slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

বিশ্বজিৎ-এর ব্লগ

স্টপ বুলডোজার, নিহতদেরও সঠিক উদ্ধার চাই

 প্লিজ আরও কয়েকটা ঘণ্টা সময় দিন। এখনই রানা প্লাজায় বুলডোজার চালাবেন না। এখনও জীবিত মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।  এসব আহত মানুষের পাশাপাশি আমরা নিহত মানুষদেরও উদ্ধার চাই। প্রত্যেকটা নিহত মানুষ। কংক্রিটের নিচে চাপাপড়া গলে যাওয়া মানুষ। ফুলে যাওয়া মানুষ। দুর্গন্ধ ছড়ানো পচে যাওয়া মানুষ। এমনকি মায়ের সঙ্গে থাকা দুধের শিশুটির হিসাব চাই। তাদের হিসাব গার্মেন্টের খাতায় পাওয়া যাবে না। ভারী মেশিন যেন পিষ্ট না করে তাদের। নিহত মানুষগুলো যেন অজ্ঞাত না হয়ে যায়। তাদের প্রত্যেকের হিসাব চাই। প্রত্যেকের জীবনের মূল্য চাই। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছেÑ নিহত মানুষগু

ক্যামেরার সামনে মেয়েটির আরো এক নির্যাতনের গল্প

বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকা কেন্দ্রীক সাহিত্য চর্চ্চা তেমন একটা জনপ্রিয় নয়। এরপ্রধান কারণ পত্রিকার সাহিত্য পাতার দায়িত্বশীলদের গোষ্ঠী ভাবনা। তারা এমনভাবে একটি গোষ্ঠি তৈরি করে তাদের বাইরে ওই পাতায় কারো লিখা সম্ভব হয় না। এই গোষ্ঠির আবার থাকে একে অপরকে তুষ্ট ও পুরস্কৃত করার বাসনা। যেমন প্রথম আলোর সাহিত্য পাতার অন্যতম সাজ্জাদ শরীফ। তিনি ওই পত্রিকার এখন ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। আরো একজন আছেন আনিসুল হক। উনিও একজন প্রভাবক। উনাদের গোষ্ঠির লেখকরা ওই পত্রিকায় লেখালেখি করেন। এই গোষ্ঠি আবার সাহিত্য বিবেচনায় গোষ্ঠি না। এরা সুবিধা পাওয়া আর সুবিধা দেওয়ার গোষ্ঠি। এর কারণে প্রথ

আক্রান্ত সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান

প্রথম বোমাটি যখন ফাটলো তখনো বুঝতে পারিনি। আমি ভেবেছিলাম পাশের কোন গাড়ির চাকা ফেঁটেছে। পরের বোমাটি পড়লো নাঈমের দিকের জানালায়। কাঁচের গুড়ায় ভরে গেল গাড়ির ভেতরটা। তারপর ক্রমাগত একটার পর একটা বোমা ফাঁটতে লাগলো। গাড়ির ডাইনে বামে পিছনে। গাড়ির পিছনের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে গেছে। আশে পাশে গাড়ি চলছে। ক্যান্টনমেন্টের সামনে রাস্তা। বুঝতে পারলাম আমাদের গাড়িটিকে বোমা নিপে করা হচ্ছে।  আতঙ্ক এসে গ্রাস করলো। আমরা গাড়ির সিটের নিচে বসে পড়েছি। চেয়ে দেখলাম নাঈম রক্তাক্ত। আমি নিজের ব্যপারে কিছু বলতে পারছিলাম না। আমার মুখের দিকে ইশারা করেলো নাঈম।  আমিও রক্তাক্ত হয়ে পড়েছি। গাড়িটি চালু অবস্থ

শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে-৬

গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশের একটি পত্রিকা চিত্রে একজন লোককে কাঁদতে দেখেছিলাম। পরে নিজের চোখে  দুটি সমাবেশে উপস্থিত থেকে দেখলাম মানুষদের কাঁদতে। তারা কেন কাঁদলো। চেহারায় খুবই সাধারণ কয়েকজন মানুষ। কোন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন। বড় কোম্পানির হোমরা-চোমরাও নন। মধ্য বয়স পার হয়ে যাওয়া বিধ্বস্ত মানুষ। বুকের ভেতর মোচড় মেরেছে কান্না। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতে পারিনি কেন কাঁদছেন। জাতীয় সঙ্গীত বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ওরা কাঁদছে। আমি আগের কয়েকটি লেখায় বলেছি- এ আন্দোলন ছিনতাই হয়ে যাবে। তাই হওয়ার পথে। এটি এখন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা একটি মঞ্চ। এটির নেতৃত্বও আস্তে আস্তে চলে যাবে আওয়ামী

শাহবাগে পরিমানগত পরিবর্তন ঘটেছে-৫

জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের নেতা ফাইজুল হাকিম লালা খুব সকালে টেলিফোনে একটি মৃত্য সংবাদ জানালেন।   বললেন,ভেনিজুয়েলার বিপ্লবি চেভেজ আর নেই। ক্যান্সারকে তিনি জয় করতে পারেননি। লালা ভাই ভেনিজুয়েলা গিয়েছিলেন একটি যুব সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে। কাছ থেকে দেখেছিলেন শেভেজকে। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের একজন জাতীয়তাবাদী নেতাকে।  কমিউনিস্ট ছিলেন না শেভেজ। কিন্তু জাতীয় সম্পদ কীভাবে রা করতে হয় তা জানতেন। জনগণকে কীভাবে সম্মান দিতে হয় তিনি জানতেন। সাম্রাজ্যবাদকে কীভাবে বর্জন প্রতিরোধ করতে হয় জানতেন। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকীভাবে গঠিত হয় তাও শেভেজ দেখিয়েছেন। একারণে তার বিরুদ্ধে েেপ গিয়েছিল সেদ

শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে-৪

পরিবর্তন আজ হউক বা আগামী কাল সামন্ত মূল্যবোধের সঙ্গে অসম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক শক্তির সংঘর্ষে যেতেই হবে।  দেশের সংস্কৃতিতে গত  ৪০ বছর যাবত সামন্ত মূল্যবোধ (বিশেষ করে ধর্ম) প্রাধান্য ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিছু গণতান্ত্রিক মানুষ এসবের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে সংগ্রাম করে আসলেও সামগ্রীক বিবেচনায় তারা কোন আধুনিক মূল্যবোধের আন্দোলন করতে পারেননি। অর্থাৎ ধর্মমুক্ত উদার গণতান্ত্রিক সমাজের রাজনীতি ও গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। (এবিষয়ে আগের পর্বগুলোতে আলোচনা করেছি)। তাদের সংগ্রাম মূলত করতে হচ্ছে, এখনো অনেক সময় করতে হচ্ছে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। আগামীতে বিশেষ করে শাহবাগের আন্দোলনের

শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটেছে-৩

‘শুনহ মানুষ ভাই সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই’। এটি চন্ডিদাসের একটি কাব্যের অংশ। মধ্যযুগের বাংগালির ইতিহাসে  দেখা যায়  কোন কোন ব্যক্তি ঈশ্বরের চেয়ে ধর্মের চেয়ে মানুষকে বড় করে দেখেছেন। এই ধারাবাহিকতায় আরবের লাইলি মজনুর কাহিনীও এখানে এসে মানবিক প্রেমে পরিণত হয়েছে। লোক সাহিত্যে তো ‘মানুষ ধর মানুষ ভজ’ এই ধারার কোন কমতি নেই।  মধ্যযুগের বাংলায় ধর্ম- ঈশ্বর ইত্যাদি নিয়ে চিন্তাশীল মানুষ ও কবিরা অনেক ক্ষেত্রে অলৌকিকতা ছেড়ে মানবিক হয়ে উঠলেও বিদ্রোহী হয়ে উঠতে পারেননি।  বাংগালির প্রথম মানবিকতা মুক্তি পায় ঊনবিংশ শতাব্দিতে। রাজা রামমোহন রায় প্রথম ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন

শাহবাগে পরিমানগত পরিবর্তন ঘটছে : ২

সাংস্কৃতিক আন্দোলন অনেক সময় প্রভাবিত করে রাজনৈতিক আন্দোলকে।যেমন ফঁরাসি বিপ্লবকে সহায়তা করেছিল সেই দেশের বুদ্ধিজীবীদের সাংস্কৃতিক আন্দোলন। আবার রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণেও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের চরিত্র পাল্টে যায়। যেমন রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব। এই দুইয়ের দ্বন্ধে যে ফলাফল সৃষ্টি হয় সঠিক রাজনীতি তা গ্রহণ করতে পারলে তার গতীপথ হয় প্রগতীশীল আর অন্যেরা গ্রহণ করলে তা হয় প্রতিক্রিয়াশীল। বাংলাদেশে অনেকগুলো সাস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন হয়েছে। প্রথম দিকে এসব আন্দোলনের প্রগতিশীলতা থাকলেও পরিণতিতে ফলভোগ করেছে প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো। যেমন বাংলাদেশের একটি অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন তেল, গ্

শাহবাগে পরিমানগত পরিবর্তন ঘটছে

শাহবাগে পরিমাণগত পরিবর্তন ঘটছে। এখন গুণগত পরিবর্তন হতে বাধ্য। এই গুণগত পরিবর্তনটা কী হবে তা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছেন। আন্দোলনের বিষয়বস্তুতে যে দাবিটা প্রধান তা হলো জামায়াতে ইসলামী নামের একটি দলের কিছু সংখ্যক নেতা যারা ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলেন তাদের বিচার করা। এই দাবিতে অসংখ্য তরুণ শাহবাগে জমায়েত হচ্ছেন। তাদের চাপে পড়ে সরকার বিচার করার জন্য যে আইন করেছিল তা সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি একটি সফলতা। গুণগত পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত। ৯১ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের আরো একটি আন্দালন হয়েছিল। সেখানে গণআদালত

Pages