slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

আজাদ-এর ব্লগ

মানুষ, মহাজাগতিক আলো ও একটি লতার বেয়ে চলা

প্রথমে বেরিয়ে এল একটি ভাতশালিক ধূসর ডানা। সবাই বলল, এটা একটা ভাতশালিকের বাসা। তারপর বেরিয়ে এল একটি ঝুঁটকুলি সিঁদুর লাল পাছা। সবাই বলল, শালিকটা ভুল করে ঢুকে পড়েছিল। ওটা আসলে একটা ঝুঁটকুলির বাসা। তারপর বেরিয়ে এল একটা চড়ুই। সবাই হোহো করে হেসে উঠল। ওটা আসলে কোন বাসা নয়, ওটা একটা সুরঙ্গ। ভেতরে অনেক কিছুই থাকতে পারে। তারপর বেরিয়ে এল একটা সাপ তার কালো মাথা। সবাই ভয়ে পালালো। তারপর অনেক অনেক দিন পর বেরিয়ে এল একটি কচি লতা। তার সবুজ কোমল পাতা। এটা কেউ দেখে নাই। আলোর পথে ধরে বেয়ে গেলো লতা, সব মানুষের মস্তক ভেদ করে বেয়ে গেলো। আলোই তার প্রাণ, আলোই তার শক্তি। এভাবে মানুষের অজা

সভ্যতা বিনাশী রাজনীতির অধীন মুক্তচিন্তা-বিজ্ঞান ও ধর্ম

সম্ভবত আজকের দুনিয়ায় সাম্রাজ্যবাদ>কর্পোরেট>শাসকগোষ্ঠী>রাষ্ট্রের হাতে সবচাইতে বিধ্বংসী যে মারনাস্ত্রটি তার নাম 'ইসলাম'। আফ্রিকা থেকে এশিয়া, ইউরোপ থেকে আমেরিকা সর্বত্রই আজ এই মারনাস্ত্রের অবাধ ঝনঝনানী। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র দক্ষিন আমেরিকার দেশগুলো যারা নিজেদের এই মারনাস্ত্রের সীমার বাইরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন এবং একটি উন্নত মানবিক সমাজ ও আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লড়াই করছে। অবশিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক ও ক্ষমতা দুনিয়া এই মারনাস্ত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় সমান দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

অভিজিৎ হত্যার রাজনীতি

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ আজ প্রথম আলো পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছেন। তিনি সাতটি পয়েন্টে দেখিয়েছেন যে, বিদ্যমান দ্বি-দলীয় রাজনৈতিক সংঘাতে কারা লাভবান হচ্ছেন? পয়েন্টগুলো হল- "১. সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার হলমার্ক দূর্ণীতি, ২. রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার উপর ঋণ গ্রহিতা সর্বোচ্চ ধনীদের জন্য দেয়া সুবিধা, ৩. রামপাল বিদ্যূত কেন্দ্রে ভারতকে দেয়া সুবিধা, ৪. এইচএসবিসি ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার, ৫. আবুধাবি ও সৌদি আরব থেকে প্রায় দ্বিগুন দামে জ্বালানী তেল ক্রয়, ৬. দেশের খনিজ সম্পদ মার্কিন স্বার্থগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়া ও ৭.

প্রেম ও নৈরাজ্যের গল্প

অশনিসংকেতের মতন দিনের আলো। নগরের মানুষগুলো যেন আগের রাতেই টের পেয়ে গেছে সবকিছু অথবা গভীর ঘুম থেকে স্বপ্নের কামানের গর্জনে জেগে উঠতে উঠতে দেখেছে সেই অমোঘ খোয়াব অথবা মানুষের হৃদয় ইন্দ্রীয় পরম বিশ্বাসে জেগে উঠে বলে গেছে সেই অশনিসংকেতের কথা। সকাল থেকেই নগর আজ নির্জন। কোথাও কোন শব্দ নেই। সারি সারি গাড়ির শব্দ যেন পিচঢালা পথের কৃষ্ণ গহ্বরে গিলে খাচ্ছে। সকল হাইড্রোলিক শিঙা বিকল আজ। কোথাও কোন বাদ-প্রতিবাদ নেই। চিৎকার চেঁচামেচি নেই। যাত্রী নিয়ে নি:শব্দে পৌঁছে যাচ্ছে রিকশা নির্দিষ্ট গন্তব্যে। দরকষাকষির বাক-বিতন্ডা নেই নিত্যদিনের মত। হেমন্তের এই রকম দিন এই নগর এর আগে দেখেছে

বসন্ত গোধুলীর সঙ্গীত (২)

পড়ন্ত বিকেলে সেই মাঠের হৃদয় ভেদ করা কাঁচা রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম। কেন হাঁটছিলাম? রাস্তার কাহিনীটা জানার জন্যে?
না বোধহয়। যদিও প্রতিটি রাস্তার থাকে একটি নিজস্ব কাহিনী। নিজস্ব গল্প। নিজস্ব ইতিহাস। নিজস্ব পুরাণ।
প্রান্তর টানছিল?
টানছিল। টানছিল সোনার প্রলেপ মোড়া নরম রোদ। বাড়ির পথে ডানা ঝাপটানো শালিকের ঝাঁক। আকাশের শূণ্যতা টানছিল।

বসন্ত গোধুলীর সঙ্গীত

পেছনে একটা শব্দ হচ্ছে। মনে হল কেউ আমার পেঁছনে। আমার পিঠের কাছে। ঘুরে দাঁড়ালাম। পেছনে একটা ছোট্ট বুনোঝোপ ছাড়া আর কিছু দেখা গেলো না। ঝোপটা সুন্দর। কিছু কাটাগুল্মকে গর্ভাশয়ের মতো জড়িয়ে ধরে বেড়ে উঠেছে কিছু লতা। বাইরেটা সবুজ ভেতরটা সবুজের ছায়ায় অন্ধকার, প্রগাঢ় সবুজের মতো। অন্ধকারের রং কালো নয়, মানুষ হাজার বছর ধরে ভুল জেনে এসেছে। অন্ধকারের রঙ প্রগাঢ় সবুজ। ঝোপের গর্ভে সেই রঙ আমার চোখের সামনে স্পষ্টরূপে ফুটে আছে। সেই সবুজে আমি শব্দের উত্স অনুসন্ধান করছিলাম। আবার শব্দটা হল। ঠিক পেছনে। মানে উল্টো দিকে। আমার ঘাড়ের কাছে। অদ্ভুদ, অন্যরকম শব্দ। হিসসস নয়। শিস নয়। অনেকটা শিসের

নদীর প্রলাপ

ভাবতেছিলাম নদী নিয়ে একটা কবিতা লিখব। অনেক কবিই নদী নিয়ে কবিতা লিখেছেন হয়তোবা। আমি কবি নই তবু ইচ্ছা বলে কথা। জীবনানন্দ লিখেছেন, ‘ধানসিঁড়ি নদীর কিনারে একদিন শুয়ে রব পৌষের রাতে. . .’। এই কবিতা কি নদী নিয়ে লেখা? নদী এই পৃথিবীর আরেক বিস্ময়। ছোট্ট তীলাই নদী খিয়ার মাটি খুড়ে নৃত্য ভঙ্গিতে দক্ষিন দিকে নেমে যায় প্রান্তর ফাঁকি দিয়ে। আর তার ছোট্ট শরীরে বিশাল আকাশের ছবি ভেসে ওঠে। আকাশ কত বিশাল! যাকে প্রায় আড়াল নেয়া যায় না। তবু আকাশ দেখলে উড়তে ইচ্ছা করে না। কিন্তু নদী দেখলেই নামতে ইচ্ছা করে। এই কি নদীর মায়া? মায়া কি নদীর শক্তি?

কলাগাছের মতো কাটা পড়ে যাচ্ছি প্রতিদিন

কলাগাছ থেকে কলাগাছ হয়। মানুষ থেকে মানুষ। মানুষ কলাগাছ কাটে কলাগাছের মতো। মানুষ কলা খায়। কলা বড্ড প্রিয় ফল মানুষের। কিন্তু কলাগাছে মানুষ খায় না। মানুষ মানুষও কাটে কলাগাছের মতো। প্রতিদিন কাটে ঘরে অফিসে রাস্তায় বাসে টিস্টলে স্টিমারে। কেটে দ্বি-খন্ডিত ত্রি চতুর পঞ্চ এমনকি খন্ড-বিখন্ড করে। তবু মানুষ যায় মানুষেরই কাছে। বাঁচতে এবং বাঁচাতে। কলাগাছের কাছে যায় না। কলাগাছও যায় না কলাগাছের কাছে। যেতে পারে না। মানুষ যায়। যেতে পারে। যেতে হয়। অথচ প্রজন্ম রেখে যাবার আনন্দ-বেদনা কম পায় না কলাগাছ মানুষের চাইতে।
 

মুজিবের শাসন: একজন লেখকের অনুভব – আহমদ ছফা

নির্ভীক ছফা, নির্দ্বিধায় প্রকাশ করতে পারতেন কঠিন সত্য। আহমদ ছফার এই লেখাটা সেরকম একটি সত্যভাষন। একটি দলিল। এই ভূখন্ডে হাজার বছরের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা, মাথা তুলে দাঁড়ানো মুক্তির চেতনা, স্বাধীনতার চেতনাকে কি করে ক্রমশ হত্যা করা হয়েছিল তারই একটি ছোট্ট দলিল- 

রুবী রায়ের সাথে সাতমসজিদ রোডে

বিকেলে শাহসুজা সাতমসজিদ রোড দিয়ে যাচ্ছিল ঝিগাতলা। ঝিগাতলা লেকের পাড়ে সন্ধ্যায় একটা ইফতার পার্টি আছে। কারা কি আয়োজক তার কিছুই সে জানে না। বন্ধু আয়মান তাকে ফোন করে ঘন্টাখানিক আগে খবরটা জানিয়েছে। বন্ধু আয়মানের জন্যই যাওয়া। অনেকদিন দেখা হয় না। ফোনে কথা হয়, ফেসবুকে কথা হয় চ্যাটে-স্ট্যাটাসে। কিন্তু দেখা হয় না।

মেঘের দেশে; প্রেমে বিরহে বিদ্রোহে-২

সামনে পেছনে ডানে বামে যত পর্দা ছিল সব নামিয়ে দেয়া হয়েছে। পাতলা পর্দা। সবগুলোর রং লাল। লাল আভার সাথে আবছায়া মিশে ফিকে সিঁদুরের মতো জ্বলছে ভেতরটা। এরকম বিস্মিত রঙের ভেতর দিয়ে ভেসে চলেছি স্বপ্নের মতো। আমার মুখোমুখী বসা দু’জন নারী নিজেদের রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। নানান পথ দিয়ে জল ঢুকে পড়ছে, ভিজিয়ে দিচ্ছে যাচ্ছেতাইভাবে। বৃষ্টি পতনের একটানা শো শো শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নাই। ইন্ডিয়ান স্কুটারের ডিজেল ইঞ্জিনের শব্দ চাপা পড়ে গেছে। স্কুটারের সামনের ঘোলা কাচের ভিতর দিয়ে দেখা যাচ্ছে পিচঢালা রাস্তায় স্রোত চলছে। তুমুল বৃষ্টি বলতে যা বুঝায় এটা ঠিক তাই। থামার কোন লক্ষ

মেঘের দেশে; প্রেমে বিরহে বিদ্রোহে-১

রংপুর যাচ্ছি। বর্ষাকাল। বাসের ভেতরে নাটক চলছে অবিরাম। আমি বাসের জানালা দিয়ে আকাশ দেখছি। নানান রংয়ের মেঘেরা ঠাসাঠাসি করে আকাশ ঢেকে রেখেছে। আষাঢ়ের মেঘে আলো-আধারির খেলা থাকে। এই আলো-আধারি হৃদয়ে কাঁপুনি তোলে। বিরহীকে বিরহকাতর করে দেয়। প্রাচীন কবি কালিদাস আষাঢ়স্য প্রেমবিরহে একখানি আস্ত মেঘদূত লিখে ফেলেছিলেন। আষাঢ়ের আকাশ বাতাস সবুজ মেঘের সান্নিধ্যে প্রেমাষ্পদ বিহনে কালকাটানো হতভাগ্যতারই কারণ।

আজ শুক্রবার, আষাঢ়মাস

আষাঢ় মাসের সৌন্দর্যতো বৃষ্টিতে কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে না, আজ শুক্রবার তবু হচ্ছে না, শুক্রবারে অফিস থাকে না কিন্তু বাইরে অনেক এটা সেটা কাজ থাকে করলে করা যায়। সকালে মুক্তি ভবনে যাওয়া যেত, সুন্দরবন পুড়িয়ে কোম্পানী-রাষ্ট্র-সরকার মিলে আমাদের জন্য বিদ্যুৎ বানাবে। আমরা সুন্দরবন বাঁচাতে চাই কোম্পানীর হাত থেকে। মুক্তি ভবনে আলোচনা হবে কোম্পানীকে বিদ্যুৎ বানাবার অনেক পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্য। এই পথ দেখানো পথে কোম্পানী যাবে না। কোম্পানীর যাওয়ার কোন দায়ও নেই। বরং উল্টো চোখ রাঙাবে, তোমরা কে হে পথ দেখাবার? আমরা ইনভেস্ট করবো আর তোমরা পথ দেখাচ্ছো! কোম্পানীর কি পথ কম জানা আছে?

যখন গলে যায় তোমার নিজস্ব জগত্

গ্রীষ্মের একটা সন্ধ্যা পার হয়ে গেলে একদিন তুমি আবিস্কার করবে, তোমার নিজস্ব জগত্টা গলে গেছে। গলে যাওয়াটা টের না পেলেও একটু খেয়াল করলে দেখবে, তোমার চোখের সামনে দিয়ে মিলিয়ে যাচ্ছে হাওয়ায়; ঠিক যেভাবে ছেলেবেলার রঙ্গিন হাওয়াই মিঠাই মিলিয়ে যেত মুখের ভেতর আলগোছে। আর তাজ্জব ব্যাপার হল, তুমি তখন আর তাকে ধরতেও পারবে না। আসলে তা নয়, আসল ব্যাপারটা হচ্ছে, এমনকি তুমি তাকে ধরার কথা ভুল করেও ভাববে না। অবশ্য ভেবেও কিছু এদিক-ওদিক হয় না মেঘের- পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার আগে।

শাহবাগ মোড়ে গণঅবস্থান : রাজাকারের ফাঁসি চাই

আমরা চাই, আইন তার নিজের গতিতে চলুক। নিরপেক্ষ থাকুক। সকলে আইনের কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাক। কিন্তু বাস্তবত: আইন কখনও নিজের গতিতে চলে না। আইনের উপর ক্ষমতা বসে থাকে। বাঘের বাড়িতে ঘোগের বাসার মতো। তবুও আইন থাকে। আধুনিক বা সভ্য রাষ্ট্র আইন দিয়ে বিচারকে জনগণের কাছে বৈধ করে। যদিও তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রে আইনের পাশাপাশি পলে পলে অসভ্যতা বিরাজ করে, টিকে থাকে, শ্রেণীক্ষমতা তার শ্রেণী স্বার্থে টিকিয়ে রাখে। 

Pages