slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

যা না বললেই নয়...

গুন্টার গ্রাস তো গুন্টার গ্রাসের মতো, আমি-আমরাও আমাদের মতো নীরব থাকি। মনের পিঠ দেয়ালে ঠেকলে মাঝে মাঝে সরব হওয়ার চেষ্টা করি। চিৎকার করি। প্রলাপ বকি। যা বৈশ্বিক নয়, নিতান্তই দৈশিক। কিন্তু এবার ইচ্ছে হলো গুন্টার গ্রাসের সঙ্গে গলা মেলাতে...

ইচ্ছের পেছনে অনেক কিচ্ছে আছে। অনলাইনে নিউজ আকারে প্রথম যখন পড়ছিলাম, তখনই ইচ্ছে হলো খুঁজে দেখি না! সবজান্তা গুগল মহেশ্বর তো আছেনই!

গুগলবাবা দয়াল বাবা! তিনি আমাকে Alessandro Ghebreigziabiher নামে একজনের একটি ইংরেজি অনুবাদের সন্ধান দিলেন। আমি সানন্দে সেটি সংরক্ষণ করলাম। এবং আমি আমার মতো অনুবাদ করতে শুরু করলাম। পাশাপাশি আলেজান্দ্রো'র সন্ধানে নামলাম। গুগলবাবার অসাধ্য তো তেমন কিছু নেই! যদি অনুবাদককে পেয়ে যাই। এবং পেয়েও গেলাম। গুগলে পেয়ে এবার ফেইসবুকে পাওয়ার খায়েশ প্রজাপতি হয়ে উঠলো। এবং, এবং, ফেইসবুকেও পেয়ে গেলাম...চিরকুটসহ বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠালাম গত মঙ্গলবারে; মঙ্গলবারেই মঙ্গলময়ের দয়ায় আলেসান্দ্রো আমার বন্ধুত্বে সাড়া এবং ফিরতি-চিরকুট পাঠালো। তারপর চায়ের কাপের টুং-টাং-এর মতো টুকটাক কথা-বার্তা। ইতালির রোম শহরের অধিবাসী আলসান্দ্রো। বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী। গল্প-বলার প্রফেশনাল লোক। যাই হোক, আমি তাকে বললাম আমি তোমার অনুবাদ থেকেই আমার মাতৃভাষায় কবিতাটি অনুবাদ করছি। আরও যা যা বলার বললাম। আমার পিতৃবয়সী তিন দিনের বন্ধু আলেসান্দ্রো এতে অনেক খুশি। গতরাতে আমাকে মেইল করে জানালো যদি কোনো রকম সাহায্য লাগে বলো। আমি বললাম : তুমি সাহায্য যা করার তা তো আগেই করে ফেলেছো!

এখন, বন্ধুদের বলি, গুন্টার গ্রাসের এই কবিতাটিকে  টক অব দ্য কান্ট্রি'র মতো করে আমি বলছি পোয়েম অব দ্য আর্থ। আমি যেদিন প্রথম খোঁজ করছিলাম, সেদিন আলেসান্দ্রোর অনুবাদটিই আমার চোখে পড়েছে। পরে, যতদিন দিন যাচ্ছে, অনেক অনেক অনুবাদ চোখে পড়ছে; ইংরেজি অনুবাদের কথা বলছি। এরকম বাংলায়, অনেক অনেক হয়েছে। হচ্ছে। হয়তো আরও হবে। আমি প্রথম অমিল-এর দিকেই গিয়েছিলাম। পরে, স্বভাবদোষে দেখি, প্রাণে প্রাণ পাই না। চারপাশের হাতের কাছের লোকজনও অমিলে স্বস্তি পায় না। ওদের জন্যই, আমি শেষপর্যন্ত মিলের দিকে গেলাম। ছন্দ-টন্দ নয়, স্রেফ মিল-মিলিয়ে বলার চেষ্টা করা। মিল-মিলানো গুন্টার গ্রাস মাহফুজ জুয়েলীয় ঢং-এ...খেয়ে দেখুন না দাদা...

 

যা না বললেই নয়

 

আমি নীরব কেন? কেন এই দীর্ঘ নীরবতা?

কতটুকু স্পষ্ট হলো এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার কথা?

ভুক্তভোগী আমরা দর্শকমাত্র! স্রেফ পাদটিকা!

আত্মরক্ষার গুল মেরে চলছে আগ্রাসনের দাবি

নিশ্চিহ্ন হতেই পারে ইরান, আমরা বসে ভাবি!

যুদ্ধবাজ একাই ধ্বংস করতে পারে সভ্যতার স্তম্ভ

পারমাণবিক বোমার শক্তি যার দক্ষতা আর দম্ভ!

 

এবং তখন, আমি কেন আমাকে এড়িয়ে চলবো

কেন আমিও তার নাম বলবো না...আমি বলবো;

বলবো :  বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্য গোপনে

ধনী হয়েছে সে পারমানবিক শক্তির ভয়ংকর ধনে!

 

অথচ, তাকে কেউ দেখতেই পায় না, আশ্চর্য অন্ধ

অথচ, তার কাছে কেউ যেতেই চায় না, সব পথ বন্ধ!

তার কাছে গেলে সব তদন্তের দন্তে পোকা ধরে

আর চোখে ঠুলি পড়ে?

 

আমি সকলের এই নির্মম নীরবতা অনুভব করছি

নীরবতাকে ক্রীতদাসের প্রতিশব্দ হিসেবে পড়ছি

ঘৃণ্য মিথ্যার পচাডোবায় ডুবে আছে পুরো পৃথিবী

জেগে ঘুমিয়ে থাকার ভাণ ও ভণ্ডামির ছায়াছবি

’‌‌‍‌‌‌‌‌ইহুদি-বিদ্বেষী’-এই তকমা-আঁটা জুজুর ভয়ে;

বিশ্ববিবেকের বিরাট বাঘ বসে থাকে ম্যাঁও হয়ে!

 

কিন্তু এখন, এমনকি আমার স্বদেশ; --জার্মানি;

পৃথিবীর মানুষ এবং আমি তার যে ইতিহাস জানি

রক্তাক্ত কলংকিত তার হাত, সব মহাপাপের বাপ

বাধ্য হয়ে নিয়তির মতো মেনেছে অযুত অভিশাপ;

বারংবার নিছক ন্যায্য বাণিজ্যের নামে—

স্রেফ ক্ষতি কিনেছে অনেক চড়া দামে

এবং এখনো ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইসরায়েলকে নাকি

আরো একটি যুদ্ধাস্ত্র--ডুবোজাহাজ দেয়ার আছে বাকি!

 

ইসরায়েল, যার বুলির তোড়ে অসংখ্য খুলি উড়ে যায়

যেখানে সেখানে যে পারমানবিক বোমার প্রমাণ পায়

সে অদ্ভুত কাকতাড়ুয়া এক, জয়ের প্রয়োজনে বানায় ভয়

তাই আমাকে বলতেই হচ্ছে, যা আসলে না বললেই নয়!

কেন আমি এতদিন চুপ ছিলাম? শেকড়ের গোপন টান?

সিন্দবাদের নাছোড়বান্দা ভূত ঘাড়ে বসে টানছে কান?

তাই আমিও ইসরায়েলের মুখের ওপর করিনি উচ্চারণ

এই সত্য! না হয় সত্যকে পাশ কাটানোর কী কারণ!

 

আমি এখন কেন এসব কথা বলছি?

যখন অমোঘ মৃত্যুর পথে হেঁটে চলছি;

শেষ কালে শেষ কালিতে কেন লিখছি—

যেনো দিব্যি দিব্যচোখে দেখছি;

ইসরায়েল; পারমানবিক শক্তিধর এই শয়তান

বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি! বিশ্ববাসী সাবধান!

 

এটা আজ, এক্ষুণি আমাকে বলতেই হবে

কেননা আগামীকাল অনেক দেরি হয়ে যাবে;

একজন জার্মান হিসেবে আমি জানি

অতীতের অনেক ভুল এবং গ্লানি

কিন্তু আর নয়; এমনিতেই আমরা অপরাধভারে নত

তাই চোখের সামনে ঘটতে দিতে চাই না এই ক্ষতি আর ক্ষত!

 

এবং আমি দুঃখিত, কোনোমতেই চুপ রবো না আর

কেননা পশ্চিমা ভণ্ডামির ভাণ্ডার জানা আছে আমার

কেননা, আমি জানি, অনেকেরই মুখে আধফোটা ভাষা

উন্মুখ অধীর অপেক্ষায় তারা, কেবল পতনের প্রত্যাশা

তারা চায় ইসরায়েলের পরমাণু শক্তি আর ইরানের পরমাণু ক্ষেত্র

দুটোতেই দৃষ্টি রাখুক আন্তর্জাতিক নতুন সংঘের নিরপেক্ষ নেত্র!

তারা চায়, ইসরায়েল যেনো পারমানবিক শক্তিশূন্য হয়

সেই শক্তির মুক্ত এবং পোক্ত দখল পেলেই মানুষের জয়।

 

আর ঠিক এভাবেই, ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, এবং সবাই

দীর্ঘ মুখোমুখি হিংসা-বিদ্বেষ থেকে পেতে পারে রেহাই।

 

English Translation by Alessandro Ghebreigziabiher

Bengali Translation by Mahfuz Jewel

12345
Total votes: 552

মন্তব্য

আরে বাহ॥ এ এক নিদারুণ বোমা।
 

মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান-র ছবি

সুন্দর হইছে

যূথচারী-র ছবি

প্রায় আড়াই মাস পর নিজের ব্লগের বাইরে প্রথম কোনো ব্লগে মহামূল্যবান মন্তব্য প্রদান করার মাত্র পরের দিনই আবার দ্বিতীয় আপনাকে আবারো অভিনন্দন। উন্মোচন ক্রমেই আপনার মন্তব্য পাওয়ার উপযোগী হয়ে উঠছে।


রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই শূন্যতা-
আকাশে তখন থমকে আছে মেঘ,
বেদনাবিধুর গীটারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখিদের সংবেদ!

কবিদের আসলেই কেউ দাবায়ে রাখতে পারে না...

উন্মোচনে একটা অনুবাদের পড়ার অপেক্ষা ছিল। ধন্যবাদ।

অনুবাদ*

আজাদ-র ছবি

কাকতালীয়!! এই অনুবাদটা আজ প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকিতে দেখলাম। অনুবাদক সাজ্জাদ শরিফ। সেটার তুলনায় আপনার অনুবাদটি অনেক বেশি ঝরঝরে, যোগাযোগ স্থাপক ও স্থানিক। এটা সাহিত্য হয়ে উঠেছে পুরো স্বাদটাই পাওয়া যায়।

ধন্যবাদ মাহফুজ জুয়েল, এরকম অসাধারণ একটা অনুবাদ শেয়ার করার জন্য। উন্মুখ হয়ে রইলাম পরেরটার জন্য..

 

আগেই পড়েছিলাম আপনার অনুবাদ। আজকে আবার এখানে ভূমিকাসহ পড়ে ভালো লাগলো।

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

এখন থেকে নিয়মিত মাহফুজ জুয়েলের কবিতার পাশাপাশি অনুবাদ পড়ার দাবিও করা যায় তাহলে...

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

হে আমি!

হ্যাঁ, আপনি পারেন। অবশ্যই পারেন।

শুনে আমারও অনেক ভালো লাগলো।

সবার জন্য শুভ কামনা।

 

আমি জানি, অনেকেরই মুখে আধফোটা ভাষা; উন্মুখ অধীর অপেক্ষায় তারা, কেবল পতনের প্রত্যাশা...

মন্তব্য