slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

স্যালুট শহীদ রুমী স্কোয়াড

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর কেন্দ্রিক পুরো বাংলাদেশ জুড়ে গণজাগরণের হাওয়া বইতে শুরু করে। অনেক বেশী লোকের সমাবেশ হওয়ার কারনে এবং এটা যেহেতু একটা বড় ধরনের গনজাগরন সুতরাং তার দরকার পড়েনি হিংসাত্বক হওয়ার। অহিংস পদ্ধতিতেই এই আন্দোলন চলে আসছে অনেক দিন ধরে।
কিন্তু আন্দোলনের ধারাবাহিকতার একপর্যায়ে এসে দেখা গেল ঘোষকদের অহিংসার পদ্ধতি হাস্যকর পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। জনগন প্রচন্ডরকম মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলে পিছু হটতে শুরু করে। জনগন তাদের বুকের ভেতরে যে দায় বা তাগিদ অনুভব করেছে তাতে করে তারা প্রজন্ম চত্বরে সমবেত না হয়ে পারেনি। জনগনের অধিকাংশই হয়তো কোনদিন রাজনীতি করেনি বা কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তেমন ভাবে সম্পৃক্তও ছিলনা। তারা বিশ্বাস করেছিল রাজনৈতিক বোধ ও সাংগঠনিক দক্ষতা সম্পন্ন উন্নত চিন্তার ব্লগার ও প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে তারা তাদের দাবী আদায়ের পথে সামনের দিকে আগ্রসর হবে। অচিরেই তাদের সেই বিশ্বাসে হোঁচট লাগে- তারপরেও তারা থেকে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু একপর্যায়ে তারা নিজেদেরকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
শহীদ রুমী স্কোয়াড নামে কিছু উদ্যমশীল রাজনৈতিক ভাবে সচেতন কিছু তরুণ প্রথম থেকেই এই গনজোয়ারের অভ্যন্তরে তাদের অবস্থান বজায় রেখে আসছিল। তাদের বর্তমান আমরণ অনশনের কর্মসূচী দেখেই বুঝতে পারা যায় ঘোষকদের অহিংস আন্দোলনের হাস্যকর কিছু কর্মসূচী দেখে তারা ভেতরে ভেতরে ফুসছিল। কারন যখন যুদ্ধাপরাধীরা ৭১ এর ১৪ ডিসেম্বরের মত ধরে ধরে আন্দোলনের কর্মী, প্রগতিশীল ব্লগার, গনজাগরণ মঞ্চের নেতার বালক ছেলে, যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে সাক্ষীর ভাই এরকম আরো কয়েকজনকে এই স্বাধীনদেশে হত্যা করে যত্রতত্র ফেলা রাখা হচ্ছিল তখন ফানুস উড়ানোর মত বা এই ধরনের কর্মসূচী যে কারো কারো মেনে নিতে কষ্ট হবে এটা খুবই স্বাভাবিক।
বাংলার জনগনের কাছে আশার ব্যাপার কিছুটা দেরীতে হলে সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি রুমী স্কোয়াড নিয়ে ফেলেছে। ঠিক এই মুহূর্তে আমাদের প্রত্যেকের উচিত সকল জড়তা ঝেড়ে ফেলে তাদের এই আমরণ অনশন কর্মসূচীর প্রতি সংহতি প্রকাশ ও পুরোমাত্রায় সমর্থন জ্ঞাপন করে লাখে লাখে রাস্তায় বেরিয়ে এসে প্রথম দিককার মত শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরকে ভরিয়ে ফেলা। এবং ঘোষক যারা ছিলেন তাদের উচিত নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে শহীদ রুমী স্কোয়াডের পেছনে অবস্থান করা। কারন এই মুহূর্তে সবচেয়ে সঠিক এবং সময়োপযোগী, এগিয়ে থাকা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্তটা এসেছে শহীদ রুমী স্কোয়াডের কাছ থেকে ঘোষকদের কাছ থেকে নয়। একজনকি দুইজন ব্লগার শুধু বিভিন্ন কিছুর ধোঁয়া তুলে জনগনকে তাদের এই কর্মসূচীর ব্যাপারে জনগনকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছেন এবং সাথে সাথে সমুচিত জবাবও পেয়ে যাচ্ছেন। এই এক, দুইজন বাদে সকল ব্লগার শহীদ রুমী স্কোয়াডের এই কর্মসূচীকে অকুন্ঠ সমর্থন জানাচ্ছে।
শহীদ রুমী স্কোয়াডের প্রত্যেকটি তরুন যেন আজকে শহীদ রুমী হয়ে উঠেছে। তোমাদেরকে স্যালুট জানাচ্ছি।

12345
Total votes: 653

মন্তব্য

মেহেদী হাসান-র ছবি

আমি এখানে কয়েকটা কথা যোগ করতে চাই, তাহলো- রাশিয়া প্রবাসী চৈতি নামে একটি মেয়ে শহীদ রুমি স্কোয়াডের কর্মসূচীর সাথে একাত্বতা জানিয়ে জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবীতে নিজে থেকে একা একাই অনশন কর্মসূচী শুরু করেছে। চৈতির প্রতি বিনম্র শদ্ধা জানাচ্ছি।

 মেহেদী হাসান

তথ্যের জন্য ধন্যবাদ। তাকে কি একটু অনুরোধ করা যায়, রুমি স্কোয়ার্ডের ফেজবুক পেইজে এটা এটা জানাতে?

মেহেদী হাসান-র ছবি

সে এটা জানিয়েছে। রুমী স্কোয়াডের ফেসবুক পেজ থেকে তার অনশনের ঘোষণা দেয়া স্ট্যাটাসটি আপডেট দেয়া হয়েছিল

 মেহেদী হাসান

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

লড়াকু তারুণ্যের প্রতি স্যালুট।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মেহেদী হাসান-র ছবি

লড়াকু তারুণ্যের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

 মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান-র ছবি

সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করে ফেলেছে- আমাদের অবস্থানটিও এখন সরকারের কাছে স্বচ্ছ করে তুলে ধরা উচিত। সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করা ছড়া আর কোন রাস্তা খোলা দেখছিনা। আমাদের সকলের এই মুহুর্তে শপথ নিতে হবে আমাদের যদি কিছু খেতে হয় তাহলে সরকারে ছুড়ে দেওয়া বুলেট খাবো।

 মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান-র ছবি

কতগুলো তরুন-উদ্যমশীল ছেলে-মেয়ে না খেয়ে মরতে বসেছে অথচ সরকারের টনক নড়ছেনা। জামাত-শিবির নিষিদ্ধের ইস্যুতে সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করে ফেলেছে- আমাদের অবস্থানটিও এখন সরকারের কাছে স্বচ্ছ করে তুলে ধরা উচিত। সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করা ছড়া আর কোন রাস্তা খোলা দেখছিনা। আমাদের সকলের এই মুহুর্তে শপথ নিতে হবে আমাদের যদি কিছু খেতে হয় তাহলে সরকারে ছুড়ে দেওয়া বুলেট খাবো।

 মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান-র ছবি

আওয়ামীলীগ স্মরন করার চেষ্টা কর কাদের ভোটে তুমি গত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলে। অনশনকারীদের কিছু ঘটে যাওয়ার পূর্বেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে সহ জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ কর, সেই সাথে নিজেও পবিত্র হও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যাবহার বাদ দাও। আর তা না হলে নিজেকে সাম্প্রদায়িক দল হিসেবে ঘোষণা কর-তোমার ঈদুর-বিড়াল খেলা দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। সিদ্ধান্ত তোমার হাতে-ভেবে দেখ কি করবে।

 মেহেদী হাসান

মন্তব্য