slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

ট্রিপস্ এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। স্বাস্থ্য-সূচকের কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে প্রশংসিত হচ্ছে। দেখা যায়, স্বাস্থ্য সচেতনতা, রোগ প্রতিরোধে টিকা গ্রহণ, সেবা গ্রহণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, জন্মনিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। সরকারি সেবার পরিধি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি বিস্তৃত হয়েছে বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্যসেবা। ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য। তারপরও অবশ্য একথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে, বিগত কয়েক দশকের অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র এখনও সন্তোষজনক নয়, সকল মানুষ বিশেষত দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনও স্বাস্থ্যসেবার বাইরেই রয়েছে বলা চলে। সরকারি, বেসরকারি বা বাণিজ্যিক - সব ধরনের সেবা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগেরও অবশ্য অন্ত নেই।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করাসহ জীবন ধারনের মৌলিক প্রয়োজন পূরণ [আর্টিকেল ১৫(ক)] এবং জনগণের পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন নিশ্চিত করা [আর্টিকেল ১৮(১)] রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ২০১৫ সালের মধ্যে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অনুসারে জনস্বাস্থ্যের কয়েকটি ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া জাতিসংঘ সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা, সিডও সনদ, শিশু অধিকার সনদ এবং আলমা আতা ঘোষণা প্রভৃতি আন্তর্জাতিক ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী হিসেবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র অঙ্গীকারাবদ্ধ।

স্বাস্থ্যসেবার একটি বড় অংশ হচ্ছে চিকিৎসা। বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেকাংশেই ঔষধ নির্ভর। ঔষধের মূল্য, মান এবং প্রাপ্যতার ওপর স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নির্ভর করে। ঔষধের এই বিষয়গুলো বর্তমান সময়ে আর কোন একক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে বাংলাদেশের ‘সামান্য’ একটি ঔষধও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের সাথে অনিবার্যভাবে সম্পর্কিত।

ট্রিপস্ কী
বুদ্ধিবৃত্তিজাত সম্পদের অধিকার বা মেধাস্বত্ত বা Intellectual Property Rights এর নীতির আলোকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) ১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক চুক্তি ট্রিপস্ বা Trade-Related Aspect of Intellectual Property Rights-TRIPS Trade-Related Aspect of Intellectual Property Rights-TRIPS ঘোষণা করে। বুদ্ধিবৃত্তিজাত সম্পদের অধিকার রক্ষায় ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে এই চুক্তি ঘোষণা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিটি সদস্য দেশের জন্য এই চুক্তি মেনে চলা বাধ্যতামূলক। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে গৃহীত দোহা ঘোষণায় ট্রিপস্ কার্যকর করার ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত ৫০টি রাষ্ট্রের (এলডিসি) জন্য অন্তবর্তীকালীন ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। ঔষধের ক্ষেত্রে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রের জন্য এই ছাড় ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হবে।

বাংলাদেশের ঔষধ শিল্প
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে ঔষধ শিল্পে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করেছে। ১৯৮২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ঔষধনীতি ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৪০ সালের ড্রাগ অ্যাক্টের আওতায় বাজারে অনেক অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ও ব্যবহার অনুপযোগী ঔষধ প্রচলিত ছিল। অত্যাবশ্যকীয় ও জীবনরক্ষাকারী ঔষধ উৎপাদন না করে দেশের কতিপয় ঔষধ কোম্পানি অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ঔষধ উৎপাদন ও বিক্রি করত। অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ঔষধ সহজপ্রাপ্য ছিল না, দামও ছিল বেশি। অন্যদিকে ঔষধের বাজারের সিংহভাগ ছিল বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির দখলে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ঔষধ উৎপাদন, আমদানী ও বিপননে জনস্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮২ সালে প্রথম জাতীয় ঔষধনীতি ও ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ঘোষিত হয়। সরকারের এই উদ্যোগ দেশের ঔষধ খাতে এক বিপুল ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করে।

১৯৮২ সালে ঔষধনীতি প্রণীত হওয়ার আগ পর্যন্ত দেশের ১৭৭টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র আটটি বহুজাতিক কোম্পানি মোট ঔষধের শতকরা ৭৫ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করত। ঔষধনীতি ঘোষিত হওয়ার পর দেখা গেল, ১৯৯১ সালে মোট ঔষধ উৎপাদনের ৬০ ভাগ দেশি কোম্পানি নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সরকারি মালিকানাধীন এসেন্সিয়াল ড্রাগ কোম্পানি সরকারের চাহিদার ৭৫ ভাগ মেটাতে সক্ষম হচ্ছে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশের ঔষধ কোম্পানিগুলো ১৭৫ কোটি টাকার ঔষধ উৎপাদন করে; পক্ষান্তরে ১৯৯৫ সালে এই উৎপাদনের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় ১১৭০ কোটি টাকায়। ১৯৮২ সাল থেকে পরবর্তী ১০ বছরে বাংলাদেশে শতকরা হিসেবে ঔষধ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছিল ২২০ ভাগ। ঔষধনীতি প্রণীত হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধের পরিমাণ ছিল মাত্র শতকরা ৩০ ভাগ। ১০ বছর পর দেখা গেল উৎপাদিত ওষুধের ৮০ ভাগই ছিল প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য অত্যাবশ্যকীয় এবং বাকি ২০ ভাগ ছিল অন্যান্য প্রয়োজনীয় ঔষধ। উল্লেখ্য, আমাদের দেশের মোট ঔষধের চাহিদার ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ ঔষধ বর্তমানে দেশীয় কোম্পানিগুলোই উৎপাদন করছে।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দশটি ঔষধ কোম্পানির নয়টিই স্থানীয় কোম্পানী, মাত্র একটি বহুজাতিক কোম্পানী সেরা দশে রয়েছে। এই সেরা দশটি কোম্পানি দেশের ঔষধ বাজারের শতকরা ৬৪ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করে। ২০০৫ সালে দেশের ঔষধ বাজারে বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ কমে শতকরা মাত্র সাত ভাগে এসে দাঁড়ায়।

ঔষধ রপ্তানীতেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের প্রায় ৯০টি দেশে বাংলাদেশ ঔষধ রপ্তানী করছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ মাননিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাংলাদেশের অনেক ঔষধ গুণগত মানের স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি ঔষধ কোম্পানী ঔষধ উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মানের Good Manufacturing Practices (GMP) স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ১৯৮৯ সালে মোট দুই কোটি টাকার ঔষধ রপ্তানী থেকে ২০১০ সালে রপ্তানী বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

ঔষধ নীতি ১৯৮২ বাস্তবায়নের ফলে ঔষধের দামও অনেক কমে আসে এবং আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের নিম্ন ক্রয় ক্ষমতা সত্ত্বেও ঔষধের প্রপ্যতা বৃদ্ধি পায়, জনস্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব রাখে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সামগ্রীক অগ্রগতিতে ঔষধ খাতের এই ইতিবাচক পরিবর্তন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের ওপর ট্রিপস্রে সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রিপস্ চুক্তি কার্যকর করার ক্ষেত্রে দোহা ঘোষণা অনুসারে অন্তবর্তীকালীন ছাড়ের মেয়াদ ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যাবে। ট্রিপস্ চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পের বাস্তব অবস্থার ব্যপক এবং তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন সংঘটিত হবে। বাংলাদেশের ঔষধ উৎপাদন, আমদানী, বিপনন, মান, মূল্য, প্রাপ্যতা - এসব কিছুর ওপর ট্রিপস চুক্তির বাস্তবায়ন ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতি - উভয় ক্ষেত্রেই ট্রিপস্ চুক্তির বাস্তবায়ন বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন।

ট্রিপস্ চুক্তির ফলে বাংলাদেশে তখন ঔষধ শিল্পে পেটেন্ট বা মেধাস্বত্ত্ব আইন কার্যকর করতে হবে। কোন ঔষধ কোম্পানী অন্যের পেটেন্টকৃত ঔষধ বা কাঁচামাল উৎপাদন করতে পারবে না। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্পে গবেষণায় উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে আছে। দেশিয় কোম্পানিগুলোর নিজস্ব পেটেন্টকৃত ঔষধের সংখ্যা একবারেই উল্লেখযোগ্য নয়। ট্রিপস্ কার্যকর হলে-

•    দেশের ঔষধ শিল্পের বাজার বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং এটা তাদের দখলে চলে যাবে। দেশের ঔষধ শিল্পখাত মুখ থুবড়ে পড়বে। ধনী দেশের বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানির সাথে অসম এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ঔষধ কোম্পানিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কষ্টকর হবে।
•    বাংলাদেশ সরকার দেশিয় ঔষধ কোম্পানিগুলোকে কোন ধরনের বাজার সুরক্ষা দিতে পারবে না।
•    ঔষধ খাত অনেকটাই আমদানী নির্ভর হয়ে পড়বে।
•    ঔষধের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা হয়ত সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।
•    ঔষধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। ঔষধের বাজারও পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক থাকবে না। এক বা একাধিক বহুজাতিক কোম্পানি বা তাদের সিন্ডিকেটের মুনাফার স্বার্থে ঔষধের মূল্য নির্ধারিত হবে।
•    জীবন রক্ষাকারী ঔষধের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।
•    অবাধ আমদানীর কারণে ঔষধের চোরাচালান বৃদ্ধি পাবে। সরকার রাজস্ব হারাবে।
•    দেশিয় ঔষধ শিল্প খাতে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাবে।
•    দেশিয় ঔষধ শিল্প ক্রমহ্রাসমান হলে টেনোলজি ট্রান্সফার বা প্রযুক্তি হস্তান্তর বন্ধ হয়ে যাবে।
•    ঔষধ রপ্তানী ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে।
•    দেশিয় ঔষধ কোম্পনিগুলোর পক্ষে টিকে থাকা কষ্টকর হবে। ঔষধ কোম্পানি বন্ধ হলে সেটা আর্থিক খাতের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। কর্মসংস্থান হারাবে শিক্ষিত ও দক্ষ কর্মীরা।
•    দেশের বৈদেশিক মুদ্রা খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের আমদানী নির্ভর অর্থনীতির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান ঔষধ রপ্তানী একটি আশাবাদের সঞ্চার করেছে। সেটি বন্ধ বা সংকুচিত হয়ে গেলে এবং ঔষধ আমাদানী ব্যাপকভাবে বেড়ে গেলে সেটা অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করবে।
•    বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশে তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে ঔষধ রপ্তানী করে। এদেশের ঔষধ খাত সংকুচিত হলে বা রপ্তানী বন্ধ হলে বা হ্রাস পেলে ওইসব দরিদ্র দেশকে অধিক মূল্য দিয়ে ধনী দেশ থেকে ঔষধ আমদানী করতে হবে। ট্রিপস্রে পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হবে বেশকিছু দরিদ্র বা স্বল্প আয়ের দেশ।
•    কোন কোন গবেষক অবশ্য মনে করেন, বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পগুলো অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে গবেষণা এবং উন্নয়ন খাতে অধিক বিনিয়োগ করবে এবং ফলে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর ট্রিপস-এর সম্ভাব্য প্রভাব
ট্রিপস্ চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বাস করে। জীবন ধারনের জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ সংস্থানের সামর্থ্য তাদের নেই। দেশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সরকারি বরাদ্দও অত্যন্ত অপ্রতুল। এ পরিস্থিতিতে ট্রিপস্ কার্যকর হলে-

•    চিকিৎসা সেবার ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। ফলে অনেক দরিদ্র মানুষের পক্ষেই চিকিৎসা গ্রহণ সম্ভব হবে না।
•    প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দরিদ্র জনগণের আওতার বাইরে চলে যেতে পারে।
•    মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি পেতে পারে।
•    সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা ঘটেছে তা হুমকীর মধ্যে পড়বে এবং বাধাগ্রস্থ হবে।

প্রয়োজন ঐকবদ্ধ আওয়াজ তোলা
এ অবস্থায় মেধাস্বত্ত্ব নীতি কার্যকর করার নামে ট্রিপস্ চুক্তির বাস্তাবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের স্বল্প আয়ের দেশগুলোকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টির বিরোধিতা করে ঐকবদ্ধ হওয়া ও আওয়াজ তোলা প্রয়োজন। জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ কথাটি স্পষ্ট করে তুলে ধরা দরকার যে, অর্থনৈতিক এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে উন্নত দেশগুলোর সুবৃহৎ বহুজাতিক কোম্পনির সাথে বাংলাদেশের মতো স্বল্প আয়ের পিছিয়ে থাকা দেশের স্থানীয় ঔষধ কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা অসম, অন্যায্য এবং অনৈতিক। স্বল্প আয়ের ৫০টি দেশের বিপুল বিত্তহীন এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার থেকে দূরে ঠেলে দেবে এই আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়ন হলে। এই চুক্তি মূলত ধনী দেশের শক্তিশালী বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর স্বার্থকেই সুরক্ষিত করবে এবং দরিদ্র দেশের কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত সুরক্ষা প্রত্যাহার করতে বাধ্য করবে।

আজ  বিশ্বের স্বল্প আয়ের ৫০টি রাষ্ট্র ও অন্যান্য রাষ্ট্রের সহানুভূতিশীল গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি বৈশ্বিক আন্দোলনের সূচনা করার সময় এসেছে। জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার এবং মানবাধিকারের চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ - স্বাস্থ্য কোন পণ্য নয়, স্বাস্থ্য আমার অধিকার।

তথ্যসূত্র:


1. Azam, Mohammad M. and Richardson, Kristy (2010) "Pharmaceutical Patent Protection and Trips Challenges for Bangladesh: An Appraisal of Bangladesh's Patent Office and Department of Drug Administration," Bond Law Review: Vol. 22: Iss. 2, Article 1. Available at: http://epublications.bond.edu.au/blr/vol22/iss2/1

2. Yusuf, Mohammad Abu (2006), “WTO TRIPS and Bangladesh Pharmaceutical Industry : Status, Prospects and Challenges,” AIUB Journal of Business and Economics, Vol. 5, No. 2.

3. Faruk, A B M, Faculty of Pharmacy, University of Dhaka, “TRIPS and Access to Medicines in Least-Developed Countries,” Presented at South Asia Social Forum Seminar, Unpublished Presentation.

12345
Total votes: 600

মন্তব্য

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

বেশ চমৎকার বিষয় নিয়ে লিখেছেন। আমাদের গ্রুপ বর্তমানে ফার্মাসিটিউক্যালস স্থাপন করছে। ২০১৩ সালের জানুয়ারীতে প্রোডাক্ট বাজারজাত করবে বলে শুনছি।

লেখাটার একটা প্রিন্ট কপি আমাদের মার্কেটিং ম্যানাজারকে দিয়ে দিচ্ছি। আশা করি তিনি কাজে লাগাবেন।

 

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীগুলোর উচিত এই বিষয়টা নিয়ে সক্রিয় হওয়া। তারাই প্রথমে ট্রিপসের শিকার হবে। আমি নেটে খুঁজে এসকেএফ-এর একটা লেখা দেখলাম। এছঅড়া ঔষধ শিল্প সমিতি সম্ভবত একটা সেমিনার করেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ট্রিপস্ কার্যকর করার সময় ১৫ বছর পিছিয়ে দেয়ার দাবি করেছেন। তবে সরকারের সক্রিয়তা এবং সফলতা নির্ভর করবে অনেক কণ্ঠে আওয়াজ তোলার ওপর।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

বিষয়টা কিন্তু ভয়াবহ। এই শিল্প সবে চাঙ্গা হয়ে উঠছে।

(আমাদের মার্কেটিং ম্যানেজার মনে হয় এই বিষয় প্রথম জানলেন!) 

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

কি হে বন্ধু, মাসেও কি একটা নুতন লিখবেন না! লেখা লেখি কি এতই কঠিন কাজ হয়ে গেল! হা হা হা...। ৩৬ এ ব্যাখা আছে অবশ্য।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

সত্যি বলছি, আপনার প্রত্যেকটি পোস্ট পড়েই একটা লেখা দিতে ইচ্ছে করে। ভাবি, এত সহজ কথায় এত সুন্দর করে যদি লেখা যায়, আমার কথাগুলোও সবাইকে জানিয়ে দেই! কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিরায়ত আলস্য এসে আমার ইচ্ছার ওপর বিজয় ঘোষণা করে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, আমি যদি শেষ পর্যন্ত নিয়মিত লেখক হতে পারি কখনও, সেটার পেছনে আপনার অনুপ্রেরণা হবে অন্যতম কারণ।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

মাসের পর মাস যাচ্ছে বন্ধু, নুতন লেখা কোথায়?

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

আপনাকে অনলাইনে দেখা যাচ্ছে, কেন এই নিরবতা!

মন্তব্য