slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

একটি অনির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের খসড়া চিত্রনাট্যঃ

দেহ
মেহেদী হাসান

গল্প সংক্ষেপঃ
উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের সুন্দরী একটি মেয়ে। মেয়েটি শহরের নামকরা একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা-পড়া করে। ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি সৃজনশীল, স্বাধীনচেতা এবং জেদী প্রকৃতির। তার কাজে-কর্মে, চিন্তা-ভাবনায়, চলা-ফেরায় কোন ধরনের বাঁধা-প্রতিবন্ধকতা সে মানতে চায়না। উন্মুক্ত বাতাসের মত বিশাল আকাশে সে উড়ে বেড়াতে ভালোবাসে।

শহরের উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এবং প্রাশ্চাত্য সংস্কৃতি অধ্যুষিত একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা-পড়া করার ফলে বেশ কিছু স্বাধীনতা সে পায়। একটা পর্যায়ে এসে সে বুঝতে পারে যেটাকে সে এবং তার চারপাশের মানুষ স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দিচ্ছে- এটা আসলে মূলগত অর্থে স্বাধীনতা নয়- শারীরিক নানা ধরনের ভোগের স্বাধীনতামাত্র। যেটা আসলে ভোগের স্বাধীনতার খোলসে একধরনের অন্তর্গত বন্দীত্ব। এই বন্দীত্বের ভেতরে বাস করতে করতে একসময় তার মন চরম মাত্রায় ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে উঠে, সে হয়ে যায় পুরোপুরি নিঃসঙ্গ একজন মানুষ। সে এই বন্দীত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বসে। তার সমাজের আশেপাশের মানুষ তার এই বিদ্রোহকে মেনে নেয় না। তাকে চতুর্দিক থেকে আরো বেশী করে চেপে ধরে, ঠেলতে ঠেলতে থাকে জীবনের কিনারে নিয়ে এসে ফেলে। তার দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা হয়। তার মনের নানা ধরনের মুক্ত বোধের চিৎকার প্রতিধ্বনি হয়ে তার কানেই ফিরে আসে।

শারিরীক ভোগের এই বন্দীত্বকে সে তার শরীরেরই অভিশাপ মনে করে বসে- শরীরকেই তার কারাগার মনে হতে থাকে এবং তার প্রতি আশে-পাশের ছেলেদের ব্যাবহার দেখে তার মনে হতে থাকে দৈহিক রুপের কারাগারে সে বন্দী হয়ে আছে। একপর্যায়ে এগুলো যখন তার সহ্যের সীমাকে অতিক্রম করে যায় তখন শরীর নামক এই রুপের কারাগার থেকে সে বের হয়ে যেতে চায়। সে আরো মনে করে- শরীর থেকে বের হয়ে গেলেই বুঝি বন্দীত্বের দুঃসহ স্মৃতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ধীরে ধীরে অনেক হিসাব-নিকাশ করে ঠান্ডা মাথায় শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরোটা গল্পজুড়ে আছে এই জেদী, স্বাধীনচেতা ও সৃজনশীল মেয়েটির শরীর থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঠিক আগের মুহুর্তের প্রস্তুতি- এই প্রস্তুতিকালীন সময়ে তার জীবনের নানা দুঃসহ স্মৃতি, দুঃস্বপ্ন ইত্যাদি নানা বিষয় তার মনের পর্দায় ভেসে উঠতে থাকে। মেয়েটি তার শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পেরেছে কিনা আমরা কেউই তা নিশ্চিত করে বলতে পারি না।

চিত্রনাট্য

ফেড ইনঃ

বাহির। সকাল।
মুষলধারে বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির পানি গাছের সবুজ পাতার উপর পড়ে উপরকার ময়লা ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গাছের গুড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নামছে। মাটির রাস্তা দিয়ে বৃষ্টির পানির অবিরাম প্রবাহে মাটির উপরের ময়লা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে।

ভেতর। রাত্রি। বাথরুম।
একটি তরুণীকে বাথরুমে শাওয়ারের নিচে গোসল করতে দেখা যায়- পুরো রুমটার মধ্যে ধোঁয়া উঠা অস্পষ্ট ভাব। চতুর্দিকের অস্পষ্টতার মধ্যে শুধুমাত্র তরুণীটির মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যায়- মেয়েটির মুখের ভাবটি এমন যেন তার শরীরের উপর দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে তার শাপমোচন হচ্ছে, তখন তাকে কিছুটা উৎফুল্ল দেখায়, চোখে-মুখে আহ্লাদী ভাব ফুটে উঠে। থুতনিটা একটু উপরের দিকে তুলে ভেজা চুলগুলোর ভেতর দিয়ে মোলায়েম ভাবে আঙ্গুল চালায়। শাওয়ার থেকে পানি পড়ার একটানা শব্দ। তরুনীটির নগ্ন পা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে মেঝেতে নেমে যাচ্ছে। শাওয়ারের পানি মেঝে দিয়ে গড়িয়ে গর্তে ঢুকে যাচ্ছে। পানির গর্তে ঢুকে যাওয়ার শব্দ।

ভেতর। গভীর রাত্রি। শহুরে উচ্চমধ্যবিত্ত একটি মেয়ের শোবার ঘর। বিল্ডিং এর তৃতীয় তলায়।
শোবার ঘরের ভেতর থেকে বাথরুমের দরজা দেখা যায়। দরজার ছিটকিনি খোলার শব্দ হয়। দরজা খুলে সদ্য গোসল সারা তরুণীটি ভেজা চুলে রাতে পড়ার পোশাক পরিহিত অবস্থায় বের হয়ে আসে। মৃদুপায়ে হেঁটে এসে ড্রেসিং টেবিলের(ড্রেসিং টেবিলের উপর নানা ধরনের দামী প্রসাধন সামগ্রী রাখা) সামনে রাখা টুলের উপর আলতো করে বসে, চোখে-মুখে আত্মস্থ ভাব লেগে আছে। হেঁটে আসার শব্দ, টুলে বসার শব্দ।

ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় তরুণীটির প্রতিচ্ছবি দেখা যায়, অস্পষ্ট থেকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়, উৎফুল্ল ভাবটি এখনও চোখে-মুখে লেগে আছে। টুলটা একটু সামনে টেনে নিয়ে এসে আরাম করে বসে- আশ্বস্ততার ভাব। টুল টানার শব্দ। পিছন দিক থেকে মেয়েটির চুল দেখা যায়, চুল থেকে চুইয়ে ফোটা ফোটা পানি মঝেতে পড়ে। মেঝেতে পানি পড়ার শব্দ।
পাশ থেকে দেখা যায়-তরুণীটি আলতো হাতে ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে হেয়ার ড্রায়ারটি উঠিয়ে নিয়ে চুল শুকাতে শুরু করে। ড্রায়ার দিয়ে চুল শুকানোর শব্দ। এখন মেয়েটির মুখের ভাবটি এমন যেন কোথাও যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে খুব একটা তাড়া নেই। চিরুনী দিয়ে ধীরে-সুস্থে চুল আচড়ায়। চিরুনী দিয়ে চুল আচড়ানোর শব্দ। চুলের ব্যান্ড দিয়ে খুব কষে চুলগুলো বেঁধে নেয়। ব্যান্ড দিয়ে চুলবাঁধার শব্দ।

পাশ থেকে দেখা যায়, হাতের তালুতে বোতল থেকে লোশন ঢেলে দুই বাহুতে, পায়ে আলতো করে মাখে। আয়নাতে দেখা যায়- খুব যত্ন করে ধীরে ধীরে মুখে ক্রিম মাখে, ঠোঁটে হালকা গোলাপী রঙের লিপগ্লস মাখে, পেনসিল দিয়ে চোখে কাজল পড়ে, গালে হালকা পাউডার লাগায়। লোশন, ক্রীম মাখা ও চোখে কাজল লাগানোর শব্দ।
পাশ থেকে দেখা যায়, হাতের তালুতে থুতনি রেখে আয়নায় নিজের চেহারার দিকে খুব করুণ একটি ভাব নিয়ে খানিকক্ষণ তাকিয়ে আছে। আয়নাতে দেখা যায়, ধীরে ধীরে মুখজুড়ে হালকা বেদনাময় হাসির রেখা ফুটে উঠে। এ সময় তার মুখমন্ডল জুড়ে হালকা নীল রঙের আভা।

বাহির। একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন। সকাল বেলা।
দূর থেকে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল একটি ভবন দেখা যায়। ভবনটি ধীরে ধীরে নিকটতর হতে থাকে, নিকটতর হতে হতে একটি ফ্লোর খুব কাছে চলে আসে। ফ্লোরটি নিকটতর হতে থাকার সময় ক্যাম্পাস ক্যান্টিনের কোলাহলের শব্দ ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। ক্যান্টিনের বাহিরের জানালা দিয়ে ক্যান্টিনটিকে অস্পষ্টভাবে দেখা যায়।
ভেতর। একটি প্রাইভভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কক্ষ। সকাল বেলা।
ক্যান্টিনের ভেতর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে খাওয়া-দাওয়া, ধূমপান ও সাথে সাথে গল্প-গুজব ও হৈ- হুল্লোড় করতে দেখা যায়। ক্যান্টিনের অধিকাংশ খাবারের টেবিলের উপরে সফট ড্রিঙ্কসের বোতল, পানির বোতল, আধ-খাওয়া ফাস্ট ফুড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। ক্যান্টিনের ভেতরকার কোলাহলের উচ্চ শব্দ। এরপর ক্যান্টিন কক্ষের একেবারে কোনার দিকের একটি খাবারের টেবিলের সামনে কালো জিন্স, সাদা সার্ট এবং ক্যাম্বিস কাপড়ের জুতা পরিহিত একটি মেয়ে বিষন্নমনে বসে উদাসভাবে সিগারেট টানছে। ক্যান্টিনের কোলাহলের শব্দ ধীরে ধীরে পুরো স্তিমিত হয়ে যায়। শুধু মেয়েটির সিগারেট টানার শব্দ পাওয়া যায়। মেয়েটির সামনের টেবিলের উপর ফাস্টফুড, সফট ড্রিংকসের বোতল ওয়েটার যেমনভাবে এসে রেখে গিয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে রাখা। শুধুমাত্র পানির বোতলটির মুখ খোলা- দেখে বোঝা যায় মেয়েটি কিছুক্ষণ আগে কিছুটা পানি পান করেছে। মেয়েটির বিষন্ন মুখ দেখা যায়- মুখ থেকে সিগারেটের ধোঁয়া বের হচ্ছে।

হালফ্যাশনের একটা সার্ট ও জিনসের প্যান্ট পরিহিত একটা ছেলেকে বেশ দ্রুত গতিতে দুই সারি টেবিলের মাঝখান দিয়ে মেয়েটির টেবিলের দিকে হেঁটে আসতে দেখা যায়। ক্যান্টিনের কোলাহলের শব্দ ও ছেলেটির হেঁটে আসার শব্দ। ছেলেটির হাটা-চলা ও মুখভঙ্গির মধ্যে একধরনের হম্বিতম্বি ভাব। ছেলেটি এসে মেয়েটির বিপরীত পাশে রাখা একটি চেয়ার হাত দিয়ে টেনে কিছুটা সরিয়ে চেয়ারে বসে পড়ে। চেয়ার টানার ও চেয়ারে বসার শব্দ। ছেলেটি চেয়ারে বসে সোজা মেয়েটির চোখের দিকে তাকায়। মেয়েটি ততক্ষনে নিজের মধ্যে ফিরে এসেছে। মেয়েটি চোখ সরিয়ে নেয় না। মেয়েটির মাথার পাশ দিয়ে ছেলেটির মুখ দেখা যায়।
ছেলেটি(কিছুটা রাগতস্বরে)
আচ্ছা, তোমার ফোন এত ব্যাস্ত থাকে কেন? যখনই ফোন দেই তখনই বিজি দেখায়। কার সাথে এত কথা বল?
ছেলেটির মাথার পাশ দিয়ে মেয়েটির মুখ দেখা যায়।
মেয়েটি(ঠান্ডা গলায়)
আমার এক ফ্রেন্ডের সাথে।
ছেলেটি(বেশ রাগান্বিত)
ও নতুন কারো গলায় ঝুলে পড়েছো নাকি!
মেয়েটি(বেশ ঠান্ডা গলায়-ছেলেটির দিকে তাকিয়ে)
লিসেন(listen), তুমি তো জানো তোমাকে আমি ভালোবাসি, তোমার জন্য মারা যেতেও রাজী আছি(You know well that i love you very much, very much and I can die for you); তবে, (but) তোমার নিয়ন্ত্রনে বেঁচে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বাই(bye)।

ছেলেটি কঠোর চোখ-মুখ নিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থাকে। টেবিলের উপর রাখা ছেলেটির হাতদুটি ধীরে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠে।
মেয়েটি সিগারেটের বাকী অংশ এস্ট্রেতে গুজে দিয়ে শান্তভাবে উঠে দাঁড়ায়। তারপর পাশ ফিরে ছেলেটি যে দিক দিয়ে এসেছিল সেদিক দিয়ে আস্তে আস্তে হেঁটে চলে যায়। ছেলেটি ফ্যালফ্যাল করে মেয়েটির চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। হাঁটতে থাকা মেয়েটির মুখ দেখা যায়।

ভেতর। শোবার ঘর। রাত্রি।
মেয়েটিকে হাতের তালুতে মুখ রেখে বসে থাকতে দেখা যায়। মুখের হাসিটি মিলিয়ে গেছে। হঠাৎ কি যেন মনে হতে খানিকটা ব্যাস্ততার ভাব ফুটে উঠে। দ্রুত ঘাড় বেঁকিয়ে পেছনের দেয়ালের দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায়। দেয়াল ঘড়িতে চোখ নেয়ার সময় দেয়ালে ঝুলানো নিঃশব্দ কালো রঙের এল সি ডি টেলিভিশনে চোখ পড়ে। দেয়ালে ঝুলানো টেলিভিশন সেটের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে চোখ দেয়াল ঘড়িতে উঠিয়ে নেয়।
দেয়াল ঘড়িটিতে দেখা যাবে পনে তিনটার কাছাকাছি বাজে। ঘড়ির সেকেন্ডের কাটার টিক টিক শব্দ।
মুখের মধ্যে এখন একটু আশ্বস্থতার ভাব ফিরে আসে।
(এখন থেকে মেয়েটি সব কিছু পূর্বের চেয়ে একটু দ্রুত গতিতে করতে থাকবে।)
ড্রেসিং টেবিলের উপর থেকে হাত ঘড়িটি ও ব্রেসলেট তুলে নিয়ে দুই হাতের কব্জিতে পড়ে নেয়। মেয়টির মুখ দেখা যায় সামনে থেকে- কোন কিছু হাতে পড়ার সময় মুখের ভাব যেমন হয় মেয়েটির মুখের এখন ঠিক সেই রকম। ইতিমধ্যে মেয়েটির নাকের ডগায় সামান্য ঘাম জমেছে।
বাহির। গলি রাস্তা। বিকেল বেলা।
গোলাপী রঙের সার্ট, হালকা নীল রঙের জিন্স (জিন্স প্যান্টটি ভাঁজ করে হাটুর কাছ পর্যন্ত উঠানো) ও ক্যাম্বিস কাপড়ের জুতা পড়া মেয়েটি একটি সাইকেল চালিয়ে বেশ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে থাকে। হঠাৎ অন্যমনস্ক হয়ে পড়ে তারপর সামনে একটি দেয়াল দেখতে পায়। ব্রেক কষার আগেই দেয়ালের সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যায়। দেয়ালের সাথে সাইকেলের ধাক্কা লাগার শব্দ। মেয়েটিকে ও সাইকেলটিকে পাশা-পাশি পড়ে থাকতে দেখা যায়, মেয়েটি রাস্তা থেকে চেষ্টা করে। একটি বয়স্ক লোক এসে তাকে হাত ধরে টেনে তুলে। মেয়েটি উঠে দাঁড়িয়ে কাপড়ের ময়লা ঝাড়ে। ময়লা ঝাড়ার শব্দ।
লোকটি(আদুরে গলায়-মেয়েটির হাত ধরে টানতে টানতে)
চলে এসো, তোমার সাইকেল চালানোর দরকার নেই, বড় ধরনের কোন এক্সিডেন্ট হয়ে যেতে পারে, আর মেয়েদের সাইকেল চালানো ভালো দেখায় না। চলো বাসায় ফিরে যাই। বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে এসো, যেখানে যেতে চাও, ড্রাইভারকে বললেই নামিয়ে দিয়ে যাবে।
মেয়েটি(হাঁপাতে হাঁপাতে-প্রশ্রয় পাওয়া গলায়)
গাড়ির ভেতরে আমার দম বন্ধ হয়ে আসে বাবা। বরঞ্চ সাইকেল চালাতে আমার বেশী ভালো লাগে, মুক্ত বাতাস গায়ে লাগে, এতে আমার খুব ভালো লাগে বাবা। লোকে যা ইচ্ছা বলুক, এক্সিডেন্ট হলে হোক- আমি সাইকেল চালিয়েই যাব।
লোকটি আরো জোরে মেয়েটির হাত চেপে ধরে সামনের দিকে টানতে থাকে।
লোকটি(কিছুটা রাগত স্বরে)
না, মা- তুমি এখন অনেক বড় হয়ে গেছো। আগের মত এখন আর যা খুশি করতে পারো না। সাইকেল চড়ে ঘোরাঘুরি করার কোন দরকার নেই। চলে আসো আমার সাথে লক্ষ্মী মেয়ের মত।
মেয়েটির শুকিয়ে যাওয়া মুখ দেখা যায়।
মেয়েটির কন্ঠ(নিঃসঙ্গতার সুর)
ভি ও(V O)
উপরের পাখি অনেক উঁচুতে।(আকাশে একটি পাখিকে উড়তে দেখা যায়)
নিচের মাছ অনেক গভীরে।(পুকুরের স্বচ্ছ পানি দেখা যায়)
মাঝের মানুষেরাও বহুদূরে...(একটি মেয়েকে সবুজ প্রান্তরে একা একা হাঁটতে দেখা যায়।)

ভেতর। শোবার ঘর। রাত্রি।
হাতে রাখা বডি স্প্রে-টির মুখ নিজের বুকের দিকে ধরে বোতামে জোরে জোরে চাপ দেয় মেয়েটি, স্প্রে ছড়িয়ে এসে মেয়েটির শরীরে লাগে। বোতল থেকে তীব্রবেগে শুধু স্প্রে হওয়া দেখা যায়। স্প্রে এর বোতল ধরা হাতটি মেয়েটির ঘাড়ের খুব কাছে চলে আসে। বোতামে আবার চাপ- স্প্রে ঘাড়ে লেগে প্রক্ষিপ্ত হয়। স্প্রে বের হওয়ার শব্দ-কখনো হালকা, কখনো বেশী।

মেয়েটি টুলে বসে থাকা অবস্থায় ড্রেসিং টেবিলের আয়না থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে সামনে রাখা খাটের অপর পাশে জানালার পর্দার দিকে তাকায়। সামনের দিকে মুখ করা অবস্থায় হাতড়ে হাতড়ে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখা সিগারেটের প্যাকেট ও লাইটার তুলে আনে। মাথা নিচু করে সিগারেটের প্যাকেট থেকে একটি সিগারেট বের করে আনে। ডান হাত দিয়ে সিগারেটটি মুখে নেয়। হাতড়ানোর শব্দ।
মেয়েটির ঠোঁটে সিগারেট ধরা, লাইটারে এক চাপে সিগারেটটি ধরিয়ে লম্বা টান দিয়ে সামনের দিকে মুখভর্তি ধোঁয়া ছাড়ে। সিগারেট ধরানোর ও ধোঁয়া ছাড়ার শব্দ।
ভেতর। মেয়েটির শোবার ঘর। দিনের বেলা।
খাটের উপর ট্রাউজার ও টি-সার্ট পড়া মেয়েটির পাশে বসে হাতা গুটানো ও বুক-খোলা সার্ট গায়ে একটি ছেলে মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে থেকে তার ঘাড়ের কাছে মুখ আনার চেষ্টা করছে।
ছেলেটি(কামনা ভরা ও আড়ষ্ট কন্ঠে)
কাছে আসো সোনা, কতদিন তোমাকে কাছে পাই না। তুমি দিন দিন পাষাণ হয়ে যাচ্ছো। এবার আমার বুকে আসো, একবার আসো শুধু একবার, প্লীজ সোনা প্লীজ।

মেয়েটি দু-হাত দিয়ে নিজেকে ছেলেটির বাহু বেষ্টন থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ছেলেটিকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও দেখা যায়।
মেয়েটি(প্রত্যাখ্যান ও তাচ্ছিল্যের সুরে)
না, আজকে না। আজকে আমার মনটা ভালো নেই। আরেকদিন হবে ওসব।
ছেলেটি(আরেকটু আগ্রাসী, কন্ঠ পুরোপুরি আড়ষ্ট হয়ে গেছে)
কাছে এসে দেখো কিভাবে তোমার মন ভালো হয়ে যায়। একটু কাছে আসো। এরপর তোমার সব কথা খুব মনযোগ দিয়ে শুনবো।
মেয়েটি নিজেকে ছেলেটির বাহু-বেষ্টন থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে সমর্থ হয়। প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে ছেলেটিকে কিছুটা দূরে সরিয়ে দেয়।

মেয়েটি(আবেগভরে)
তুমি তো জানো, এসব ব্যাপারে আমি পুরোপুরি ফ্রী। তারপরেও সবসময় কেন এমন কর বলতো। তোমাকে তো বলেছি, আজকে আমার মনটা ভালো নেই। গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার তোমার সাথে শেয়ার করতেই বাসায় ডেকেছি তোমায়। তুমি এসেই তোমার কাজ শুরু করে দিয়েছ। আর এসব করলে সবসময় মন ভালো হয়ে যায় না। অনেকবার তুমি এসব হয়ে যাওয়ার পর কোন জরুরী কাজের ছুতা দিয়ে চলে গেছ। আমার কথা শোনার দিকে কোন দিনই তোমার মন ছিল না। তোমার নজর সবসময় শুধু অন্যদিকে। তুমি চলে যাও, তোমাকে আমার কোন দরকার নেই।
ছেলেটির কিছুটা ভয় পাওয়া মুখ দেখা যায়।
ভেতর। শোবার ঘর। রাত্রি।
মেয়েটির মুখ উপরের দিকে তোলা। দুই আঙ্গুলের চিপায় ধরা সিগারেটটি মেয়েটির ঠোঁটে চলে আসে ধীরে। আবার একটি লম্বা টান। উপরের দিকে পুঞ্জ পুঞ্জ ধোঁয়া উঠে ছড়িয়ে যায়। মুখ থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার শব্দ শোনা যায়। ধোঁয়াগুলোকে আকাশের সাদা হালকা মেঘের মত এদিক-সেদিক উড়তে দেখা যায়। আকাশে হালকা পেজো তুলার মত মেঘের উড়া-উড়ি।
মেয়েটির কন্ঠ(আবেগ আক্রান্ত)
ভয়েস ওভার(V O)
১।
তিনটি বলয়ে একলা আমার বন্দীত্ব।
চারটি শিকলে বাঁধা আষ্টেপৃষ্ঠে।
একটি অন্ধকার ভেতরে হয়ে আছে বিদ্ধ।
দুইটি গলুই এসে বিঁধেছে বুকে ও পিঠে।
(মেয়েটির চোখ দেখা যায়।)

মেয়েটির মুখ ড্রেসিং টেবিলের দিকে ঘুরে যায়। অর্ধেক শেষ হওয়া সিগারেটটি এস্ট্রেতে গুজে দেয়। মেয়েটির মুখ দেখা যায়- কোন কিছু গুজে রাখার সময় মুখের ভাবটি যেমন হয় মেয়েটির মুখের ভাব ঠিক সেই রকম।
আয়নায় মেয়েটির ভ্রু কুঞ্চিত উৎসুক মুখ দেখা যায়।

অফ স্ক্রীন(O S)

অদূরে একটি কুকুরের একটানা একঘেয়ে করুন চিৎকার ভেসে আসে।

মেয়েটি উঠে দাঁড়ায়, মুখে একটু বেদনার আভাস। ড্রেসিং টেবিলের পাশেই খাটের সম্মুখ ভাগের জানালার কাছে হালকা নীল রঙের পর্দার দিকে তাকায়।
খানিকটা সামনে এগিয়ে গিয়ে জানালার পর্দা নিচের দিকে টেনে ধরে। সামান্য একটু সরায়, আবার কি মনে করে ছেড়ে দিয়ে মুখ ঘুরিয়ে চলে আসে তখন মুখটা সামান্য একটু কঠোর দেখায়।
এরপর চোখে-মুখে জয়ের অনুভূতি ফুটে উঠে। মুখে লাল আলোর আভা ছড়ানো।
একটু হেঁটে এসে বিছানার কিনারে গিয়ে বসে। খাটের পাশে নগ্ন পা ঝুলিয়ে রেখেই বিছানার উপর চিত হয়ে শুয়ে পড়ে। কয়েকবার দীর্ঘশ্বাস টেনে নেয় ও ছাড়ে। বুকের উঠা-নামা লক্ষ্য করা যায়। গাঢ় শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ।
শুয়ে থাকা মেয়েটির চোখ দেখা যায়। মেয়েটির পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে শোবার ঘরের ছাদ দেখা যায়।

বাহির। বিশাল শুন্য প্রান্তর। দুপুর বেলা।
একটি বিশাল শূন্যতা দেখা যায়। ফ্রক পড়া ছোট একটি ছোট মেয়ে সেই শুন্যতার দিকে দৌড়ে যাচ্ছে।
একটি মানব দেয়াল বিশাল শুন্যতাটির পথ রোধ করে দাঁড়িয়েছে। গোলাপী রঙের একটি টপ ও নীল রঙের জিন্স এবং ক্যাম্বিস কাপড়ের জুতা পড়া তরুণীটি এমনভাবে সেদিকে হেঁটে যাচ্ছে- যেন মনে হচ্ছে সে মানব দেয়ালটি দেখেনি। মানব দেয়ালের সাথে মেয়েটির আচমকা ধাক্কা লাগে। মেয়েটি মানব দেয়ালের মানুষগুলোকে সরিয়ে দিয়ে সামনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে পারেনা, বার বার ব্যার্থ হয়। মেয়েটি সর্বশক্তি দিয়ে ধাক্কাতে-ধাক্কাতে একপাশে সরে আসে। কিছুটা উদ্ভ্রান্তের মত পাশ ফিরে তাকায়। পাশে আরেকটি মানব দেয়াল দেখা যায়। এই মানব দেয়ালের মানুষগুলোকেও সরিয়ে দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পারেনা, বার বার ব্যার্থ হয়। এবারও ধাক্কাতে ধাক্কাতে একপাশে সরে আসে। আরেকটি খোলা দিকে পাশ ফিরে তাকায়। সেখানেও আরেকটি নতুন মানব দেয়াল দেখা যায়। এই মানব দেয়ালের মানুষগুলোকেও সরিয়ে দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পারেনা, বার বার ব্যার্থ হয়। এবারও ধাক্কাতে-ধাক্কাতে একপাশে সরে আসে। এখন মেয়েটির তিনদিকে মানব দেয়াল দিয়ে ঘেরা। একটি মাত্র খোলা জায়গা দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার জন্য দৌড় দেয়। সেদিকেও আরেকটি মানব দেয়াল তৈরী হয়ে গেছে। এই মানব দেয়ালের মানুষগুলোকেও সরিয়ে দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পারেনা, বার বার ব্যার্থ হয়। মেয়েটি পেছাতে পেছাতে কেন্দ্রে চলে আসে, সেখানে দাঁড়িয়েই চতুর্দিকে ঘুরে দেখে তার চারপাশেই মানব দেয়াল তৈরী হয়ে গেছে এবং মেয়েটি সারাজীবনের জন্য আটকা পড়ে গেছে- এমন একটা অনুভূতি মেয়েটির চোখে-মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠে। মেয়েটি প্রচন্ড অস্থিরতায় মানব ব্যুহের ভেতরে ঘুরে ঘুরে চতুর্দিকের মানব দেয়ালটিকে ধাক্কাতে থাকে । উপর থেকে মানব ব্যুহ ও তার ভেতরের মেয়েটিকে দেখা যায়। মেয়েটি বেশ খানিকটা ক্লান্ত ও নিরাশ হয়ে উবু হয়ে বসে পড়ে। এভাবে কিছুক্ষণ বসে থাকে। তারপর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়।
মেয়েটির হতাশাগ্রস্ত ও আটকে পড়া মানুষের মত মুখ দেখা যায়। মেয়েটির মুখের মধ্যে জেদী একটা ভাব ফুটে উঠে।
মেয়েটি(চিৎকার করে)
আমাকে তোমরা এভাবে আটকে ফেলেছো কেন? আমাকে এখান থেকে বের হতে দাও। আমাকে যেতে দাও তোমরা, ঐ বিশাল প্রান্তরে আমি ঘুরে বেড়াব, এখানে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে। আমাকে যেতে দাও, আমি বাঁচতে চাই, বাচতে চাই নিজের মত করে।

দেয়াল করে দাঁড়িয়ে থাকা একপাশের মানুষগুলোর রাগী রাগী মুখ দেখা যায়।
মানব দেয়াল(সমস্বরে-কিছুটা রাগত কন্ঠে)
তুমি আমাদের আদেশ অমান্য করে অনেক দূর চলে এসেছে। তুমি এখন আমাদের জালে আটকা পড়েছো, এখান থেকে তোমার বের হওয়ার সকল রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। তোমাকে এখানে সারাজীবন আটকা পড়ে থাকতে হবে জীবন্মৃতের মত।
মেয়েটি পাগলের মত হয়ে আবার চতুর্দিকের মানব দেয়ালে ধাক্কাতে শুরু করে। চুল আলুথালু হয়ে গেছে, ঠোঁট দুটি কিছুটা ঝুলে পড়েছে, চোখ দুটি প্রচন্ড লাল।
মেয়েটি (কান্না ভেজা ভেঙ্গে পড়া গলায়)
ঐ বিশাল শূন্যতা আমাকে ডাকছে, আমাকে যেতে দাও, আমাকে যেতে দাও, আমি যাব, নইলে আমি বাঁচবো না।
মেয়েটি তার দুই হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে বসে পড়ে। মেয়েটির মুখমন্ডল প্রচন্ড হতাশাগ্রস্ত দেখা যায়।
মেয়েটির কন্ঠ(বেদনা ভরা)
ভি ও(V O)
২।
তোমাদের আকাশ পৌঁছায় কতদূর? (আকাশ দেখা যায়)
মাঝখানে একটি সূর্যের স্থির দাঁড়িয়ে থাকা শুধু,(জ্বলন্ত সূর্য দেখা যায়)
আর কোন নক্ষত্রের ঝিলিমিলি নেই!
সূর্যের ভারী রোদে উবে যাচ্ছে ভেতরটা-
আমি তারাভরা আকাশে আগাছা ছাওয়া পথ ধরে(তারা ভরা আকাশ দেখা যায়) মেঘের ছায়া মুড়ি দিয়ে একা একা হেঁটে যেতে চাই।

ভেতর। শোবার ঘর। রাত্রি।
মেয়েটি শোয়া অবস্থা থেকে ঝট করে উঠে বসে। উঠে বসার শব্দ। চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট- ভেতরে নিজের সাথে নিজের যুদ্ধে পুরোপুরি বিধ্বস্ত।
পাশ থেকে দেখা যাবে -মেঝের দিকে ঝুকে পড়ে হাঁপাতে থাকে। হাঁপানোর শব্দ।
মেয়েটি আস্তে আস্তে মুখ তুলে সামনের দিকে তাকায়। মুখে গাঢ় লালের আভা ছড়ানো, চোখে মুখে প্রচন্ড কঠোরতা।
মেয়েটি বিছানা থেকে চোখে-মুখে প্রচন্ড কঠোরতা নিয়েই উঠে দাঁড়ায়, ধীরে ধীরে হেঁটে ওয়ারড্রবের কাছে চলে আসে।
ড্রেসিং টেবিলের পাশে রাখা ওয়ারড্রবের উপরের ড্রয়ারটি বেশ শক্তি খাঁটিয়ে খুলে ফেলে। ড্রয়ার খোলার শব্দ। বেশ দ্রুততার সাথে ড্রয়ারের ভেতরে রাখা মেয়েটির নানা ধরনের কাপড়-চোপড় টেনে বের করে মেঝেতে ফেলতে থাকে। কাপড় বের করার ও মেঝেতে ফেলার শব্দ।
ড্রয়ার খোলা রেখেই খানিকটা হেঁটে এসে ড্রেসিং টেবিলের সামনে রাখা টুলের উপর বসে। টুলে বসার শব্দ। সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে সিগারেটের প্যাকেট থেকে সবগুলো সিগারেট বের করে ফেলে।
প্রত্যেকটা সিগারেটের উপরের কাগজ ছিড়ে ফেলে ড্রেসিং টেবিলের উপর সমস্ত তামাক স্তুপীকৃত করে। কাগজ ছেড়ার শব্দ। সিগারেটের ফিল্টার গুলো ঠিক অপর পাশে স্তুপীকৃত থাকতে দেখা যায়।
হাতের ঘড়ি, ব্রেসলেট খুলে ড্রেসিং টেবিলের উপর রাখে। টেবিলে রাখার শব্দ।
দুইহাত মাথার পিছন দিকে নিয়ে এক ঝটকা টানে চুলে বাঁধা ব্যান্ডটি খুলে ফেলে। ব্যান্ড খোলার শব্দ। মাথাটা এপাশ-ওপাশ করে বেশ জোড়ে ঝাকুনি দিলে চুলগুলো পিঠময় ছড়িয়ে পড়ে।
মেয়েটি বেশ স্বাভাবিকভাবে টুল থেকে উঠে দাঁড়ায়। টুলের দিক করে ঘুরে দাঁড়ায়-মুখের মধ্যে জয়দীপ্ত একটি ভাব ফুটে উঠেছে। মেয়েটিকে টুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
মেয়েটির কন্ঠ(বেদনা ভরা)
ভি ও(V O)

মৃত্যু যদি পারে মুছে দিতে বিষন্ন স্মৃতির সকল চিহ্ন!
গহীনে ডুবে যাওয়ার বদলে তবে কেন দুঃস্বপ্নে সাতার কাটা?

আবার যদি জন্ম নেই বিদেহী হয়ে,
থাকবো লুকিয়ে ঘাষ-পাতার অন্তরালে।(সবুজ ঘাষে ভরা প্রান্তর দেখা যায়।)
আত্মার সকল পোশাক ছুড়ে ফেলে এসো-
আমি-তুমি একসাথ ডানা মেলে (স্বচ্ছ নীলাকাশ পাখিদের উড়ে যেতে দেখা যায়।)
যাব উড়ে নীলিম শূন্যতা নিরাকারে মেখে।

খুব শান্তভাবে টুলের উপর উঠে দাঁড়ায়। সমস্ত রুম ও মেয়েটির মুখমন্ডলে হালকা লাল আলোর আভা ছড়ানো।
টুলের উপর দাঁড়ানো মেয়েটির নগ্ন পা দেখা যায়। মেয়েটির পরিহিত রাতের পোশাকটি আস্তে করে নগ্ন পায়ের কাছে পড়ে যায়। রুমটি পুরো নিস্তব্দ হয়ে যায়। রুমের পুরো শূন্য অংশটি দেখা যায়। বিশাল ধূসর প্রান্তরের ছবি ভেসে উঠে।

ফেড আউটঃ

লেখার ধরন: 
12345
Total votes: 567

মন্তব্য