slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

হোজ্জার লজ্জা, আমার হাই হ্যালো!

আমার মনের মন ভালো নেই। আচ্ছামতো ধমক দিয়েছি। বিষয় কিছুই না, উন্মোচনের পাসওয়ার্ড। খালদুন, শশাদা, বাঘমামা...ওরা জানে কতবার নতুন পাসওয়ার্ড করতে হয়েছে!  আর পাসওয়ার্ড হারানো তো নিজের ঘরের চাবি হারানো!

এমনিতেই আমি নাসিরুদ্দীন হোজ্জার লজ্জার মতো উন্মোচনকারীদের প্রতি মনে মনে লজ্জায় লজ্জায় থাকি...আমাদের কথা ছিল সময়ের মুখোশ খুলে দেখার....অথচ আমি নিজেই এখন সময়-এর মুখোশ হয়ে বসে থাকি! বকরির মতো চাকরি করি! বৃত্তবন্দি প্লাস্টিক জীবন। আমি কিছুই নই, ঘড়ির কাঁটাই সব। পৃথিবী সূর্যকে, আর আমি ঘড়ির কাঁটাকে কেন্দ্র করে ঘুরছি। যার যার কক্ষপথে, যার যার লক্ষ্যমতে। আসি আর যাই।

ঘুমাই আবার ঘুম থেকে উঠি। দাঁত ব্রাশ করি। বাথরুমে যাই। বাথরুমে প্রতিদিন যা যা করার তা তা করি। গোসল করি। মাথার চুলে ঘন ঘন তোয়ালে বুলাই। আয়নার দিকে বার বার তাকাই। আরো একদিন বয়স বাড়ার অনুভূতি টের পাই। পোশাক পরি। জুতা পরি। সিগারেট জ্বালাই। হাঁটার নামে দৌড় শুরু করি।

রাস্তায় নামি। রাস্তা কই? হাশরের মাঠ। রাস্তায় নেমেই আল্লারে খুঁজি। বেটা কই? তুমি কই? এই দেশের এই অবস্থা কেন? এইটা দেশ অইলো কেমনে? এইটা শহর হইলো কেমনে? এইটা রাজধানী হইলো কেমনে? আর এই আমার মতো এত এত মানুষগুলো মানুষ হইলো কেমনে? তুমি বানাইছো? এরকম চিজ তোমার বানানো? প্রশ্নই আসে না। পৃথিবীর সবাইকে বানাইলে বানাইতে পারো, তয় বাঙালিগোরে তুমি বানাও নাই...বাঙালিগোরে বানাইছে বাঙালিরা নিজে....তার কোনো আল্লাহ-খোদা-ঈশ্বর নাই!

আমি রাস্তায় বের হয়ে প্রতিদিন মনে মনে বিলাপ করি। হাউমাউ করে কান্নাকাটি করি। মরা বাপ-মায়ের কথা মনে করে কান্দি। কেন তোমরা আমারে পৃথিবীতে আনছিলা? আনছিলা আনছিলা বালা কতা, কিন্তু এই বাউলের* শহরে কেন পাঠাইছিলা?

তোমরা তো জানো, আমার চাই হাট-মাঠ-ঘাটের রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ের খোলা আকাশ খোলা হাওয়া খোলা মনের মানুষের খোলা জীবন। অথচ আমি জীবনের নামে প্রতিদিন মরে থাকছি, পড়ে থাকছি, ঢাকায় ঢেকে আছি, বন্ধ হয়ে আছি, বদ্ধ হয়ে আছি, বন্দি হয়ে আছি। অথচ চাকরি না হলে আমার চলেই না! অথচ রাত আটটার পর অফিস থেকে বেরিয়ে আমার কাছে সব ঠাট্টার মতো লাগে!

আরো তো কত ছোটখাটো দুষ্ক-কষ্ট আছে। এরমধ্যে কত কত বন্ধু হারালাম! কেউ ইয়ে করে মরলো, কেউ বিয়ে করে মরলো, কেউ সত্যি সত্যিই মরলো।

তবে সবচে' কষ্ট লাগে জীবন্মৃতদের জন্য। যারা বেঁচে থাকার নামে মরে আছে। কষ্ট লাগে বিবাহিত বন্ধুদের জন্য...যারা বিয়ে করে ঘরে ঢুকে মরে পড়ে আছে...আর দেখা হলেই ব ব ব করে ...বিছানা বালিশ আর বউ!

***পুরো লেখাটিই হোজ্জার লজ্জা হয়ে গেলো। হাতে সময় নেই যে গুছাবো। কিন্তু গল্পটা বলি, যারা জানে না তারা জানুক, যারা অনেকদিন হাসতে পারছে না, তারা একটু হাসার চেষ্টা করুক। হাসতে চেষ্টা করলে নাকি হাসা যায়!

হোজ্জার লজ্জা

একদিন ভোররাতে নাসিরুদ্দীন হোজ্জার ঘুম ভেঙে যায়। স্পষ্ট শুনতে পান দুজন মানুষের পায়ের শব্দ।  হোজ্জা কখনো ভয় পেতেন। কখনো পেতেন না। সেই রাতে ভয় পেলেন। ঢুকে গেলেন আলমারিতে। লুকিয়ে রইলেন অনেক্ষণ। লোক দুটো ছিল চোর। তারা পুরো ঘর উল্টেপাল্টে দেখলো। নেয়ার মতো কিছুই পেলো না। একপর্যায়ে সেই আলমারিটাও খুলে ফেললো। দেখলো ওটাতে হোজ্জা ঘাপটি মেরে বসে আছেন।

হোজ্জাকে দেখেই চোর জিজ্ঞেস করলো : কী হল মোল্লাসাহেব, লুকিয়ে কেন?
হোজ্জা : লজ্জায়।
চোর : লজ্জায়?
হোজ্জা : হ্যাঁ, লজ্জায়। আমার বাড়িতে তোমাদের নেবার মতো কিছুই নেই, তাই লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছি না!

আমারও আসলে বৃত্তবন্দি জীবনে বৃত্তবন্দি ভাবনা ছাড়া তোমাদের আপাতত কিছুই...

 

12345
Total votes: 498

মন্তব্য

নজ্জার কিছু নাই। একই সিন সর্বত্রই। তাই আমাগো নিজেগো মতোই বীণ বাজাইতে হইব। অল্ফ আর স্বল্ফর কোনো পার্থক্য নাই। অতএব যা পারেন, তাই সই।

 

বিজ্ঞানও তাহাই কয়। অতএব নেকা ভালো হইছে। আর্তচিক্কার মনে বাজে। কী বাজেই না আছি আমোরা?

আজাদ-র ছবি

লজ্জা নিয়েন না। অনেক ভালো পাই আপনারে...

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আর আমরা মুখ লুকাই হোজ্জার লজ্জার কথা শুনে। আমাদের ঘরে নেবার মতো অনেক কিছুই আছে আর অনেক কিছুই নেই। থাকা না থাকা নিয়ে আমাদের বেদনা নেই। আমাদের আসলে বেদনাই নেই। নেই লজ্জাও। মাঝে মাঝে, মানে, নিতান্ত দরকারের সময়েও যখন বেদনার দেখা মেলে না, মনের গোপন কোনাটা খুঁজেও যখন এতটুকু লজ্জার লেশ পাওয়া যায় তখন আমাদেরকেও মুখ লুকাতে হয়। লজ্জায় না, লজ্জা না পাবার লজ্জায়।

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

খালিদ-র ছবি

আমরার লজ্জায় অহন প্রিজারভেটিভ দেওয়া আছে, ভিতরে হুগাইয়া যাইব, মাগার চামড়া টসটস করবো...

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

আপনারার লজ্জার কথা একটু ডিটেইল শুনতে মনচায়...

অফটপিক: এতদ্রুত মামিনসিঙ্গের ভাষা রপ্ত করলেন কেমনে!

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

খালিদ-র ছবি

লজ্জার কথা বলতেই যত লজ্জা....

অফটপিক: বলতে চাইলাম ঢাকাইয়া ভাষায়, মামিনসিঙ্গের হইল কেমনে, বিস্ময়! (বি.দ্র. আবুল মনসুর মামিনসিঙ্গের ভাষাকে পূর্ববঙ্গের মানভাষা করার দাবি জানাইছিল)

শশাঙ্ক বরণ রায়-র ছবি

অফটপিক: বিস্ময়! (বি. দ্র. পরে কি তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন?)

........................................................

আদিবাসী বাঙ্গালী যত প্রান্তজন
এসো মিলি, গড়ে তুলি সেতুবন্ধন

মন্তব্য