slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

ন্যায় বিচারের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে!

মরে বেঁচে গেলেন ইয়াসিন মিয়া। তিনি সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আমাদের দেশে যেখানে প্রতি বছর কয়েক হাজার মানুষ সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, সেখানে একজন ইয়াসিন মিয়ার মৃত্যু কোন গুরুত্বপূর্ণ খবর না। তারপরও বিষয়টা খবর হয়ে কিঞ্চিৎ মানবিক দায় তৈরি করেছে।

গত শবেবরাতের রাতে মিরপুরের কালসীতে বিহারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ইয়াসিন মিয়ার পরিবারের নয়জন সদস্যকে হত্যা করা হয়। বাইরে থেকে ঘরে তালা দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিলে নারীশিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়। তাঁর বেঁচে যাওয়া এক মেয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর আক্রান্ত বিহারীরা প্রতিবাদ জানায়, সড়ক অবরোধ করে এবং সরকারের ন্যায় বিচারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে অথবা বাধ্য হয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করে। এরপর আস্তে আস্তে স্বাভাবিক নিয়মে খবরটা হারিয়ে যেতে থাকে। ঘটনায় মামলা হয়, তদন্ত হয়। তবে অভিযুক্ত আসামীদের একজনও ধরা পড়ে না।

ইয়াসিন মিয়ার পরিচয় বিহারী আর অভিযুক্তদের পরিচয় তারা সরকার সমর্থক। গণমাধ্যম এমনই জানায়। এই পরিচয়ই কি তবে নির্ধারক হয়ে ওঠে ন্যায় বিচারের? এতবড় বেদনা আর অবিচারের যন্ত্রণা নিয়ে কীভাবে বেঁচে ছিলেন ইয়াসিন মিয়া! আমাদের সে বেদনার কথা জানতে হয়নি। তবে এটুকু সান্ত্বনা খোঁজা যাক, মামলা তো হয়েছে! এবার নিশ্চয়ই দূর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায়ও মামলা হবে। আমাদের রাষ্ট্র তো আর মরে যায়নি, ন্যায় বিচারের প্রক্রিয়া তাই অব্যাহত থাকবে।

12345
Total votes: 675

মন্তব্য

খালিদ-র ছবি

ঠিক বলেছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের একটি অতি উন্নত মানের সংবিধান রয়েছে, স্বাধীন বিচার বিভাগ রয়েছে, অতি সংবেদনশীল একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে। এটি এখন আদর্শ রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ন্যায় বিচার তো আর বললেই শেষ করা যায় না, এটি একটি কনটিনিউয়াস প্রসেস (অব্যাহত প্রক্রিয়া)!

মানুষ নাকি তিন প্রকার। পাওয়ারফুল, লেস পাওয়ারফুল এবং পাওয়ারলেস। ইয়াসিন মিয়াদের বোঝানোর প্রয়োজন ছিল, পাওয়ারফুলের সাথে পাওয়ারলেসের দূরত্বটা আসলে কত যোজন! আর এসব তত্ত্ব যে মোটেই অসার নয় তা প্রমাণ করার দায়িত্ব তো রাষ্ট্রের ঘাড়েই বর্তায়!

ন্যায়বিচার বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব আমাদের দেশে আর আছে বলে মনে হয় না। বিচার আছে --তবে সেটা কেবল মাত্র মামা-খালুর জোর ছাড়া দুবলা-পাতলা মানুষদের জন্য।

মন্তব্য