slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

জামাত-শিবিরকে রুখতে হবে

হতাশ হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিলেও হয়ত দোষ দেয়া যাবে না। আর এই আধুনিক (নাকি উত্তর-আধুনিক) ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যের যুগে নিজস্ব পছন্দ থাকাটাও সঙ্গত। আমাদের ক্ষমতায় যাওয়া-আসা করা বা ক্ষমতার আসে পাশে ঘোরা-ফেরা করা রাজনীতি ব্যবসায়ীদের ওপর আস্থাহীনতার কারণে অনেক মানুষই রাজনীতির ব্যাপারে আগ্রহী হতে চান না। অনেকে আবার সাত-পাঁচে (যন্ত্রে) নেই, শুধু ষড়যন্ত্র দেখেন। আপনার-আমার যে কোন রাজনৈতিক ভূমিকা ওইসব রাজনীতি ব্যবসায়ীদের কারও না কারও স্বার্থে ব্যবহৃত হতে পারে। এসব বাস্তবতা বিবেচনা করেই বলছি, আমাকে-আপনাকে আজ  সোচ্চার হতে হবে। জামাত-শিবির রাজাকারদের রুখতে হবে।

একাত্তরে এরা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। খুন-ধর্ষণ-লুটপাটসহ হেন অপকর্ম নেই যা তারা সেদিন করেনি। জাতির আত্মার সাথে তারা বেঈমানী করেছে। সেই থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধ চলমান। নানা কায়দায় নানা মুখোশে। আজ  আবার তারা প্রকাশ্য যুদ্ধে নেমেছে। এই জানোয়ারদের ক্ষমা নেই।

পুলিশের প্রতি এদেশের মানুষের ভালবাসা বিরল। কিন্তু রাস্তায় দাঁড়িয়ে দায়িত্বরত পুলিশের ওপর জামাত-শিবিরের যে নির্বিচার আক্রমণ, তাতে পুলিশ নয়, আক্রান্ত হচ্ছে আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের পতাকা, আমাদের স্বাধীনতা। কোন যুক্তিতেই আজ  আর  চুপ করে থাকা চলে না।

জামাত-শিবিরকে রুখতে হবে। রাজাকার-আলবদরদের বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। এটাই আসল  কথা। এটুকু নিয়ে অন্তত বিতর্ক হতে পারে না। অপশনগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আসল কথাটা যেন আমরা ভুলে না যাই।

12345
Total votes: 573

মন্তব্য

আজাদ-র ছবি

জামাত-শিবির রুখতে হবে এ ব্যাপারে কোন কথা নাই। লড়াইটা হতে হবে রাজনৈতিক। রাজনৈতিকভাবে এদের পরাজিত করতে হবে। যাতে রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে এদেশের মাটিতে ওদের দাঁড়াবার কোন জায়গা না থাকে। কিন্তু চলমান জামাতী উন্মাদনাটি আমার কাছে মনে হচ্ছে একধরণের প্রদর্শনী, রাষ্ট্রের নিজের বা ক্ষমতাসীনদের কোন ইন্ধন থাকতে পারে এই প্রদর্শনীর পিছনে। 

আজাদ দা, প্রচারে প্রসার না ঠিক। কিন্তু মিডিয়াতে কি এই নিয়ম খাটে? মিডিয়া/অনলাইনে প্রচারেই আসল প্রসার। অনেকটা বিজ্ঞাপনের মত। আলোচ্য ইস্যুতে প্রদর্শনীর যদি সামান্য কিছু হয়ও তাইলে তো আমি বলব সেইটা পজিটিভ, এই প্রদর্শনী আমি নিতে রাজি আছি। আর যে ইন্ধনের কথা বললেন, তার কারণ গুলা কি কি হইতে পারে বলে মনে করেন?

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আজাদ, আমি তো বলেছি অপশনগুলো নিয়ে আলোচনা চলতে পারে। আমার নিজের ধারণা রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করাটাই সবচেয়ে ভাল অপশন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করা মানে কী? জনমানস থেকে ওদের উচ্ছেদ করা আর পিটিয়ে দেশছাড়া করা বা ধরে নিয়ে জেলে পোরা আর আইন করে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা - এর মাঝের সবগুলো অপশনই প্রয়োগ করতে হবে। আমরা কী করতে পারি? আমরা কথা বলে, লিখে জনমত তৈরি করতে পারি। ঘৃনাটা জারি রাখতে পারি। রাষ্ট্র-সরকারকে চাপে রাখতে পারি। আর ওই অপশক্তির আত্মবিশ্বাস ভেঙ্গে দিতে পারি। এটা করতে হবে।

জামাত-শিবির রাজাকারা ভয় দেখাতে চাইছে, মরণকামড় দিতে চাইছে। ক্ষমতাসীনদের ইন্ধনে তারা এটা করছে - এই চিন্তাটা উর্বর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছাড়া আর কিছু মনে হয় না। এ ধরনের প্রচারণা শেষ পর্যন্ত জামাতকেই কিন্তু লাভবান করবে।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

আজাদ-র ছবি

জামাত ইসলামসহ ধর্মীয় গোড়া রাজনৈতিক দলগুলোর একটা রাজনীতি আছে। তার রাজনীতি হল, ধর্মীয় গোঁড়ামী, প্রতিক্রিয়াশীলতা। এই দলগুলো মূলত প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটে বিভক্ত হয়ে আছে। দুই জোটের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল একধরণের প্রগতির আবরণে এই গোঁড়া ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতিই করতেছে। তারা নানানভাবে জনগণকে কেমোফ্লেইজ করতেছে। ক্ষমতার আর লুটপাটের লালসায় দুই দলই যে কোন সময় যে কারো সাথে প্রকাশ্যে হাত মিলাতে দ্বিধা করতেছে না। এর বিপরীতে একটা প্রগতিশীল, একটা সেকুলার রাজনৈতিক কর্মসূচি দিয়ে তাকে পরাজিত করতে হবে। রাষ্ট্রের পেটোয়া বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে এমনকি একটা গোঁড়া মতবাদকেও নি:শ্বেষ করা যায় না। বরং তা জনগণের কাছ থেকে এক ধরণের সহানুভূতি নেবার সুযোগ করে দেয়। তবে এই লড়াইয়ে রাষ্ট্রকে সাথে রাখতে পারলে ভালো। লড়াইটা হবে সকল ধরণের ধর্মীয় গোঁড়া ও প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতির বিপরীতে।

জামাত ইসলাম হল পালের গোদা তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অস্ত্রটা সার্বক্ষনিক উঁচিয়ে রাখতে হবে। আর রাষ্ট্রের উপর অব্যাহত চাপ রাখতে হবে এখনি 'ধর্মের নামে সকল রাজনীতি' নিষিদ্ধ করতে হবে। এই রাজনীতিই আগামীদিনের প্রগতিশীল রাজনৈতিক ক্ষমতার রাজনীতিতে পরিণত হতে পারে।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ব্যাপকভাবে তরুনদের ভোট পেয়েছিল। তরুনদের এভাবে টানতে পেরেছিল প্রধাণত জামাত ও যুদ্ধাপরাধ ইস্যু সামনে থাকার কারণে। আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ডিলে করে ও জামাত কৌশলে পথে নামিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটিকেই আবার প্রধান ইস্যু হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে। এই রাষ্ট্র সবসময় ষড়যস্ত্র করে তাই আমদের চিন্তাজগতে ষড়যন্ত্র তত্ব তৈরী হয়। তবে এটা যে কোন ষড়যন্ত্র তত্ব নয় বরং একটা রাজনৈতিক গেইম তা নিশ্চই বুঝতে পারছো।

জামাত-শিবিরের নৈতিক বল গত ক্ষমতায় থাকতেই ভেঙ্গে গেছে একই সাথে ভেঙ্গে গেছে তৃণমূলে গড়ে তোলা তার ঘাটি এলাকাগুলো। জামাত-শিবিরের উথ্থানের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও ক্ষমতাসীনদের সংস্পর্শ ছাড়া জামাত শিবির অকার্যকর শক্তি ও ক্ষমতাহীন। সে বিবেচনায় গত কয়েকদিনে তারা যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। যতটুকু ষড়যন্ত্রে গন্ধ আমরা পাচ্ছি ষড়যন্ত্রের গভীরতা তার চাইতে অনেক বেশী এবং ভয়াবহও হলেও তা অবিশ্বাস্য হবে না।

@শশাঙ্ক ও ফেরদৌস আলম।

যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করা তরুণদের মেন্ডেট একটা বড় কারন গতবার লীগ আসার। তারা স্বভাবতই চাইবে সম্ভব হলে একই মেন্ডট আর একবার নেবার। এখানে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের কি আছে আমি বুঝতে সক্ষম হলাম না। তরুণরা তো দাবি নিয়া এখনও বসে আছে, কিন্তু তাদের সামনে 'একটা সেকুলার রাজনৈতিক কর্মসূচি' কই ?

পালের গোদারে সরাতে হবে, শুধু এতটুকুই 'সেকুলার রাজনৈতিক কর্মসুচি' হৈয়া যাইতেছে, এবং এখন পর্যন্ত এর নিয়ন্ত্রন লীগের হাতে (তাদের উদ্দেশ্য লোক দেখান স্রেফ নির্বাচন জিতা এইটা আমারা বুঝি কয়দিন পর পর ধর্ম রক্ষার তাদের বিশেষ পদক্ষেপ, সংবিধানে রাস্ট্রধর্ম, 'ধর্ম উল্ল্যেখ ছাড়া বিবাহ' নিবন্ধক বাতিল করা ইত্যাদি বহু কাম কাজে), তো সেই নিয়ন্ত্রন অন্য কেঊ নিতে পারে না কেন? সমস্যা কি?

লীগ স্বাভাবতই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসাবে কেবল মাত্র পালের গোদা পর্যন্তই সরাতে চায়। সাম্প্রদায়িকত মুল্যবোধ নিয়া তাদের কোনও চিন্তা ভাবনা নাই। কারণ তারা নিজেরাই সুযোগ মত স্যেকুলার সুযোগ মত ইসলামি হইয়া উঠে। 

লীগ তো তরুণ ভোটার দের এই দাবির যুযোগ নিবেই, কিন্তু যারা জনগণের রাজনীতি করতে চায় তারা তাহলে এই সময় জামায়েত-শিবির সহ সকল ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার দাবির সাথে সাথে সংবিধানকে অসাম্প্রদায়িক করা সহ অন্যন্য দাবি একত্রে তুলে কর্মসুচি দেয় না কেন?

 জামাত-শিবিরকে রুখতে হবে। রাজাকার-আলবদরদের বিচার করে শাস্তি দিতে হবে। এটাই আসল  কথা।

দ্বিমত পোষণ করছি। রাজাকারদের শাস্তি হোক এটা একজন বাঙ্গালী হিসেবে আমিও মনে প্রানে চাই। তবে এই সব রাজাকারদের শাস্তি মানেই কিন্তু জামায়ত শিবির কে রাজনীতি করার ক্লিনশিট দিয়ে দেয়া। রাজাকারদের শাস্তি হলে কিন্তু আর কেউ জামায়ত শিবিরের দিকে আঙ্গুল তুলে কিছু বলতে পারবে না। তাই একমাত্র সমাধান হচ্ছে, আইন করে ওদের রাজনীতি থেকে ব্যান করে দেয়া। 

"নিন্দিত হতে এসেছি

নন্দিত হতে নই"

অপরাধ প্রমাণ করে শাস্তি দিলে আবার ক্লিন্সলেট কিভাবে পায়? এইসব কি বলেন? এইটা তো জামায়ত-সমর্থকদের ভাষায় চিন্তা করা হইল। কমন সেন্স কি বলে? কারও অপরাধ প্রমাণ করার আগ পর্যন্ত তাকে অপরাধী বলা যায় না। তার মোটিভ কে অপরাধ হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না. প্রমাণ করা গেলে, সাজা দেয়া গেলে? তখন তার মোটিভ (সাম্প্রদায়িক রাজনীতি) কে অপরাধ বলে চিহ্নিত করা যায়। 

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবিটা তো আমাদের স্বাধীনতার সমান পুরান! কিন্তু সেটা সম্ভব হয় নাই কেন? কারণ ধর্মের নামে একপাল জানোয়ার, ইনফ্যাক্ট একপাল না, সকল-পালের জানোয়াররাই যে মানুষ জবাই করে -মানুষ আর মানবতা দুটারেই ধর্ষণ করে ধর্ম ফলায়, ৭১ এ করা সেই ঘৃন্যতম পাপের সাজা কোনও চুতমারানি রাজাকার-আলবদর-জামায়ত-শিবির গং এখন পর্যন্ত পায় নাই। আর পায় নাই বিধায় ই ওরা এই দেশে প্রকাশ্যে আবার রাজনীতি করেতে পারছে, আর বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যারা নিজেদের সব কিছু উজাড় করে দিছে-জীবন দিছে তাদের লাশের উপর তাদের স্মৃতির উপর থুথু দিয়া আবার এইদেশের সংসদে গেছে, এই দেশের পতাকা নিয়া গাড়িতে চলছে। এইটা সম্ভব হইছে এইজন্যই যে এদের সাজা দেয়া হয় নাই। এখন বলেন, রাজাকারি করার সিদ্ধান্ত কয়েকটা কুত্তার ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত  ছিল? নাকি ধর্ম ভিত্তিক ঐ দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল? টিভি পেপারে ঐ জানোয়ারদের দেখেন না, ওরা এখনও কয় ওরা মাত্র অখণ্ড মুসলিম পাকিস্তান রক্ষার্থে সব করছে! ওদের ধোন-কাডা নামকাওয়াস্তা ধর্মটা বাদে ওদের আর কোনও প্রায়োরিটি নাই। তার মানে ওরা এই অপরাধ আবার করবে এই স্কেলে, বা বড় স্কেলে সুযোগ পাইলেই। ইনফ্যাক্ট সুযোগ-পাইলে মানে কি, কয়দিন পর পর দেখেন না সাম্প্রদায়িক হামলা? এইগুলা কি? কি মোটিভে কারা করে? তাইলে, এইদেশের মাটিতে ওগো করা  সবচেয়ে বড় স্কেলের পাপের সাজা দিয়াই তো ওগো রাজনীতির বিরুদ্ধে সবচে বড় প্রমাণ দাখিল করা যাবে -যে এরা গন হত্যা করে, বিচ্ছিন্নভাবে না, দলগত ভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়া।

এইজন্যই যে কোনও সভ্য দেশে, যে দেশের অধিবাসীরা নিজেদের মানুষ বা মানুষের বাচ্চা বইলা পরিচয় দিতে চায় তাদের অন্যতম প্রধান কাজ হইছে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতি নিষিদ্ধ করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথ চিরতরে বন্ধ করা। আর সেইটার সুত্রপাত সম্ভব সবার আগে পুরান অপরাধের বিচার করার মধ্য দিয়া।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

সহমত জানিয়ে যাই শুধু। আর কিছু না বললেও চলে।

অনেক দিন পরে দেখছি, ফেরদৌস আলম। কোথায় হারিয়ে যান, বলেন তো...?

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

 ফেরদৌস ভাই মনে হয়ে বুঝতে পারেন নি আমি আসলে কি বুঝাতে চেয়েছি। দেখুন, নিজামি, সাইদিদের ফাঁসি হলে জামায়ত শিবিরের নীতিনির্ধারকদের মৃত্যু হবে। কিন্তু এই নীতিনির্ধারকরা তাদের অসুস্থ নীতিগুলি বর্তমান জামায়ত শিবিরের নতুন প্রজন্মদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আপনার কি মনে হয় না এই নতুন প্রজন্মদের মাঝ থেকে আরও নিজামি, সাইদিরা জন্ম নেবে। আমার বলার উদ্দেশ্য ছিল,  নিজামি, সাইদিদের ফাঁসি হলে জামায়ত শিবিররা বলবে, "এখন তো আমরা পুরোপুরি শুদ্ধ একটা দল। যাদের নিয়ে আপনাদের সমস্যা ছিল তারা তো আর পৃথিবীতে নেই। এখন আর আমাদেরকে কেউ রাজাকার বলতে পারবেন না"।

কিন্তু ওইসব অসুস্থ চিন্তাধারার মানুষগুলি যদি রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তাহলে দেশের কি অবস্থা হবে একবার ভাবুন তো? 

 //এইটা তো জামায়ত-সমর্থকদের ভাষায় চিন্তা করা হইল। //

এই কথাটা না বললেও পারতেন ভাই। 

"নিন্দিত হতে এসেছি

নন্দিত হতে নই"

আপনার এই মন্তব্যে আপনি কোট করে বলে দিছেন, জামাতিরা কি কি বলবে নিজামি- আযমগো ফাঁসি বা শরিয়া আইনে (ওরা চাইলে) কল্লা কাটা হয়ে যাবার পরে! আমি শুধু আপানর নজরে আনতে চাইছিলাম যে, এই চিন্তাটা বা এই কথা গুলা পাবলিক প্লেসে বা পাবলিক ফোরামে বলার/তোলার একটা জামাতি চেষ্টা ভালভাবেই চালু আছে। তাইলে আমরা আসলে একই জায়গায় না?

কিন্তু, এই ধরনের চিন্তা জামাতিরা ফাঁকে ফোকরে প্রচার করার চেষ্টা কেন করতেছে? এইটাও একটা স্ট্রেটেজি। এইগুলা আপনি দেখবেন সোসাল মিডিয়ার খুবই অগুরুত্বপূর্ন পেইজ বলে আমরা যেগুলা এড়াইয়া যাই সেই পেইজ গুলায় - ফেসবুকে 'লাইক' ট্রাফিক জেনারেট করে যে পেইজ গুলা( মূলত করে ধর্মীয় রাজনীতির এজেন্ডা সফল)। এইগুলায় একটু সময় নিয়া উকি দিলেই দেখা যাবে, ফাঁকে ফোকোরে এরা সবাইরে মুমিন হবার দাওয়াত দেয়।

আপনি বিচার পরবর্তি আপানর শংকার কথাটা বললেন, অর্থ্যাৎ আপনি এই লাইনের কথা আগে শুনছেন, কোথাও দেখছেন , এবং আপনি নোট কইরা রাখছেন। ওরা চাইতেছেও তাই -আমদেরকে ওদের স্টাইলে চিন্তা করাইতে। অথচ আপনি চিন্তা করলেন না যে এই কথার প্রসারে জামায়েতেরই লাভ, কথার মধ্যে নুন্যতম যুক্তি নাই। জামায়েত কইল আর আপনি শুনলেন, বিচার করলে জামাত ক্লিনস্লেট পাইব! কেন পাইব কন তো? কোনও কারন আছে? এইটা আপনি আমার চেয়ে হয়ত ভাল করেই জানেন যে, ক্লিনস্লেটর পাবার কোনও কারণ নাই। কারন যে অপরাধ তারা করছে সেটা এই লোকগুলার ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্ত না, একটা রাজনৈতিক দলগত গত সিদ্ধান্ত, এবং সেই একই রাজনৈতিক মুল্যবোধ বর্তমান জামায়েত ইসলাম আপামস্তক ধারন করে, না করে উপায় নাই, কারণ তার করেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। এইটুকুতে আপনি যে আমার সাথে সহমত আপনার মন্তব্যে আমি তা সহজেই বুঝতে পারছি।

তাইলে আপনি বলেন, পাবলিক ফোরামে ওদের স্ট্রাটেজি মোতাবেক একটা  অযৌক্তিক জুজু তুললে কাদের লাভ?

এতুক্ষনে হয়ত আপনি বুঝতে পারবেন, ঐ কথাটা ব্যক্তি আপনাকে বলার কথা আমার মাথায়ও আসে নাই। আমি চিন্তার ধরনটারে বলছি, জামাতি-স্টাইলের চিন্তা। ব্যক্তিগত ভাবে আপনারে কিছু বলার অবকাশ এখানে কিছুই ছিল না! কারণ আপনি ও আমি দুজনেই শুরু থেকেই একই কথা বলছিলাম,  যে, ওদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

নাজমুল হুদা-র ছবি

 বর্তমান অবস্থায় ধর্ম আর রাজনীতি দুটোকেই অস্পৃশ্য বলে মনে হয়। মনে হয়, যদি এ দুটোকে চিরতরে পরিহার করা যেত, যেত ত্যাগ করা। মানবের কল্যাণ আর দেশ ও দশের উন্নয়নের নামে এই অস্ত্র দুটো যত ভাবে যত কৌশলে প্রয়োগ আর অপপ্রয়োগ করা যায় এবং অপপ্রয়োগ করা হয়েছে, তার সাথে আর কোন কিছুরই তুলনা করা যায় না।

এখন আর চুপ করে থাকার সময় নেই। প্রতিহত করতে হলে, চিরতরে এই অভিশপ্ত কুলাঙ্গারদের কবল থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ওরা প্রশিক্ষিত আর শৃঙ্খলাবদ্ধ এ কথা মনে রেখে পরিকল্পিত ভাবে না এগুলে ওদের মুকাবিলা করা সহজ হবে না।

রাজাকার আলবদর, জামাত শিবির সকল সময়েই ঘৃন্য ও পরিত্যাজ্য। এদেরকে নির্মূল করাই হোক সকল সচেতন নাগরিকের প্রাথমিক লক্ষ্য।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

এত দৃঢ় আর স্পষ্ট করে বলেছেন, হুদা ভাই। সহমত এবং ধন্যবাদ।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

সাহাদাত উদরাজী-র ছবি

একমত। এদের প্রতিহত না করলে দেশের বারটা বাজিয়ে দেবে। ইরাক, সোমালিয়া, সিরিয়া, লেবানন বানাতে চায় এরা।

বর্তমানের এদের কর্মকান্ড আমার কাছে তাই মনে হচ্ছে।

 

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

সহমত। আমরা ঠেকাতে না পারলে এরা দেশটাকে নরক বানিয়ে ছাড়বে।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য