slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

শশাঙ্ক বরণ রায়-এর ব্লগ

স্বরচিত বিনয় মজুমদারের কবিতা-২

হাজারো প্রাণের সাথে গলাগলি মোলাকাত শেষে
একথা অজানা লাগে প্রতিবার
বেদনায়-

অচেনা বিস্ময়ে বিমূঢ় করে দিয়ে যায় অতিচেনা জনও

আমার মিছিল

গতকাল মিছিল করলাম। আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগরের সবুজে রক্ত ঝরছে। লড়াই চলছে। আমরা তো জাহাঙ্গীরনগরেই মানুষ, জাহাঙ্গীরনগরেরই মানুষ। তাই আবার মিছিল।

জীবনের প্রথম মিছিলের স্মৃতিটা এখনো উজ্জ্বল। উদ্বেলিতও করে। তখন হাঁটু পর্যন্ত ধুলোমাখা হাফপ্যান্টপড়া কিশোর। ১৯৮৭ সাল, ক্লাস সিক্স। বাজারে রাস্তায় বড়দের আলাপ শুনি ‘একটা ছাত্রের কিছু হইলে সারা দেশে খবর আছে, ওদের মাঝে খুব মিল, ওরা কাউরে ডড়ায় না’। বুক নেচে ওঠে। মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখে ভাবি, আমিও তো ছাত্র, মানে, না হলেও তো হয়ে যাব কয়েক বছর পর। তখন কত সাহস হবে আমাদের, কত একজোট হব!

মিনার মাহমুদ

এ শহরে মিনার নয়, নর্দমারা মাথা উঁচু করে বাঁচে

অভিমান ভালবাসা পলিথিনে ঢেকে
আমরা বেঁচেছি দেখ কত রং মেখে
সারা দিন উন্নতি সারা রাত সুখ
প্রতিদিন আয়নাতে গোলামের মুখ

কেঁচোগিরির এ শহরে তাঁর ঠাঁই নাই
মিনার মাহমুদ, টা টা বাই বাই

ছোট বোনটির জন্য কান্না

ছোট বোনটির জন্য কান্না। কোন কাব্য নয়। গলার কাছে আটকে থাকা দলা দলা জমাট কান্না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের ৩৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিলা রহমান তন্বি আজ বিকেলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। 

তন্বি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট বোন। আমার সহোদর ছোট বোনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ও যখন জাবি’তে পরীক্ষা দেয়, চান্স পায়, ভর্তি হয় আমি কত খুশি হয়েছি, উৎসাহ দিয়েছি। কত শুনিয়েছি আমার ভালবাসার ক্যাম্পাসের কথা। আজ সে চলে গেল না ফেরার দেশে।

আমার ছোট বোনটি এখন ঢাকা মেডিকেলের লাশকাটা ঘরে।

জুবায়ের হত্যার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগরের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রক্ত ঝরেছে জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাসে। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা খুন করেছে ইংরেজি বিভাগের ছাত্র জুবায়েরকে। ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর পরিবার। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং হত্যাকারী সকল সন্ত্রাসীর শাস্তির দাবিতে গড়ে উঠেছে আন্দোলন। সাধারণ শিক্ষার্থী, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলেই আজ সোচ্চার। অন্যদিকে হত্যাকারীদের পক্ষে অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান প্রশাসন। আর প্রশাসনকে রক্ষায় সক্রিয় হত্যাকারী চক্রের নেতা-কর্মীরা।

জাহাঙ্গীরনগরে ছাত্রলীগের খুন। শিক্ষার্থীদের নতুন লড়াই

জুবায়ের খুন হয়েছে জাহাঙ্গীরনগরে। খুন করেছে ছাত্রলীগ। না, কোন মারমারী-হাঙ্গামায় নয়, কয়েকজন মিলে ধরে পিটিয়ে ইংরেজি বিভাগের এই ছাত্রটিকে হত্যা করেছে। ঠাণ্ডা মাথায়।

এটা অনেকের কাছেই তেমন কোন সারা জাগানো তথ্য নাও হতে পারে। অনলাইন যোগাযোগের এই সময়ে আমরা অনেকেই জেনে যাই অনেক কিছু। আমরা গত কয়েকদিন ধরেই জানছি বুয়েট-কুয়েট-জগন্নাথ। আমরা দেখলাম শাবিপ্রবি তে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান কীভাবে ছাত্রলীগে যোগ দিলেন। আমরা মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় দেখলাম, দেখলাম সাতক্ষীরার ছাত্রলীগ। ফলে এটা আর ছাত্রলীগের জন্য নতুন কী!

একটি পোড়া পা

সুরমা নদীতে নোনা জল বয়

মাছেদের প্রাণ যায়

মিনারগুলো সব মাথা হেঁট করে

একটি পোড়া পায়

স্বরচিত বিনয় মজুমদারের কবিতা : তবে আঞ্চলিক ভাষাতেই…

নিজের মতো হয়ে যেও জলে ও শ্মশানে


অজস্র বাগানে মেশা – ফুলে ও সন্ধ্যায়

সকলের মতো হয়ে

তবু,

বিলাপের কোন মানভাষা থাকে না

সময়ের মুখ

সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে। না, কোন নির্জন কোন্ খুঁজে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হয়নি মন। দু’চোখের দৃষ্টিতে শূন্যতা ছাড়া কোন ভাষা নেই। অমাবস্যার গভীর রাতের কোন নির্জন অন্ধকার যেন জমাট বেঁধে আছে দৃষ্টিতে।শুধু দৃষ্টিতে নয়, পুরো অস্তিত্ব জুড়ে। নিশ্চল। যেন কোন অতীত নেই, নেই ভবিষ্যতও। বর্তমান ডুবে আছে সময়হীনতার শূন্যতায়। সাদা চুল, সাদা কাপড়, ফর্সা গায়ের রং - তবু এতটুকু আলো নেই কোথাও।
 

মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী অজিত রায় আর নেই


শিল্পী অজিত রায় আর নেই। আজ দুপুরে ৭৩ বছর বয়সী এই মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী মৃত্যুবরণ করেন। রংপুরে জন্ম নেয়া রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী অজিত রায় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। সারা জীবন গান গেয়েছেন মানুষের জন্য, জীবনের জন্য। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। আজ ছেড়ে গেলেন সবাইকে চিরকালের জন্য।

মিছিল : ২ আগস্ট

তখন রক্তে নাচে ইলা প্রীতিলতা

তখন মাথা উঁচু উদ্ধত শ্লোগান

তখন আমি যেন আমার চেয়ে বড়

আমরা একজন হই হাজারো প্রাণ

আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক সংবিধান

অবশেষে আওয়ামী লীগ সংবিধান সংশোধন করেছে। না, তারা একা করেনি মহাজোট নামের বিশাল যৌথ পরিবারের ভাইস্তা-ভাইগ্না-খালা-ফুপুদের প্রকাশ্য আর মুখলুকানো সমর্থন নিয়েই তারা এ কাজ করেছে। সংশোধিত এই সংবিধানে বিসমিল্লাহ আছে, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম আছে, সমাজতন্ত্র আছে, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল আছে, সকল ধর্মের অধিকার আছে, চাকমা-মারমা-সাঁওতাল-গারো সবাইকে বাঙ্গালি বানানোর কড়া হুকুম আছে, আছে জানের দুশমন জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশিও। আর আছে চিরকাল ক্ষমতায় থাকার চিরায়ত আওয়ামী আবদার বাস্তবায়ন করার কুকৌশল। কী নেই আওয়ামী লীগের এই সংবিধানে। সাবাশ, মায়ের সন্তান মায়ের

হাইস্যকর

গান্ধী পোকা ফন্দি এটে কয়,

কেন তোমরা আমায় কর ভয়?

কেন তোমরা আসতে চাও না কাছে?

আমার চেয়ে সুগন্ধী কেউ আছে!

জ্বলছে পার্বত্য চট্টগ্রাম

আবার রক্ত ঝরছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে ইউপিডিএফ-এর চার নেতকর্মী খুন হয়েছেন। কোন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আচমকা এ ঘটনা ঘটেনি। সকাল বেলা বাড়িতে আক্রমণ করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। বলা যায় ঠাণ্ডা মাথায় পারিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠন জেএসএস’কে  দায়ী করেছে। এটা কোন নতুন ঘটনা নয়। রক্ত আর আগুন যেন পার্বত্যবাসীর জীবনের অংশে পরিণত হয়েছে।

Pages