slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

রুবী রায়ের সাথে সাতমসজিদ রোডে

বিকেলে শাহসুজা সাতমসজিদ রোড দিয়ে যাচ্ছিল ঝিগাতলা। ঝিগাতলা লেকের পাড়ে সন্ধ্যায় একটা ইফতার পার্টি আছে। কারা কি আয়োজক তার কিছুই সে জানে না। বন্ধু আয়মান তাকে ফোন করে ঘন্টাখানিক আগে খবরটা জানিয়েছে। বন্ধু আয়মানের জন্যই যাওয়া। অনেকদিন দেখা হয় না। ফোনে কথা হয়, ফেসবুকে কথা হয় চ্যাটে-স্ট্যাটাসে। কিন্তু দেখা হয় না।
শঙ্করে জ্যাম। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়তেছে। রিকশার হুড খোলা। বৃষ্টিতে শরীর ভিজতেছে না। বরং শ্রাবণ মাসের তিব্র গরমে রোমকুপে শিহরণ তুলতেছে ইলশেঁগুড়ি। হাতের পশমে বিন্দু বিন্দু হিরার দানার মতো জল টলমল করতেছে। জ্যামে তাই তেমন বিরক্তি লাগতেছে না। বরং আশেপাশে মানুষের চলাফেরা, গাঁ কুঁচকে বৃষ্টি বাচিয়ে চলার কারসাজি, হুডতোলা রিকশায় চাপাচাপি করে বসা তরুন-তরুনী, নর-নারী দেখতে তার ভালো লাগতেছে। ছায়ানটের ইট বেরুনো লাল বিল্ডিংটার চুড়ায় বিকেলের কমলা রোদ পড়েছে। রোদ পড়েছে বিল্ডিঙের সামনের দুইটা বড় দেবদারু গাছের মাথায়ও। দেবদারু গাছ দু’টোর জন্য ছায়ানট বিল্ডিঙের পুরোটুকু চুড়া দেখা যাচ্ছে না। সাতমসজিদ রোডের পূর্বদিকের সব বিল্ডিঙের চূড়ায় কমলা রোদ হাসতেছে। ঝলমলে রোদের জমজমাট হাট বসে গেছে ধানমন্ডির মাথায় উপর। অনেক ছাদেই ছেলেমেয়েদের হাটাহাটি ছোটাছুটি করতে দেখা যাচ্ছে। ধানমন্ডির ধনীর দুলাল-দুলালীরা বোধহয় বিকেলের নরম রোদে সানবাথে নেমেছে। বিল্ডিংগুলোর চূড়া ছুঁয়ে নীল আকাশের অনেক নিচ দিয়ে সাদা-কালো মেঘদলের গজগমণ দর্শন অবশ্য এসব দৃশ্যে আটকাচ্ছে না।
পনের নম্বর বাসস্ট্যান্ড পার হয়েই রুবী রায়ের সাথে দেখা হয়ে গেল। বাম হাতে বুকের কাছে ধরা ছোট্ট হ্যান্ডব্যাগ, ডান হাতে দু’তিনটি সপিং ব্যাগ নিয়ে সে একটা মার্কেট থেকে বের হয়ে আসছে। ডিপ পার্পেল রঙের শাড়ি নারীদের বর্ষাকালে পড়া উচিৎ নয়, একথা কাকে কে বুঝাবে? শাহসুজা রিকশাওয়ালার পিঠে আস্তে করে একটা টোকা দিল। বামে চেপে রিকশাটা দাঁড়িয়ে গেল। রুবী সিড়ি দিয়ে নামছে একটা একটা করে সিড়ি মাড়িয়ে ধীর পায়ে। একটু মোটা হয়েছে মনে হচ্ছে। রুবী তখনও তাকে দেখেনি। কোনদিকে না তাকিয়ে ঘাড় নিচু করে একটা চকচকে কালো গাড়ির দরজা খুললো। শাহসুজা গাড়িটার ঠিক পেছনেই বসে ছিল রিকশায়। আস্তে করে নাম ধরে ডাকলো। রুবী ঘাড় তুলে তাকালো। ব্যাগগুলো গাড়ির ভিতরে ছুড়ে দিয়ে আস্তে আস্তে রিকশার পাশে এসে দাঁড়ালো।
সুজা’দা, কেমন আছেন?
শাহসুজা লক্ষ্য করলো, রুবী রায়ের কন্ঠের নিস্পৃহতা আগের মতোই আছে। অথচ অনেক বছর পরে দেখা হলো দু’জনের। কালেভদ্রে ফোনে কথা হয়। যখন হয় তখন অবশ্য দীর্ঘ সময় ধরেই হয়। পরস্পর সম্পর্কে আপডেট জানার ঐ একটাই মাধ্যম গত একযুগ ধরে।
শাহসুজা মিটমিট করে হাসতে হাসতে বলল, তোকে বেশী সুন্দর লাগছে। অমন অদ্ভুদ রঙিন পোশাক কোথায় পাস তুই?
কোথায় যাচ্ছেন? আর আপনার চেহারা অমন বগের মতো হচ্ছে কেন?
ঝিগাতলা। একটা ইফতার পার্টি।
ইফতার পার্টি! বলে চোখ কুচকে তাকালো শাহসুজার দিকে। রোজা রাখা শুরু করেছেন না’কি? ইফতার পার্টি করে বেড়াচ্ছেন!
আরে নাহ্! ইফতার-টিফতার ওসব কিছু না। আয়মান বলল, দেখা হয় না বহুকাল। ওর সাথে ক্ষানিক আড্ডা দেয়াই উদ্দেশ্য।
আমিও যাবো আপনার সাথে। আসেন গাড়িতে ওঠেন।
গাড়ির ভেতরের বসার আসনগুলো টকটকে লাল, সামনে একটা লাল টুকটুকে ছোট্ট পুতুল ঝুলতেছে। জীবন্ত ছোট্ট একটা পেঁচা। বড় বড় দুটো কালো চোখ দিয়ে ঘুরে ঘুরে চারদিকে নজর রাখছে। গাড়ির ভেতরের আর সব কিছুর রং কালো। মিচমিচে কালো। শাহসুজার দামী গাড়িতে চড়তে ভীষণ ভালো লাগে। কিন্তু এই ভাললাগার ব্যাপারটা ঘটে সুদুর কালেভদ্রে।
শাহসুজা রুবীর বিয়ের আগে জেনেছিল, তার হবু স্বামী গার্মেন্টস্‌এ কি একটা চাকুরী করে। তারপরে আর ও বিষয়ে কোন খোঁজখবর রাখা হয়নি। তোর এই গাড়িটার নাম কি’রে?
কেন আপনি কিনবেন না’কি একটা? বলে হেসে গড়িয়ে পড়ে শাহসুজার গা’র উপর।
আরে নাহ্! তোর গাড়িটায় অনেক আরাম। নাম-দাম জেনে রাখলাম আরকি!
কি যে নাম! তবে দাম যে অর্ধকোটি টাকার উপরে তা অনেকবার শুনেছি। শালা হোদল কুতকুতের অনেক টাকা হইছে সুজা’দা, অনেক টাকা। মাত্র কয়েকটা বছরে যেন যাদুমন্ত্রের মতো বদলে যাচ্ছে সবকিছু। প্রতিদিন বদলাচ্ছে। একটার পর একটা কারখানা বাড়াচ্ছে। ধানমন্ডিতে ফ্ল্যাট, কোথায় কোথায় জমি। বলল, সিঙ্গাপুরেও না’কি ফ্ল্যাট বুকিং দিয়েছে। আমি অনেক বড় লোকের বউ হয়ে গেছিগো সুজা’দা, অনেক বড়লোকের বউ। এই গাড়িটা গতমাসেই কিনে দিল আমাকে, আমাদের বিবাহ বার্ষিকীতে। দেখেন, দেখতে দেখতে বারো বছর পার হয়ে গেলো, কোথাকার কোন লোকের সাথে! লোকটাকে এখনও আমার অচেনাই মনে হয়। একটা অচেনা লোকের সাথে খাই-দাই, উঠি-বসি, একবিছানায় ঘুমাই! আর চেনা লোকের সাথে দেখা হয় বারো বছর পর। জগৎ বড়ই অদ্ভুদ সুজা'দা! বলে সে বাইরের দিকে তাকায়।
এই ড্রাইভার, কি হল? তুমি দাঁড়ায়ে আছো কেন?
ম্যাডাম জ্যাম লাগছে। পুলিশ কোন গাড়ি যাইতে দিতাছে না। মনে হয় ভিআইপি কেউ যাইবো।
আমরা কোথায় আছি বলোতো?
শাহসুজা এতক্ষণ রুবীর কথা শুনছিল, কোন দিকে তেমন খেয়াল ছিল না। সেও বাইরের দিকে তাকায়। ও, আমরাতো প্রায় ঝিগাতলা মোড়েই আছি। চল নেমে হেঁটে যাই, এখানেই লেকের পাড়ে, ঐ কোনাটায়।
বাইরে তখনও ইঁলশেগুড়ি চলছে। নামার সাথে সাথে চারদিক থেকে নানান সুরে আযান শুরু হল।
তারা হাঁটতে হাঁটতে লেকের পাড়ের চত্বরটায় ঢুকে পড়লো। চারিদিকে গিজগিজে মানুষ প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিলে বসে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে হাপুষ-হুপুষ খেতে ব্যস্ত। সারাদিনের বুভুক্ষু মানুষ দলবেঁধে খাচ্ছে। মানুষের এই দলবেঁধে খাওয়ার দৃশ্যটা শাহসুজার কাছে অদ্ভুদ লাগে। মানুষ দলবেঁধে খায় তবু অনেকে কারো সাথে কথা কয় না। খাওয়াটা যখন শুধুই খাওয়া তখন আর ওটা খাওয়া থাকে না। তখন হয় ওটা একটা কাজ। একা একা চুপি চুপি খেতে শাহসুজার হাপর লাগে, কষ্টকর কাজ মনে হয়।
শাহসুজা প্রথমে ভেবেছিল পুরো ভিড়টা একটাই পার্টি। তাই সে এদিক ওদিক চোখ তুলে আয়মানকে খুঁজতে খুঁজতে এগুতে থাকে। শেষের দিকে গিয়ে আয়মানকে পায়। তিরিশ-চল্লিশ জনের একটা দল। সারবেঁধে বসে খাচ্ছে। কাগজের ঠোঙ্গায় নানান রকম ভাজা-অভাজা খাবার। আড্ডাও চলছে বেশ, বোঝা যাচ্ছে।
আয়মান শাহসুজার দিকে একবার তাকিয়ে তার প্রায় গায়ের সাথে লেগে থাকা রুবীর দিকে তাকায় আবার শাহসুজার দিকে তাকায় আবার রুবীর দিকে। এভাবে কয়েকবার তাকাতাকি করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। প্রায় চিৎকার করে ওঠে, রুবী না? আয়মানের ‘রুবী না?’ বলার ধরণে প্রায় সকলে চমকে তাকায়। শাহসুজার দিকে নয় সবাই দেখছে রুবীকে? রুবীর পোশাকে, চেহারায়, চলনে অন্যদের আকৃষ্ট করার মতো কিছু একটা অনেক আগে থেকেই ছিল। আজ তারচেয়ে বেশি আছে। আয়মান একটু অস্বস্তি নিয়ে উঠে আসতে আসতে বলে, আয় দোস্ত আয়। রুবী আয়মানের দিকে তাকিয়ে মিটমিট করে হাসছে।
ইফতার খেতে খেতে আয়মান রুবীর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলছে। বহুকাল পর রুবীকে শাহসুজার সাথে দেখে আয়মান যারপরনাই অবাক হয়েছে। মুলত সে বিষয়েই অনুসন্ধানী কথা বার্তা চলছে। আয়মান একের পর এক প্রশ্ন করে যাচ্ছে, রুবী দু’এক কথায় উত্তর দিচ্ছে, হাসছে। শাহসুজা একফাঁকে উঠে লেকের পাড়ে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালো। লেকে ভরা পানি। ঈদ উপলক্ষে ওপাড়ের বিডিআর স্কয়ারে রঙ্গীন লাইটিং করা হয়েছে। লেকের জলে তার ছায়া পড়ে পানিও রঙ্গীন হয়ে উঠেছে। ইঁলশেগুড়ি বৃষ্টিতে তিরতির করে কাঁপতেছে লেকের ভরা পানি। মনে হচ্ছে, লেকে কোটি কোটি রঙ্গীন জোনাকী ছোটাছুটি করতেছে।
পার্টির মুলপর্ব শেষ। কেউ কেউ চলে গেছে। কেউ কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছে।
আয়মানের সাথে আজ আর শাহসুজার আড্ডা দেয়া হল না। আয়মানের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রুবী বিডিআর মার্কেটের দিকে হাটতে শুরু করলো। বিডিআর মার্কেটে ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞেস করলো, সুজা’দা, আপনি কি টেলিভিশন কিনেছেন?
নো! আই হেভ নো টেলিভিশন! কিন্তু কিনতে গেলে যেগুলো পছন্দ হয় সেগুলো  দাম আমার মাথার অনেক উপরে বিরাজ করে। বলেই, স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে হো হো করে হেসে উঠে। কিনলে সবচেয়ে ভালোটাই কিনবো, না কিনলে নাই।
আপনি আর কিসের পিছনে ছুটছেন সুজা’দা? আমাদের বিপ্লবতো কবেই উবে গেছে হাওয়ায়! পার্টি তছনছ হয়ে গেলো! মনে আছে? আপনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, রাইফেল ধরতে হবে। বলতেন, শান্তিপূর্ণ পথে বেশিদূর এগুনো যাবে না। আমাদের শক্তি বাড়তে থাকলে বুর্জোয়া-লুটেরা রাষ্ট্র তার সকল বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে আমাদের উপর। এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমাদেরকেই তৈরী করতে হবে বিপ্লবী বাহিনীর ভ্রূণ। আমরা হবো সেই বাহিনীর অগ্রসৈনিক।  সুজা'দা আমাদের শক্তি আর বাড়েনি। বরং দিনে দিনে কমছিল নানানভাবে। তবু রাষ্ট্রীয় বাহিনী আমাদের ক্ষমা করেনি। প্রায় সবাই খুন হয়ে গেল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে অপরাধীর মতো। কিছুই করতে পারিনি আমরা। আমার এটা ভাবলে খুব কষ্ট হয় সুজা’দা, এতবড় স্বপ্ন এত মহৎ মহান স্বপ্ন খুন হল অপরাধীর মতো। মানুষ এই মহান স্বপ্নের মহত্ব জানতে পারলো না। জানলো একটা অপরাধ হিসেবে। রাষ্ট্র আমাদের গায়ে অপরাধীর সীল বসিয়ে দিল। আমরা কোন কাউন্টার দিতে পারিনা। আমার হোদল কুতকুত প্রতিটা হত্যায় কি যে আনন্দ পায়! কি যে বিকৃত উল্লাস! অতো ব্যস্ততার মধ্যেও সে জোরে জোরে ঐ খবরগুলো আমাকে পড়ে শোনায়।
আপনার বেঁচে যাওয়াটা অবশ্য আমার কাছে কাকতালীয় মনে হয়। আমিতো পত্রিকা পড়া ছেড়েছি সেই কবে! হোদল কুতকুতটা পত্রিকা হাতে ঢুকলেই জান ঢিপঢিপ করতো। মনে হতো, আজ নিশ্চই আপনার খবর। কিভাবে যে বেঁচে গেলেন সুজা’দা? যাকগে বেঁচেই যখন গেছেন, তখন ভালভাবে বাঁচেন। আমাকে দেখেন, গেরিলা যুদ্ধের স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে এখন দিব্যি সংসার করছি শ্রেণী শত্রুর সাথে। ঘোগের বাড়ি বাঘের বাসা হা হা হা ..!
আমি ভালভাবে বেঁচে নেই, এটা তোকে কে বলল? আর বিপ্লব মোটেই উবে যায়নি। সমাজ থেকে কি শোষণ-নির্যাতন উবে গেছে? মানুষ কি ভালো আছে? নেই। বিপ্লব হল মানুষের ভালো থাকার স্বপ্ন। প্রেমের পৃথিবী নির্মানের স্বপ্ন। মানুষ এই স্বপ্নের নাগাল না পাওয়া অব্দি বিপ্লব চলবে। চলছে নানান পথে। কখনও প্রকাশ্যে কখনও গোপনে। শূণ্যতা শুধু বিপ্লবী পার্টির। সেও হবে একদিন নিশ্চই। তাই বিপ্লবের স্বপ্ন এখনি উবে গেছে এটা ঠিক কথা না। তুই বিলাস-ব্যসনে ভুলে গেছিস সবকিছু, তাই ওভাবে বলতে পারছিস। হাসতে হাসতে বলল, তোর জীবনে বিপ্লব হয়ে গেছে!    
কথা বলতে বলতে তারা ততক্ষণে ঢুকে পড়েছে বিডিআর মার্কেটের নিচতলায় সনি’র শোরুমে। বিলাস-ব্যসনে থাকা আর ভালো থাকা কি এক হল? বলে, রুবী ভ্রু কুচকে তাকায় শাহসুজার দিকে।
যাকগে, এখন বলেনতো কোন টেলিভিশনটা আপনার পছন্দ?
শাহসুজা ছেচল্লিশ মনিটরের থ্রি-ডি সেটটি দেখিয়ে বলে, এটা অনেক সুন্দর। নিখুঁত ছবি, থ্রি-ডি চশমা পড়লে বিস্ময়কর লাগে বলে শুনেছি। চশমা পরে টিভি দেখতে হবে! বলে হাসতে থাকে শাহসুজা। তুই কি এখন টেলিভিশন কিনবি? তোরও কি টেলিভিশন নাই? 

শাহসিজা দাঁড়িয়ে টিভিতে থ্রি-ডি এ্যানিমেশন দেখছে। রুবী ক্যাশ কাউন্টার থেকে তাকে ডাক দেয়। শাহসুজা এগিয়ে গেলে রুবী তার বাড়ির ঠিকানা বলতে বলে।
আমার ঠিকানা দিয়ে কি হবে? তুই কি আমাকে টেলিভিশন কিনে দিতে চাস? আমি একটা টেলিভিশনের প্রয়োজনীয়তা খুব অনুভব করি। খুব করি। একটা ভালো টেলিভিশন। ঠিক এইরকম যেটা তুই এখন কিনে দিতে চাচ্ছিস। কিন্তু তার আগে চাই সমাজতন্ত্র। বলে হোহো করে কিছূক্ষন শব্দ করে হাসে শাহসুজা। রুবী এবং কাউন্টারে চুল প্লাক করা রোবোটিক মেয়েটা হা করে শাহসুজার দিকে তাকিয়ে থাকে।
হাসি থামিয়ে শাহ সুজা বলতে শুরু করে, রুবী তুই কি জানিস, আমি কোথায় থাকি? আমার ঘরটা এই টেলিভিশনের চাইতে ছোট, তুই কি তা জানিস? মানে এই টেলিভিশনটা আমার ঘরের চাইতে বড়। মানে আমার ঘরটা এই টেলিভশনের চাইতে ছোট। কিন্তু আমার এরকমই একটা টেলিভিশন চাই! থাম। এই টেলিভিশনটা রাখার জন্য যেমন ঘর লাগে তেমন একটা ঘর আগে তৈরী করে নি। তারপর তুই আমাকে এরকম একটা টেলিভিশন নিশ্চই কিনে দিবি। একটা বড় ড্রয়িং রুম, মাঠের মতো। তিনসেট সোফা। একটা হাতির দাঁতের  পা লাগানো বড় সেন্টার টেবিল। ইটালিয়ান একটা ঝাড় বাতি নিশ্চই আমি একদিন কিনতে পারবো। এবং একদিন তোকে আমার বাড়িতে নিমন্ত্রন করলে তুই নিশঙ্কোচে যাবি তোর সব অর্জিত স্ট্যাটাসসহ এবং ঝাড়বাতির আলো-আধারিতে বসে তুই আর আমি আমাদের জীবনের অনেক না বলা কথা বলবো। চল। বলে রুবীর হাত ধরে বাইরে নিয়ে আসে শাহসুজা। চুলপ্লাক মেয়েটা রিসিটে কলম ধরে হা করে শাহসুজা ও রুবী রায়ের বেরিয়ে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
বাইরে বেরিয়ে শাহসুজা বলল, আমি শাহবাগ যাবো রুবী। যুগের শ্রেষ্ঠ সন্ধ্যাটার জন্য তোকে এবং এই প্রকৃতির অসীম রহস্যকে অনেক ধন্যবাদ। রুবীকে কিছু বলার সময় না দিয়ে মার্কেটের গেটের দিকে হাঁটতে শুরু করে শাহসুজা। 
০২.0৮.১৩     
   
       
 

লেখার ধরন: 
12345
Total votes: 1384

মন্তব্য

নো কমেন্ট!

আজাদ-র ছবি

'নো কমেন্ট' মানে কি?

আবিদুল ইসলাম-র ছবি

 নো কমেন্ট, আজাদ ভাই।

.......................................

কমরেড, মুক্তি কতোদূর?

আজাদ-র ছবি

আরে ভাই আবিদ, নো কমেন্টের মানে উদ্ধার করতে পারছি না। প্রথম লেখা প্রেমের গল্প নিয়া এমনিতেই পেরেশানিতে আছি :)

আবিদুল ইসলাম-র ছবি

গল্পটা পড়ে কোথায় যেন একটা আফসোস ... কীসের যেন আফসোস, যদিও এই আফসোস অন্যায়, আজাদ ভাই। 

.......................................

কমরেড, মুক্তি কতোদূর?

আজাদ-র ছবি

আপনার আফসোসে, আমিও আফসোসাক্রান্ত। ধন্যবাদ আবিদ।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

গল্প দারুণ হয়েছে। ছুঁয়ে যায়। শাহসুজা’র অনমনীয় সংগ্রাম শ্রদ্ধা জাগায়, স্বপ্ন জাগায়। রুবি রায়ও খুব ভাল, পছন্দ হয়েছে। খালি আপসোস হচ্ছে, আমারে যদি কেউ এমন বড় দেইখা একটা টিবি দিতো...!!!

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

আজাদ-র ছবি

অনেক ধন্যবাদ শশাঙ্ক।

তোমার পছন্দ হওয়ার ব্যাপারটা সময় সুযোগ হলে জায়গামতো জানিয়ে দিবোনে 

 

 অসাধারন আজাদ ভাই। ভাল একটা নাটক হওয়ার মত। 

আজাদ-র ছবি

নাটকীয় বলেছেন দিদি!!! নাটক হতে পারে। প্রেরণামূলক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।  

  গল্পটা ভাল হয়নি। সেই আগের মধ্যবিত্তের প্যানপ্যানানি। ছেলেটা বেকার এবং বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। মেয়েটা উঠতি ব্যবসায়ির স্ত্রী। এই ব্যবসায়িটা ভাল হবে না। তার চেহারা হুদল কুককুতে হবে। এটি রবীন্দ্রনাথেও আছে( যোগাযোগ) কিন্তু মেয়েটা একেবারে নিষ্পাপ। বিয়ের পরেও সে  যৌনতা উপভোগ করতে পারে না। তার যৌনতা মধ্যবিত্তের সংস্কারে আবদ্ধ। তাই তার পুরোনো প্রেমিককে ভাল লাগে। মেয়েটি আবার তার স্বামীর সমস্ত আর্থিক সুবিধা নেয়। এমনকি হুদল কুককুতে হলেও তাকে বিয়ে করে। এসব আরো অনেক কথা .......................। এসব নিয়ে নয় আজাদ ভাই ভাল গল্প লিখুন। আপনার ভাষা চমৎকার। আকর্ষন করে। 

আজাদ-র ছবি

মধ্যবিত্ত মধ্যবিত্তিক প্যানপ্যানানি পছন্দ করে। একটু প্রেম, একটু বিপ্লব, একটু ত্যাগ এবং ভাষার কারিশমাযোগে সেইসব একটুকু বিষয়কে বিশাল, মহৎ রূপে প্রকাশ করে মধ্যবিত্ত অপার শান্তি ও আনন্দ লাভ করে। দিনশেষে আত্মপ্রতিষ্ঠা নিশ্চিৎ করে একটি সুন্দর গুছানো শান্তিময় জীবন লাভ করাতেই তার জীবনের সফলতা বিবেচনা করে। সাথে দু'চার চরণ গদ্য-পদ্য বা সৃষ্টিকর্মের মুকুট মাথায় চড়াতে পারলেই ষোলকলা।

ভালো গল্প লেখা সহজ নয়। তার জন্য জোর চেষ্টা জারি আছে এমনও নয়। স্বত:স্ফুর্তভাবে লেখা এই গল্পের দু'লাইন সমালোচনা লিখে আমাকে ধন্য করেছেন। আমার মধ্যবিত্ত মন পূলক বোধ করছে।

অজস্র ধন্যবাদ দাদা।

মন্তব্য