slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

মেহেদী হাসান-এর ব্লগ

কাসুন্দি

অতীতের মাতাল তরনী জমাট হয় মুহুর্তের বাস্তবতায়,
পুরনো টনিক মস্তিষ্কের কোষাভ্যন্তরে সরু খাল কেটে চলেঃ
শক্তিশালী, আরো বেগবান;
চিতা বাঘের ক্ষিপ্রতা ওদের চোখে-মুখে,
লুপ্ত হয় সুন্দর-অসুন্দর ভেদ জ্ঞান-
আর কে হিসাব রাখে তার!
ভবিষ্যতের দিকে যায় এগিয়ে,
কুৎসিতরা কি এভাবেই থাকে বেঁচে-
অসহায়ের লম্ফ-জম্প ছন্দ পেয়ে হয় কিছু ঘোর লাগা কবিতা।
পুকরের স্থির জলের মতই নির্দিষ্ট অপার মানবিক নিয়তি।

অস্ত্র কবিতা

পথ হারানো এক পথিক আমি আজিকার,
অনেক কিছুই জানি অথচ কোন কিছুতে নেই।
আচ্ছা দুর্বোধ্যতার রঙ কেমন হয়?
সরলতার ভাষা কি?
কবিতাকে কি হতেই হবে দুর্বোধ্য,
না হলে সে কি পদ্যই থেকে যায়।
কোন যুগে আমার বাস? আধুনিক নাকি অত্যাধুনিক!
কেমন সাহিত্য করবো রচনা? লাল, নীল, নাকি সাদা- কালো!
ভোরের আলো ফুটছে, আরো ফুটবে যতদিন সূর্য বেঁচে আছে।
জানি একটি উপমাও করতে পারিনি ব্যাবহার
তাই কবিতা হয়ে উঠলো না।
বড়ই অগোছালো হল, তাতে হলটা কি?
আমি চিৎকার করে বলবো লিখবোনা একটি কবিতাও,
কবিতা কি আমার সিগারেট খাওয়ার পয়সা জোগাতে পারে?

ভাঙ্গা দেয়াল

ধীরে, ত্রস্ত পায়ে ঘুম থেকে জাগার দিকে এগিয়ে চলেছি, এ দুটোর মাঝামাঝি আমার অবস্থান, মনে হচ্ছে একটু দ্রুত পা চালাতে হবে নইলে ইনকোর্স পরীক্ষাটি মিস হয়ে যেতে পারে। আর এই কোর্সের শিক্ষকের মনে দয়া-মায়ার লেশমাত্র নেই, প্রথমবার না দিতে পারলে দ্বিতীয়বার কোন সুযোগ আমাকে দেওয়া হবেনা, ঠিক জানি। চোখদুটো বোজা রেখেই, ঠোঁট দুটো একটু ফাক করে; শাহিনকে আস্তে ডাক দিলাম, শাহিন পত্রিকাটা দাও তো। ছেলেটি জ্বী ভাই বলে এগিয়ে এসে, পত্রিকাটি হাতে দিল। মুখের সামনে মেলে ধরে, আস্তে আস্তে চোখের পাতা খুলে দেখি-বড় বড় হরফে লেখা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র। পুরা খবরটা পড়তে ইচ্ছা হল না কারন রণক্ষেত্রে উপস্থি

মৃত্যু-উৎসব

এক

অসময়ের গল্প

এক
কতদিন নারী মাংশের স্বাদ পাই না , কতদিন যৌনপল্লীতে যাইনি ; দীর্ঘ একমাস পূর্বে একবার গিয়ে শরীরের ক্ষুধা মিটিয়ে এসেছিলাম । মেয়েগুলো কত সস্তায় যে তাদের দেহ বিক্রি করে ! পঞ্চাশ টাকা , এক-শ টাকা , দুই-শ টাকা , তিন-শ টাকা- এত কম দামে এমন ভাল জিনিস পৃথিবীর আর কোথায় পাওয়া যায় কিনা সন্দেহ! আর আমি অভাগা এমন সুযোগ নাকের ডগায় পেয়েও সামান্য কটি টাকার অভাবে , দেহের লালসা নিয়মিত নিবৃত্ত করতে পারিনা ।

ভালো লাগা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও সমুদ্র কন্যা নারিকেল জিঞ্জিরা ঘুরে এলাম কিছুদিন আগে । অনেক দিন থেকেই স্বপ্ন দেখছিলাম সমুদ্রে যাব ; সমুদ্রে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ওর অংশ হব - অতি বিরাটাকার জিনিসের খুব ক্ষুদ্রাকৃতি একটি অংশ । হঠাৎ করেই স্বপ্নটি পূরণ হয়ে গেলো , রাত্রি সাড়ে নটার সময় বাসে চড়ে ; সকাল দশটার মধ্যে কক্সবাজার ।

ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির বিষবৃক্ষ

বাংলার মাটিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবৃক্ষের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত । এই বিষবৃক্ষটি বাঙ্গলার গনমানুষের কু-সংস্কার , অজ্ঞানতা ,অসচেতনতা ও ধর্মীয় গোড়ামীকে পুজি করে বাংলার মাটি থেকে জারক রস সংগ্রহ করে চলেছে । এবং শিক্ষা ,চিকিতসা ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মোটা মোটা শিকড় তৈরী করে , বাংলার মাটিতে তাদের ভিত্তি পাকাপোক্ত করে ফেলেছে । এই বিষবৃক্ষটি নিজেকে আরো শক্তিশালী ভাবে , বহুদিন টিকিয়ে রাখার মানসে, প্রগতিশীলতার ঝড়-ঝাপটা থেকে বাচাতে প্রতিক্রিয়াশীলতার চর্চা বাংলার আকাশে বাতাসে পরিব্যাপ্ত করতে ; নিউজপ্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যমের মোটা ও শক্ত বাকল তৈরী করেছে । ধর্মীয় গোড়ামী

আমাদের বর্ণবাদঃ

কুসংস্কার, ধর্মীয় গোড়ামীতে ভরপুর , পুরুষতান্ত্রিক ও পৃথিবীর অন্যান্য সমাজের তুলনায় অনেক পিছিয়ে থাকা আমাদের এই জরাজীর্ণ সমাজে বর্ণবাদ আছে কি ? প্রকট ভাবে হয়ত নেই , প্রচ্ছন্ন ভাবে আছে কি , প্রকাশ্যভাবে হয়ত নেই , গোপনে থাকতে পারে কি , আমাদের মনের সচেতন স্তরে নেই ,অবচেতন স্তরে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু ?

আমি সেই বর্ণবাদের কথা বলছি , যার কারনে যুক্তরাষ্ট্রে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রকে আততায়ীর গুলিতে প্রান দিতে হয়েছিল , মূলত সাদা ও কালো রঙয়ের মানুষদের মাঝের বৈষম্যকে।

সম্ভব-অসম্ভবের গান

অপবিত্র আমি
মরে গিয়ে হয়ে উঠতে চাই পরম পবিত্র ;
পরাজিত সৈনিকের মত ফিরে এসে,
জীবনের বেলাভূমে পেতে চাই
শহীদের বিনম্র সন্মান ;
ধূসর চোখ মেলে ,দেখতে অসম্ভব
ইচ্ছে জাগেঃ
আমার মায়ের , একমাত্র
পুত্র হারানো বুক-ভাঙ্গা শোক;
পিতার কঠিন চোখে দু-ফোটা কোমল পানীয়ঃ

টেলিভিশনের রঙ্গীন পর্দায়, তীব্র যৌনাবেদনময়ী সংবাদ পাঠিকার
সরু লাল ঠোটে , নিজের মৃত্যু সংবাদ শুনে-
অনন্য পুলকের উষ্ণতায় গলিত আমি !
নোনা জলে সিক্ত
প্রেমিকার সুডৌল স্তন যুগলে,
কেঁপে কেঁপে উঠে
আমার দুটি স্পন্দনহীন মৃত হাতঃ

স্বপ্নভূমে

ওরা তালাক দেওয়ার পরও
সঙ্গম করে বেশী বেশী ,
কি অসম্ভব সুন্দর
অভিজ্ঞানঃ

মেঘের মত উড়ে আকাশে-
ধরা দেয় প্রচন্ড ভাবে ;
পারিনা চুম্বন করতে ।

আমি বিয়ে করেছিলাম
অধরে বৃদ্ধাঙ্গুলি ছোয়াতে পারিনি
প্রেমিকারা করে ছিন্ন ভিন্ন ধর্ষণ ।

তারপর একদিন ভাবনার
জোয়াল কাধে নিয়ে
এসেছি চলে,
তাকাতেও পারিনি কোনদিনঃ

ধোয়াটে মেঘের পানে তাকিয়ে ,
হয়েছে বিরানভূমি-
পিতার সুঠাম সন্তানেরা
করে রক্তপান ;
কুমারী পিতার ঘরে জন্ম নেয়
নষ্ট যিশু ।

শুভ কাজ অশুভ পরিনতি-২

-
উপরের শিরোনামে এর পূর্বে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম, সেখানে আরোপিত বিয়ে নিয়ে কিছু আলোচনা ছিল । প্রবন্ধের উপসংহারে আমি বলেছিলাম, বিয়ে নামক চুক্তিটি কেবল পারে ; মানব-মানবীর সম্পর্ককে আরো বেশী বৈষম্যমুলক করতে এবং সমাজকে পেছনের দিকে টেনে নিয়ে যেতে ।

একজন পাঠক মন্তব্য করে , ভালোবাসার বিয়েও কি সমাজকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে যায় কিনা ? এই প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনার জন্যই আমার এই বর্তমান প্রয়াস ।

শোক

একটি প্রেম যদি থাকতো,
পরম নির্ভারতার জায়গা যদি পেত;
কোথাও নিজেকে পুরোপুরি সমর্পণ
পারতো করতে ,
পরিনতি কি হত এমন!
হয়ে তো গিয়েছে,
এতো প্রেম , এতো ভালোবাসা,
শোকের এত মাতম ,অনুভূতির এত তীব্রতা!
প্রয়োজনহীন প্রেমের বড় কাটতি আজকে,
বেচে থাকাকালীন , যতটুকু ভালোবাসতাম
তারচেয়ে বেশী প্রেম আসেনা অনুভবে;
জ্বর হলে যতটুকু,তার বেশী শোকগ্রস্ত কখনো নইঃ

নির্বাচনী অপসংস্কৃতি

যুক্তফ্রন্ট ও ১৯৭০সালের সাধারন নির্বাচনের সময় আমরা দেখেছি যে , বাংলাদেশের জনগন স্বতস্ফুর্ত ভাবে ,অপশাসন , দুঃশাসন ,শোষণ , অন্যায়- অত্যাচার , অবিচার ও জুলুমের বিরুদ্ধে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে ।

বাঙ্গালীর পাঠাভ্যাস

বাঙ্গালীর কি পাঠাভ্যাস আছে ? থাকলেও বা সেটা কতটুকু ? বুদ্ধির মাধ্যমে যারা জীবিকা অর্জন করে , জীবিকার তাগিদে তাদের বই পড়তে হয় বা পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে হয় ; না হলে তাদের চলেনা । আমার প্রশ্নটি হচ্ছে , জনসাধারনের মধ্যে পাঠাভ্যাস আছে কি না ; থাকলেই বা সেটা কতটুকু ?

Pages