slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

রাজাকারদের ক্ষমা নেই, ন্যূনতম মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে

রাজাকার-আলবদরদের বিচারের দ্বিতীয় রায় হয়েছে আজ। রাজাকার কসাই কাদের ওরফে কাদের মোল্লাকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এর আগে আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে।

আজকের রায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে সারা দেশ। বিচার বাতিলের দাবিতে এতদিন বিভিন্ন কোনা-কাঞ্চি থেকে পুলিশকে আক্রমণ করে যাচ্ছিল জামাত-শিবির। বিচারের দাবিতে সক্রিয়তা দৃশ্যত কম ছিল। আজ মানুষ রাস্তায় নেমে আসছে ওই জানোয়ারদের ফাঁসির দাবি নিয়ে। আজকের এই রাজপথে নেমে আসার চরিত্রটা হচ্ছে গণআন্দোলনের। কোন বিশেষ সংগঠন নয়, স্বতস্ফূর্ত জনতা আজ ক্ষোভে ফুঁসছে, বিক্ষোভ করছে। এই মুহূর্তে শাহবাগ-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার দখলে। সারা দেশ থেকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ আগুন ছড়িয়ে যাবে সবখানে।

অনেকেই এই লঘু শাস্তিকে সরকারের পশ্চাদপসারণ হিসেবে দেখছেন। প্রকৃত কারণ যাই হোক, সন্দেহ একেবারে অমূলক নয়। বাচ্চু রাজাকার আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারীর মধ্য থেকে পালিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তাদের কারও সম্পৃক্ততা ছাড়া এটা সম্ভব বলে কেউই মনে করে না। আমরা কাউকে এজন্য জবাবদিহি করতে বা শাস্তি পেতে দেখিনি। নিরুদ্দেশ বাচ্চু রাজাকারকে দেয়া ফাঁসির আদেশও যে নিরুদ্দেশ হয়ে থাকবে না তার নিশ্চয়তা কী?

কাদের মোল্লার ভয়াবহ নৃশংসতা প্রমাণিত হওয়ার পরও তাকে এই লঘু সাজা দেয়া জনমনে প্রশ্ন তৈরি করবেই। এছাড়া আওয়ামী লীগ শুরু থেকে এই বিচারের ইস্যুটিকে যেভাবে দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে তাতে তাদের সততা-আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাও স্বাভাবিক।

বিএনপি রাজাকারদের এই বিচার নিয়ে কোন কথা বলে না। লজ্জা পায়, না কি মন খারাপ করে – সেটাও স্পষ্ট করে বলে না। মাঝে মাঝে খালি সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার বা বিচারের আন্তর্জাতিক মানের কথা বলে নিজেদের বিলীয়মান মান রক্ষার ব্যর্থ চেষ্টা করে।

আজ এটা পরিষ্কার, রাজাকার-আলবদরদের রক্ষায় অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে যারা এগিয়ে যাবে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ভণ্ডামীর দিন শেষ হয়ে আসছে দ্রুত। আজকের তরুণ সমাজ রাজাকার ইস্যুতে কোন আপোসে যাবে না।

ওই রাজাকার-আলবদররা হানাদার পাকিস্তানী সৈনিকদের সহায়তা করেছে। আমাদের বাংলা মায়ের সাথে বেঈমানী করেছে। ওরা আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে। আমাদের মুক্তিযোদ্ধা নারী-পুরুষদের হত্যা করেছে। মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে শিশুকে জবাই করেছে। আমাদের মা-বাবা-ভাই-বোনদের জবাই করে, গুলি করে, জীবন্ত মানুষকে কবর দিয়ে হত্যা করেছে। নাম না জানা প্রতিবন্ধী শিশু থেকে শুরু করে আমাদের দার্শনিক গোবিন্দ চন্দ্র দেবকে হত্যা করেছে ওই জানোয়ার রাজাকার-আলবদররা। আমরা আমাদের মহান শহীদদের ভুলতে পারি না। ওই জানোয়ারদের ক্ষমা নেই।

ওই রাজাকার-আলবদর জানোয়ারদের জন্য সর্বনিম্ন শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। সর্বোচ্চ শাস্তি আমার জানা নেই। আজ থেকে একচল্লিশ বছর আগেই তাদেরকে প্রকাশ্যে টুকরা টুকরা করে কুকুর-শেয়াল দিয়ে খাওয়ানো উচিত ছিল। অনেক সহ্য করেছে এদেশের মানুষ। আর নয়। ওদেরকে ন্যূনতম শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে-এর চেয়ে কম নয় কোনভাবেই।

ছবি: শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ জমায়েত। এটি ক্রমাগত জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে। আন্দোলনকারীরা সারা রাত সেখানে অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ছবি সূত্র: ইন্টারনেট।

12345
Total votes: 559

মন্তব্য

রিসাত কামাল-র ছবি

১০০ ভাগ সহমত আপনার সাথে দাদা...ফাঁসি চাই

রিসাত কামাল-র ছবি

দাদা, ফেসবুকে শেয়ার দিলাম।।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

এই দাবিটা জানিয়ে যাওয়া ছড়িয়ে দেয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। এ মুহূর্তে আমাদের বন্ধুরা শাহবাগে লড়ছে, ইতিহাস সৃষ্টি করছে। এ লড়াই আমাদের সকলের। সেখানে থাকতে পারছি না, যে যেখানে পারি, চলুন সরব হই, সবাইকে সরব হতে বলি।

আসুন, সমস্বরে শ্লোগান তুলি, ‘লাখো শহীদ ডাক পাঠালো, সব সাথীদের খবর দে/ সারা বাংলা ঘেরাও কর, রাজাকারদের কবর দে’।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

আজাদ-র ছবি

রাজাকারের ক্ষমা নাই, কমপক্ষে ফাঁসি চাই।

 ফাসিই চাই আর কিছু না


উন্মোচনের সঙ্গে আমার সম্পর্কটা বহুদিনের। নতুন করে ঝালিয়ে নেবো বলে নিবন্ধন করলাম।
সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

ফাঁসি হয়ে গেলে দেশের জন্য ভাল হত। দেশের চেয়ে পার্টি বড় হয়ে গেল!

শাহবাগের এই কর্মসুচি বিফলে যাবে বলে আমি মনে করছি। এর পক্ষে যুক্তি হল, যারা ক্ষমতায় আছে তারা কি চায় এটা ভাবতে হবে, তারা যা চায় দেশের জনগণ তা চায় না! একটু পেচাপেছি উত্তর হয়ে গেলেও আশা করি বুঝতে পারছেন। আমার এখন নুতন ভয়, রাতের আঁধারে শাহবাগের এই মুক্ত মনের মানুষ গুলোকে না জানি পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ফেলা হয়! হা হা হা...

আজ বিকালে আমি শাহবাগে যাবার ইচ্ছা রাখি। রাস্তার এই মুক্ত মনের এই মানুষ গুলোর সাথে আছি।

 ভয় নেই আমরা আছি আপনাদের সাথে। সবাই মিলে আমরা জয় ছিনিয়ে আনব । অনেক সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ শশাঙ্ক দাদা আপনাকে। 

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

ধন্যবাদ, তন্দ্রা দি। আমরা সবাই মিলে জয় ছিনিয়ে আনব, খুব সুন্দর বলেছেন।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য