slideshow 1 slideshow 2 slideshow 3

You are here

মনোজিৎ মিত্র-এর ব্লগ

অন্ধ নিরাঙ্গম

লক্ষ্মীরে কেন খুন করেছিলাম, তার কিছুই মনে পড়ছে না। খুন যে করেছিলাম তার বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত, কিন্তু কেন খুন করেছিলাম? না, কিছুতেই তা মনে পড়ছে না। অবশ্য লক্ষ্মীরে না দেখলে এই খুন সম্পর্কে আমি কিছুই জানতে পারতাম না, ওরে প্রথম দেখতেই আমার সামনে পুরো নিউমার্কেটটা ধূসর এক মাঠ হয়ে গিয়েছিলো। শুধু এই খুন আর ধূসর মাঠ বিষয়ে আমি কিছুদিন ভাববার পর শ্যামা বৌদির কণ্ঠ শুনতে পেলাম। কিন্তু এই শ্যামা বৌদিটাই বা কে?

হীনমন্যতার বোধ ও বাধা ১

হীনমন্যতার সহজ ব্যাখায় বলা যায়, ‌এটা সেই অনুভূতি যা ব্যক্তিকে মনে করিয়ে দেয় সে অন্যদের তুলনায় নিচু বা খারাপ। এটা আপাত অচেতন হলেও সামাজিক পরিবেশে সচেতনভাবে এটি জন্ম লাভ করে। কিন্তু কেন একজন মানুষ বা জাতি হীনমন্য হয়? বিজ্ঞানের ভাষায় আক্রান্তের নানা লক্ষণ বা কারণ বর্ণনা করা আছে কিন্তু সেসব গবেষণার। তাতে আমাদের এই বাঙালির কিছু যায় আসে না, আমাদের কিসে যায় আসে সেটা একটা প্রশ্ন হতে পারে বটে, কিন্তু প্রশ্নটা করবে কে?

মোমিনের পাঠশালা ৩

আসলে কি শেখানো হয় বাংলাদেশের বর্তমান মাদ্রাসাগুলোতে?ইতিহাসে তাকালে দেখা যায় সুলতানী আমলে মাদ্রাসার পাঠক্রমে ছিল আরবি, নাহু (বাগবিধি), সরফ (রূপতত্ব), বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র), মানতিক (যুক্তিবিদ্যা), কালাম (জ্ঞানতত্ব), তাসাউফ (অতীন্দ্রিয়বাদ), সাহিত্য, ফিকহ (আইনশাস্ত্র), এবং দর্শন। আরবে ইসলাম ধর্মের যাত্রারম্ভে যে মাদ্রাসার সন্ধান পাওয়া যায় তা ছিল সাফা পর্বতের পাদদেশে যায়েদ-বিন-আরকামের বাড়ি। যেখানে স্বয়ং রসুল (স:) ছিলেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী ছিলেন তাঁর কয়েকজন অনুসারী। হিজরতের পর মদিনায় মসজিদে নববি-র পূর্বপাশে স্থাপিত হয় মাদ্রাসা আহলে সুফ্‌ফা। এই মাদ্র

দুর্দিনের দিনলিপি-৭

বিশাল এক ষাঁড় ছিল আকালে দার, প্রায় হাতির মত। খুব শান্তশিষ্ট আর ভারি আমুদে। না ছিল তার ফোসঁফোস, না কাউরে তেড়ে গুতাঁ দিত। কিল গুতাঁ মারলেও মুখ বাঁকা করে দেখার প্রয়োজনও মনে করত না। গায়ে গতরে মনে হয় বলদটার কোন অনূভূতি ছিল না। তয় ঝামেলা ছিল আরেক জায়গায় সারা শরীরে কোন অনূভুতি না থাকায় তার সব অনূভূতি জমা হয়েছিল আরেক জায়গায়। সেই জায়গায় ছোঁয়া লাগলেই পাড়াশুদ্ধ মানুষ কেঁপে উঠত। আর পোলাপান আমরাও ছিলাম বান্দর, লম্বা পাটকাঠি দিয়ে সেই বিশেষ জায়গায় খোঁচা মেরে সুবিধাজনক কোন গাছে উঠে চুপচাপ দেখে যেতাম। তারপর ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে, কোন কিছু মন মত না পেলেই হুমকি ছাঁড়তাম-‘ এখনি চা

মোমিনের পাঠশালা ২

মাদ্রসা শব্দটি আরবি ‘দারসুন’ থেকে এসেছে। যার অর্থ পাঠ। খোদ আরবেই এই পাঠের ব্যাপি কেবল ধর্মীয় শিক্ষার মধ্যে আবদ্ধ ছিল না। আরব দেশগুলোর মাদ্রাসাগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রন সরকারের হাতেই। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হচ্ছে আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র শতভাগ ইসলাম ধর্মের লোক বাস করে যে সৌদি আরবে সেখানেও কেবলমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা দেবার জন্য আলাদা কোনো মাদ্রাসা বা ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। আমাদের দেশের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ধারকেরা কথায় কথায় যে কোরানের কথা থেকে উদ্ধৃতি টেনে আনেন সেই পবিত্র ধর্মগ্রন্থেও কেবল মাত্র ধর্মীয় শিক্ষার জন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়ন

অন্তরালের একাত্তর

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম সশস্ত্র আক্রমণের শুরুর সময় থেকেই ছিল জনগণের। ইতিহাসকে যত ভাবেই নিজের করে তোলার চেষ্টা করা হোক না কেন ইতিহাসই বারবার সাক্ষ্য দিতে মুক্তিযুদ্ধ কখনোই কোনো দলের ছিল না। রাজনৈতিক বিবেচনায় মানুষ নয় মাসের মুক্তির লড়াইয়ে প্রাণ বাজি রাখেনি, বেঁচে থাকার জন্যই তাকে অস্ত্র তুলে নিতে হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ ছিল তাদের আবেগের, বীরত্বের শুভ আকাঙাখার চেতনায় নিজেদের এক ভূখন্ডের লড়াই। মুক্তিযুদ্ধে জয়ের পিছনে এই জনগণের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি, স্বাধীনতার আকাঙ্খায় তাদের চেতনার কোন ঘাটতি কখনোই ছিল না। যুদ্ধকালীন সময়ে

মোমিনের পাঠশালা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মাঝে সুস্পষ্ট যে বিভেদ বর্তমান তার রাজনৈতিক কারণ থাকলেও সামাজিক স্তর বিন্যাস এবং এর সাথে ধর্মবিশ্বাস সরাসরি জড়িত। নানা তাত্ত্বিক এবং শিক্ষাবিদেরা নানা আলোচনায় এই স্তর বিন্যাসের সবচেয়ে নিচে স্থান দেন মাদ্রাসা শিক্ষাকে। এই অংশের শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করেন সবচেয়ে অনগ্রসর অংশ হিসেবে। সত্যিকারের শিক্ষা এরা পায়না, কেবল ধর্মকেন্দ্রিক শিক্ষাকে ঘিরে এদের জানাশোনা এসব নানা অভিযোগ স্বীকার করেই বলা যায় আগামী বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণী হতে যাচ্ছেন এইসকল চেনা-অচেনা কওমী বা আলিয়া মাদ্রাসার লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীরা। যেখানে বাংলা বা

পুর্নমৃত্যু পুর্নজন্ম

বাঘ খাইল নেকড়ে। তারপর আরামে ঘুম দিয়ে উঠবার পর আয়েশ করে ঘুরে ফিরে বেড়ানোর সময় বাঘটাই নেকড়ে হয়ে গেল। জানি আপনারা অবিশ্বাস করছেন তবে ঘটনা এটাই সত্যি ছিল। আমি বুকে হাত রেখে বলতে পারি নেকড়েটা খাবার পর বাঘটাই নেকড়ে হয়ে যায়। বাঘ কি নেকড়ে খায়? নিশ্চয়ই আপনি ভুল দেখেছেন, হয়ত বাঘ যেখানে ঘুমিয়ে ছিল সেখানে খানিক পর আপনার চোখের ফাঁক দিয়ে আরেকটা নেকড়ে এসে ঘুমিয়েছিল, এ ধরণের প্রশ্ন আর কথার উত্তর না দিয়ে আমি আপনাদের মূল ঘটনাটাই খুলে বলতে আগ্রহী। তারপর আপনারাই সব মিলিয়ে নিতে পারবেন, বুঝতে পারবেন সমস্ত ঘটনাটা।

ফানুসের রাজনীতি ০২

ধর্ম আর ধার্মিকের মাঝে বিরাজ করে এক রহস্যের জলাপুকুর, সেই পুকুরে প্রাচীনকাল থেকেই বাস করে সাম্প্রদায়িকতা নামের বিষাক্ত সাপ। ধর্মের অসংখ্য ভালো কথার নিচে চাপা পড়ে থাকে সে সহজে রা কাড়ে না, ফণা তোলে না। তারে খুঁচিয়ে জাগানো হয়। তারে জাগানো হলে জমে ওঠে ধর্মব্যবসায়ীদের কাজ-কারবার। বিশ্বাস অবিশ্বাসের খেলায় ধর্ম বড় অসহায় উপাদান হয়ে তখন ধার্মিককে করে তোলে খুনি আর ধর্মব্যবসায়ীকে করে তোলে ক্ষমতাবান। ধর্মের নামে অনাচার তখন হয়ে পড়ে ধর্মীয় কাজ।

ফানুসের রাজনীতি ০১

ক্ষমতার রাজনীতি মানুষের ভাষা বুঝতে চায় না, আর সেই ক্ষমতার ঘেরটোপে বাস করা মানুষেরা রাজনীতির ভাষা বোঝে না। ক্ষমতা বোঝে ক্ষমতা, ক্ষমতা বোঝে বেয়নেট, রাইফেল, আঁতাত, বেইমানি, মিথ্যাচার, লুটপাট। জনগণ ক্ষমতার গাধার পাল। তাদের বোঝা বহনের পিঠে বারুদ আর বস্তার তফাৎ কোথায়? বাংলাদেশ জুড়ে যা চলছে তা কি গণ-জাগরণ?

আগুনের কথা বন্ধুকে বলি

রক্তের অক্ষরে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের লেখা শুরু হলো। এ কেবল শুরু মাত্র, যারা অন্যের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা ভুল করছেন। কারো দায় কেউ নেয় না। নতুন ইতিহাসের সূচনা হচ্ছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে আমাদের মত করে সাজাতে হলে আমাদেরকেই হাল শক্ত করে ধরতে হবে। যুদ্ধ চলছে যারা বুঝতে পারছেন না তারা দয়া করে বুঝতে চেষ্টা করুন, চোখ মেলে নিজের দিকে তাকান। দেখুন আপনার বেঁচে থাকার চারপাশ। বাংলাদেশের সকল ক্ষমতাবানরা এই দেশকে নিয়ে কোন স্বপ্ন দেখে না। এই দেশ তাদের কাছে কেবল ক্ষমতার মসনদ। তারা একে ভোগ করে। রাজনীতি তাদের কেবল ক্ষমতার কূটকৌশল। মানুষের রাজনীতি তার করে না। তাদের এই দেশের বাইরে ব

শাহবাগের শত্রু-মিত্র

রাজাকারের ফাঁসি চাই। কাদের মোল্লা, নিজামী, গোলাম আযম, সাঈদী কিংবা বাচ্চুই কি একমাত্র রাজাকার? দেশের সাথে যারা বেঈমানী করে তারাই রাজাকার। আর প্রতিনিয়ত এদের গর্জন আমাদের কানে এসে ধাক্কা মারে। হাজার হাজার শিবির কর্মী কিংবা জামায়াতের প্রতিনিয়ত বিস্তারের যে ধারা বর্তমান তাতে রাজাকার প্রতিনিয়ত জন্মাচ্ছে। রাজাকারদের ফাঁসির সাথে অবশ্যই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রব্যবস্থা সে পদক্ষেপ কি নিবে? বর্তমান আওয়ামী সরকার জামায়াতসহ সকল ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল কি নিষিদ্ধ করতে পারবে?

গোলাম আযমের ফাঁসি দেব

গোলাম আযম আমাদের খুব কাছে আছে,একেবারে পাশেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। চলেন টাইনা বাইর করে নিয়ে আসি। কারও দিকে তাকায়া লাভ নাই তা প্রমাণ হয়ে গেছে। যা করার আমাদেরকেই করতে হবে। এখনই সময় গর্জে ওঠার, আর কিসের জন্য দেরি।

শ্মশানযাত্রার পর

রাত্তিরের আসমানে তহন আগুনের ফড়ফড়ানি, হুড়মুড় করে জ্বলছে সব। আমি ভাবি বুঝি স্বপ্ন না হলি আসমানে আবার আগুন লাগে কেমবা? তহন দেহি আব্বায় ডাহে কয়, তাড়াতাড়ি ঘি ঢালেক সব যে নিভে গিলো রে। উঠোনে খাড়া আগুনের মাঝে বসে আম্মায় কান্দে আর চিৎকার করে গাইল পারে 'খানকির পুলারা তোগের কি মাইনষে জন্ম দেয় নাই'। আমার কানে আর কিছুই ঢোহে না, আমি তো খালি আগুন দেহি আগুন আর আগুন, আসমান পুড়ে একেবারে ছাই, না আর বসে থাকা চলে না।

জগন্নাথের হল আন্দোলন

চারপাশে এত ঘটনার ঢাক-ঢোল বাজছে যে শোরগোল শুনলেই মানুষ আজকাল প্রথমে কানে হাত চাপা দেয়, তারপর মুখ ফিরিয়ে দু'একটা তত্ত্ব আওড়ে দায় ভুলে যায়। কিন্তু পরিস্থিতির শিকার মানুষগুলোর কোন উপায় থাকে না, তাদেরকে বাঁচার তাগিদেই গলার স্বর উঁচু রাখতে হয়, সে স্বর অন্যদের কানে কতটুকু পৌছাঁলো তার হিসাব নিকাষ না করেই। অনেক অবিশ্বাস্য ঘটনায় চারপাশে সত্যি হয়ে যাচ্ছে, মানুষের ভেতরের তাতে ন্যূনতম কোন প্রতিক্রিয়া মিলছে না। সেখানে আমাদের এই দাবি হয়ত অনেক অপাঙতেয় তাই চারপাশের ব্যাপক মিডিয়ায় তার প্রচার নেই। ন্যায্য দাবির চেয়ে আজকাল অন্যায্য কাজই হয়ত তাদের ভালো প্রচারণা আনে। যে যেখানেই থাকুক

Pages