slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

চেতনাই আন্দোলনকে নেতৃত্ব দিচ্ছে

প্রজন্ম চত্বরে গড়ে উঠা আন্দোলনের নেতা চেতনা, কর্মী প্রত্যক্ষ আন্দোলনকারী, সমর্থক জনগন এবং আন্দোলন বিষয়ে যেকোন ধরনের সিদ্ধান্ত দেওয়ার একচ্ছত্র ক্ষমতা জনগনের ক্রমবিবর্তিত চেতনার। এই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে টানা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা চলছে। দীর্ঘদিন টানা এই আন্দোলন চলার পরও জনগনের কোন ধরনের শারীরিক অবসাদ বা মানসিক ক্লান্তির লক্ষণ দেখা যাচ্ছেনা কারন এই আন্দোলন বাংলার গন মানুষের ৪২ বছরের ক্ষোভের ফসল এবং জনগনের চেতনা এখানে সদাজাগ্রত, চেতনার মান দিন দিন উন্নতও হচ্ছে। প্রজন্ম চত্বরে গড়ে উঠা আন্দোলন যে টানা ২৪ ঘন্টা ধরে দিন-রাত চলবে এমন সিদ্ধান্ত কেউ দেয় নি- জনগনের ক্রমবিবর্তিত চেতনা নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত বেছে নিয়েছে। আন্দোলনের প্রথম দিকে রাত্রে কয়েকজন বলার চেষ্টা করেছিল-আপনারা এখন চলে যান কাল সকাল থেকে আবার আন্দোলন শুরু হবে।

 কিন্তু জনগনের চেতনা এ ধরনের ঘোষণায় সায় দেয় নি-সাথে সাথেই এই ঘোষণার প্রতিবাদ প্রতিবাদ করা হয়েছে -মাউথপিস কেড়ে নিয়ে পাল্টা বক্তব্য এসেছে- এই আন্দোলন সার্বক্ষনিক ভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে যতক্ষন পর্যন্ত না পুরোপুরি সফলতা অর্জিত হয়। তারপর থেকে সেই ভাবেই চরম উদ্দীপনার সাথে আন্দোলন তার লক্ষ্যাভিমুখী হয়ে এগিয়ে চলছে। এই বিষয়ে কোন ধরনের দ্বিমত নেই যে এই আন্দোলন কতদিন কিভাবে চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র মালিক জনগন এবং তার ক্রমবিবর্তিত চেতনা। ক্রমবিবর্তিত চেতনা- বলছি এই কারনে যে, প্রথমে কেউ কেউ শুধুমাত্র যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবীতে একত্রিত হলেও তারা এখন এই দাবীর পাশা-পাশি জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবীতে সোচ্চার হচ্ছে। প্রজন্ম চত্বরের এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিষয় হল- এই আন্দোলনের তেমন কোন ধরনের কেন্দ্রিকতা নেই, অনেকটাই বিকেন্দ্রিক ধরনের আন্দোলন। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই আন্দোলনে আসছে এবং নিজেদের মত করে গোল হয়ে বসে যাচ্ছে- নিজেদের মত করে যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি, জামাত-শিবির নিষিদ্ধ করা ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবীতে শ্লোগান দিয়ে, নাচ-গান ও নানা ধরনের নাটিকাতে অভিনয়, স্বাধীনতার চেতনা সমৃদ্ধ মুভি দেখা ও আরো বিভিন্ন রকমভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। কেউ কেউ সারা রাত ঘুমহীন চেতনার সাথে জেগে থেকে সকালের দিকে সামান্য কিছু বিশ্রাম নিয়ে আবার আন্দোলনে ফিরে আসার জন্য বাসায় চলে যাচ্ছে আর যারা রাত্রে বাসায় চলে গিয়েছিল তারা সকালের আলো ফুটতে না ফুটতে বিজয় আসবেই এই প্রত্যয় বুকে নিয়ে প্রজন্ম চত্বরে এসে সমাবেত হচ্ছে। চাকরীজীবিরা তাদের অফিস আওয়ার শেষ হতে না হতেই প্রজন্ম চত্বর অভিমুখী হয়ে দৌড় দিচ্ছে, গৃহবধূরা তাদের সন্তানের হাত ধরে সারা দিন রাত ধরে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকছে, স্কুল কলেজগামী তরুন ছেলে মেয়েরা ক্লাশ বর্জন করে আন্দোলনে যোগাদান করছে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরাতো হাঁটু গেড়ে বসেছে- ব্লগাররা আন্দোলন বিষয়ে কোন ব্লগ লেখার দরকার হলে খুব দ্রুত ব্লগ লেখাটি শেষ করে আবার জনগনের সাথে মিশে যাচ্ছে- এক কথায় বলতে গেলে বাংলার প্রত্যেকটা মানুষ কোন না কোন ভাবে এই আন্দোলনের সাথে কোন না কোন মাত্রায় সম্পৃক্ত আছে। ভেতরের অগ্নিগিরির মত চেতনার নির্দেশেই সকলে চালিত হচ্ছে- এই বিষয়টা সকলের কাছেই খুব স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান। আমি হলফ করে বলতে পারি- এমন প্রমান কেউ দিতে পারবেনা - আন্দোলনকারী জনতার মাঝখানে সামান্য একটুও নিস্পৃহতা দেখা গিয়েছে। আন্দোলন যতদিন পার করছে জনতা তত সজীব থেকে সজীবতর হচ্ছে, উদ্দীপনার সমারোহ বেড়ে যাচ্ছে দিন দিন । প্রজন্ম চত্বরের এই আন্দোলন কোন সুনির্দিষ্ট ফোরাম থেকে চালিত হচ্ছে না। প্রথম দিক থেকেই চেতনার আয়োজনেই এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে এবং সেই চেতনা বিবর্তিত হয়ে আন্দোলনকে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মত চালনা করে নিয়ে যাচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত না এই চেতনা পুরোপুরি জয়লাভ করবে ততদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন তার নিজস্ব গতিতে চলতে থাকবে এই বিষয়ের দ্বিমতের কোন আশঙ্কা দেখিনা। শোনা গেল কে বা কারা নাকি ঘোষনা দিচ্ছে-এই আন্দোলন বিকাল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত চলবে। সাথে সাথেই জনগন ও কয়েকটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এই ঘোষনার প্রতিবাদ জানায়- এবং এই আন্দোলন অব্যাহতভাবে টানা চালিয়ে নেয়ার প্রত্যয় ব্যাক্ত করে তারা। আমার বক্তব্য এখানে স্পষ্ট-গুটি কয়েক মানুষ যদি আন্দোলন প্রলম্বিত হওয়ার ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তাহলে তারা বাসায় গিয়ে লম্বা ঘুম দিক- কেউ তাদের আটকে রাখছেনা-কিন্তু সবাইকে ঘুমাতে যাবার আহ্বান করার স্পর্ধা তাদের কাউকে দেয়া হয় নি। আন্দোলনের ভরা জোয়ারের মাঝখানে এরকম ঘোষনা দেওয়ার কি কারন থাকতে পারে? - তা আমাদের কাছে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ছেনা। তবে এটা খুব স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে যে-এই ঘোষণা এবং এই ধরনের ঘোষণা দাতাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সময় এসেছে। হঠাৎ করে এই ধরনের অযৌক্তিক ঘোষণা তারা কেন দিতে গেল- এই প্রশ্নের জবাব তাদেরকে দিতে হবে। ধীরে ধীরে আন্দোলনকে গুটিয়ে ফেলার চক্রান্তের সাথে জড়িতদেরকে জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ছাড়া গতন্ত্যর নেই। প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সারথি এবং দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি জনপ্রিয় ব্লগে জামাত শিবির ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবীতে সংগ্রাম করে আসা একজন ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে খুন করা হয়েছে। জামাত- শিবির যে ব্লগার রাজীব হায়দারকে খুন করেছে এ কথা বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না। ব্লগার হত্যার খবর শুনে ঘোষণাকারীরা পূর্বেকার ঘোষণা উঠিয়ে নিয়ে- পুনরায় দিনরাত আন্দোলন চালিয়ে রাখার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয়। একটি প্রশ্ন এখানে আবশ্যিকভাবে এসে পড়ে তা হল- ব্লগার রাজীব হায়দার খুন না হলে তাদের পূর্বোক্ত ঘোষণা উঠিয়ে নেয়া হত কিনা? এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো- জনগনের চেতনার নেতৃত্বে যেখানে আন্দোলন চলছে সেখানে কে বা কারা কি ঘোষণা করল তাতে আন্দোলনের কিছুই যায় আসেনা। যারা হঠাৎ করে একধরনের অযৌক্তিক ঘোষনা দেয় এবং ব্লগার হত্যার খবর পেয়ে পূর্বেকার ঘোষনা উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয় ঐ সমস্ত হামবড়াদের বলছি- প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন অব্যাহত ভাবে চালিয়ে রাখতে গেলে আমাদের আর কত জন ব্লগারকে খুন হতে হবে- দয়া করে বলে দিবেন কি? জামাত-শিবির সুযোগ পেলেই যে আমাদেরকে হত্যার খেলায় মেতে উঠে এই বিষয়টা কি আপনাদের পূর্ব থেকে জানা ছিল না! শরীরের প্রতিটি রক্তবিন্দুর গুঞ্জনকে ভাষায় প্রকাশ করে বলছি- পুরোপুরি বিজয় লাভের একমূহুর্ত আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন স্থল ত্যাগ করে চলে যাব না। খুন যদি হতেই হয় তাহলে প্রজন্ম চত্বরে দাঁড়িয়ে খুন হব। ঘোষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলছি- ঘুম পেলে বাসায় গিয়ে লম্বা ঘুম দিন- অযথা আমাদের বিরক্ত করবেন না- আন্দোলনের চেতনাই আমাদের নেতা- চেতনার আহ্বানে আমরা জেগে আছি, জেগে থাকবো।

লেখার ধরন: 
12345
Total votes: 492

মন্তব্য

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

আমি প্রায় প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত আছি। এখন মনে হচ্ছে শেষ না দেখে আমাদের ঘরে ফেরা ঠিক হবে না।

মেহেদী হাসান-র ছবি

হ্যাঁ- আমি আমার লেখায় বলে দিয়েছি,কারো ঘুম পেলে যেন বাসায় গিয়ে লম্বা ঘুম দেয়। ৭১ এ বিজয় লাভ করেও বুদ্ধিজীবিরা বিজয় দেখে যেতে পারেনি। আমাদের সতর্ক হওয়ার সময় হয়েছে-বিজয় অর্জিত হওয়ার এক মূহুর্ত আগে আমরা ঘরে ফিরে যাব না।

 মেহেদী হাসান

মন্তব্য