চান। যার সম্পত্তি দখল করেছেন তার জমি  ফেরত দিতে হবে না। শুধু ক্ষমা চান।  যে হিন্দু প্রতিবেশিটি আপনাকে ভালবেসে শরনার্থি শিবির থেকে ফিরে এসেছিল তার অনুভুতির প্রতি একটু সহানুভুতি দেথান। তাদের বাড়িঘর, উপাসনালয় এখনো যারা ভাংছে নিষেধ করুন। তার ধর্মমতের প্রতি গণতান্ত্রিক আচরণ করুন। এই  বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠি সংখ্যা লঘিষ্ঠতার কারণেই গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল তাই সামান্য হলেও মুসলিম গণতান্ত্রিক বলছি, তাদের সমস্যাগুলো নিযে তাদের পাশে দাড়ান। তাতে সাম্প্রদায়িকতা হয় না।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর কেন্টিনের পাশেই একটা সাইনবোর্ড। তাতে মুক্তিযোদ্ধের সময় নিহতদের একটি তালিকা। তালিকাটিতে দেখলাম যারা ২৫ মার্চ রাতে নিহত হয়েছেন তাদের  বেশির ভাগই হিন্দু ধর্মালম্বি। মনে প্রশ্ন জাগলো তাহলে পাকিস্তানিবাহিনী কী মুসলিমদের  ছেড়ে দিয়েছিল । আর  বেছেবেছে হিন্দুদের হত্যা করেছিল। প্রমান পেলাম বিভিন্ন বই পুস্তকে।( কোন কোন বই কাদের লিখা এসব বলে লেখাটি দীর্ঘ করতে চা্ইছি না)।   ষেখানে স্পষ্ট করে লিখা রয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী হিন্দু প্রধান গ্রাম। হিন্দুদের বাড়ি। আক্রমন করেছে সবচেয়ে বেশি। আর প্রতিবেশি মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক এইসব লুটপাটে অংশ নিয়েছে। সুযোগমতো হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্বরিত করেছে। বিয়ে করেছে। তা্হলে মুসলিম বাড়ি পুড়েছে কেন। খোঁজ নিলাম। দেখলাম , যারা মুক্তিযোদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। যারা ন্যাপ বা কমিউন্স্টি পার্টি করেছে বা আওয়ামী লীগের নেতা ছিল  মুসলিম হরেও তাদের বাড়ি ঘর পুড়েছে। আরো জানলাম ভারতের শরনার্থিদের ৮০ শতাংশই হিন্দু । তারা আবার এতই দেশপ্রেমিক যে স্বাধিনতার পরে  অধিকাংশই ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। কবি নির্মলেন্দুগুণের কাছে শুনেছি তাদের বাড়ির মুসলিম চাকর যে গরু পালন করতো। সে যুদ্ধের সময় গরুগুলো তার বাড়িতে নিয়েগিয়েছিল। পরে আর গরু সে ফেরত দেয়নি। এরমধ্যে একটি গরু জবাই করে ধর্মিয় অনুষ্ঠানও করেছে।  আমি আমার ঠাকুরমার কাছে শুনেছি আমাদের বাড়ি পুড়ানোর আগ পর্যন্ত আমরা স্থানীয় মুসলিম প্রতিবেশিদের অর্থ দিয়ে বসবাস করেছি। পরে আমাদের বাড়ির একজন মুসলিম কামলার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধের সময় অতিবাহিত করেছি। এই কামলা আমাদের বাড়ির সমস্ত থালাবাসন ও অন্যান্য জিনিস তার বাড়িতে নিয়ে রেখেছে। পরে আর সেগুলো সে ফেরত দেয়নি। এই সবদেখে, শুনে বই পড়ে মনে হয়েছে। পাকিস্তানের যুদ্ধটা ছিল প্রধানত হিন্দুদের বিরুদ্ধে। বাঙ্গালি বলতে তারা হিন্দুদের বুঝেছে। কয়েকটি বইয়েও পাকিস্তানের জেনারেলরা তা লিথেছে। তাহলে মুক্তিযুদ্ধে যেসব মুসলিম যুদ্ধ করেছে। নিহত হয়েছেন। শরনার্থি হয়েছেন।  তারা কারা। আমার ধারনা মতে তারা হলেন মুসলিমদের মধ্যে সেই সময়কার জন্য গণতান্ত্রিক মানুষ। সাধারণ সহানুভুতিশিল মানুষ। কমিউনিস্ট। নাস্তিক। তারা পূর্বপাকিস্তানের মোট মুসলিম জনসংখ্যার সংখ্যা লঘিষ্ঠ অংশ। কারণ পূর্বপাকিস্তানের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। বরংচ লুটপাট করেছে। বা লুটপাট না করলেও তার প্রতিবাদ করেনি।  তারা বাড়িতেই থেকেছে। চাকরি করেছে।  ব্যবসা করেছে। এমনকি মেট্রিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। যুদ্ধের সময়ে অনুষ্ঠিত মেট্রিক পরীক্ষায় অংশ্রগ্রহণকারীর সংখ্যা  প্রায় ৮০ ভাগ। ঢাকা বোর্ডের হিসাব অনুযায়ি সেই পরীক্ষায় একজন হিন্দু ছেলেও অংশ নেয়নি। (তখন জনসংখ্যার হিসাবে পূর্বপাকিস্তানে হিন্দু জনগোষ্ঠি ছিল মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ)।  এই হিসাবে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অংশ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও পরবর্তি সময়ে মুক্তিযুদ্ধের সুফল ভোগী হয়েছে। এখন স্বাধীনতার ৪৩ বছর চলছে। এই অংশটা এখন আরো অনেক শক্তিশালি ও গুরুত্বপূর্ণ। তারা এখন সবাই মুক্তিযোদ্ধা। বাংলাদেশের জন্য তাদের উৎসাহও অনেক। পাকিস্তানের চেয়েও তারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ভালো করেছে। এগিয়েছে বাংলাদেশ। নস্টালজিক কারণে পাকিস্তান বা সৌদিআরবের জন্য কিছুটা মন ব্যথিত হলেও তারা বাংলাদেশকেই ভালবাসে। আমার কথা হলো, সবকিছুই এখন আপনাদের অনুকুলে। প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংখ্যা লঘু মুসলিমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। বা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল তারাও আপনাদের সঙ্গেই আছে। যে হিন্দুদের পাকিস্তানি সরকার গুলিকরে দেশত্যাগ করাতে পারেনি। তারা এখন মোট জন সংখ্যার মাত্র ৮  থেকে৯ ভাগ। তারা এখন আর বড় চাকরি করে না। বড় কোন মন্ত্রীহয় না। প্রেসিডেন্ট বা প্রধান বিচারপতিও হতে পারবে না। তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন কোন  অংশও না। আগে তবু গণতান্ত্রিক মুসলিম সংখ্যা লঘিষ্ঠরা কিছুটা মিনমিন করতো। এখন তাও হয় না। আপনার দেশ একটি মুসলিম বাংলাদেশ। তবু  বলছি এখন একটু সংস্কৃতিটা পাল্টন। না হলে সামনে আপনার ভেতর থেকেই সমস্যা সৃষ্টি হবে। আপনি লুণ্ঠন করে জোর করে  সম্পদ পেয়েছেন।বা ফাকে চক্করে দেশ পেয়েছেন। সন্তানকে তো আপনি লুণ্ঠনজীবী বানাবেন না। কারণ এখনতো আপনিই  সম্পদের মালিক। তাই বলছি প্রতিবেশি যেলোকটার সম্পদ আপনি লুট করেছিলেন তার কাছে মাপ চান। যার সম্পত্তি দখল করেছেন তার জমি  ফেরত দিতে হবে না। শুধু ক্ষমা চান।  যে হিন্দু প্রতিবেশিটি আপনাকে ভালবেসে শরনার্থি শিবির থেকে ফিরে এসেছিল তার অনুভুতির প্রতি একটু সহানুভুতি দেথান। তাদের বাড়িঘর, উপাসনালয় এখনো যারা ভাংছে নিষেধ করুন। তার ধর্মমতের প্রতি গণতান্ত্রিক আচরণ করুন। এই  বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠি সংখ্যা লঘিষ্ঠতার কারণেই গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল তাই সামান্য হলেও মুসলিম গণতান্ত্রিক বলছি, তাদের সমস্যাগুলো নিযে তাদের পাশে দাড়ান। তাতে সাম্প্রদায়িকতা হয় না।

12345
Total votes: 434

মন্তব্য