slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

ভূমিকার ভূমিকা অথবা নিজের ঢোল নিজে পিটাই...

দর্শক, আপনারা যারা আমার গ্যালারির লোক, তারা তো সবই জানেন! জানেন যে, এবারের বইমেলায় আমার একটি বই-সন্তান জন্ম লাভ করেছে। আপনাদের মতোই আমার কাছের দর্শকেরা তার নাম রেখেছে : দর্শক, খেলা চলছে...

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। উন্মোচন করেছেন অদিতি ফাল্গুনী। এ সময় আমার দুইপাশে আরো অনেকে ছিলেন, ফলে সবার নাম লিখতে বা বলতে পারছি না, তাছাড়া আমার মনে হচ্ছে তারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ এবং বাংলা শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ভবিষ্যতের কর্ণধার...তাই জেনে-শুনে ঝুঁকি নিলাম না! কার না কার নাম বাদ পড়ে যায় কে জানে!

তবে দর্শক, আমি বহু দূর পথ-ঘাট-তেপান্তরের মাঠ ডিঙিয়ে ল্যাংচাতে ল্যাংচাতে আপনাদের এই রঙিন মাঠে এসে হাজির হয়েছি! আমি চাই আপনারা আমার কথায় কান দেবেন, মন দেবেন এবং সম্ভব হলে প্রাণ দেবেন! এজন্য আপনাকে কষ্ট করে আমার বইটি সংগ্রহ করতে হবে। পাওয়া যাচ্ছে একুশে বইমেলার ৯৭ ও ৪২৬ নম্বর স্টলে। (আদর্শ প্রকাশনী ও জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনীতে।)

আপনারা যারা কষ্ট করে এতক্ষণ ভূমিকার ভূমিকা পড়লেন তাদের জন্য এবার বোনাস হিসেবে দর্শক খেলা চলছে...'র

ভূমিকা

তেত্রিশ বছরের বিভিন্ন সময়ের দুর্যোগে ‌দুর্ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া কবিতার সংকলন হচ্ছে দর্শক, খেলা চলছে...। আমার অনেক অনেক কবিতা এবং অন্য অনেক লেখা অনেকবার হারিয়ে গেছে। কম্পিউটারও বেশ কয়েকবার আমাকে নিঃস্ব করেছে।

নিজেও নিজেকে একবার নিঃস্ব করেছি; আমার তখন খুব মরতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। চাচ্ছিলাম আক্ষরিক অর্থে মরতে! আক্ষরিক অর্থে মরা মানে মরার পর কোনো লেখা বা স্মৃতিচিহ্ন না থাকা!

মৃত্যুর দুয়ার সবার জন্য সব সময় খোলা! আমি কড়া নাড়লাম। মরার আগে অগ্নিযজ্ঞের আয়োজন করলাম। আমাদের নতুন বাড়ির পুরনো পুকুরের নির্জন পাড়ে। সেখানে নোনা জল ফেলতে ফেলতে  বেশ কয়েকটি ডায়রি, প্রেমপত্র এবং নিজের শৈশব-কৈশোরের সব ছবি পুড়ে ফেললাম!

চোখের সামনেই সব আগুন হলো,ছাই হলো! ছাইগুলো ছিটিয়ে দিলাম পুকুরে! ছাই দেখে খাবার মনে করে মাছেরা ছুটে এলো! মাছেদের ওই ছুটে আসা আমার দারুণ ভালো লাগলো। হঠাৎ মনে হলো, ভালো লাগলেও মানুষ পুরোপুরি মরতে পারে না! মনে হলো, লেখা-টেখা ছবি-টবি স্মৃতি-টৃতি সব তো পুড়ে ফেললাম, ভালো লাগাকে পুড়বো কেমন করে?

খুবই কম বয়সে লিখতে শুরু করেছিলাম। গ্রামের বাড়ি হোসেনপুরের উপমাতীত প্রকৃতি, দিগন্তবিস্তৃত বহুরূপী রূপসী মাঠ; পৈতৃকসূত্রে পাওয়া সমাজভাবনা, বিধ্বংসী বাল্যপ্রেম আর আকৈশোর হাঁপানি; এরাই আমাকে হৃৎপিণ্ডের অস্তিত্ব জানান দিয়েছিলো, কলম ধরতে শিখিয়েছিল; কবিতা লিখিয়েছিলো এবং মানুষের কাছে ঠেলে পাঠিয়েছিলো।

আমাদের গৃহসন্ন্যাসী ডায়রি-পরিবারে কাব্যপ্রতিভার কদর ছিল; পরিবারের বাইরে পিচ্চিকবি যখন প্রাইমারি স্কুলে গেলো; তখনও বন্ধু-বন্ধুনী ও শিক্ষকদের কাছে বেশ বাড়তি আদর পেলো। তারপর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আদরে আদরে বাঁদর...যেনো নাচুনে বুড়িকে নাচানোর জন্য  পৃথিবীতে অনেকগুলো ঢোল ব্যস্ত হয়ে পড়লো! নাচাতে নাচাতে বুড়িকে প্রায় পাগল বানালো! বুড়ি বাড়ি-ঘর ভুললো। পথে পথেই ঘর-বাড়ি তুললো। এগুলো অবশ্য নেহাত ব্যক্তিগত চির-অপ্রকাশিত রক্তাক্ত কবিতা!

কবিতাকে আমি বলি কথা বলা। স্রেফ কথা বলা। কবিতা আসলে কথা। কথা শব্দটিতেই আমি প্রকাশ্য জোর দিতে চাই। বলতে চাই, কবিতা কবির কথা। কবি যা বলেন তা-ই কবিতা। এখন কথা হচ্ছে এই কথা নিয়ে; কবি কি কথা কোন কথা কেমন কথা কার কথা বলবেন?

এমনিতেই পৃথিবীতে কেউই হুবহু অন্য কারো মতো কথা বলতে পারে না। মানুষমাত্রই স্বতন্ত্র কত্থক। তার মনোজগত পৃথক, তার বাচনভঙ্গি শব্দচয়নও পৃথক। কবিতার ক্ষেত্রেও কবিমাত্রই আসলে স্বতন্ত্র। কাঠামোগত অনুকরণ বা স্বতঃস্ফূর্ত অনুগ্রহণ সত্ত্বেও কবি স্বতন্ত্র। তাকে পড়তে গেলেই তাকে ধরতে পারা যায়।

তো চলেন, আমরা কথা বলি। আর কতদিনই বা আমরা কথা বলবো কে জানে! তবে মানুষ মানুষ থাকলে নিজের সঙ্গে নিজে অন্তত কথা বলবে! আর নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলার আরেক নাম কবিতা!

পিচ্চিবেলা থেকেই লিখছি, তাই বই-প্রকাশের ইচ্ছেটার বয়স ইতোমধ্যে অনেক হয়েছে। কিন্তু ইচ্ছেটা দীর্ঘসময়ধরে ঠাকুমার কিচ্চে হয়ে মনের ভেতর রূপকথার মতো গেঁথে ছিল, বাস্তবে কাজ করছিল স্বভাবজ সুপ্রবল অনাগ্রহ। বই দিয়ে কী হবে? কে পড়বে? কেন পড়বে? পৃথিবীজুড়ে কত কত কবি! কত কত কবিতা! আমি তাদের কজনকে পড়তে পেরেছি! যদি পৃথিবীর সব কবিদের কবিতাই পড়তে না পারলাম, তবে আমি কেন নতুন করে লিখবো? এইসব আরও কীসব...

কিন্তু, এবার, আর পারা গেলো না, আমার পিছনে বন্ধু নামের বেশকিছু শত্রু লেগেছে। বেশ কয়েকবছর ধরে তারা আমাকে প্ররোচিত করে আসছে। পার্থিব-অপার্থিব নানারকম লোভ-লাভ দেখিয়ে একপ্রকার লালা ঝরিয়ে তারা আমাকে দর্শক, খেলা চলছে... প্রকাশে বাধ্য করেছে।

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কাঠপেন্সিল সাগ্রহে ঢোলের কাঠি হয়েছে। যার ফল গ্রন্থাকারে দর্শক খেলা চলছে...। সেই ফল মিঠা না তিতা তা একান্তই পাঠক ওরফে দর্শকের বিবেচনা!

মাহফুজ জুয়েল

হোসেনপুর, চান্দিনা, কুমিল্লা।

12345
Total votes: 489

মন্তব্য

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

অনেক আনন্দ জানাই! আসছি খেলার মাঠে...

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

বিপ্লব রহমান-র ছবি

গত ১০ ফেব্রুয়ারি বইটির মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। উন্মোচন করেছেন অদিতি ফাল্গুনী।

মন্তব্য নিস্প্রোয়জন।
---
অনেক শুভ কামনা।  

খেলোয়াড়ের মাঠে পুরাইনা খেলোয়াড়রে স্বাগতম। আইসতাছি।

যূথচারী-র ছবি

আপনার লেখা তো ভাল, সবারই বইটি কিনে পড়া উচিত।


রানওয়ে জুড়ে পড়ে আছে শুধু, কেউ নেই শূন্যতা-
আকাশে তখন থমকে আছে মেঘ,
বেদনাবিধুর গীটারের অলসতা-
কিঞ্চিৎ সুখী পাখিদের সংবেদ!

মন্তব্য