slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

মেহেদী হাসান-এর ব্লগ

ধর্মকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলার এখনই শ্রেষ্ঠ সময়ঃ

কোন দুর্বৃত্ত লোক বা গোষ্ঠি যদি হাতে ভয়ানক কোন মানবধ্বংশী অস্ত্র নিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা ও আরো বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করতে করতে এগিয়ে আসতে শুরু করে তাহলে নিশ্চিতভাবেই আমাদের প্রথম কাজটি হবে- ঐ দুর্বৃত্ত লোক বা গোষ্ঠীকে পাকড়াও করে তার হাতের ভয়ানক অস্ত্রটি কেড়ে নিয়ে পরবর্তীতে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো-এবং বিচারের মাধ্যমে তার কৃত অপরাধের জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করা। ঐ দুর্বৃত্ত লোক বা গোষ্ঠিটির হাত থেকে মানবধ্বংশী অস্ত্রটি কেড়ে না নিয়ে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো খুব বেশী সুবিধাজনক বলে মনে হয় না। কারন যখন তার বিচারকার্য শুরু হবে এবং বিচারের রায়ে তার উপযুক্ত শাস্তির ব্যাবস্থা করার চেষ্টা করা হবে তখন সে প্রাণপণে নিজেকে বাঁচাতে ঐ ভয়ানক অস্ত্রটির ব্যাবহার শুরু করবে- এটা তার জন্য খুবই স্বাভাবিক একটা বিষয়। সাধারণ অবস্থাতেই সে যখন তার হাতের অস্ত্রটিকে যত্রতত্র ব্যাবহার করে নানা ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়ে তোলে সে ক্ষেত্রে তার উপর যখন আক্রমণ আসবে সে তখন অস্ত্র হাতে বসে থাকবে- এটা কোন সুস্থ চিন্তার বিষয় হতে পারেনা।

ধর্ম ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিষবৃক্ষ

বাংলার মাটিতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষবৃক্ষের শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। এই বিষবৃক্ষটি বাংলার গনমানুষের কু-সংস্কার, অজ্ঞানতা, অসচেতনতা ও ধর্মীয় গোড়ামীকে পুঁজি করে বাংলার মাটি থেকে জারক রস সংগ্রহ করে চলেছে। এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যাংকিং সংক্রান্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মোটা মোটা শিকড় তৈরী করে বাংলার মাটিতে তাদের ভিত্তি পাকাপোক্ত করে ফেলেছে। এই বিষবৃক্ষটি নিজেকে আরো শক্তিশালী ভাবে বহুদিন টিকিয়ে রাখার মানসে- প্রগতিশীলতার ঝড়-ঝাপটা থেকে বাঁচাতে- প্রতিক্রিয়াশীলতার চর্চা বাংলার আকাশে বাতাসে পরিব্যাপ্ত করতে- নিউজপ্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক প্রচার মাধ্যমের মোটা ও শক্ত বাকল তৈরী করেছে।

গল্প লেখার গল্প

“অসময়ের গল্প”- এবারের অমর একুশে বই মেলায় আমার প্রথমবারের মত প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ। জিজ্ঞাস্য হতে পারে, এই গল্পগ্রন্থটির শিরোনাম “ অসময়ের গল্প” নির্ধারন করা হল কেন?

নারীর প্রতি সহিংসতা-একটি নির্মোহ সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

আমাদের এই জনপদে নারীর প্রতি সহিংসতার নিরবিচ্ছিন্ন পুনরাবৃত্তির ফলে আমরা সময়ের এমন একটা পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি যে, এখন এগুলোকে খুব বেশী অস্বাভাবিক বলে প্রতিভাত হয় না- নারীর প্রতি অধিকাংশ সহিংস ঘটনা অন্যান্য আট-দশটা প্রাত্যহিক ঘটনার মত স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয় মানুষ। আমাদের সমাজে বহু পূর্ব হতেই নারীর প্রতি নানা ধরনের সহিংসতা চলে আসছে। নারীর প্রতি সহিংসতার উদ্ভব ঘটে সাধারনত আমাদের সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন ধরনের নারী-পুরুষ বৈষম্য এবং ফলত সমাজের ভেতরে জায়গা করে নেয়া শক্তিশালী পুরুষতান্ত্রিকতার উপর ভর করে। এই পুরুষতান্ত্রিকতার অবস্থান শুধুমাত্র পুরুষের ভেতরে বললে পুরো সত্য উন্মোচিত হয় না, নারী-পুরুষ সক

শানানো কাস্তের আরেক নাম হেমাঙ্গ বিশ্বাস

-কাস্তেটারে দিও জোরে শান কিষাণ ভাইরে/ কাস্তেটারে দিও জোরে শান/ ফসল কাটার সময় এলে কাটবে সোনার ধান/ দস্যু যদি লুটতে আসে কাটবে তাহার জান রে--- হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান কিষাণের কাস্তের মতই বাঁকা এবং খাঁজ কাটা ধারালো- ব্লেডের মত মসৃন ধারালো নয়। তার গানের কথা, ছন্দ ও সুর থেকে শ্রমিকের হাতুড়ির ধাতব শব্দ উঠে। আমাদেরকে আবেশে ভাসিয়ে নিয়ে যায়না, প্রচন্ড আঘাত করে আমাদের জীর্ণতাকে খসিয়ে ফেলে; কামারের বলিষ্ঠ পেশীতে পিটিয়ে পিটিয়ে আমাদের ম্রিয়মান চেতনাকে ক্ষুরধার বিপ্লবী চেতনায় রুপান্তরিত করে। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের কন্ঠে উচ্চারিত গান আমাদের হাতে শোষণ বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র হয়ে নেমে আসে।

হরতালের অনিন্দ্য কান্তি মুখাবয়ব!

উৎসব

শীতের বিষণ্ন দুপুর- ভরপেট খেয়ে আরামের ঘুম দিয়েছে রাসেল। গলা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সমস্ত শরীরটা একটা পুরু কম্বলে ঢাকা। দরজা-জানালা সব এঁটে বন্ধ করে দেয়া-পুরো ঘর জুড়ে যেন কবরের ঘন নিস্তব্দতা। রাসেল ঘুমের অতলে ভেসে বেড়াচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সুখ স্বপ্নে, স্বপ্ন প্রাঙ্গনের এক কোনায় হঠাৎ সে দেখতে পেল দুইজন লোক নিজেদের ভেতর কি একটা রহস্যজনক বিষয় নিয়ে যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদের এই ফিসফিস শব্দ শুনে কোথা থেকে যেন আরেকজন লোক এসে যোগ দিল। ফিসফিসানির শব্দ ধীরে ধীরে গুঞ্জনে পরিণত হতে থাকে। তারপর দুই দিক থেকে দুইজন, এপাশ থেকে তিনজন, ওপাশ থেকে আরো চারজন- এভাবে আস্তে আস্তে চতুর্দিক থেকে অনেক

সময়ের আহ্বান

উৎসর্গঃ ফুলবাড়ির সংগ্রামী জনতা

যৌনকর্মীর নিজস্ব শ্রেণী অবস্থানঃ

এক ও অনেক

চতুর্দিকে শক্ত পাথরের দেয়াল-
মাঝখানে কিছু খসখসে জমিন।
এরই মাঝে ঘুরে ঘুরে চলা ফেরা-
একই পথরেখায় পরপর পায়ের ছাপ,
ঘুরছি, ঘুরছে, ঘুরছো পরস্পর অনতিক্রান্ত।
মাথার সামান্য উপরে টাইলসের ছাদ
লাফ-ঝাপ মাথায় শক্ত আঘাত;
বিকলাঙ্গ, কখনো বা মৃত্যু অবধারিত।

সহস্র বছরের সাধনায় বেড়েছে একটু সীমারেখা
এক আধ ইঞ্চির বেশী নয়।

একই পেষ্ট, একই ব্রাশ- একই দাঁত
প্রত্যেকদিন সকালে ঘষা।

একই সাবান-শ্যাম্পু অভিন্ন শরীরে-মাথায়
প্রত্যেকদিন দুপুরে গোসল।

একটি নারী, দুটি মাত্র স্তন, একই জঙ্ঘা, উরু
প্রত্যেক রাত্রে মন্থন।

আনন্দ-পঠন

সাহিত্য চর্চা করার আগ্রহ ছোট বেলা থেকে থাকলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত পাঠ্যপুস্তক বাদে গল্প-কবিতার বই পড়ার সুযোগ আমার কোন দিন তেমন ভাবে হয়ে উঠেনি। আর আগ্রহটাও হয়তো তেমন জোড়ালো ছিল না, থাকলে হয়তো সুযোগ তৈরী করে নেয়া যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে আবাসিক হলে উঠে যাবার পর বই পড়ার সুযোগ আসে আর ধীরে ধীরে আগ্রহটাও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। বই পড়া শুরু হয় মূলত উপন্যাস দিয়ে, তারপর ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, এবং সবশেষে কবিতায় ছড়িয়ে যাই। অন্য কোন কারন নেই-পড়ি শুধু ভাল লাগে বলে, পড়ে আনন্দ পাওয়া যায় তাই-পড়তে পড়তে অদ্ভুত এক ভালো লাগায় মনপ্রাণ ছেয়ে যায়। আর পড়িও- গ্রামের বাড়ীতে গেলে রুমে দরজা

আরাধনা

চুম্বনে চুম্বনে রক্ত-লাল বেল রং শরীর, আর নয়-
এবার ঘন-নীল মেঘের মত জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে হয়।
মৃদু জলে ভরা সমুদ্র চোখ দুটো বিছিয়ে রেখো,
সেখানেই ঘুমোবো দুজন জড়াজড়ি করে।

কাশ ফুলের মত নরম চুলে আঙ্গুল চালাতে চালাতে-জিজ্ঞেস করবোঃ
তুমি আমার ঈশ্বর হবে?
ছি ছি ছি----
না না না না---
তুমিই আমার শরীরী ঈশ্বর,
তোমাকে গড়েছি আমার একান্ত ঈশ্বর।
মানুষ কি পারে তৈরী করা ঈশ্বর ছাড়া বাঁচতে?
কাঁচা আলোর নদী ছেড়ে, কে ডুবে মরে সাতস্তর অন্ধকারের ওপারে!

তোমার অভ্যন্তরে কয়েক মূহুর্তের উষ্ণ প্রাসাদ,
আর তাহার মাঝে জমাট শীতলতা করি অনুভব।

নপুংসক

আমি কি নপুংশক?
আমার মায়ের চোখে ছানি,
আমার দেশের মাটি ধূসর,
আমার গাছের পাতা হলদে,
আমার বাবার চোখে চালশে,
আমার বেদনারা হালকা,
আমার সুখ অগভীর,
আমার ভাই নিঃসঙ্গ,
আমার স্বপ্নগুলো ঘুড়ি,
আমার হৃদপিন্ড শক্তিহীন,
আমার প্রিয়া প্রতিক্রিয়তাশীলতার বধূ,
আমার আশা ভাষাহীন,
আমার হাড় ভঙ্গুর,
আমার বোন অস্থির,
আমার রক্ত স্তিমিত,
আমার সাহস মৃত,
আমি তবে নপুংসক!
নিশ্চিত
আমি নপুংসক।

কয়লা-কালো

জন্ম যদি হতো ঘোর আফ্রিকাতে
ওখানে তো কেউ সাদা নয় শরীরের রঙ সবারই কালো;
অথবা যদি ঠাস-বর্ণিল ইউরোপে-
আমার গায়ের চামড়া নিশ্চয় রঙধনু সাত-রঙের সমাহার হতো!
সাদা-কালোর রঙ্গিন দেশে জন্ম-
শক্ত-অন্ধকার হয়ে-হয়েছি অসুন্দরের সমার্থক কালো।

যখন আমি ছোট্ট কুট-কুটে শিশু, পাড়া-পড়শীরা বলে;
দেখো-দেখো বাচ্চাটি হয়েছে কেমন কুচকুচে-
মাথা নেড়ে প্রাচীন দাদী বলে, সোনার আংটি যে বাঁকাও ভালো।
কিন্তু এ সোনা যে বাঁকা নয়, এ যেন কয়লা-কালো!

ঘননীল-মৃত্যু

শয়তানের মদ্য মুঠো মুঠো পান করে ভবছো-
নদীর কোমল গন্ধ মাখবে দূষিত বগলে!
যে ক্ষয়িষ্ণু সূর্য জ্বলে আজ ধূসর আকাশে,
তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নেমে আসে গাঢ় অন্ধকার।
সাতটি আকাশকে অনেক দূর টেনে জলে নামিয়ে
ডোবাতে চেয়েছিলে জানি বুকের এক খন্ড শ্যামলা জমি ।
অনেক কুকুর মরে গিয়ে আজও
মাছি হয়ে তোমার দগদগে ঘা চাটে ভরন্ত উল্লাসে।

Pages