slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে (শেষ)

শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন নিয়ে একটা লেখা শুর’ করেছিলাম। কয়েকটি পর্বে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ বিরতিতে এবার লেখাটির ইতি টানছি। আমি দ্বান্দ্বিকতার সূত্র ব্যবহার করে আগের লেখাগুলোতে বলেছিলাম শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে। গুনগত পরিবর্তনের আশাবাদি ছিলাম। অনেক ক্ষেত্রে আন্দোলনটি নিয়ে ভাবাবেগের বশবর্তি হয়ে অতি আশাও পোষণ করেছি । আগের লেখাগুলোর সারমর্ম ছিল, এই আন্দোলেনে অসম্প্রদায়িক ও বর্জুয়া গণতান্ত্রিক শক্তির উন্বেষ ঘটতে পারে। দ্বিতীয় এখান থেকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধি ছোট হলেও রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিস্তার হতে পারে। তৃতীয়ত তর’ণদের মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্ক বা বন্ধুত্ব সৃষ্টি হতে পারে। আপাত মনে হচ্ছে, এর কোনটাই শাহবাগের আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে না। আন্দোলনের শুর’তেই অনেকে একে আওয়ামীলীগের বহুমূখী আন্দোলনের একটি রূপ বলে আমাকে সতর্ক করেছিলেন। আমি এ বিষয়ে অবগত থেকেও আশাবদি থেকেছি বহু নতুন মানুষের সমাগম দেখে। তাদের আবেগ আমাকে আপ্লুত করেছে। পরিমাণগত পরিবর্তনের গণজাগরণের ধারাটিকে নির্বাচনি রাজনীতি নির্বাচনে প্রবাহিত করে দিয়েছে।

এখানে একটি গল্প বলা প্রয়োজন। আমি প্রতি সপ্তাহে মগবাজারের নজর’ল একাডেমিতে যাই। সেখানে দুটি বড়ই গাছ আছে। গাছ দুটিতে প্রচুর বড়ই ধরেছে। পাঁকা বড়ই।  দেখেতে খুব ভাললাগে। কেউ খায়না। এমনকি পাখিও। একাডেমির মালি বলেছে স্যার পুঙ্গা বড়ই। সব নষ্ট। 
শাহবাগের আন্দোলনের কয়েকটি নষ্ট দিক আমার কাছে মনে হয়েছে। দেশে বর্তমানে যে নির্বাচনি আচরণ রয়েছে। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদের ফর্মূলা অনুযায়ি দেশীয় দালালদের নির্বাচিত করা। এই ফর্মূলাকে ভাংতে পারেনি। স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে ক্ষমতাসীন সকল দলের যে  সাংস্কৃতিক আধিপত্য রয়েছে তারা তার মধ্যেই বিরাজ করছে। যেমন স্বাধীনতার সুফল ভোগী জামায়াতে ইসলামীও। তাদের  নেতারাও মন্ত্রী হয় ও সংসদে বাংলাদেশের নামেই শপথ নেয়।  সুতরাং আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত, জাতীয় পার্টি  ও তাদের ঘিরে ধরা কয়েকটি বামদল বর্তমান স্বাধীনতার সংস্কৃতিতেই রয়েছে। কারণ এই স্বাধীনতা তাদের প্রত্যেককেই লাভবান করেছে।  গণজাগরণ মঞ্চের তুমিকে আমি কে বাঙালী শ্লোগান বা জয় বাংলা শ্লোগান এখন আর প্রযোজ্য নয়। কারণ এখন খালেদা জিয়া বা শেখ হাসিনা যে বাঙালী আমি সেই বাঙালী নই। তারা সুবিধা প্রাপ্ত বাঙালী আর আমি বঞ্চিত বাঙালী। যে জয়বাংলা শ্লোগান তাদের সুবিধা দিয়েছে তা তাদের সংস্কৃতি। তাহলে আমার শ্লোগান কী হতে পারে। আমি আশা করেছিলাম শাহবাগ থেকে হয়তো নতুন শ্লোগান সৃষ্টি হবে। বিষয়টা এই রকম, পাকিস্তান জিন্দাবাদ ভেংগে দিয়ে বাঙালীরা জয়বাংলা নিয়ে এসেছিল। এখন এই জয়বাংলা বা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ ভাংগার সময় এসেছে।  শাহবাগের সবাই যে ভাংবে তা নয় কিন্তু বেশিরভাগের তো ভাংগার দরকার। 
 
আর হলো নির্বাচন। এটিও আর চলছে না। বিশেষ করে  কয়েকটি প্রধান বামপন্থি দলে নির্বাচন নিয়ে  মোহ রয়েছে। তাদের  নেতা কর্মীদের দেখেছি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বর্তমান ব্যবস্থাতেই তারা নির্বাচনকেই পন্থা মনে করে। তারা কাঁচি বা এই জাতীয় কিছু প্রতিক নেয়।  নৌকা ও ধানের শীষের পাশাপাশি। কখনো কোন নির্বাচন তারা বয়কট করেনি। বিএনপি  ও আওয়ামী লীগ তাদের সুবিধামতো  ভোটের ব্যবস্থা না হলে নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ওই বামদলগুলো একবারও নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেয়নি। মনে হয় এই কাজটি তারা আর কখনো করতে পারবে না। আবারো আশাবাদি হয়ে থাকবো একদিন চলমান স্বাধীনতার সংস্কৃতি ও নির্বাচনের বির’দ্ধে বঞ্চিতরা নতুন শ্লোগান নির্মাণ করবে। নতুন ধরণের নির্বাচন হবে। এটিই হবে একটি সমাজের গুণগত পরিবর্তন।
12345
Total votes: 552

মন্তব্য