slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

শতবর্ষে দ্যা আয়রন হীলঃ জ্যাক লন্ডন- “জাতির দিকপাল” স্বরূপ শিল্পী

মূলঃ জোনাহ রাস্কিন

নষ্ট সময় ভাল লেখকদের দমিত করে, তবে তা তাদেরকে অবশ্য উৎসাহিতও করে থাকে। বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরীগুলোতে নতুন ও ইদানীং আবির্ভূত হওয়া বইগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে। প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াকার বুশ প্রশাসন কর্তৃক গন স্বাধীনতা(civil rights) ও মানবাধিকারের উপর ভয়ানক আক্রমণ, অন্তত আর কিছু না হোক, বই প্রকাশকে বেগবান করেছে, ফিকশন এবং নন ফিকশন উভয় ধরনেরই, আমেরিকান গনতন্ত্রের ক্ষয়সাধন এবং সাম্রাজ্যবাদের দিকে তাড়িত বোধ করাকে দোষারোপ করে। জ্যাক লন্ডন- বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় আমেরিকান লেখক, যে জন্মগ্রহন করে ১৮৭৬ সালে, আমেরিকার জন্ম শতবার্ষিকীতে, এবং মারা যায় ১৯১৬ সালে, আমেরিকা বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশের ঠিক একবছর পূর্বে- আমেরিকার বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। বাস্তবিকপক্ষে, কেউ একজন হয়ত অতি উৎসাহী হয়ে লন্ডনকে প্রতিষ্ঠাতা জনক হিসেবে অভিহিত করবেন রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সমন্ধীয় সমকালীন সাহিত্যের, এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হল, হেনরি গিরক্সের দ্যা এমার্জিং অথরিটারিয়ানিজম ইন দ্যা ইউনাইটেড স্ট্যাটস, ম্যাথু রথস্কিল্ডসের ইউ হেভ নো রাইটস, ক্রিস হেসেসের আমেরিকান ফ্যাসিস্টস, রবার্ট কেনেডির ক্রাইম এগেইন্সট ন্যাচার এবং ফিলিপ রথের ২০০৩ সালে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী উপন্যাস দ্যা প্লট এগেইন্সট আমেরিকা। নিশ্চিতভাবেই এমন আরো অনেক কিছু আছে যা এই ভূখন্ডকে আরো অনেক বেশী আওতাভূক্ত করে।

সিনক্লেয়ার লুইস, যে ইট ক্যান্ট হ্যাপেন হেয়ার(১৯৩৫) নামের দুর্দান্ত ক্লাসিকটি লিখেছিল- ওয়াশিংটন ডিসি তে নাজিবাদের আগমন সমন্ধে- যার অনুপ্রেরণার অধিকাংশটাই এসেছিল জ্যাক লন্ডনের দ্যা আয়রন হীল থেকে, যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৮ সালে, এবং যেটি এই বছরে(২০০৮) তার শতবার্ষিকী উদযাপন করছে। লন্ডনের ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস অবশ্য জর্জ অরওয়েলকেও অনুপ্রাণিত করেছিল যখন সে নাইনটিন এইটি ফোর শিরোনামের উপন্যাসটি লেখে, এবং এটা আমেরিকাতে একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতার ঘন্টা বাজিয়ে প্রথম আধুনিক আমেরিকান উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। দ্যা আয়রন হীল উপন্যাসটি কখনই লন্ডনের কুকুরের গল্প- দ্যা কল অফ দ্যা ওয়াল্ড এবং হোয়াইট ফ্যাং- এর মত জনপ্রিয়তা অর্জন করেনি, তবে ১৯২০ সালে যে মুহূর্ত হতে ইউরোপ ফ্যাসিবাদের দিকে যাত্রা শুরু করে, এবং এরপর হতে সমগ্র বিংশ শতাব্দী জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, এটা ব্যাপকভাবে পড়া শুরু হয় ইউরোপ, আমেরিকা এবং এশিয়াতে এবং একটি মহৎ, ভবিষ্যৎসূচক শিল্পকর্ম হিসেবে ভূষিত হয় নির্বাসিত রাশিয়ান বিপ্লবী লিওন ট্রটস্কি, এবং নোবেল পাওয়া ফরাসী ঔপন্যাসিক আনাতোলে ফ্রাসের মত লোকদের দ্বারা।

এটার প্রথম প্রকাশনার একশ বছর পর, লন্ডনের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা এবং সাংস্কৃতিক পরিজ্ঞানকে লক্ষনীয়ভাবে সমকালীন মনে হয়। বাস্তবিক, দ্যা আয়রন হীল উপন্যাসে, সে বর্ননা দিয়েছে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠি শাসন(oligarchy) কর্তৃক শয়তানীসুলভ ষড়যন্ত্রের, বাক স্বাধীনতা এবং সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতাকে নির্মূল করে ফেলতে, এটার প্রত্যক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী এবং স্পষ্টবাদী সমালোচককে কারাগারে বন্দী করে রাখা, সংবাদ এবং তথ্যের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা, শুধুমাত্র বেতনভূক্ত পেশাদার সেনাবাহিনী নিয়োগ করা, একটি গোপন পুলিশ বাহিনীর সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রাধান্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে বিশ্বব্যাপী একটি যুদ্ধ ঘটিয়ে তোলা। এখানে আরো আছে গেরিলা যুদ্ধ, উচ্ছৃঙ্খল সন্ত্রাসবাদের ভয়ানক সব কার্যক্রম, এবং ঠান্ডা মাথার খুনিরা- হিংস্রতার দিকে এগিয়ে যেতে থাকা একটি বিশ্ব যা সম্ভবত একবিংশ শতাব্দীর দুনিয়াতে পর্যবসিত হবে। এটাই হচ্ছে সেই বই যা এজরা পাউন্ডের মন্তব্য “শিল্পী হচ্ছে জাতির দিকপাল” এর সত্যতা প্রতিপাদন করে।
অনেকটা সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উপাখ্যান এবং নীতিমূলক গল্পবলার ধরনের মত দ্যা আয়রন হীল এর ঝোঁক হচ্ছে চরিত্র গঠন এবং কাহিনী বিনির্মাণের পরিবর্তে চিন্তা-চেতনা এবং আদর্শিক সংশ্লিষ্টতার উপর গুরুত্বারোপ করা, তবে লন্ডন একজন শিল্পী হিসেবে উৎকণ্ঠা, নাটকীয়তা এবং জীবনের চেয়েও বড় সিনেমাটিক দৃশ্যে ভরপুর গল্প না ফেঁদে পারেন নি, যা আমেরিকার রাস্তায় রাস্তায় সংগঠিত হওয়া রক্তাক্ত যুদ্ধ এবং লোমহর্ষক গণহত্যাকে চিত্রিত করেছে। প্রাথমিকভাবে দেওয়া “অলিগার্কি” শিরোনামের উপন্যাসটির জন্য হাতে লেখা একটি নোটে সে বলেছিল, “যে দৃশ্যগুলোকে এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে সেগুলো নিয়মিত উপন্যাসের আঙ্গিক থেকে এটাকে সরিয়ে নিয়ে আসতে লক্ষণীয় ভূমিকা পালন করে,” এবং নিজের প্রতি তিরস্কার সে ভালমতই করেছিল। উপন্যাসটির শিরোনামে পরিবর্তন, “অলিগার্কি” থেকে দ্যা আয়রন হীল, দেখায় যে লন্ডন একটি ভাবধারা থেকে উত্তেজক এবং উজ্জ্বল চিত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে যা তার গল্পকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
চলচ্চিত্রের একজন প্রথম সারির উৎসাহী ভক্ত এবং নিয়মিত দর্শক, জ্যাক লন্ডন দ্যা আয়রন হীল কে তৈরী করেন সেসিল বি ডে মিল্লের নির্মিত মহাকাব্যিক চলচ্চিত্রগুলোর মত করে যেখানে বিপ্লবী বাহিনী স্বৈরাচারী গোষ্ঠীর সেনাবাহিনীর সাথে তীরধনুক এবং মেশিনগানের সাহায্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। শিকাগোর রাস্তার কোলাহলময় জনসমাবেশ যেখানে উপন্যাসটি “রসাতলের মানুষজন” নামক একটি উল্লসিত অধ্যায়ে তার সর্বোচ্চ বিন্দুতে উঠে পড়ে, এই অধ্যায়টি লেখা হয়েছে ঐ জায়গার প্রকৃত দাম্ভিক ভাব এবং ফূর্তিকেই ফুটিয়ে তোলার মাধ্যমে। উপরন্তু এটা ছিল উচ্চ মেধার ফলে গড়ে উঠা দুর্দান্ত একটা কাজ(stroke of genius), লন্ডনের দিক থেকে, স্মৃতিচারণের মত করে তার উপন্যাসটিকে মূর্ত করে তোলা যা শুধুমাত্র বিশাল পটভূমির রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বকেই নয়, এমনকি বক্তা এবং স্মৃতিচারণকারীর নিজস্ব ব্যাক্তিগত জীবনকেও ব্যাপ্ত করে, বারকেলেয়, ক্যালিফোর্নিয়াতে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যদিয়ে বেড়ে উঠা আভিস এভারহার্ড নামের একজন যুবতী নারী, প্রেমে পড়ে আরনেস্ট এভারহার্ডের, যে বিপ্লবের নেতা, এবং যোগ দেয় গুপ্ত বিদ্রোহীদের সাথে যারা গোপন পুলিশ বাহিনীকে এড়িয়ে চলতে ভুয়া দলিলপত্র কাজে লাগায় এবং প্রয়োজন মত নিজেদের পরিচয়কে বদলে ফেলে। (আরনেস্ট এভারহার্ড বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই একটি চরিত্র হয়ে উঠে নি; সে অনেক বেশী আদর্শায়িত এবং কল্পনার রঙে রঞ্জিত এবং তার নামটিও এরকম- যা ইঙ্গিত বহন করে একধরনের দীর্ঘস্থায়ী যৌনশক্তির।)
উপন্যাসটি স্বয়ং যথোচিতভাবে বর্ণিত হবে সুতীক্ষ্ণ সাহিত্যিক পরিভাষা “জাল দলিল” হিসেবে– পরিভাষাটির উদ্ভাবক উপন্যাসিক এবং সমালোচক ই এল ডক্টরো নিজেই একজন “জাল দলিল” এর লেখক- পরিভাষাটি এমন একটি উপাখ্যানকে বুঝাতে ব্যাবহৃত হয় যা বাস্তব ঘটনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য বহন করে। লন্ডনের চমৎকার সাহিত্যিক কল্পনা, তোমার যদি মনে হয়, হচ্ছে আভিস এভারহার্ডের প্রণয় এবং পতনের স্মৃতি, ব্যার্থ বিপ্লব, এবং ক্রমবর্ধমান নিপীড়ন, পাঠকের জন্য আবিষ্কৃত হয় এটার সৃষ্টির এবং প্রকাশনার একশ বছর পর ২০০৭ সালের শেষের দিকে সম্পাদকের পাদ-টীকা এবং একটি মুখবন্ধ সহকারে। “এটা বলতে পারা যায় না যে, এভারহার্ডের পান্ডুলিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল”, ভবিষ্যৎ সম্পাদক এন্থনি মেরেডিথ লন্ডনের হালকা মেজাজের মুখবন্ধকে ব্যাখ্যা করে জানায়। মেরেডিথ বলে চলে, এভারহার্ডের পাণ্ডুলিপি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, “সেই লোমহর্ষক সময়ের অনুভূতিগুলোকে আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করার ক্ষেত্রে। ১৯১২ এবং ১৯৩২ এর মাঝে বিস্তার করে থাকা সেই বিক্ষুব্ধ সময়কালে বাস করা মানুষের এতবেশী জীবন্ত মনস্তাত্ত্বিক প্রতিকৃতি আমরা আর কোথাও খুঁজে পাইনা- তাদের ভুল এবং অজ্ঞতা, সন্দেহ ও ভয় এবং ভুল বোঝাবুঝি, নৈতিক অবক্ষয়, হিংস্র অনুভূতি, অভাবনীয় নোংরামি এবং স্বার্থপরতা”।
কৌতুকাবহ এবং মাঝে মাঝে মর্মভেদী পাদটীকা নিশ্চিতভাবেই লেখা হয়েছিল লন্ডনের নিজের দ্বারা এবং তা তাকে সক্ষম করে তুলেছিল আখ্যানের উপর একধরনের উজ্জ্বলতা লেপন করতে, এবং উনবিংশ শতাব্দীর ইতিহাস, অর্থনীতি এবং দর্শন এবং এই সময়ের প্রাধান্যবিস্তারকারী রাজনৈতিক ও দার্শনিক চিন্তকদের উপর চলমান ভাষ্য সরবরাহ করতে। এজন্যই সে লেখেছে যে নীটশে “মানুষের চিন্তার মহান চক্রের সর্বত্র এবং পাগলামীর ভেতর নিজেকে যৌক্তিকভাবে জড়িত করে ফেলে,” এবং “ইংলিশ কল-কারখানাগুলোতে শিশু ও নারী দাশদের প্রতি আচরণের চেয়ে জঘন্য কোন অধ্যায় ইতিহাসে আর ছিল না”। “রাজনীতি এবং ইংরেজী ভাষা”, যা জর্জ অরওয়েলের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল, বিষয়ে লন্ডন মন্তব্য করে যে, ঐ যুগের মানুষজনরা ছিল শব্দের দাস- তাদের মস্তিষ্ক এমন মাত্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় এবং বিভ্রান্ত ছিল যে একটি একক শব্দের উচ্চারণ জীবনব্যাপী চালান গুরুত্বপূর্ণ গভেষণা কার্য এবং চিন্তার সার্বজনীনতাকে বাতিল করে ফেলতে পারত। এরকম একটা শব্দ ছিল বিশেষণবাচক “ইউটোপিয়ান”।
একজন লেখক যে রাজনৈতিক বিতর্কে নামতে এবং নিজেকে রাজনৈতিক কার্যক্রমে জড়িত করতে ভীত নয়, লন্ডন জানত যে সে কি সমন্ধে কথা বলছে যখন সে ভাষা এবং রাজনীতি সমন্ধে কথা বলত। একজন স্বয়ং ইউটোপীয়ান, সে সমাজতান্ত্রিক লেবার পার্টিতে যোগ দিয়েছিল ১৮৯৬ সালে, এবং এরপর আমেরিকান সমাজতান্ত্রিক দলে, ১৯০১ সালে এটা গঠিত হওয়ার পর এবং এটার সদস্য পদ লাভ করতে তার মৃত্যুর কয়েকমাস পূর্ব পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছিল। যদিও সে কখনই সমাজতান্ত্রিক দলের লক্ষ্য এবং ভিত্তি গঠন করতে সরাসরি অংশগ্রহন করেনি এবং সে দলের সভা-সমাবেশ গুলোতেও নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করেনি তবুও সে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছে একজন “প্রচারকুশলী” হিসেবে– এই শব্দটিকে সে ব্যাবহার করেছে নিজেকে জাহির করতে এবং গর্ভের সহিত সে এই শব্দটিকে নিজের সাথে ধারণ করেছিল- সমাজতন্ত্রের জন্য। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ১৯০৪ এবং ১৯০৫ সালে সমর্থনদান করেছিল সশস্ত্র বিপ্লবকে এবং এমনকি হত্যাকে একটি কৌশল হিসেবে নিতে, তবে অধিকাংশ সময়ে সে বিশ্বাস করত শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন এবং গনতান্ত্রিক রাজনীতিতে।
একজন সমাজতান্ত্রিক হিসেবে সে দুইবার ওকল্যান্ড নগরের মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং তার প্রায় পুরো জীবনধরে লেখে গেছে সমাজতন্ত্রের উপর ব্যাক্তিগত প্রবন্ধ, এর মধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল “বিপ্লব” এবং “কিভাবে আমি সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী হলাম”, ঠিক তেমনিভাবে লেখে গেছে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক বক্তব্য সমন্বিত নানা ধরনের গল্পকথা এবং কল্পকাহিনী, যেমন “The Dream of Debs (নবাগতার স্বপ্ন)”, এবং “The Apostate(স্বধর্মত্যাগী)” এর মত ছোট গল্প যা দারিদ্র্যের বিভীষিকা এবং কারখানায় অত্যাধিক খাটুনির অমানবিকতাকে চিত্রিত করেছে। যেমনটি সে ব্যাখ্যা করেছে তার লেখাগুলোতে এবং পুরো দেশ জুড়ে উৎসাহী দর্শক-শ্রোতার উদ্দেশ্যে তার দেওয়া ডজন ডজন বক্তব্যে, সমাজতন্ত্র নির্দেশ করে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উভয় ধরনের গনতন্ত্র। তার দৃষ্টিতে এটা পরিবর্তিত হয়েছিল সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির সমানাধিকার, শিশু শ্রমের বিনাশ, আট ঘন্টা কর্ম দিবস, মনোরম আবাসন ব্যাবস্থা, এবং সুন্দর জিনিসপত্র, রাফায়েলিটিস পূর্ব এবং উইলিয়াম মরিসের শৈলীতে, ঠিক তেমনিভাবে ব্যাবহারিক কাজের জিনিসপত্র যা শ্রমজীবীদের জীবনমানের উন্নতি ঘটাবে।
লন্ডন ব্যাপকভাবে মার্ক্স রচনাবলী অধ্যয়ন করেছে এবং গভীরভাবে দ্যা কম্যুনিস্ট ম্যানিফ্যাস্টো দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। মার্ক্সের মত সে মানবতার ভবিষ্যৎ ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল, তবে সে তার আশাবাদকে বর্তমান পরিস্থিতি অবলোকনে তার দৃষ্টিকে কুয়াশাচ্ছন্ন করে ফেলতে এবং বিপ্লবের পথের বাঁধাগুলোকে উপেক্ষা করার অনুমোদন দেয় নি। “আমি সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই” সে লেখেছিল, “তৎসত্ত্বেও আমি জানি যে সমাজতন্ত্র পরবর্তী পদক্ষেপ নয়; পুঁজিবাদ অবশ্যই প্রথমে তার জীবন পার করবে”।
তার একটা অংশ বিশ্বাস করত যে সমাজতন্ত্রের একটি ভাবাদর্শিক অবয়ব সম্ভবত তার নিজের জীবনকালেই অর্জিত হবে। তবে তার অপর একটি অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করত যে মানবতা পর্যন্ত পৌঁছুতে বর্বরতা এবং দমন-পীড়নকে অতিক্রম করে যেতে হবে- একটি বিশালাকারের “আয়রন হীল” ব্যাক্তিমানুষের উপর পতিত হবে এবং স্বাধীনতাকে নির্মূল করে ফেলবে। গনতন্ত্র নয়, একনায়কতন্ত্র মানবজাতিকে গ্রাস করে ফেলবে, এই ধারনাটি সে প্রথম সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করে “The Question of the Maximum(অধিকাংশের স্বার্থে)” শিরোনামের একটি প্রবন্ধে যা সে লিখেছিল ১৮৯৮ সালে, যা কোন ম্যাগাজিন সম্পাদক প্রকাশ করেনি- সচেতন বুদ্ধির মানুষদের কাছে এটাকে নাশকতামূলক মনে হয়েছিল- এবং যা সে অন্তর্ভূক্ত করেছিল তার রাজনৈতিক প্রবন্ধের প্রথম সংগ্রহ “War of the Classes (শ্রেণীর যুদ্ধ)(১৯০৫)” তে। সে বছরের পর বছর ধরে ভবিষ্যত সমন্ধে আশাবাদ ও হতাশাবাদের দোলাচলে থেকেছে এবং যদিও সমাজতন্ত্রের সম্ভাবনার ব্যাপারে সে ব্যাপকভাবে উচ্ছ্বসিত ছিল ১৯০৫ সাল অবধি, যে বছর রাশিয়াতে একটি বিপ্লব জারের সেনাবাহিনী এবং গুন্ডা ও পুলিশবাহিনী দ্বারা ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, এবং যখন “আয়রন হীল” হয়ে উঠেছিল শুধুমাত্র একটি উপমার চেয়েও অনেক বেশী কিছু। লিয়ন ট্রটস্কি যেমন এই উপন্যাসটি সমন্ধে অন্তর্দৃষ্টি বোধ সম্পন্ন মন্তব্যে বলেছিল, “দ্যা আয়রন হীল সন্দেহাতীতভাবে ১৯০৫ সালের চালচিত্রকে ধারণ করে আছে। এটা অবশ্য ১৯০৬ সালের চালচিত্রকেও ধারণ করে, যখন ভূমিকম্প সানফ্রানসিসকোকে নাড়িয়ে দেয় এবং অগ্নিকান্ডে শহরটি ছারখার হয়ে যায়। লন্ডন, কলিয়ার ম্যাগাজিনের একজন প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেদক হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়াতে এমন একটা কিছুর আগমন দেখতে পেয়েছিল, যা দেখতে ছিল অনেকটা কেয়ামতের মত।

দ্যা আয়রন হীল লেখতে সে সানফ্রান্সিসকোর বিশৃংখল পরিস্থিতির নিজস্ব প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষনকে টেনেছে যা শুরু হয়েছিল ভূমিকম্প এবং বিশাল অগ্নিকান্ড ঘটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে, এবং আরো নির্ভর করেছে সেই ধরনের তথ্য-উপাত্তের উপর যা অনেক দূরের রাশিয়া থেকে তার বন্ধু-বান্ধব এবং পত্রিকার মাধ্যমে পাওয়া, ১৯০৫ সালের বিপ্লবের উপর দমন-পীড়নের ব্যাপারে। সে আরো গ্রহণ করেছে, সমকালীন মার্কিন সমাজের উপর তার নিবিড় অনুসন্ধানকেঃ খনি মালিক এবং তত্ত্বাবধানকারীদের নিয়োগকৃত পিঙ্কারটন ডিটেক্টিভ এজেন্সী দ্বারা লেবার পার্টির নেতাদের উপর গোপনে দৃষ্টি রাখা, তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা; লেবার পার্টির নেতাদের গ্রেফতার এবং তাদের উপর অত্যাচার চালান, উইলিয়াম(বিগ বিল) হেয়উড এর মত, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কারস অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড(মৌলিক ট্রেড ইউনিয়ন কর্মীদের কাছে ওবলিস নামে পরিচিত) সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যাকে ১৯০৬ সালে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, যা আলোচিত হয়েছিল, সেই সময়ে, সেই যুগের রাজনৈতিক আদালত কক্ষ যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে। বাস্তবিক, যা কিছু লন্ডন ভবিষ্যত সমাজের জন্য নিরূপণ করে রেখেছিল, তার সবকিছু দেখতে পেয়েছিল ঠিক তার নিজের চোখের সামনে, সমাজের বর্তমান ব্যাবস্থায়, যদিও সে প্রবনতা ও ধরনগুলোকে অনেক বড় করে দেখিয়েছিল নাটকীয়তার আবহ তৈরী করার জন্য।
লন্ডন বৈশ্বিক পুঁজিবাদের পরিমাপ গ্রহণ করেছিল, এবং ঔপনিবেশিক সমাজে সাম্রাজ্যবাদের অনুপ্রবেশের প্রভাব সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে দেখেছিল। দ্যা আয়রন হীল উপন্যাসে সে উল্লেখ করেছে আফ্রিকান দাস ব্যাবসার নিষ্ঠুরতা এবং ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শোষণ ও অবক্ষয় সাধন। “লাখ লাখ অধিবাসী অনাহারে ধুকে ধুকে মৃত্যুবরণ করছে”, সে লেখেছে “যখন তাদের শাসকরা তাদের শ্রমের ফসলকে ছিনিয়ে নেয় এবং তা ব্যয় করতে থাকে জাঁকজমক পূর্ণ নাচ-গান ফূর্তি এবং নির্বোধ অর্থহীন আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে”।
এইচ জি ওয়েলসকে সে ডাকত একজন “সমাজ বিষয়ক ভবিষ্যত দ্রষ্টা” বলে, যার উপন্যাস সে পড়ত এবং উপভোগ করত- দ্যা ওয়ার অফ দ্যা ওয়ার্ল্ড(১৮৯৮) উপন্যাসটিও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত এবং দ্যা আয়রন হীল লেখার সময় সে এই অভিব্যাক্তিকে নিজের মধ্যে গ্রহণ করেছিল। তবে সে শুধুমাত্র একজন ভাবীসূচক লেখক এবং স্বাপ্নিকই নয়, সে পুরোপুরিভাবে একজন রোমান্টিকও ছিল। নিউ ইয়র্কে তার সম্পাদকরা প্রায়ই দাবী করত যে সে যেন মধ্যবিত্ত শ্রেণির নারী পাঠকদের জন্য প্রেমের গল্প লেখে এবং অংশত সে তাই দিত যা তারা চাইত। দ্যা আয়রন হীল উপন্যাসে সে বিপ্লব এবং যুদ্ধ, ভয়ানক ধ্বংশযজ্ঞ এবং বিপর্যয়ের অন্তরালে পরিবেশন করেছে আভিস এবং আরনেস্টের মধ্যকার আবেগপ্রবণ প্রেমের গল্প, এটা আশা করে যে এই প্রেমের গল্পটি সম্ভবত রাজনীতি বিমুখ পাঠকদেরকে তার প্রগাঢ়ভাবে রাজনৈতিক আখ্যানের গোলক ধাঁধায় প্রবেশ করতে প্ররোচিত করবে। সবশেষে দেখা গেল, সে কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারে নি; তার সময়কার সমাজতন্ত্রবাদীরা, নিশ্চিত ছিল যে সমাজতন্ত্র পরবর্তী সাধারন নির্বাচনে জয় লাভ করবে, তার বইটাকে বিবেচনা করল একটি বিরুদ্ধমত হিসেবে এবং এটাকে অভিযুক্ত করে বসল, যখন নারী পাঠকরা দৈনন্দিন জীবন থেকে পালিয়ে বেড়াবার পথ খুঁজছিল তখন তারা এটাকে দেখতে পেল অনেক বেশী বিসংবাদ-পূর্ণ, ভাবাদর্শিক এবং ভয়ানকভাবে হিংসাত্বক।
প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই লন্ডন এটার নিয়তি সমন্ধে ভবিষ্যৎবাণী করেছিল। “এটা আমার জন্য কোন বন্ধু নিয়ে আসবে না”, সে বলেছিল ক্লাউডেসলি জনকে, তার অন্যতম কাছের বন্ধু এবং সহযোদ্ধা সমাজতন্ত্রবাদী যে তার ভবিষ্যত স্বপ্নের কথা বিনিময় করেছিল লন্ডনের সাথে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগমন হওয়ার আগ পর্যন্ত এটা পাঠকদের আকৃষ্ট করতে পারেনি এবং লন্ডনের প্রশংশা লাভ শুরু হয়নি তার পূর্বজ্ঞানের জন্য। বাস্তবিক, শুধুমাত্র যখন ফ্রান্সের সমাজতন্ত্রীরা তাদের জার্মানীর সমাজতন্ত্রী ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করল এবং যখন আন্তর্জাতিক সংহতির মিলিত চিৎকার পতিত হল বধির কানের উপর ঠিক তখনই দ্যা আয়রন হীল সমস্ত জাতির মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল। হিটলার এবং মুসোলীনির উত্থান একজন “সমাজ বিষয়ক ভবিষ্যত দ্রষ্টা” হিসেবে লন্ডনের খ্যাতিকে জমিয়ে তুলেছিল। ট্রটস্কির দৃষ্টিতে সে ছিল একজন প্রকৃত “বিপ্লবী শিল্পী”, এবং উপরন্তু বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের জার্মান বিপ্লবী রোজা লুক্সেমবার্গ এবং ১৯১৭ সালের রাশিয়ান বলশেভিক আন্দোলনের নেতা লেলিনের চেয়ে অনেকবেশী উপলদ্ধি প্রবণ, যে লন্ডনের প্রশংশা করেছিল এবং মনে হয় “শ্রমিকের অভিজাততন্ত্র” এই পরিভাষাটি দ্যা আয়রন হীল থেকে গ্রহণ করেছিল শ্রমজীবী শ্রেণির এমন একটা অংশকে বুঝাতে যেটা তার শ্রমজীবী শ্রেণির নিজস্ব শ্রেণি চেতনা হারিয়ে ফেলেছে এবং অবস্থান নিয়েছে পুঁজিবাদের পাশে। ১৯৬০ সালে দ্য আয়রন হীল অন্য একটি পুনর্জাগরনের অভিজ্ঞতা লাভ করে; ভিয়েতনামী এবং ঠিক তেমনিভাবে আমেরিকানরাও এটাকে অধ্যয়ন করতে শুরু করে সাম্রাজ্যবাদের ভূত এর উপর একটি পাঠ্য হিসেবে। এটার মুদ্রিত কপি কখনই পুরোপুরি ফুরিয়ে যায় নি, তবে লন্ডন বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই এটাকে অস্বীকার করে। দ্যা ভাইকিং পোর্টেবল জ্যাক লন্ডন এর মধ্যে তার এই উপন্যাসের কোন অংশবিশেষ স্থান পায় নি, এবং এই বাদ দেওয়াটা একজন লেখক হিসেবে জ্যাক লন্ডনের প্রতিকৃতিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে।
এই সময়ে, এটার শতবার্ষিকীতে, ধর্মীয় মৌলবাদ এবং উগ্রতার উত্থানের মধ্য দিয়ে এটা আরেকবার জেগে উঠে- সন্ত্রাসবাদ এবং এটার শত্রুদের অনুভূতিতে। এই উপন্যাসের শেষ অধ্যায়ে, যার শিরোনাম হচ্ছে “সন্ত্রাসবাদীরা”, লন্ডন ব্যাখ্যা করে যে গনহত্যা সচারচর ঘটে, শহীদরা সর্বত্র থাকে, রাষ্ট্রীয় হত্যা চলে রুটিন মাফিক। “সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যরা তাদের নিজেদের জীবন সমন্ধে পুরোপুরি ভ্রুক্ষেপহীন”, সে লেখে। একটি “ধর্মীয় উপদল” যা নিজদেরকে ডাকে “ঈশ্বরের রোষ” বলে, প্রভাবশালী হয়ে উঠে, যখন “ভ্যালকাইরিস” নামের একটি সংগঠন “তাদের বন্দীদেরকে অত্যাচার করে মেরে ফেলার ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত হয়”। লন্ডন এর চেয়ে বেশী মাত্রায় সমকালীন হতে পারেনি। এটা অবশ্য খাপ খেয়ে যায় যে, উপন্যাসটি সমাপ্ত হয়েছে এমন একটি শেষ অসম্পূর্ন বাক্য দ্বারা যা পাঠককে একধরনের উৎকণ্ঠার মধ্যে ডুবিয়ে দেয় এবং এটা নিজেই অবশ্য সম্পূর্ন না হওয়া ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে। “এই কাজের চমৎকারিত্ব সম্ভবত বুঝতে পারা যাবে যখন এটাকে ভেতরে গ্রহণ করা হবে”- এটাই হচ্ছে আভিস এভারহার্ডের শেষ, অসম্পূর্ণ ভাবনা। তার এমনকি এলিপসেস(------) অথবা একটি ড্যাশ(-) দেওয়ার জন্য সময়ও অবশিষ্ট ছিল না। মুদ্রিত পৃষ্ঠার শেষে একটি পাদটিকা দেখায় যে, “এটাই হচ্ছে এভারহার্ডের পান্ডুলিপির সমাপ্তি----- এটা খুবই অনুতাপের বিষয় যে তার আখ্যানকে শেষ করার জন্য সে বেঁচে থাকেনি।
লন্ডন আট বছর জীবিত ছিলেন দ্যা আয়রন হীল প্রকাশনার পর, এটা নানা ভাবেই ছিল মৃত্যুর পূর্বে সমাজতন্ত্রের প্রতি তার শেষ শিল্পকর্ম। এমনকি যখন সে এটা লেখেছিল তখন সে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তার ক্রয় করা বিশালাকারের খামার বাড়িতে বসবাস করতে শুরু করেছিল। ক্রমবর্ধমানভাবে নিজেকে দেখতে শুরু করেছিল ক্যালিফোর্নিয়ান হিসেবে, একজন সমাজতন্ত্রী হিসেবে নয়, এবং বিউটি র‍্যাঞ্চে, খামার বাড়িটাকে সে এ নামেই ডাকত - রাশিয়ান বংশোদ্ভূত নৈরাজ্যবাদী এম্মা গোল্ডম্যান এটাকে ডাকত ড্রীমল্যান্ড- সে চেষ্টা করেছিল একটি ব্যাক্তিগত, ভূমি সংস্কার ইউটোপিয়া গঠন করতে সে নিজে, তার স্ত্রী চারমেইন এবং তার খুব কাছের কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবকে সাথে নিয়ে। দ্যা আয়রন হীল এর নায়িকা আভিস এর মত লন্ডন মারা যায় তার লেখার টেবিলের উপর রাখা অসমাপ্ত কাজ ফেলে রেখে, এগুলোর মধ্যে ছিল তার চেরী শিরোনামের উপন্যাস এবং একজন সমাজতন্ত্রীর আত্মজীবনীর কৌতুহল উদ্দীপক রুপরেখা যেখানে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল বিপ্লবের পথে তার নিজস্ব রোমাঞ্চ এবং মোহমুক্তিকে ব্যাখ্যা করবে।
এখনও সে একটি সমৃদ্ধ, যদিও দ্ব্যার্থক, উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে আমেরিকান লেখকদের অনুসরিত হওয়ার জন্য, এবং সিনক্লিয়ার লুইস এবং ফিলিপ রথ এর ডিস্টোপিয়ান উপন্যাস শুরু হয়েছে সেখানে থেকে যেখানে সে থেমে গেছে। দ্যা আয়রন হীল এর পর লন্ডন আর কোন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক উপন্যাস লেখে যান নি তবে সে “জাতির দিকপাল” হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনকে থামিয়ে দেন নি। তার শেষ বইগুলোর মধ্যে অন্যতম স্কারলেট প্লেগ এ সে এইডস এবং আইচ আই ভির আগমন সমন্ধে পূর্ব ধারনা ব্যাক্ত করেছিল এবং ভবিষ্যৎবাণী করেছিল বিশ্বব্যাপী একটি মহামারীর যা পুরো পৃথিবী জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানব জাতিকে ধ্বংশ করে ফেলবে। নিশ্চিতভাবেই এরকম ব্যাপক কল্পনা এবং পূর্বজ্ঞান সম্পন্ন একজন উপন্যাসিক সাহিত্য বোদ্ধাদের কাছ থেকে যা সে পেয়েছে তার চেয়ে আরো বেশী মনযোগ দাবী করে।

লেখার ধরন: 
12345
Total votes: 589

মন্তব্য